আবদোলকারিম সোরোশের "দ্য এক্সপানশন অফ প্রফেটিক এক্সপেরিয়েন্স" (The Expansion of Prophetic Experience) আধুনিক ইসলামি জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology) এবং কালাম শাস্ত্রের (Theology) অন্যতম প্রভাবশালী এবং একই সাথে বিতর্কিত একটি গ্রন্থ।
ইক্বরার লক্ষ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য স্রষ্টার ঐশী বাণীর সমন্বিত অধ্যয়ন ও সার্বজনীন প্রয়োগের জন্য জ্ঞানদীপ্ত অনুশীলন।
ইক্বরার উদ্দেশ্য হলো কুরআনের বাণীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ অনুধাবনের জন্য টেকসই ভিত্তি প্রস্তুত করা এবং জীবন ও সমাজের প্রায়োগিকতার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো নির্মাণ।
মুসলিমদের জীবন বিধানের সকল মূলনীতি কোরআনে আল্লাহ বলে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তোমার ওপর যে কিতাব (কোরআন) নাজিল করা হয়েছে তাতে রয়েছে সকল বিষয়ের বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৮৯)
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ দেশের মুসলিমদের কোরআন দেখে শুদ্ধ করে পড়ার প্রতি গুরুত্ব থাকলেও ইসলামি জীবন বিধানের মৌলিক উৎস কোরআন বোঝার ব্যাপারে অধিকাংশ মুসলিমই উদাসীন। অনেকে ভাবেন, অধিকাংশ মানুষ বিশুদ্ধ করে কোরআন পড়তে জানে না, সেখানে কোরআনের মর্মার্থ অনুধাবন নিয়ে কথা বলতে যাওয়া একটি বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ কোরআন বোঝা কঠিন কিছু নয়, সহজ।
কোরআন নাজিল হয়েছে আরবি ভাষায়। এর শব্দবিন্যাস, ছন্দ, সৌন্দর্য, ব্যঞ্জনা, অন্তর্নিহিত শক্তি ও গভীরতা নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। তবে কোরআন যেহেতু দল, মত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের হেদায়েতের জন্যই নাজিল হয়েছে, সেহেতু সমগ্র মানবজাতির জন্য কোরআনকে সহজ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘কোরআন আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?’ (সুরা ক্বমার, আয়াত: ১৭,২২,৩২ ও ৪০)
সুতরাং আল্লাহ যেখানে কোরআনকে সহজ করে দিয়েছেন এবং বারবার বলেছেন সহজ; সেখানে কোরআন বোঝা সহজ নয়—এ কথা নিতান্ত অবান্তর। মনে রাখবেন, ‘আল-কোরআন কঠিন’—এটা শয়তানের ধোঁকা!
তাফসিরে সাদিতে এসেছে, কোরআনকে আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব আছে কি উপদেশ গ্রহণকারী কেউ? অর্থাৎ, আমি এই মহাগ্রন্থ আল-কোরআনকে অনেক সহজ করেছি; শব্দগুলোকে সহজ করেছি বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও মুখস্থ করার জন্য, আর তার অর্থকে সহজ করেছি বুঝে পড়া ও জ্ঞানার্জনের জন্য। কারণ, কোরআন হলো শব্দগত দিক থেকে সবচেয়ে সুন্দরতম বাণী ও অর্থগত দিক থেকে ধ্রুব সত্য এবং ব্যাখ্যাগত দিক থেকে সবচেয়ে স্পষ্ট। সুতরাং যে কেউই কোরআনের দিকে এগিয়ে আসে আল্লাহ্ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাকে সর্বোচ্চ সহজ করে দেন (তাঁর লক্ষ্য তিলাওয়াত হোক, হিফজ করা হোক, বোঝা হোক কিংবা ব্যাখ্যা করা হোক) এবং কোরআনের পথকে তাঁর জন্য সুগম করে দেন (আবদুর রহমান বিন নাসির বিন আবদুল্লাহ আস-সাদি, তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ: বৈরুত, ২০০২ খ্রি., পৃ. ৮২৫-৮২৬)।
কোরআনকে কেন সহজ করা হয়েছে
কোরআনের ভাষাকে সহজ করা হয়েছে উপদেশ গ্রহণে সহজতার জন্য। যেমন, আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি তো তোমার ভাষায় কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে এরা উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা আদ-দুখান, আয়াত: ৫৮)
আবার চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করার জন্য কোরআন সহজ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, ‘তবে কি এরা কোরআন সম্বন্ধে মনোযোগ সহকারে চিন্তা করে না? নাকি এদের অন্তর তালাবদ্ধ?’ (সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ২৪)
সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, কোরআনকে সহজ করা হয়েছে পড়া, মুখস্থ করা ও বোঝার জন্য। যে কেউই কোরআন বোঝার জন্য এগিয়ে আসবে, আল্লাহ্ তাঁর সহায় হবেন। আর কোরআন বুঝে পড়া কঠিন এ কথা বলাই যাবে না। পাশাপাশি কোরআনের ভাষা আরবি কঠিন, এ কথাও বলা যাবে না। কারণ আল্লাহ্ বলে দিয়েছেন তিনি কোরআনের ভাষা আরবিকে সহজ করেছেন, মানুষ যেন কোরআন থেকে সহজেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
মুহাম্মাদ মুহসিন মাশকুর: খণ্ডকালীন শিক্ষক, আরবি বিভাগ, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আবদোলকারিম সোরোশের "দ্য এক্সপানশন অফ প্রফেটিক এক্সপেরিয়েন্স" (The Expansion of Prophetic Experience) আধুনিক ইসলামি জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology) এবং কালাম শাস্ত্রের (Theology) অন্যতম প্রভাবশালী এবং একই সাথে বিতর্কিত একটি গ্রন্থ।
শারম্যান এ. জ্যাকসনের লেখা দ্য ইসলামিক সেক্যুলার (The Islamic Secular) সমসাময়িক ইসলামিক চিন্তাধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সাহসী একটি বই। পশ্চিমা "সেক্যুলারিজম" (ধর্মহীনতা বা ধর্ম ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদ) এবং ইসলামিক আইনের (শরিয়াহ/ফিকহ) মধ্যে যে চিরস্থায়ী দ্বন্দ্বের ধারণা প্রচলিত, জ্যাকসন এই বইয়ে সেই দ্বন্দ্বের মূলে আঘাত করেছেন।
ইবনে আশুর সেন্টারের পরিচালক ড. সোহাইব সাঈদ একটি ইউটিউব ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence / AI) এবং কুরআনের তাফসিরের সংযোগস্থল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ডিজিটাল মডেলিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পাণ্ডিত্যপূর্ণ মতামতের সারসংক্ষেপ করা, ধ্রুপদী গ্রন্থ অনুবাদ করা এবং এমনকি ঐতিহাসিক পণ্ডিতদের মতো 'চিন্তা' করা সম্ভব। মূল বিষয়বস্তু: ভূমিকা এবং শিক্ষাগত পটভূমি […]
Dr. Sohaib Saeed, director of the Ibn ʿAshur Centre, discussed in an YouTube Video the intersection of Artificial Intelligence and Quranic exegesis (Tafsir). He explores how AI can be used to summarize scholarly positions, translate classical texts, and even "think" like historical scholars through digital modeling. Key Takeaways: Highlight Introduction and Academic Background The session […]
কোরআনের বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক অলৌকিকতা: গাজী রাকায়েতের ইসলামে ফেরার কাহিনী কোরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে কেন কাঁদলেন ২৮টি জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক? ভাবুন তো, একজন মানুষ পবিত্র কোরআনের বৈজ্ঞানিক ভুল (Scientific error) ধরার জন্য পড়া শুরু করলেন, কিন্তু শেষমেশ এর গাণিতিক নিখুঁত গাঁথুনি আর বৈজ্ঞানিক নিদর্শন দেখে নিজেই বিস্মিত হয়ে গেলেন! হ্যাঁ, ঠিক এমন একটি অবিশ্বাস্য ঘটনার […]
ইতিহাসের পাতা উল্টালে সপ্তম শতাব্দীতে আরবের বুকে ইসলামের উত্থানকে একটি বিস্ময়কর বাঁক হিসেবেই দেখতে হয়। ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আলোচনায় বা প্রথাগত ইতিহাসে ইসলামকে সাধারণত এমন একটি ঐশ্বরিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়, যার সাথে সমসাময়িক বা পূর্ববর্তী সমাজ-সংস্কৃতির যেন কোনো যোগসূত্রই ছিল না। কিন্তু আধুনিক ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা এখন ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের মতে, ইসলামকে নিখুঁতভাবে […]
১. প্রাক-ইসলামি আরবের ঐতিহাসিক ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরব উপদ্বীপের সামগ্রিক অবস্থাকে ঐতিহাসিকভাবে 'জাহিলিয়্যাত' বা অন্ধকারের যুগ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'জাহিলিয়্যাত' শব্দটি নিছক অক্ষরজ্ঞানহীনতা বা শিক্ষার অভাবকে নির্দেশ করে না; বরং এটি মূলত একটি নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আধ্যাত্মিক শূন্যতার সমার্থক, যেখানে ঐশী জ্ঞান ও যৌক্তিকতার বদলে কুসংস্কার, গোঁড়ামি […]
ভূমিকা ইসলামিক জ্ঞানচর্চায় কুরআনকে সাধারণত আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় নির্দেশনার গ্রন্থ হিসেবে দেখা হয়। তবে মুসলিম আধুনিক চিন্তাবিদরা, বিশেষ করে টিউনিশিয়ান তাফসিরবিদ মুহাম্মাদ আল-তাহির ইবনে আশুর (Muhammad al-Tahir ibn Ashur), কুরআনকে শুধু আধ্যাত্মিক নৈতিকতা প্রদানের বই নয়, বরং একটি সভ্যতা নির্মাণের পরিকল্পনামূলক নীতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর তাফসির Tahrir wa al-Tanwir এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। […]