আবদোলকারিম সোরোশের "দ্য এক্সপানশন অফ প্রফেটিক এক্সপেরিয়েন্স" (The Expansion of Prophetic Experience) আধুনিক ইসলামি জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology) এবং কালাম শাস্ত্রের (Theology) অন্যতম প্রভাবশালী এবং একই সাথে বিতর্কিত একটি গ্রন্থ।
ইক্বরার লক্ষ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য স্রষ্টার ঐশী বাণীর সমন্বিত অধ্যয়ন ও সার্বজনীন প্রয়োগের জন্য জ্ঞানদীপ্ত অনুশীলন।
ইক্বরার উদ্দেশ্য হলো কুরআনের বাণীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ অনুধাবনের জন্য টেকসই ভিত্তি প্রস্তুত করা এবং জীবন ও সমাজের প্রায়োগিকতার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো নির্মাণ।
কুরআন পাঠকদের কারো কারো উপলব্ধি হলো যে কুরআনে ইয়া আইয়্যুহাল্লাজীনা আমানু - হে যারা বিশ্বাস এনেছো (অতীত কাল) বা হে যারা বিশ্বাসী - এর মাধ্যমে শুধু মাত্র আহলে কিতাবে অর্থাৎ মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহর মিশনের আগে যে কিতাবী ছিলো যারা তাওরাত ও অন্যান্য পূর্ববর্তী কিতাবে বিশ্বাসী ছিলেন তাদেরকে নির্দেশ করা হয়েছে এবং কুরআনে বিশ্বাসীদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে “মুসলিম” বা আত্নসর্ম্পনকারী শব্দটি।
আসুন দেখা যাক কুরআনের সমন্বিত অধ্যায়ন থেকে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা গবেষণায় কি পাওয়া যায়। সমন্বিত অধ্যায়নের অংশ হিসেবে আমরা এখানে কিছু স্যাম্পল আয়াত আলোচনা ও তুলনা করেছি।
কুরআনে হামজা মিম ও নুন রুট দিয়ে মোট ৮৭৯ বার বিশ্বাস ও বিশ্বাস শব্দের কাছাকাছি বিভিন্ন শব্দরূপ এসেছে যার মধ্যে আছে: আমানা, ইউমিনা, আমিনু, মুমিন ইত্যাদি। সম্পুর্ণ তালিকার জন্য দেখা যেতে পারে: করপাস কুরআন।
৫৭:৮
৭১:২৮ নূহের কওমের বিশ্বাসীদের কথা
৬১:১৪ দুই ধরনের সম্ভাবনাই এখানে সম্ভব
৩:১১০ আহলে কিতাবীদের মধ্যে মুমিন থাকার সত্যায়ন, তবে সকলে নয়, সংখ্যালঘু একটি বর্গ কেবলমাত্র মুমিন
৪:১৬২ আহলে কিতাবীদের মধ্যে ইয়াহুদীদের মধ্যে যারা মুমিন
৩:৭২
৩৭:৭৫ - সালামুন আলা নূহ ছিলো বিশ্বাসীদের মধ্যে অন্যতম।
২৪:২-৩ আর যেন প্রত্যক্ষ করে তাদের আযাব/ শাস্তি মু’মিনদের একটি দল (অর্থাৎ শাস্তি হবে প্রকাশ্য জনসমক্ষে)।
ওয়াল ইয়াশহাদ = আর যেন প্রত্যক্ষ করে। আযাবাহুমা = তাদের আযাব/ শাস্তি। তয়িফাতুম মিনাল মু’মিনীনা = মু’মিনদের একটি দল।
এখানে মু’মিন বলতে রাসুলের কমিউনিটির বর্গ হওয়ার নির্দেশনাই বেশি।
২৪:১২ এখানে মুমিন বলতে মুসলিমদেরকেই নির্দেশনা করছে।
২:৭৬ আর যখন তারা তাদের সাথে মিলিত হয় যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছে, তারা বলে, ‘আমরা ঈমান/ বিশ্বাস করেছি’। -- এখানে স্পষ্টতই প্রথম তারা হলো আহলে কিতাব এবং যাদের সাথে মিলিত হয় তারা মুসলিম মুমিন। পূর্বের আয়াতের ধারাবাহিকতায় এটি বোঝা যায়।
৫:৯৫
২:২৮৫ মুমিনদের সংজ্ঞা এখানে পরিস্কার
২৪:৬২ মুমিনদের সংজ্ঞার আরেকটি আয়াত
৩:৬৮
৪৯:৬
৮৫:১০
৮:৭৪ মু’মিনূনা হাক্বক্বান = তারাই হক্কানী মু’মিন/ যথাযথ মু’মিন এর সংজ্ঞা
৪:১৪৪
৩৩:৫০ - এখানে বিধান নতুন বিশ্বাসীদের জন্য
৮৫:১০
ইয়া আইয়্যুহাল্লাজীনা আমানু এই সম্বোধনে কেবলমাত্র আহলে কিতাবীদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আর কুরআনে মুসলিমদের শুধু ’মুসলিম’ নামে সম্বোধন করা হয়েছে এটা আমাদের সমন্বিত অধ্যয়নে দৃশ্যমান হয়নি।
বরং আহলে কিতাবীদের মধ্যে যেমন মুমিন বা বিশ্বাসী বলা হয়েছে; এর বাইরে মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ ও তার প্রতি নাযিলকৃত বাণীতে বিশ্বাসীদেরও এই সম্বোধনে সম্বোধন করা হয়েছে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
আবদোলকারিম সোরোশের "দ্য এক্সপানশন অফ প্রফেটিক এক্সপেরিয়েন্স" (The Expansion of Prophetic Experience) আধুনিক ইসলামি জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology) এবং কালাম শাস্ত্রের (Theology) অন্যতম প্রভাবশালী এবং একই সাথে বিতর্কিত একটি গ্রন্থ।
শারম্যান এ. জ্যাকসনের লেখা দ্য ইসলামিক সেক্যুলার (The Islamic Secular) সমসাময়িক ইসলামিক চিন্তাধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সাহসী একটি বই। পশ্চিমা "সেক্যুলারিজম" (ধর্মহীনতা বা ধর্ম ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদ) এবং ইসলামিক আইনের (শরিয়াহ/ফিকহ) মধ্যে যে চিরস্থায়ী দ্বন্দ্বের ধারণা প্রচলিত, জ্যাকসন এই বইয়ে সেই দ্বন্দ্বের মূলে আঘাত করেছেন।
ইবনে আশুর সেন্টারের পরিচালক ড. সোহাইব সাঈদ একটি ইউটিউব ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence / AI) এবং কুরআনের তাফসিরের সংযোগস্থল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ডিজিটাল মডেলিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পাণ্ডিত্যপূর্ণ মতামতের সারসংক্ষেপ করা, ধ্রুপদী গ্রন্থ অনুবাদ করা এবং এমনকি ঐতিহাসিক পণ্ডিতদের মতো 'চিন্তা' করা সম্ভব। মূল বিষয়বস্তু: ভূমিকা এবং শিক্ষাগত পটভূমি […]
Dr. Sohaib Saeed, director of the Ibn ʿAshur Centre, discussed in an YouTube Video the intersection of Artificial Intelligence and Quranic exegesis (Tafsir). He explores how AI can be used to summarize scholarly positions, translate classical texts, and even "think" like historical scholars through digital modeling. Key Takeaways: Highlight Introduction and Academic Background The session […]
কোরআনের বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক অলৌকিকতা: গাজী রাকায়েতের ইসলামে ফেরার কাহিনী কোরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে কেন কাঁদলেন ২৮টি জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক? ভাবুন তো, একজন মানুষ পবিত্র কোরআনের বৈজ্ঞানিক ভুল (Scientific error) ধরার জন্য পড়া শুরু করলেন, কিন্তু শেষমেশ এর গাণিতিক নিখুঁত গাঁথুনি আর বৈজ্ঞানিক নিদর্শন দেখে নিজেই বিস্মিত হয়ে গেলেন! হ্যাঁ, ঠিক এমন একটি অবিশ্বাস্য ঘটনার […]
ইতিহাসের পাতা উল্টালে সপ্তম শতাব্দীতে আরবের বুকে ইসলামের উত্থানকে একটি বিস্ময়কর বাঁক হিসেবেই দেখতে হয়। ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আলোচনায় বা প্রথাগত ইতিহাসে ইসলামকে সাধারণত এমন একটি ঐশ্বরিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়, যার সাথে সমসাময়িক বা পূর্ববর্তী সমাজ-সংস্কৃতির যেন কোনো যোগসূত্রই ছিল না। কিন্তু আধুনিক ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা এখন ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের মতে, ইসলামকে নিখুঁতভাবে […]
১. প্রাক-ইসলামি আরবের ঐতিহাসিক ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরব উপদ্বীপের সামগ্রিক অবস্থাকে ঐতিহাসিকভাবে 'জাহিলিয়্যাত' বা অন্ধকারের যুগ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'জাহিলিয়্যাত' শব্দটি নিছক অক্ষরজ্ঞানহীনতা বা শিক্ষার অভাবকে নির্দেশ করে না; বরং এটি মূলত একটি নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আধ্যাত্মিক শূন্যতার সমার্থক, যেখানে ঐশী জ্ঞান ও যৌক্তিকতার বদলে কুসংস্কার, গোঁড়ামি […]
ভূমিকা ইসলামিক জ্ঞানচর্চায় কুরআনকে সাধারণত আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় নির্দেশনার গ্রন্থ হিসেবে দেখা হয়। তবে মুসলিম আধুনিক চিন্তাবিদরা, বিশেষ করে টিউনিশিয়ান তাফসিরবিদ মুহাম্মাদ আল-তাহির ইবনে আশুর (Muhammad al-Tahir ibn Ashur), কুরআনকে শুধু আধ্যাত্মিক নৈতিকতা প্রদানের বই নয়, বরং একটি সভ্যতা নির্মাণের পরিকল্পনামূলক নীতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর তাফসির Tahrir wa al-Tanwir এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। […]