দি  ইন্সটিটিউট ফর কুরআনিক রিসার্চ এন্ড এ্যাপ্লিকেশন (ইক্বরা)

লক্ষ্য

ইক্বরার লক্ষ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য স্রষ্টার ঐশী বাণীর সমন্বিত অধ্যয়ন ও সার্বজনীন প্রয়োগের জন্য জ্ঞানদীপ্ত অনুশীলন।

উদ্দেশ্য

ইক্বরার উদ্দেশ্য হলো কুরআনের বাণীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ অনুধাবনের জন্য টেকসই ভিত্তি প্রস্তুত করা এবং জীবন ও সমাজের প্রায়োগিকতার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো নির্মাণ।

প্রকাশিত বইসমূহ

কাবা কি ইব্রাহীম (আঃ) নির্মিত বাইত / ঘর?

লিখেছেন: আবদুল্লাহিল কাউছার, একচুয়াল মেসেজ অফ দি কুরআন


ইসলাম পূর্ব সমস্ত মুশরিক ও পৌত্তলিক আচার অনুষ্ঠানকে ইসলামে অভিযোজিত করার জন্য আল কোরআনের বেশ কিছু শব্দ যেমন ইলাহ, সালাত (صلاۃ), কিয়াম, রুকু, সিজদাহ, রসুল এবং বাইত (بیت) ইত্যাদি শব্দগুলির অপব্যবহার করা হয়েছে। কোরআনের প্রকৃত বার্তা বুঝতে হলে এই শব্দগুলোর সঠিক অর্থ ও ব্যবহার জানা অত্যন্ত জরুরী।

আরবি "بیت" শব্দটি আদি মূল "ب ت" (বা তা) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "একটি উপসংহারে পৌঁছানো (reach a conclusion)", সিদ্ধান্ত (decision), সংকল্প (determination), স্থিরসঙ্কল্প (resolution), সনদ (charter), সংবিধান (constitution), নিষ্পত্তি (settlement), বিচ্ছিন্ন করা (cut off), সংস্থাপন (fixation), রায়/মীমাংসা (judgment), নিয়ম (regulation), স্ট্যান্ড ( যেমন বাস স্ট্যান্ড), মতবাদ (dogma) (عقیدہ) ইত্যাদি।

আপনি যখন একটি তাঁবুর ভিতরে ঠিক উপরের দিকে তাকান তখন আপনি যা দেখতে পান তাকে আরবীতে "بَيْت" বলা হয়, অর্থাৎ তাঁবুর ছাদ (ceiling) হল প্রকৃতপক্ষে একটি "بَيْت কিন্তু তাঁবুর ছাদ ধরে রাখা খুঁটি “بَيْت”-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। "শামিয়ানা" হল "بَيْت" এর একটি উপযুক্ত উদাহরণ, যা কার্যকারিতার দিক দিয়ে প্রচলিত তাঁবুর ছাদের মতই। আমাদের মাথার উপর একটি শামিয়ানা বা ছাদ রাখার উদ্দেশ্য হল আমাদেরকে ছায়া প্রদান করা এবং নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখা, যাকে আরবি সাহিত্যে সুরক্ষার পরিকল্পনা "امان" বলা হয়।

কুরআন "بَيْت" এর আক্ষরিক প্রতিশব্দ "امان" ব্যবহার করে যারা আল্লাহর শামিয়ানা বা আল্লাহর "بَيْت" এর অধীনে আসে তাদেরকে আল্লাহর নিরাপত্তার অধীনে থাকার নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু আল্লাহ তার অবতীর্ণ কিতাবে লিখিত সংবিধানের মাধ্যমে তার শামিয়ানা বা "بَيْت" ছড়িয়ে দেন। অতএব, আল্লাহর “بَيْت”-এর সাথে পার্থিব দালান বা এর নির্মাণ সামগ্রী, শামিয়ানা ও শামিয়ানা তৈরির কোন উপকরণ কিংবা প্রচলিত তাঁবু বা তাঁবুর ছাদকে ধরে রাখা খুঁটির কোন সম্পর্ক নেই।

তাই, কুরআনিক শব্দ "بَيْت" হল লিখিত সনদ, কর্মসূচি, বা পরিকল্পনা এবং একটি অপার্থিব (ভাবগত অর্থে) শামিয়ানা, অথবা আল্লাহর একটি মঞ্চ (virtual platform), যা কাবা নামে পরিচিত মক্কায় অবস্থিত পাথরের তৈরি কথিত আল্লাহর ঘর নয়।

আরবরা তাদের ঘরকে “بَيْت” বলে না। ইসলাম পূর্ব আরব সভ্যতা থেকেই সমগ্র আরব বিশ্ব জুড়ে আরবি "منزل" শব্দটি 'ঘর' বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পার্সি (জরথুষ্ট্রিয়ান) সংস্কৃতিতে "بیت" এবং এর বহুবচন "بیوت" শব্দটি "বাড়ি (home)", "ঘর (house)" এবং "কক্ষ (room)" বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এই পার্সি (জরথুষ্ট্রিয়ান) শব্দ “بَيْت”-এর ব্যবহার “Parsi Wiki”-এ দেখতে পারেন।

যদিও, আরবি শব্দ "بیت" এবং এর বহুবচন "بیوت" উচ্চারণগতভাবে পারসি (জরথুষ্ট্রিয়ান) শব্দ "بیت" এবং "بیوت" এর মতো কিন্তু অর্থগত দিক দিয়ে আরবি ভাষায় এগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বহুল পরিচিত “بیت الخلا”, “بیت الحکمہ”, “بیت المقدس” এবং “بیت المعمور” ইত্যাদি শব্দগুচ্ছ আরবি নয়, এমনকি আরবরা এগুলোর অর্থও জানে না কারণ এগুলো আরবীতে ব্যবহৃত হয় না। বাথরুম বা টয়লেটকে ফার্সি ভাষায় "بیت الخلا" বলা হয়, যা উর্দুতেও ব্যবহৃত হয় কিন্তু আরবি ভাষায় আরবরা তাদের বাথরুম বা টয়লেটকে "الحمام" বলে। আর কক্ষ (room)-কে আরবীতে "غرفة" এবং ঘরকে "منزل" বলা হয়।

আরবরা যদি তাদের নিজেদের ঘর বোঝাতে “بَيْت” শব্দটি ব্যবহার না করে তাহলে কেন মুসলিম পন্ডিতরা কুরআনের অনুবাদে ঘর বোঝাতে “بَيْت” শব্দটি ব্যবহার করেন? এবং তারা কীভাবে “بیت اللہ” অর্থ আল্লাহর ঘর বোঝাতে পারেন?

যখন পারসি (জরথুষ্ট্রিয়ান) মুশরিক এবং আরব পৌত্তলিকরা ক্ষমতায় আসে তখন তারা ইসলামের নামে আবারও পৌত্তলিকতা চর্চা শুরু করতে পার্সি (জরথুষ্ট্রিয়ান) শব্দ "بیت" ব্যবহার করে আল্লাহর ঘোষিত নিরাপদ প্রতিষ্ঠান / স্রষ্টার সংবিধান মান্যের স্থান বা মসজিদ (الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ) কে "بیت الله" (আল্লাহর ঘর) ঘোষণা করে যা ছিল অন্ধকার যুগের পৌত্তলিক ধর্মের কেন্দ্র ও নিদর্শন। যারা বিশ্বাস করে যে পৃথিবীতে আল্লাহর ঘর আছে তারা তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসে হারিয়ে গেছে এবং তারা বুঝতে পারছে না যে সর্বশক্তিমান, সবকিছুর মালিক এবং অগণিত মহাবিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ কেন সামান্য একটি ছোট্ট ঘরে বাস করবেন?

আসলে আমাদের চিন্তাশক্তি বন্ধী হয়ে গেছে এবং এই আরবি শব্দ "بیت" এর ভুল অর্থ দ্বারা আমাদের মগজ ধোলাই হয়ে গেছে যার ফলে আমরা আমাদের মিথ্যা মতবাদ ত্যাগ করতে চাই না।

আপনি কি ৪:৮১(بَیَّتَ), ৪:১০৮ (یُبَیِّتُوۡنَ), ৭:৪ (بَیَاتًا), ৭:৯৭(بَیَاتًا), ১০:৫০(بَیَاتًا), ২৫:৬৪ (یَبِیۡتُوۡن) এবং ২৭:৪৯ (لَنُبَیِّتَنَّہ) আয়াতের প্রচলিত অনুবাদগুলি দেখেছেন যেখানে আমাদের পৌত্তলিক পণ্ডিতরা পারসি (জরথুষ্ট্রিয়ান) শব্দ بیت" এবং এর থেকে উৎপন্ন শব্দের সাথে মানানসই অর্থ করতে পারেননি এবং তাদের কাছে এই শব্দটিকে "রাত" অর্থে অনুবাদ করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না?

১৬:৮০ আয়াতের অনুবাদটিও আমাদের পণ্ডিতদের "بیت" থেকে উৎপন্ন শব্দের অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির প্রমাণ। কেউ কেউ অনুবাদ করেছেন "তাঁবু" এবং কেউ কেউ এটিকে "আশ্রয়" অর্থে নিয়েছেন কিন্তু কিছু একগুঁয়ে পৌত্তলিক পণ্ডিত অনুবাদ করেছেন পশুর চামড়া দিয়ে তৈরি "ঘর"। সম্ভবত তারা পশুর পেটে বাস করত অথবা কুরআনের বক্তব্যকে বিঘ্নিত করার গুরুতর অপরাধের কারণে তারা পশুর গর্ভে বসবাস করছে এবং তাদের পরবর্তী জীবনে পশু হিসাবে পুনর্জন্ম পাবে।

আল কোরআনে ব্যাবহৃত "الْبَيْتِ الْعَتِيقِ" বাক্যাংশটি ২২:২৯ এবং ২২:৩৩ আয়াতে ব্যবহৃত হয়েছে। সংক্ষেপে আমি এই আয়াতগুলোর প্রেক্ষাপটের দিকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেখানে জীবন ও মৃত্যু বর্ণনা করে তারপর মূর্তি পূজার আলোচনা করা হয়েছে এবং প্রসঙ্গটি আল্লাহর আনুগত্য ও এর উপকারিতার দিকে চলে যায়, পাশাপাশি শয়তানের উপাসনা ও এর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। তারপর পরবর্তী জীবনের (যাতে পৌত্তলিকরা বিশ্বাস করে না) প্রতিদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং মানুষকে “الْبَيْتِ الْعَتِيقِ” এর দিকে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে, অর্থাৎ আল্লাহর প্রাথমিক নির্ধারিত পথ (Allah's initially fixed way), আল্লাহর চিরস্থায়ী আশ্রয়(Allah's ever fixed shelter), আল্লাহর পারিবারিক মঞ্চ (Allah's family platform), আল্লাহর চিরস্থায়ী সনদ/নিয়ম (Allah's ever fixed charter/regulation), পরকালে আমাদের সাফল্যের জন্য মতবাদ (dogma for our success in the hereafter)।

২২:৩৪ নং আয়াতের "مَنسَكًا" শব্দটি আরবি শব্দ "بيت" এর একটি প্রকৃত প্রতিশব্দ, যা ২২:৩৪ এর পূর্বের আয়াতে ব্যবহৃত কুরআনের "بيت" শব্দের সঠিক অর্থ ব্যাখ্যা করে। এই কুরআনিক শব্দ "مَنسَكًا" (যা بيت-এর প্রতিশব্দ) অর্থ আশ্রম (hermitage), আশ্রয় (refuge), বন্দর/আশ্রয়স্থল (haven), অভয়ারণ্য (sanctum), আশ্রয়ের জায়গা/অনাথাশ্রম (asylum), নিরাপদ আশ্রয় (shelter), স্থান (place) (مقام) যা কোনো নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তৈরি স্থান নয় বরং এমন একটি স্থান বা জায়গা যা আমরা বিভিন্ন বাক্যে ব্যবহার করি যেমন "কেউ আমার বাবার জায়গা নিতে পারবে না"। আল্লাহ একইভাবে বলেছেন যে এটি নোংরা মূর্তিদের আনুগত্য বা উপাসনার স্থান নয় বরং আমার আনুগত্য কর কারণ এটি কেবলমাত্র আমার আনুগত্যের স্থান।

আরবি আইনি ব্যবস্থায় "البت" একটি আইনি শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হয় যার অর্থ সম্পাদিত আইন (Accomplishment), এবং "يبت" অর্থ সিদ্ধান্ত (Decision), মীমাংসা করা (Decide) এবং নিষ্পত্তি (Settle)।

এখন আমরা ২:১২৭ আয়াতের সঠিক অনুবাদটি দেখব, যার ভুল অনুবাদে আমাদের পৌত্তলিক পন্ডিত এবং তাদের অনুসারীরা মিথ্যা দাবি করে যে কাবা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।

(2:127) “وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ”

এখানে إِذْ শব্দটি নির্দেশক বিশেষ্য হিসেবে "ওই/সেই (that)" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ঠিক আগে উল্লেখকৃত কোন বিষয় বা কিছু দূরত্বে অবস্থিত কোন কিছুকে নির্দেশ করে। এই আয়াতে ওই/সেই দ্বারা ইব্রাহিম (আঃ) কে নির্দেশ করা হয়েছে যার আলোচনা ২:১২৪ থেকে শুরু হয়েছে।

يَرْفَعُ অর্থ উন্নিত/প্রচার করা (promote), উত্থিত করা (raise), অগ্রগামী (forward), দৃষ্টিগোচর করা (highlight) ইত্যাদি।

নির্দিষ্টবাচক বিশেষ্য الْقَوَاعِدَ (আক্বাওয়ায়িদ ) শব্দটি বহুল পরিচিত قَاعِدَة‎‎ (ক্বায়িদ) শব্দের বহুবচন। যার অর্থ রীতি, নিয়ম, প্রথা, বিধি, আইন ইত্যাদি। এই শব্দটি বাংলায় 'কায়দা' হিসেবে বুদ্ধি, কৌশল, নিয়ম-কানুন অর্থে সরাসরি ব্যাবহৃত হয়। আপনি ছোটবেলায় মক্তবে যে কায়দা পড়েছেন এটি সেই একই শব্দ। যা আরবি বর্ণমালার পরিচিতি ও আরবি লেখা পড়ার নিয়ম সম্বলিত বই। কিন্তু এই বহুল পরিচিত শব্দটির অর্থ জালিয়াতি করে অর্থ করা হয়েছে "ভিত্তি (foundation)" যা আমাদের অন্ধ আলেমদের চোখে পড়েনা।

পদান্বয়ী অব্যয় مِنَ অর্থ হইতে (from), এর (of)। الْبَيْتِ অর্থ আল্লাহর বিধান/আইন (Regulation of Allah / Divine Constitution), আল্লাহর সনদ (Charter of Allah), স্রষ্টার সংবিধান

সুতরাং সুরা বাকারার ১২৭ নং আয়াতের অংশ বিশেষ:

“وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ”

ওয়া ইয ইয়ারফাউ ইবরাহীমু ক্বাওয়ায়িদা মিনাল বাইতি

এর সঠিক (word to word correct translation) অনুবাদ হল:

And that Ibrahim has promoted/highlighted the rules of the regulation of Allah (2:127)

Alternative translations:

And that Ibrahim highlighted the charter of God.

And that Abraham has raised the Constitution of God.

And that Abraham has made prominent the Divine Constitution.

আর সেই ইব্রাহীম আল্লাহর বিধানের রীতিনীতি তুলে ধরেছেন।

আর সেই ইব্রাহীম যিনি স্রষ্টার সংবিধানকে সমুচ্চিত করেছেন। (২:১২৭)

অতএব, কাবা ঘর হযরত ইব্রাহিম (আঃ) নির্মাণ করেছিলেন এটি একটি মিথ। এমনকি কুরআনে বাইত শব্দটি দ্বারা কাবা ঘরকে বুঝায়না এবং এর অর্থ ঘরও নয় বরং বাইত অর্থ আল্লাহর বিধান/আইন/সনদ, স্রষ্টার সংবিধান, ভাবগত অর্থে আল্লাহর আশ্রয়/মঞ্চ/Platform।



সম্পাদকের নোট: ইক্বরা সাইটে প্রকাশকালে সীমিত এডিট করা হয়েছে।

ক্রেডিট: ফেসবুক পেইজ: Actual Message of the Quran

ট্যাগ / কী-ওয়ার্ড:

অন্যান্য প্রবন্ধ

March 26, 2026
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্রা কি কোরানের মুফাসসিরের ভূমিকা রাখতে পারে? কোরানের ব্যাখ্যার ভবিষ্যত

ইবনে আশুর সেন্টারের পরিচালক ড. সোহাইব সাঈদ একটি ইউটিউব ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence / AI) এবং কুরআনের তাফসিরের সংযোগস্থল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ডিজিটাল মডেলিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পাণ্ডিত্যপূর্ণ মতামতের সারসংক্ষেপ করা, ধ্রুপদী গ্রন্থ অনুবাদ করা এবং এমনকি ঐতিহাসিক পণ্ডিতদের মতো 'চিন্তা' করা সম্ভব। মূল বিষয়বস্তু: ভূমিকা এবং শিক্ষাগত পটভূমি […]

March 19, 2026
Can AI Become a Mufassir? The Future of Quranic Interpretation

Dr. Sohaib Saeed, director of the Ibn ʿAshur Centre, discussed in an YouTube Video the intersection of Artificial Intelligence and Quranic exegesis (Tafsir). He explores how AI can be used to summarize scholarly positions, translate classical texts, and even "think" like historical scholars through digital modeling. Key Takeaways: Highlight Introduction and Academic Background The session […]

March 17, 2026
কোরআনে মহাবিশ্ব ও বিজ্ঞানের চমক: ১৪০০ বছর আগের যে বাণী আজ প্রমাণিত

কোরআনের বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক অলৌকিকতা: গাজী রাকায়েতের ইসলামে ফেরার কাহিনী কোরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে কেন কাঁদলেন ২৮টি জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক? ভাবুন তো, একজন মানুষ পবিত্র কোরআনের বৈজ্ঞানিক ভুল (Scientific error) ধরার জন্য পড়া শুরু করলেন, কিন্তু শেষমেশ এর গাণিতিক নিখুঁত গাঁথুনি আর বৈজ্ঞানিক নিদর্শন দেখে নিজেই বিস্মিত হয়ে গেলেন! হ্যাঁ, ঠিক এমন একটি অবিশ্বাস্য ঘটনার […]

March 13, 2026
প্রাচীনকালের শেষে ইসলাম এবং পেরেনিয়ালিজম: একটি নতুন ঐতিহাসিক পাঠ

ইতিহাসের পাতা উল্টালে সপ্তম শতাব্দীতে আরবের বুকে ইসলামের উত্থানকে একটি বিস্ময়কর বাঁক হিসেবেই দেখতে হয়। ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আলোচনায় বা প্রথাগত ইতিহাসে ইসলামকে সাধারণত এমন একটি ঐশ্বরিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়, যার সাথে সমসাময়িক বা পূর্ববর্তী সমাজ-সংস্কৃতির যেন কোনো যোগসূত্রই ছিল না। কিন্তু আধুনিক ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা এখন ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের মতে, ইসলামকে নিখুঁতভাবে […]

March 9, 2026
কুরআনের আলোকে প্রাক-ইসলামি আরবের কুসংস্কার, সামাজিক প্রথা ও সংস্কার

১. প্রাক-ইসলামি আরবের ঐতিহাসিক ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরব উপদ্বীপের সামগ্রিক অবস্থাকে ঐতিহাসিকভাবে 'জাহিলিয়্যাত' বা অন্ধকারের যুগ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'জাহিলিয়্যাত' শব্দটি নিছক অক্ষরজ্ঞানহীনতা বা শিক্ষার অভাবকে নির্দেশ করে না; বরং এটি মূলত একটি নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আধ্যাত্মিক শূন্যতার সমার্থক, যেখানে ঐশী জ্ঞান ও যৌক্তিকতার বদলে কুসংস্কার, গোঁড়ামি […]

March 4, 2026
কুরআন যেভাবে একটি সভ্যতা নির্মাণের গ্রন্থ — ইবনে আশুরের দৃষ্টিকোণ থেকে

ভূমিকা ইসলামিক জ্ঞানচর্চায় কুরআনকে সাধারণত আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় নির্দেশনার গ্রন্থ হিসেবে দেখা হয়। তবে মুসলিম আধুনিক চিন্তাবিদরা, বিশেষ করে টিউনিশিয়ান তাফসিরবিদ মুহাম্মাদ আল-তাহির ইবনে আশুর (Muhammad al-Tahir ibn Ashur), কুরআনকে শুধু আধ্যাত্মিক নৈতিকতা প্রদানের বই নয়, বরং একটি সভ্যতা নির্মাণের পরিকল্পনামূলক নীতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর তাফসির Tahrir wa al-Tanwir এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। […]

March 3, 2026
সূরা আল-বাকারা ২:১১ ও আধুনিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি - একটি তুলনামূলক রাজনৈতিক-নৈতিক বিশ্লেষণ

পটভূমি সাম্প্রতিক সময়ে ইজরায়েল ও আমেরিকা পরিচালিত ইরানের উপরে ২৮ ফেব্রুয়ারীর যৌথ আক্রমন আমাদের সূরা বাকারার ২:১১ নাম্বার আয়াতকে পুন:পাঠ করতে অনুপ্রাণিত করে। ওয়া = আর। ইযা কীলা = যখন বলা হয়। লাহুম = তাদের উদ্দেশ্যে। লা তুফসিদু = তোমরা ফাসাদ/ বিপর্যয় সৃষ্টি/ অশান্তি সৃষ্টি করো না। ফিল আরদি = পৃথিবীতে। ক্বলূ = তারা বলে। […]

March 3, 2026
ইবনে আশুরের “তাহরির ওয়া আল-তানভীর” বইয়ের রিভিউ

ভূমিকা ইবনে আশুর (১৮৭৯–১৯৭৩) ছিলেন টিউনিশিয়ার একজন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ। তিনি কুরআনের আধুনিক ও প্রায় সমন্বিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তাহরির ওয়া আল-তানভীর (Tahrir wa al-Tanwir)–এ। প্রচলিত তাফসিরগুলো সাধারণত কেবল আইন (ফিকহ) বা ভাষাগত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ইবনে আশুর দেখিয়েছেন কুরআন শুধু আধ্যাত্মিক নির্দেশনার বই নয়, বরং এটি একটি সভ্যতা গড়ার নীতি গ্রন্থ। তার […]