আবদোলকারিম সোরোশের "দ্য এক্সপানশন অফ প্রফেটিক এক্সপেরিয়েন্স" (The Expansion of Prophetic Experience) আধুনিক ইসলামি জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology) এবং কালাম শাস্ত্রের (Theology) অন্যতম প্রভাবশালী এবং একই সাথে বিতর্কিত একটি গ্রন্থ।
ইক্বরার লক্ষ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য স্রষ্টার ঐশী বাণীর সমন্বিত অধ্যয়ন ও সার্বজনীন প্রয়োগের জন্য জ্ঞানদীপ্ত অনুশীলন।
ইক্বরার উদ্দেশ্য হলো কুরআনের বাণীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ অনুধাবনের জন্য টেকসই ভিত্তি প্রস্তুত করা এবং জীবন ও সমাজের প্রায়োগিকতার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো নির্মাণ।
সাম্প্রতিক সময়ে ইজরায়েল ও আমেরিকা পরিচালিত ইরানের উপরে ২৮ ফেব্রুয়ারীর যৌথ আক্রমন আমাদের সূরা বাকারার ২:১১ নাম্বার আয়াতকে পুন:পাঠ করতে অনুপ্রাণিত করে।
ওয়া = আর। ইযা কীলা = যখন বলা হয়। লাহুম = তাদের উদ্দেশ্যে। লা তুফসিদু = তোমরা ফাসাদ/ বিপর্যয় সৃষ্টি/ অশান্তি সৃষ্টি করো না। ফিল আরদি = পৃথিবীতে।
ক্বলূ = তারা বলে। ইন্নামা = মূলত। নাহনু = আমরা। মুসলিহুন = ইসলাহকারী/ সংশোধনকারী/ শান্তিস্থাপনকারী।
আর যখন তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, ‘তোমরা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না’। তারা বলে, ‘মূলত আমরা শান্তিস্থাপনকারী’।
ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে সাম্প্রতিক ইরানে আক্রমন সহ, আমেরিকা তার সৃষ্টি থেকে এ পর্যন্ত ৮০টিরও বেশি দেশে যুদ্ধ ও অবৈধ আগ্রাসী হস্তক্ষেপ করেছে। এর ফলে মার্কিন সরাসরি অভিযানে প্রাণহানি ঘটেছে ৪ কোটিরও কাছাকাছি। আমরা যদি দেশ ও সাল দিয়ে সাজাই তাহলে এই দেশগুলোর তালিকা হয়:
লিবিয়া (১৮০১), আমেলিয়া দ্বীপ (১৮১২), আর্জেন্টিনা (১৮৩৩), সুমাত্রা (১৮৩৯), ফিজি (১৮৪০), মেক্সিকো (১৮৪৬), নিকারাগুয়া (১৮৫৩), জাপান (১৮৫৩), উরুগুয়ে (১৮৫৫), পানামা (১৮৫৬), চীন (১৮৫৬), নিকারাগুয়া (১৮৫৭), উরুগুয়ে (১৮৫৮), ফিজি (১৮৫৮), পানামা (১৮৫৯), অ্যাঙ্গোলা (১৮৬০), কলম্বিয়া (১৮৬০), মেক্সিকো (১৮৬২), জাপান (১৮৬৩), জাপান (১৮৬৪), কলম্বিয়া (১৮৬৫), পানামা (১৮৬৫), নিকারাগুয়া (১৮৬৭), জাপান (১৮৬৮), মেক্সিকো (১৮৬৯), কলম্বিয়া (১৮৭০), কোরিয়া (১৮৭১), কলম্বিয়া (১৮৭৩), মেক্সিকো (১৮৭৪), হাওয়াই (১৮৭৪), মেক্সিকো (১৮৭৫), পানামা (১৮৭৮), মেক্সিকো (১৮৮০), মিশর (১৮৮২), চিলি (১৮৮৫), পানামা (১৮৮৫), ভেনেজুয়েলা (১৮৯১), হাইতি (১৮৯১), বারমুডা (১৮৯১), চিলি (১৮৯১), আর্জেন্টিনা (১৮৯৩), নিকারাগুয়া (১৮৯৪), চীন (১৮৯৪), কোরিয়া (১৮৯৪), পানামা (১৮৯৫), চীন (১৮৯৪), নিকারাগুয়া (১৮৯৬), চীন (১৮৯৮), পুয়ের্তো রিকো (১৮৯৮), ফিলিপাইন (১৮৯৮), গুয়াম (১৮৯৮), সুদান (১৮৯৮), কিউবা (১৮৯৮), নিকারাগুয়া (১৮৯৯), সামোয়া (১৮৯৯), পানামা (১৮৯৯), ফিলিপাইন (১৯০০), বক্সার বিদ্রোহ (১৯০০), হাইতি (১৯০৩), ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র (১৯০৩), কোরিয়া (১৯০৪), পানামা (১৯০৪), হন্ডুরাস (১৯০৪), কোরিয়া (১৯০৫), কিউবা (১৯০৬), নিকারাগুয়া (১৯০৭), হন্ডুরাস (১৯০৭), পানামা (১৯০৮), নিকারাগুয়া (১৯০৯), হন্ডুরাস (১৯০৯), নিকারাগুয়া (১৯১০), হন্ডুরাস (১৯১১), চীন (১৯১১), কিউবা (১৯১২), নিকারাগুয়া (১৯১২), মেক্সিকো (১৯১৩), হন্ডুরাস (১৯১৩), মিনিকান (১৯১৩), মেক্সিকো (১৯১৩) হাইতি (১৯১৪), নিকারাগুয়া (১৯১৪), মেক্সিকো (১৯১৬), চীন (১৯১৬), হাইতি (১৯১৭), ডোমিনিকান রিপাবলিক (১৯১৭), রাশিয়া (১৯১৮), হন্ডুরাস (১৯১৯), যুগোস্লাভিয়া (১৯১৯), গুয়াতেমালা (১৯২০), তুরস্ক (১৯২০), চীন (১৯২০), হোন্ডুরাস (১৯২০), চীন (১৯২০), (১৯২৫), চীন (১৯২৬), নিকারাগুয়া (১৯২৬), চীন (১৯২৭), এল সালভাদর (১৯৩২), ইতালি (১৯৪১), জার্মানি (১৯৪১), জাপান (১৯৪১), লিবিয়া (১৯৪২), মরক্কো (১৯৪২), মিশর (১৯৪২), আলজেরিয়া (১৯৪২), তিউনিসিয়া (১৯৪২), গ্রীস (১৯৪৪), ফিলিপাইন (১৯৪৪), অস্ট্রিয়া (১৯৪৫), জার্মানি (১৯৪৫), কোরিয়া (১৯৫০), চীন (১৯৫০), থাইল্যান্ড (১৯৫১), গুয়াতেমালা (১৯৫৪), ইন্দোনেশিয়া (১৯৫৮), লেবানন (১৯৫৮), কঙ্গো (১৯৬০), লাওস (১৯৬০), কিউবা (১৯৬১), ভিয়েতনাম (১৯৬১), লাওস (১৯৬২), ইরাক (১৯৬৩), পানামা (১৯৬৪), ব্রাজিল (১৯৬৪), ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র (১৯৬৫), পেরু (১৯৬৫), চিলি (১৯৬৬), গুয়াতেমালা (১৯৬৬), কম্বোডিয়া (১৯৬৭), সোমালিয়া (১৯৬৮), লাওস (১৯৬৯), কম্বোডিয়া (১৯৭০), চিলি (১৯৭৩), কম্বোডিয়া (১৯৭৫), অ্যাঙ্গোলা (১৯৭৬), জাইরে (১৯৭৮), ইরান (১৯৮০), লিবিয়া (১৯৮১), চাদ (১৯৮৩), গ্রেনাডা (১৯৮৩), লেবানন (১৯৮৩), ইরান (১৯৮৭), লিবিয়া (১৯৮৬), ইরান (১৯৮৮), লিবিয়া (১৯৮৯), পানামা (১৯৮৯), ইরাক (১৯৯১), কুয়েত (১৯৯১), সোমালিয়া (১৯৯২), বসনিয়া (১৯৯৩), হাইতি (১৯৯৪), সুদান (১৯৯৮), আফগানিস্তান (১৯৯৮), ইরাক (১৯৯৮), যুগোস্লাভিয়া (১৯৯৯), আফগানিস্তান (২০০১), ইয়েমেন (২০০২), ইরাক (২০০৩), লিবিয়া (২০১১), সিরিয়া (২০১৪), ইয়েমেন (২০১৬), সোমালিয়া (২০১৭), ইয়েমেন (২০২৪), ভেনেজুয়েলা (২০২৬), ইরান (২০২৬)।
আমেরিকার ফরেন পলিসি আমাদের সূরা বাকারার ১১ নম্বর আয়াতকে পুন:পাঠ ও বিশ্লেষণ করতে অনুপ্রাণিত করে যেভাবে:
ধর্মীয় গ্রন্থগুলোকে সাধারণত আধ্যাত্মিক বা নৈতিক নির্দেশনা হিসেবে দেখা হয়। তবে রাজনৈতিক দর্শনের ইতিহাসে দেখা যায়, বহু ধর্মীয় পাঠ রাষ্ট্রক্ষমতা, শাসননীতি ও নৈতিক বৈধতার প্রশ্নে গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। কুরআনের সূরা আল-বাকারা ২:১১ এমনই একটি আয়াত, যা ক্ষমতা, ভাষ্য (discourse) এবং বাস্তব রাজনৈতিক আচরণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব তুলে ধরে।
আয়াত ২:১১-কে সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন পলিসির লেন্সে যেমন দেখা যায়, আবার তেমনি একটি বিশ্বজনীন রাজনৈতিক প্যাটার্ন হিসেবেও বিশ্লেষণ করার সুযোগ রয়েছে।
কুরআন-এর সূরা আল-বাকারা ২:১১-এ বলা হয়েছে:
“আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না’,
তখন তারা বলে, ‘আমরাই তো শান্তি স্থাপনকারী’।”
ক্লাসিক্যাল তাফসির অনুযায়ী, এখানে যে গোষ্ঠীর কথা বলা হচ্ছে তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডকে নৈতিকভাবে সঠিক মনে করে, অথচ বাস্তবে তাদের কাজ সমাজে ফাসাদ (corruption / disorder) সৃষ্টি করে। এরকম গোষ্ঠি আগেও যেমন ছিলো, চলমান বাস্তবতায়ও তারা হাজির।
কুরআনিক পরিভাষায় ফাসাদ কেবল সশস্ত্র সহিংসতা বোঝায় না। একাডেমিকভাবে এটিকে নিম্নরূপ ব্যাখ্যা করা যায়:
কুরআনের দৃষ্টিতে ফাসাদ (অশান্তি) মানে শুধু বোমা বা রক্তপাত নয়। এর মধ্যে পড়ে—
আজকের বহু রাষ্ট্রে আমরা দেখি—
এটাই কাঠামোগত ফাসাদ (Structural Fasād)
এই সংজ্ঞা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানেও পরিচিত, যেখানে একে বলা হয়:
(সূত্র: Johan Galtung, Charles Tilly)
কারণ ক্ষমতা কখনো নিজেকে অপরাধী বলে না।
ক্ষমতা সবসময় নিজেকে—
কুরআন এখানে মানুষের একটি গভীর মনস্তত্ত্ব ধরেছে— নিজের অন্যায়কে নৈতিক ভাষায় ঢেকে ফেলা।
আয়াতটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— নৈতিক ভাষা ও বাস্তব আচরণের বিচ্ছেদ।
রাজনৈতিক তত্ত্বে একে বলা হয়:
অর্থাৎ, ক্ষমতাবান পক্ষ প্রায়ই নিজের কর্মকে—
এই ভাষার মাধ্যমে বৈধতা দেয়, যদিও ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।
আধুনিক ফরেন পলিসি বিশ্লেষণে দেখা যায়, শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো প্রায়ই নিম্নলিখিত ভাষ্য ব্যবহার করে:
রাজনৈতিক বিজ্ঞানী Noam Chomsky ও Hans Morgenthau দেখিয়েছেন, এই ভাষ্য অনেক সময় বাস্তবে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা বা ভূরাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যম হয়ে ওঠে।
| ঘোষিত লক্ষ্য | বাস্তব ফল |
|---|---|
| শান্তি | দীর্ঘ যুদ্ধ |
| স্থিতিশীলতা | রাষ্ট্র ভাঙন |
| নিরাপত্তা | চরমপন্থার বিস্তার |
| মানবাধিকার | শরণার্থী সংকট |
এখানেই আয়াত ২:১১ প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে—
ভাষা শান্তির, কাজ অশান্তির।
এই প্রেক্ষাপটে সূরা আল-বাকারা ২:১১ একটি নৈতিক সতর্কতা (normative warning) হিসেবে পাঠযোগ্য।
আয়াত ২:১১ এটি একটি আচরণগত শ্রেণিবিভাগ (behavioral category) তুলে ধরে।
অতএব, ইতিহাসের যে কোনো সময়—
যে কোনো পক্ষ যদি অশান্তি সৃষ্টি করে নিজেকে শান্তির বাহক বলে, তবে এই আয়াতের নৈতিক কাঠামো সেখানে প্রযোজ্য।
আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনে একটি মৌলিক প্রশ্ন হলো:
“কীভাবে আমরা ক্ষমতার নৈতিকতা বিচার করবো—
ঘোষণায়, না ফলাফলে?”
সূরা আল-বাকারা ২:১১-এর দৃষ্টিতে উত্তর স্পষ্ট: ফলাফলে।
এটি নৈতিক ফলবাদ (ethical consequentialism)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সূরা আল-বাকারা ২:১১ একটি গভীর নৈতিক বিশ্লেষণ, যা আমাদের শেখায়—
এই আয়াত তাই ধর্মীয় সীমা অতিক্রম করে একটি চিরকালীন ও চলমান রাজনৈতিক সতর্কবার্তা ও অনুস্মারক (reminder) পাঠযোগ্য।
আবদোলকারিম সোরোশের "দ্য এক্সপানশন অফ প্রফেটিক এক্সপেরিয়েন্স" (The Expansion of Prophetic Experience) আধুনিক ইসলামি জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology) এবং কালাম শাস্ত্রের (Theology) অন্যতম প্রভাবশালী এবং একই সাথে বিতর্কিত একটি গ্রন্থ।
শারম্যান এ. জ্যাকসনের লেখা দ্য ইসলামিক সেক্যুলার (The Islamic Secular) সমসাময়িক ইসলামিক চিন্তাধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সাহসী একটি বই। পশ্চিমা "সেক্যুলারিজম" (ধর্মহীনতা বা ধর্ম ও রাষ্ট্রের বিচ্ছেদ) এবং ইসলামিক আইনের (শরিয়াহ/ফিকহ) মধ্যে যে চিরস্থায়ী দ্বন্দ্বের ধারণা প্রচলিত, জ্যাকসন এই বইয়ে সেই দ্বন্দ্বের মূলে আঘাত করেছেন।
ইবনে আশুর সেন্টারের পরিচালক ড. সোহাইব সাঈদ একটি ইউটিউব ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence / AI) এবং কুরআনের তাফসিরের সংযোগস্থল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ডিজিটাল মডেলিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পাণ্ডিত্যপূর্ণ মতামতের সারসংক্ষেপ করা, ধ্রুপদী গ্রন্থ অনুবাদ করা এবং এমনকি ঐতিহাসিক পণ্ডিতদের মতো 'চিন্তা' করা সম্ভব। মূল বিষয়বস্তু: ভূমিকা এবং শিক্ষাগত পটভূমি […]
Dr. Sohaib Saeed, director of the Ibn ʿAshur Centre, discussed in an YouTube Video the intersection of Artificial Intelligence and Quranic exegesis (Tafsir). He explores how AI can be used to summarize scholarly positions, translate classical texts, and even "think" like historical scholars through digital modeling. Key Takeaways: Highlight Introduction and Academic Background The session […]
কোরআনের বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক অলৌকিকতা: গাজী রাকায়েতের ইসলামে ফেরার কাহিনী কোরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে কেন কাঁদলেন ২৮টি জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক? ভাবুন তো, একজন মানুষ পবিত্র কোরআনের বৈজ্ঞানিক ভুল (Scientific error) ধরার জন্য পড়া শুরু করলেন, কিন্তু শেষমেশ এর গাণিতিক নিখুঁত গাঁথুনি আর বৈজ্ঞানিক নিদর্শন দেখে নিজেই বিস্মিত হয়ে গেলেন! হ্যাঁ, ঠিক এমন একটি অবিশ্বাস্য ঘটনার […]
ইতিহাসের পাতা উল্টালে সপ্তম শতাব্দীতে আরবের বুকে ইসলামের উত্থানকে একটি বিস্ময়কর বাঁক হিসেবেই দেখতে হয়। ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আলোচনায় বা প্রথাগত ইতিহাসে ইসলামকে সাধারণত এমন একটি ঐশ্বরিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়, যার সাথে সমসাময়িক বা পূর্ববর্তী সমাজ-সংস্কৃতির যেন কোনো যোগসূত্রই ছিল না। কিন্তু আধুনিক ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা এখন ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের মতে, ইসলামকে নিখুঁতভাবে […]
১. প্রাক-ইসলামি আরবের ঐতিহাসিক ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরব উপদ্বীপের সামগ্রিক অবস্থাকে ঐতিহাসিকভাবে 'জাহিলিয়্যাত' বা অন্ধকারের যুগ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'জাহিলিয়্যাত' শব্দটি নিছক অক্ষরজ্ঞানহীনতা বা শিক্ষার অভাবকে নির্দেশ করে না; বরং এটি মূলত একটি নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আধ্যাত্মিক শূন্যতার সমার্থক, যেখানে ঐশী জ্ঞান ও যৌক্তিকতার বদলে কুসংস্কার, গোঁড়ামি […]
ভূমিকা ইসলামিক জ্ঞানচর্চায় কুরআনকে সাধারণত আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় নির্দেশনার গ্রন্থ হিসেবে দেখা হয়। তবে মুসলিম আধুনিক চিন্তাবিদরা, বিশেষ করে টিউনিশিয়ান তাফসিরবিদ মুহাম্মাদ আল-তাহির ইবনে আশুর (Muhammad al-Tahir ibn Ashur), কুরআনকে শুধু আধ্যাত্মিক নৈতিকতা প্রদানের বই নয়, বরং একটি সভ্যতা নির্মাণের পরিকল্পনামূলক নীতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর তাফসির Tahrir wa al-Tanwir এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। […]