দি  ইন্সটিটিউট ফর কুরআনিক রিসার্চ এন্ড এ্যাপ্লিকেশন (ইক্বরা)

লক্ষ্য

ইক্বরার লক্ষ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য স্রষ্টার ঐশী বাণীর সমন্বিত অধ্যয়ন ও সার্বজনীন প্রয়োগের জন্য জ্ঞানদীপ্ত অনুশীলন।

উদ্দেশ্য

ইক্বরার উদ্দেশ্য হলো কুরআনের বাণীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ অনুধাবনের জন্য টেকসই ভিত্তি প্রস্তুত করা এবং জীবন ও সমাজের প্রায়োগিকতার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো নির্মাণ।

প্রকাশিত বইসমূহ

সূরা আল-বাকারা ২:১১ ও আধুনিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি - একটি তুলনামূলক রাজনৈতিক-নৈতিক বিশ্লেষণ

পটভূমি

সাম্প্রতিক সময়ে ইজরায়েল ও আমেরিকা পরিচালিত ইরানের উপরে ২৮ ফেব্রুয়ারীর যৌথ আক্রমন আমাদের সূরা বাকারার ২:১১ নাম্বার আয়াতকে পুন:পাঠ করতে অনুপ্রাণিত করে।

ওয়া = আর। ইযা কীলা = যখন বলা হয়। লাহুম = তাদের উদ্দেশ্যে। লা তুফসিদু = তোমরা ফাসাদ/ বিপর্যয় সৃষ্টি/ অশান্তি সৃষ্টি করো না। ফিল আরদি = পৃথিবীতে।

ক্বলূ = তারা বলে। ইন্নামা = মূলত। নাহনু = আমরা। মুসলিহুন = ইসলাহকারী/ সংশোধনকারী/ শান্তিস্থাপনকারী।

আর যখন তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, ‘তোমরা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না’। তারা বলে, ‘মূলত আমরা শান্তিস্থাপনকারী’।

ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে সাম্প্রতিক ইরানে আক্রমন সহ, আমেরিকা তার সৃষ্টি থেকে এ পর্যন্ত ৮০টিরও বেশি দেশে যুদ্ধ ও অবৈধ আগ্রাসী হস্তক্ষেপ করেছে। এর ফলে মার্কিন সরাসরি অভিযানে প্রাণহানি ঘটেছে ৪ কোটিরও কাছাকাছি। আমরা যদি দেশ ও সাল দিয়ে সাজাই তাহলে এই দেশগুলোর তালিকা হয়:

লিবিয়া (১৮০১), আমেলিয়া দ্বীপ (১৮১২), আর্জেন্টিনা (১৮৩৩), সুমাত্রা (১৮৩৯), ফিজি (১৮৪০), মেক্সিকো (১৮৪৬), নিকারাগুয়া (১৮৫৩), জাপান (১৮৫৩), উরুগুয়ে (১৮৫৫), পানামা (১৮৫৬), চীন (১৮৫৬), নিকারাগুয়া (১৮৫৭), উরুগুয়ে (১৮৫৮), ফিজি (১৮৫৮), পানামা (১৮৫৯), অ্যাঙ্গোলা (১৮৬০), কলম্বিয়া (১৮৬০), মেক্সিকো (১৮৬২), জাপান (১৮৬৩), জাপান (১৮৬৪), কলম্বিয়া (১৮৬৫), পানামা (১৮৬৫), নিকারাগুয়া (১৮৬৭), জাপান (১৮৬৮), মেক্সিকো (১৮৬৯), কলম্বিয়া (১৮৭০), কোরিয়া (১৮৭১), কলম্বিয়া (১৮৭৩), মেক্সিকো (১৮৭৪), হাওয়াই (১৮৭৪), মেক্সিকো (১৮৭৫), পানামা (১৮৭৮), মেক্সিকো (১৮৮০), মিশর (১৮৮২), চিলি (১৮৮৫), পানামা (১৮৮৫), ভেনেজুয়েলা (১৮৯১), হাইতি (১৮৯১), বারমুডা (১৮৯১), চিলি (১৮৯১), আর্জেন্টিনা (১৮৯৩), নিকারাগুয়া (১৮৯৪), চীন (১৮৯৪), কোরিয়া (১৮৯৪), পানামা (১৮৯৫), চীন (১৮৯৪), নিকারাগুয়া (১৮৯৬), চীন (১৮৯৮), পুয়ের্তো রিকো (১৮৯৮), ফিলিপাইন (১৮৯৮), গুয়াম (১৮৯৮), সুদান (১৮৯৮), কিউবা (১৮৯৮), নিকারাগুয়া (১৮৯৯), সামোয়া (১৮৯৯), পানামা (১৮৯৯), ফিলিপাইন (১৯০০), বক্সার বিদ্রোহ (১৯০০), হাইতি (১৯০৩), ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র (১৯০৩), কোরিয়া (১৯০৪), পানামা (১৯০৪), হন্ডুরাস (১৯০৪), কোরিয়া (১৯০৫), কিউবা (১৯০৬), নিকারাগুয়া (১৯০৭), হন্ডুরাস (১৯০৭), পানামা (১৯০৮), নিকারাগুয়া (১৯০৯), হন্ডুরাস (১৯০৯), নিকারাগুয়া (১৯১০), হন্ডুরাস (১৯১১), চীন (১৯১১), কিউবা (১৯১২), নিকারাগুয়া (১৯১২), মেক্সিকো (১৯১৩), হন্ডুরাস (১৯১৩), মিনিকান (১৯১৩), মেক্সিকো (১৯১৩) হাইতি (১৯১৪), নিকারাগুয়া (১৯১৪), মেক্সিকো (১৯১৬), চীন (১৯১৬), হাইতি (১৯১৭), ডোমিনিকান রিপাবলিক (১৯১৭), রাশিয়া (১৯১৮), হন্ডুরাস (১৯১৯), যুগোস্লাভিয়া (১৯১৯), গুয়াতেমালা (১৯২০), তুরস্ক (১৯২০), চীন (১৯২০), হোন্ডুরাস (১৯২০), চীন (১৯২০), (১৯২৫), চীন (১৯২৬), নিকারাগুয়া (১৯২৬), চীন (১৯২৭), এল সালভাদর (১৯৩২), ইতালি (১৯৪১), জার্মানি (১৯৪১), জাপান (১৯৪১), লিবিয়া (১৯৪২), মরক্কো (১৯৪২), মিশর (১৯৪২), আলজেরিয়া (১৯৪২), তিউনিসিয়া (১৯৪২), গ্রীস (১৯৪৪), ফিলিপাইন (১৯৪৪), অস্ট্রিয়া (১৯৪৫), জার্মানি (১৯৪৫), কোরিয়া (১৯৫০), চীন (১৯৫০), থাইল্যান্ড (১৯৫১), গুয়াতেমালা (১৯৫৪), ইন্দোনেশিয়া (১৯৫৮), লেবানন (১৯৫৮), কঙ্গো (১৯৬০), লাওস (১৯৬০), কিউবা (১৯৬১), ভিয়েতনাম (১৯৬১), লাওস (১৯৬২), ইরাক (১৯৬৩), পানামা (১৯৬৪), ব্রাজিল (১৯৬৪), ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র (১৯৬৫), পেরু (১৯৬৫), চিলি (১৯৬৬), গুয়াতেমালা (১৯৬৬), কম্বোডিয়া (১৯৬৭), সোমালিয়া (১৯৬৮), লাওস (১৯৬৯), কম্বোডিয়া (১৯৭০), চিলি (১৯৭৩), কম্বোডিয়া (১৯৭৫), অ্যাঙ্গোলা (১৯৭৬), জাইরে (১৯৭৮), ইরান (১৯৮০), লিবিয়া (১৯৮১), চাদ (১৯৮৩), গ্রেনাডা (১৯৮৩), লেবানন (১৯৮৩), ইরান (১৯৮৭), লিবিয়া (১৯৮৬), ইরান (১৯৮৮), লিবিয়া (১৯৮৯), পানামা (১৯৮৯), ইরাক (১৯৯১), কুয়েত (১৯৯১), সোমালিয়া (১৯৯২), বসনিয়া (১৯৯৩), হাইতি (১৯৯৪), সুদান (১৯৯৮), আফগানিস্তান (১৯৯৮), ইরাক (১৯৯৮), যুগোস্লাভিয়া (১৯৯৯), আফগানিস্তান (২০০১), ইয়েমেন (২০০২), ইরাক (২০০৩), লিবিয়া (২০১১), সিরিয়া (২০১৪), ইয়েমেন (২০১৬), সোমালিয়া (২০১৭), ইয়েমেন (২০২৪), ভেনেজুয়েলা (২০২৬), ইরান (২০২৬)।

আমেরিকার ফরেন পলিসি আমাদের সূরা বাকারার ১১ নম্বর আয়াতকে পুন:পাঠ ও বিশ্লেষণ করতে অনুপ্রাণিত করে যেভাবে:

ভূমিকা

ধর্মীয় গ্রন্থগুলোকে সাধারণত আধ্যাত্মিক বা নৈতিক নির্দেশনা হিসেবে দেখা হয়। তবে রাজনৈতিক দর্শনের ইতিহাসে দেখা যায়, বহু ধর্মীয় পাঠ রাষ্ট্রক্ষমতা, শাসননীতি ও নৈতিক বৈধতার প্রশ্নে গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। কুরআনের সূরা আল-বাকারা ২:১১ এমনই একটি আয়াত, যা ক্ষমতা, ভাষ্য (discourse) এবং বাস্তব রাজনৈতিক আচরণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব তুলে ধরে।

আয়াত ২:১১-কে সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন পলিসির লেন্সে যেমন দেখা যায়, আবার তেমনি একটি বিশ্বজনীন রাজনৈতিক প্যাটার্ন হিসেবেও বিশ্লেষণ করার সুযোগ রয়েছে।

আয়াতের পাঠ ও প্রাথমিক অর্থ

কুরআন-এর সূরা আল-বাকারা ২:১১-এ বলা হয়েছে:

“আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না’,
তখন তারা বলে, ‘আমরাই তো শান্তি স্থাপনকারী’।”

ক্লাসিক্যাল তাফসির অনুযায়ী, এখানে যে গোষ্ঠীর কথা বলা হচ্ছে তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডকে নৈতিকভাবে সঠিক মনে করে, অথচ বাস্তবে তাদের কাজ সমাজে ফাসাদ (corruption / disorder) সৃষ্টি করে। এরকম গোষ্ঠি আগেও যেমন ছিলো, চলমান বাস্তবতায়ও তারা হাজির।

“ফাসাদ” ধারণার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা

কুরআনিক পরিভাষায় ফাসাদ কেবল সশস্ত্র সহিংসতা বোঝায় না। একাডেমিকভাবে এটিকে নিম্নরূপ ব্যাখ্যা করা যায়:

  • সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর ভাঙন
  • দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা
  • ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ধ্বংস
  • জনগণের স্বায়ত্তশাসনের ক্ষয়

কুরআনের দৃষ্টিতে ফাসাদ (অশান্তি) মানে শুধু বোমা বা রক্তপাত নয়। এর মধ্যে পড়ে—

  • একটি জাতির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া
  • অর্থনীতি ধ্বংস করা
  • সমাজে স্থায়ী ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করা
  • এক প্রজন্মকে যুদ্ধের উত্তরাধিকার দিয়ে যাওয়া

আজকের বহু রাষ্ট্রে আমরা দেখি—

  • যুদ্ধ শেষ, কিন্তু শান্তি আসেনি
  • শাসক গেছে, কিন্তু স্থিতি আসেনি

এটাই কাঠামোগত ফাসাদ (Structural Fasād)

এই সংজ্ঞা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানেও পরিচিত, যেখানে একে বলা হয়:

  • State Fragility / রাষ্ট্রীয় ভঙ্গুরতা
  • Structural Violence / কাঠামোগত সহিংসতা
  • Institutional Breakdown / প্রাতিষ্ঠানিক ভাঙ্গন

(সূত্র: Johan Galtung, Charles Tilly)

কেন “আমরা তো শান্তি স্থাপনকারী” বলা হয়?

কারণ ক্ষমতা কখনো নিজেকে অপরাধী বলে না।
ক্ষমতা সবসময় নিজেকে—

  • নৈতিক
  • অপরিহার্য
  • অনিবার্য
    হিসেবে উপস্থাপন করে।

কুরআন এখানে মানুষের একটি গভীর মনস্তত্ত্ব ধরেছে— নিজের অন্যায়কে নৈতিক ভাষায় ঢেকে ফেলা।

ভাষ্য বনাম বাস্তবতা: আয়াত ২:১১-এর মূল তাত্ত্বিক অবদান

আয়াতটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— নৈতিক ভাষা ও বাস্তব আচরণের বিচ্ছেদ।

রাজনৈতিক তত্ত্বে একে বলা হয়:

  • Legitimizing Discourse
  • Moral Framing of Power

অর্থাৎ, ক্ষমতাবান পক্ষ প্রায়ই নিজের কর্মকে—

  • “শান্তি”
  • “নিরাপত্তা”
  • “স্থিতিশীলতা”
  • “মানবাধিকার”

এই ভাষার মাধ্যমে বৈধতা দেয়, যদিও ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।

আধুনিক আন্তর্জাতিক রাজনীতির সাথে তুলনামূলক পাঠ

আধুনিক ফরেন পলিসি বিশ্লেষণে দেখা যায়, শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো প্রায়ই নিম্নলিখিত ভাষ্য ব্যবহার করে:

  • Peacekeeping Operations বা শান্তি-মিশন পরিচালনা
  • Humanitarian Intervention বা মানবিক হস্তক্ষেপ
  • Counter-Terrorism বা সন্ত্রাসবাদ ও তার প্রতিরোধ
  • Democracy Promotion বা গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা

রাজনৈতিক বিজ্ঞানী Noam Chomsky ও Hans Morgenthau দেখিয়েছেন, এই ভাষ্য অনেক সময় বাস্তবে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা বা ভূরাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যম হয়ে ওঠে।

ঘোষিত লক্ষ্যবাস্তব ফল
শান্তিদীর্ঘ যুদ্ধ
স্থিতিশীলতারাষ্ট্র ভাঙন
নিরাপত্তাচরমপন্থার বিস্তার
মানবাধিকারশরণার্থী সংকট

এখানেই আয়াত ২:১১ প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে—
ভাষা শান্তির, কাজ অশান্তির।

এই প্রেক্ষাপটে সূরা আল-বাকারা ২:১১ একটি নৈতিক সতর্কতা (normative warning) হিসেবে পাঠযোগ্য।

আয়াত ২:১১ এটি একটি আচরণগত শ্রেণিবিভাগ (behavioral category) তুলে ধরে।

অতএব, ইতিহাসের যে কোনো সময়—

  • মুসলিম বা অমুসলিম
  • পূর্ব বা পশ্চিম
  • শক্তিশালী বা দুর্বল

যে কোনো পক্ষ যদি অশান্তি সৃষ্টি করে নিজেকে শান্তির বাহক বলে, তবে এই আয়াতের নৈতিক কাঠামো সেখানে প্রযোজ্য।

রাজনৈতিক নৈতিকতার দৃষ্টিতে আয়াতটির গুরুত্ব

আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনে একটি মৌলিক প্রশ্ন হলো:

“কীভাবে আমরা ক্ষমতার নৈতিকতা বিচার করবো—
ঘোষণায়, না ফলাফলে?”

সূরা আল-বাকারা ২:১১-এর দৃষ্টিতে উত্তর স্পষ্ট: ফলাফলে।

এটি নৈতিক ফলবাদ (ethical consequentialism)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উপসংহার

সূরা আল-বাকারা ২:১১ একটি গভীর নৈতিক বিশ্লেষণ, যা আমাদের শেখায়—

  • শান্তি ঘোষণায় নয়, ফলাফলে প্রমাণিত হয়
  • শান্তি শব্দ দিয়ে অশান্তি বৈধ করা যায় না
  • ক্ষমতার ভাষা সবসময় সত্য প্রকাশ করে না
  • ইতিহাস ও ফলাফলই প্রকৃত বিচারক, ইতিহাস একদিন বলে দেয়—কে শান্তি স্থাপন করেছিল, আর কে অশান্তি

এই আয়াত তাই ধর্মীয় সীমা অতিক্রম করে একটি চিরকালীন ও চলমান রাজনৈতিক সতর্কবার্তা ও অনুস্মারক (reminder) পাঠযোগ্য।

রেফারেন্স

  1. Al-Tabari, Jami‘ al-Bayan ‘an Ta’wil al-Qur’an
  2. Fazlur Rahman, Major Themes of the Qur’an
  3. Johan Galtung, “Violence, Peace, and Peace Research”
  4. Noam Chomsky, Hegemony or Survival
  5. Hans Morgenthau, Politics Among Nations
  6. Charles Tilly, War Making and State Making as Organized Crime
  7. Ibn Ashur, Tahrir wa al-Tanwir
ট্যাগ / কী-ওয়ার্ড:

অন্যান্য প্রবন্ধ

March 3, 2026
সূরা আল-বাকারা ২:১১ ও আধুনিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি - একটি তুলনামূলক রাজনৈতিক-নৈতিক বিশ্লেষণ

পটভূমি সাম্প্রতিক সময়ে ইজরায়েল ও আমেরিকা পরিচালিত ইরানের উপরে ২৮ ফেব্রুয়ারীর যৌথ আক্রমন আমাদের সূরা বাকারার ২:১১ নাম্বার আয়াতকে পুন:পাঠ করতে অনুপ্রাণিত করে। ওয়া = আর। ইযা কীলা = যখন বলা হয়। লাহুম = তাদের উদ্দেশ্যে। লা তুফসিদু = তোমরা ফাসাদ/ বিপর্যয় সৃষ্টি/ অশান্তি সৃষ্টি করো না। ফিল আরদি = পৃথিবীতে। ক্বলূ = তারা বলে। […]

March 3, 2026
ইবনে আশুরের “তাহরির ওয়া আল-তানভীর” বইয়ের রিভিউ

ভূমিকা ইবনে আশুর (১৮৭৯–১৯৭৩) ছিলেন টিউনিশিয়ার একজন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ। তিনি কুরআনের আধুনিক ও প্রায় সমন্বিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তাহরির ওয়া আল-তানভীর (Tahrir wa al-Tanwir)–এ। প্রচলিত তাফসিরগুলো সাধারণত কেবল আইন (ফিকহ) বা ভাষাগত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ইবনে আশুর দেখিয়েছেন কুরআন শুধু আধ্যাত্মিক নির্দেশনার বই নয়, বরং এটি একটি সভ্যতা গড়ার নীতি গ্রন্থ। তার […]

December 12, 2025
জিব্রাইল / গ্যাব্রিয়েল অর্থ কি? কোরআন থেকে বিশ্লেষণ

কুরআন গবেষক ড. সিরাজ ইসলামের গবেষণা ও লেখনী থেকে অনুবাদ জিব্রাইল হলেন আমাদের ভেতরে অনুপ্রেরণার শক্তি জিব্রাইল হলেন একটি কুরআনের রূপক (নোট ১) যা আমাদের মনের ভেতরে অনুপ্রেরণার প্রাকৃতিক শক্তিকে প্রতিনিধিত্ব করে। আমাদের গভীর চিন্তাভাবনার সময় এটি কার্যকর হয়ে ওঠে যখন এটি আমাদের কাছে সচেতনতা এবং অন্তর্দৃষ্টির ঝলক প্রকাশ করে। কুরআনে এই নামটি তিনবার এসেছে […]

June 7, 2025
শেষ জামানা সম্পর্কে কুরআন কি বলে?

শেষ জামানা বা আখিরুজ্জামান সম্পর্কে কুরআনে কি বলে? বিস্তারিত জানাচ্ছেন একজন কুরআনের স্কলার

May 30, 2025
প্রচলিত কুরবানি: কুরআন থেকে পর্যালোচনা

প্রচলিত কুরবানিকে যদি আমরা কুরআন থেকে পর্যালোচনা করি, তাহলে কি পাই?

May 16, 2025
Explaining the Qur'an through the Qur'an

Introductory presentation for a series applying the intratextual approach to the exegesis of Surat al-An'am, here on CASQI's channel.

May 3, 2025
কুরআনকে কি সংবিধান বলা যেতে পারে?

সাধারন ধর্ম বিশ্বাসীদের মধ্যে একটি কমন ধারনা হলো: ইসলামের সংবিধান হলো কুরআন এবং আধুনিক সময়ে যেসব সেকুলার সংবিধান করা হয় তা হলো "তাগুত"। বিষয়টি কি সত্যিই এরকম সাদা কালো? কুরআন কি সংবিধানি? একজন ইসলামে বিশ্বাসীর পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে এই প্রশ্নের মিমাংসায় পৌছতে হলে আমাদের প্রথমে কয়েকটি কনসেপ্ট ক্লিয়ার করে এগুতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে […]

May 2, 2025
কোরআন বোঝা কি কঠিন?

মুসলিমদের জীবন বিধানের সকল মূলনীতি কোরআনে আল্লাহ বলে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তোমার ওপর যে কিতাব (কোরআন) নাজিল করা হয়েছে ‎তাতে রয়েছে সকল বিষয়ের বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৮৯) দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ দেশের মুসলিমদের কোরআন দেখে শুদ্ধ করে পড়ার প্রতি গুরুত্ব থাকলেও ইসলামি জীবন বিধানের মৌলিক উৎস […]