দি  ইন্সটিটিউট ফর কুরআনিক রিসার্চ এন্ড এ্যাপ্লিকেশন (ইক্বরা)

লক্ষ্য

ইক্বরার লক্ষ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য স্রষ্টার ঐশী বাণীর সমন্বিত অধ্যয়ন ও সার্বজনীন প্রয়োগের জন্য জ্ঞানদীপ্ত অনুশীলন।

উদ্দেশ্য

ইক্বরার উদ্দেশ্য হলো কুরআনের বাণীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ অনুধাবনের জন্য টেকসই ভিত্তি প্রস্তুত করা এবং জীবন ও সমাজের প্রায়োগিকতার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো নির্মাণ।

প্রকাশিত বইসমূহ

আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা সাব্যস্ত করার বিভিন্ন কৌশল

আমি রহমতে পূর্ণ এই কিতাব নাজেল করেছি, অতএব এর অনুসরণ কর এবং সংযত হও - যেন তোমরা রহমত পেতে পার।

যেন তোমরা বলতে না পারো যে, কেবল আমাদের আগের দু'দলের জন্যই কিতাব নাযিল হয়েছিল আর আমরা তাদের পড়া বিষয় সম্বন্ধে জানতাম না।

অথবা তোমরা যাতে বলতে না পার যে, যদি আমাদের উপর কিতাব নাজেল হতে; তােবে তাদের চেয়ে আমরাই অধিক সরল পথে থাকতাম; তাই তোমাদের রবের তরফ থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ নেক রাস্তা ও রহমত হাজির হয়েছে; এর পর যে আল্লাহর আয়াতগুলোকে মিথ্যা (কাযযাবা) বলবে ও সেগুলো থেকে ফিরে যাবে, তবে তার চেয়ে কে বেশী জালেম?

যারা আমার আয়াতগুলো থেকে ফিরে যায় তাদের ফিরে যাওয়ার জন্য আমি তাদেরকে জঘন্য আজাবে প্রতিফল দেব।

সূরা আনআম, আয়াত ১৫৫-১৫৭। বাংলা তরজমা মহম্মদ পিয়ার আলী নাজির (আল কুরআনের অনুবাদ, দ্বিতীয় সংরস্করণ, ১৯৮৩)


রহিত আয়াতের নামে আয়াত প্রত্যাখ্যানের 'বৈধতা'

প্রচলিত 'ইসলামের' ফিকহ ও তাফসীর বিষয়ক শাস্ত্রে কুরআনের বিভিন্ন আয়াত বিষয়ে একটা মতবাদের জন্ম হয়েছে যাকে বলা হয 'আয়াত রহিত করা'। আরবীতে নসখ / মানসুখ বা ইংরেজীতে Abrogation। কুরআনের আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করার একটি অপকৌশল হিসেবে অনেক আয়াতকে রহিত হয়ে গেছে, পরের আয়াতের মাধ্যমে পূর্বের এই আয়াত বাতিল হয়ে গেছে সুতরাং সেই আয়াতের আর প্রয়োজন নাই- এ ধরনের কথা বলা হয় এবং এটিকে একটি শাস্ত্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।। রাসুল অমুক জিনিস বলেছেন, এখন রাসুলের হাদিসের কারনে পূর্বের অমুক আয়াত রহিত ধরে নেওয়া হবে ইত্যাদি নানান থিওরী আছে। রাসুলের নামে তার ওফারেত ২৫০ থেকে ৩০০ এবং ক্ষেত্র বিশেষে আরো অনেক পরে বানোয়াট, অনির্ভরযোগ্য হাদীসের জন্ম দিয়ে এগুলো যুক্ত করা হয়েছে তথাকথিত মাযহাবসমূহে।

তথাকথিত স্কলার থেকে ভিতর এরকম আয়াত কতগুলো তা নিয়ে কোন নির্দিষ্টতা নেই, বরং এই সংখ্যা বিভিন্ন স্কুল অফ থটসে ১০ থেকে ৫০০টির মতো ধরা হয়। শয়তানের বিভাজন নীতির কি 'চমৎকার' উদাহরন। স্কলাররা যুগে যুগে নিজেরাই এই রহিত হওয়ার আয়াতের সংখ্যা একটা বড় তালিকা থেকে ধীরে ধীরে ছোট করে এনেছে। যারা কুরআনের দ্বীনের একমাত্র দলিল মনে করে, তাদের উপলব্ধি হলো, কুরআনের একটিও রহতি হওয়ার আয়াত নেই।

প্রকৃত বাস্তবতা হলো কুরআনের কোন আয়াত রহিত হয়ে গেছে এ ধরনের মতবাদের কোন স্থান কুরআনে নেই। বরং কুরআনকে একটি সম্পুর্ণ বিধান হিসেবে পাঠ করার দায়িত্ব সকলের। এই সম্পূর্ণতার মধ্যে কোন আয়াত অন্য আয়াতের পরিপূরক, একটি আয়াত অন্য আয়াতে আরো বিশদ ব্যাখ্যা পেয়েছে, একটি গুরুত্ব অন্যটি দিয়ে বিশ্লেষিত হয়েছে।

কুরআনের সিস্টেম মিনিং বা সামগ্রিকতাকে আমলে নিয়ে পড়ার যে গুরুত্ব, নখসের মাধ্যকে তাকে খাঁটৈা করা হয় এবং একই সাথে স্রষ্টার নাযিল করা বিধানের প্রতি করা হয় তাচ্ছিল্য। আল্লাহর বিধানকে যেন অনেকটা ছেলে খেলায় নামিয়ে নিয়ে আসা।

পরিতাপের বিষয় যে সুরা আনআমের ১৫৫ থেকে ১৫৭ নং আয়াত এবং কুরআনের অন্যান্য স্থানের আল্লাহ এই সতর্কতা উপস্থাপন করেছেন যে আল্লাহর বিধানের আয়াতকে যারা মিথ্যা সাব্যস্ত করে ও তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তার থেকে বড় সত্যের প্রতি ও আল্লাহর প্রতি জুলুমকারী আর কেউ নেই। আল্লাহর আয়াত জেনে বুঝে প্রত্যাখ্যানকারীকে সবচেয়ে বড় জালিম আখ্যায়িত করা হয়েছে।

এটা বলাই যায় যে "ইসলামী হালাল পোষাকে" আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা সাব্যস্ত করার যে চক্রান্ত তার একটি হলো "আয়াত রহিত" হওয়ার গল্প।

... (চলমান - এই আর্টিকেলটি Work in Progress Version এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তীতে পুনরায় বর্ধন ও আপডেট করার হবে)


নখস বিষয়ক উইকিপিডিয়া আর্টিকেল

ট্যাগ / কী-ওয়ার্ড:

অন্যান্য প্রবন্ধ

March 3, 2026
সূরা আল-বাকারা ২:১১ ও আধুনিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি - একটি তুলনামূলক রাজনৈতিক-নৈতিক বিশ্লেষণ

পটভূমি সাম্প্রতিক সময়ে ইজরায়েল ও আমেরিকা পরিচালিত ইরানের উপরে ২৮ ফেব্রুয়ারীর যৌথ আক্রমন আমাদের সূরা বাকারার ২:১১ নাম্বার আয়াতকে পুন:পাঠ করতে অনুপ্রাণিত করে। ওয়া = আর। ইযা কীলা = যখন বলা হয়। লাহুম = তাদের উদ্দেশ্যে। লা তুফসিদু = তোমরা ফাসাদ/ বিপর্যয় সৃষ্টি/ অশান্তি সৃষ্টি করো না। ফিল আরদি = পৃথিবীতে। ক্বলূ = তারা বলে। […]

March 3, 2026
ইবনে আশুরের “তাহরির ওয়া আল-তানভীর” বইয়ের রিভিউ

ভূমিকা ইবনে আশুর (১৮৭৯–১৯৭৩) ছিলেন টিউনিশিয়ার একজন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ। তিনি কুরআনের আধুনিক ও প্রায় সমন্বিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তাহরির ওয়া আল-তানভীর (Tahrir wa al-Tanwir)–এ। প্রচলিত তাফসিরগুলো সাধারণত কেবল আইন (ফিকহ) বা ভাষাগত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ইবনে আশুর দেখিয়েছেন কুরআন শুধু আধ্যাত্মিক নির্দেশনার বই নয়, বরং এটি একটি সভ্যতা গড়ার নীতি গ্রন্থ। তার […]

December 12, 2025
জিব্রাইল / গ্যাব্রিয়েল অর্থ কি? কোরআন থেকে বিশ্লেষণ

কুরআন গবেষক ড. সিরাজ ইসলামের গবেষণা ও লেখনী থেকে অনুবাদ জিব্রাইল হলেন আমাদের ভেতরে অনুপ্রেরণার শক্তি জিব্রাইল হলেন একটি কুরআনের রূপক (নোট ১) যা আমাদের মনের ভেতরে অনুপ্রেরণার প্রাকৃতিক শক্তিকে প্রতিনিধিত্ব করে। আমাদের গভীর চিন্তাভাবনার সময় এটি কার্যকর হয়ে ওঠে যখন এটি আমাদের কাছে সচেতনতা এবং অন্তর্দৃষ্টির ঝলক প্রকাশ করে। কুরআনে এই নামটি তিনবার এসেছে […]

June 7, 2025
শেষ জামানা সম্পর্কে কুরআন কি বলে?

শেষ জামানা বা আখিরুজ্জামান সম্পর্কে কুরআনে কি বলে? বিস্তারিত জানাচ্ছেন একজন কুরআনের স্কলার

May 30, 2025
প্রচলিত কুরবানি: কুরআন থেকে পর্যালোচনা

প্রচলিত কুরবানিকে যদি আমরা কুরআন থেকে পর্যালোচনা করি, তাহলে কি পাই?

May 16, 2025
Explaining the Qur'an through the Qur'an

Introductory presentation for a series applying the intratextual approach to the exegesis of Surat al-An'am, here on CASQI's channel.

May 3, 2025
কুরআনকে কি সংবিধান বলা যেতে পারে?

সাধারন ধর্ম বিশ্বাসীদের মধ্যে একটি কমন ধারনা হলো: ইসলামের সংবিধান হলো কুরআন এবং আধুনিক সময়ে যেসব সেকুলার সংবিধান করা হয় তা হলো "তাগুত"। বিষয়টি কি সত্যিই এরকম সাদা কালো? কুরআন কি সংবিধানি? একজন ইসলামে বিশ্বাসীর পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে এই প্রশ্নের মিমাংসায় পৌছতে হলে আমাদের প্রথমে কয়েকটি কনসেপ্ট ক্লিয়ার করে এগুতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে […]

May 2, 2025
কোরআন বোঝা কি কঠিন?

মুসলিমদের জীবন বিধানের সকল মূলনীতি কোরআনে আল্লাহ বলে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তোমার ওপর যে কিতাব (কোরআন) নাজিল করা হয়েছে ‎তাতে রয়েছে সকল বিষয়ের বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৮৯) দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ দেশের মুসলিমদের কোরআন দেখে শুদ্ধ করে পড়ার প্রতি গুরুত্ব থাকলেও ইসলামি জীবন বিধানের মৌলিক উৎস […]