দি  ইন্সটিটিউট ফর কুরআনিক রিসার্চ এন্ড এ্যাপ্লিকেশন (ইক্বরা)

লক্ষ্য

ইক্বরার লক্ষ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য স্রষ্টার ঐশী বাণীর সমন্বিত অধ্যয়ন ও সার্বজনীন প্রয়োগের জন্য জ্ঞানদীপ্ত অনুশীলন।

উদ্দেশ্য

ইক্বরার উদ্দেশ্য হলো কুরআনের বাণীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ অনুধাবনের জন্য টেকসই ভিত্তি প্রস্তুত করা এবং জীবন ও সমাজের প্রায়োগিকতার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো নির্মাণ।

প্রকাশিত বইসমূহ

সম্পদের সুবিদিত অধিকার ও পার্সোনাল বাজেটিং

وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَّعْلُومٌ

ওয়াল্লাজীনা ফি আমওয়ালিহিম হাককুম মা’লুম

যাদের ধন-সম্পদে সুবিদিত অধিকার আছে


لِّلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ

লিসসাঈলি ওয়াল মাহরুম

প্রার্থী ও বঞ্চিতদের জন্য

- সূরা মা’রিজ ৭০:২৪-২৫

সূরা মা’রিজ, ‍কুরআনের ৭০ নম্বর সূরা - যেখানে বিচার দিবসের অবশ্যম্ভাবীতা এবং নিকটবর্তীতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর (৭০:৬-৭)) এবং দিনটির ভয়াবতার কিছু চরিত্র বর্ণনার পর (৭০:৮-১৬) অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে সম্পদ জমা করা, আল্লাহর পথে তথা সৎকাজে, পরার্থপরতায় ব্যয়ে যারা কার্পণ্য করে তাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারনভাবে মানুষের মধ্যে সম্পদের প্রতি লোভ এবং তার অস্থির ও খামখেয়ালী চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর বিপরীতে অন্যদের থেকে আলাদা, আল্লাহর নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে সালাতে বা আল্লাহর বিধান নিবীড়ভাবে অনুসরনে যারা দায়েম বা সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে তাদের বর্ণনার সাথে সাথে যেভাবে কুরআনে অন্যান্য জায়গায় সালাত ও যাকাত জোড়ায় জোড়ায় আমর দেখতে পাই সেভাবে সালাতের পরেই যে আয়াতটি সেটি হলো: যাদের সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের জন্য সুবিদিত অধিকার বা নির্ধারিত পরিমান সুনির্দিষ্ট আছে তাদের কথা বলা হয়েছে।

ইক্বরা থেকে গবেষণাকৃত আল কুরআনের আলোকে যাকাত বইটির সংকলন ও সম্পাদনার সময়ে যাকাতের বাস্তব শিক্ষার প্রায়োগিক একটি দিক উপলব্ধি হয় এই সূরা মা’রিজের ২৪ ও ২৫ নং আয়াত থেকে যার কী-ওয়ার্ড বা চুম্বক শব্দটি হলো: হাককুম মা’লুম

একজন ব্যক্তি তার আয় ও ব্যয় থেকে সুনির্দিষ্ট বা সুবিদিত হক্ক তখনই আদায় করতে পারে যখন সে তার আয় ব্যয় সম্পর্কে সচেতন থাকে। আল্লাহ কুরআনে নির্দেশ দিচ্ছেন অন্যের জন্য ব্যয় করা প্রসঙ্গে যে যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত (আল-আফওয়া / the surplus) তা থেকে ইনফাক্ব বা ব্যয় করার (সূরা বাকারা ২:২১৯)।

একজন ব্যক্তি জীবনে, বিশেষ করে সে যদি বিবাহিত ও পারিবারিক জীবন যাপন করে তার আয় ব্যয় অনেক ধরনের হয়ে থাকে। কিছু ব্যয় আছে নির্দিষ্ট (fixed), কিছু আছে পরিবর্তনশীল (variable)।

প্রয়ােজনের অতিরিক্ত জানতে হলে প্রথমে প্রয়োজন বা অত্যাবশ্যক খরচ / ব্যয়ের খাত সমূহ জানা জরুরী। আর এ থেকে আমরা বাস্তব কারনেই বাজেটিংয়ের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারে। ঠিক যেমন একটি অর্গানাইজেশন বা প্রতিষ্ঠানের সঠিক পরিচালনার জন্য, একটি রাষ্ট্রের জন্যও বাজেটিং একটি স্বাভাবিক প্রাক্টিস।

যাকাতের শিক্ষা আমাদের জীবনে প্রয়োগের জন্য এবং বিশেষ করে সূরা মা’রিজের ২৪ ও ২৫ নং আয়াত জীবনে প্রয়োগের স্বার্থে আমাদের বাজেটিং অনুশীলন করায় অনুপ্রাণিত করে।

পার্সোনাল বা কর্পোরেট বা রাষ্ট্রিয় বাজেটিং মানুষের জ্ঞান বিজ্ঞানের অনুশীলনে একটি পরিপক্ক বিষয়। সচেতন ব্যক্তির ক্ষেত্রে পার্সোনাল বাজেটিং আধুনিক সময়ে সেলফ ডেভলপমেন্ট বা আত্নউন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা যদি হাককুম মা’লুম অনুশীলন করতে চাই তা হলে প্রাথমিকভাবে পার্সেোনাল বাজেটিং সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

ব্যক্তিগত বাজেটিংয়ের ধাপসমূহ

নীচের ধাপগুলো অনুসরণ করে একজন ব্যক্তি পার্সোনাল বাজেটিং করতে পারে। এখানে গণনার একক হিসেবে মাসকে ধরা হয়েছে। তবে কেউ যদি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে আয় করে তাহলে সাপ্তাহিক বাজেটিং করা যেতে পারে।

১ম ধাপ - আয় নির্ধারণ:

প্রথমে আপনার মাসিক আয় হিসাব করুন। এতে আপনার নিয়মিত বেতন, ফ্রিল্যান্স কাজ বা আয়ের অন্য যে কোনো উৎস অন্তর্ভুক্ত করুন।

আয়ের মধ্যে নিয়মিত আয় যেমন থাকতে পারে আবার অনিয়মিত কিন্তু ভিন্ন সময়ে আগত আয়, যেমন বছরে ২ বার আপনার হয়তো ধান আসে গ্রামের বাড়ি থেকে। এটার একটা অর্থনৈতিক মূল্য আছে।

২য় ধাপ - ব্যয় অনুসরণ করা:

পরবর্তী ১ বা কয়েক মাসের জন্য আপনার যাবতীয় ব্যয় ট্র্যাক বা অনুসরণ করুন। এর ফলে আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে আপনার অর্থ কোথায় খরচ হচ্ছে এবং কি পরিমানে। এর জন্য কাগজে হিসাব রাখতে পারেন, এক্সেলে বা বিশেষায়িত এ্যাপে হিসাব রাখতে পারেন।

৩য় ধাপ - ব্যয় শ্রেণীবদ্ধ করা:

একবার আপনি আপনার ব্যয়গুলি ট্র্যাক করার পরে, সেগুলিকে নির্দিষ্ট (fixed) এবং পরিবর্তনশীল (variable) ব্যয়ের মধ্যে শ্রেণীবদ্ধ করুন। নির্দিষ্ট স্থির খরচ হল যেগুলি প্রতি মাসে একই থাকে, যেমন বাসা ভাড়া প্রদান। পরিবর্তনশীল খরচ হল যেগুলি প্রতি মাসে পরিবর্তিত হয়, যেমন মুদি খরচ বা বিনোদন।

৪র্থ ধাপ - আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণ:

আপনার আর্থিক লক্ষ্যগুলি নির্ধারণ করুন, এটি একটি নিজের মাথা গোজার ঠাই বা বাড়ির জন্য অর্থ সংস্থান করা, ছেলে মেয়ের বড় ধরনের শিক্ষা ব্যয় বা একটি জরুরি তহবিল তৈরি করা।

৫ম ধাপ - আয় ব্যয়ের সাথে সংগতিশীল বাজেট তৈরী:

আপনার আয় এবং ব্যয়ের উপর ভিত্তি করে, একটি বাজেট তৈরি করুন যা আপনার আর্থিক লক্ষ্যগুলিকে বিবেচনা করে। বাস্তবসম্মত হোন এবং নিশ্চিত করুন যে আপনি আপনার নির্দিষ্ট খরচ, সঞ্চয় এবং পরিবর্তনশীল ব্যয়ের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করেছেন।

এই বাজেট আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে পরিবর্তনশীল খরচ হিসেবে নেওয়ার পর - অতিরিক্ত কত টাকা থাকে। এই অর্থ আপনার পিতামাতার জন্য, আত্নীয় স্বজেনের জন্য এবং যারা আপনার কাছে সাহায্য প্রার্থী তাদের জন্য এবং আপনার নজরে যারা বঞ্চিত তাদের জন্য ব্যয় করার জন্য খাত হিসেবে আপনার কাছে হিসাব করা থাকলো।

৬ষ্ঠ ধাপ - বাজেট মনিটর:

প্রতি মাসে আপনার খরচের উপর নজর রাখুন এবং আপনার বাজেটের সাথে তুলনা করুন। আপনার আর্থিক লক্ষ্য পূরণের জন্য আপনি ট্র্যাকে আছেন তা নিশ্চিত করতে আপনার বাজেটকে প্রয়োজন অনুযায়ী সামঞ্জস্য করুন।

কিছু মাসে এই অনুশীলন আপনাকে সঠিক অতিরিক্তি নির্ধারন করতে সাহায্য করবে।

আমরা অন্যের জন্য ব্যয় করার ক্ষেত্রে অনেক সময় শর্টটার্ম চিন্তা করি। তা না করে টেকসই উন্নয়নের জন্য চিন্তা ও ব্যবস্থা করলে সেটি বেশি কাজে দিবে। যেমন: একজন গরীব ব্যক্তিকে অল্প অল্প খাওয়ার টাকা না দিয়ে বরং তাকে একটি ছোট ব্যবসার জন্য পুঁজি দেওয়া। এ ধরনের সৎকাজে ব্যয়ই আল্লাহকে সাহায্য করার সমতুল্য কেননা কুরআনে সার্বিকভাবে যেসব স্পষ্ট ব্যয়ের খাত বলা হয়েছে তার মধ্যে আমরা পাই ঋণগ্রস্থ ব্যক্তিকে সাহায্য করা, বাস্তুহারা (ইবনে সাবিল), বঞ্চিত, এতিম, দরিদ্র আত্নীয় ইত্যাদি। সমাজে অনেকে টেকসই উন্নয়নমূল ভালোকাজে নিয়জিত। এরকম সৎ ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানেও অর্থ ডোনেট করার মাধ্যমে আমরা আমাদের হাককুম মা’লুম আয়াতের হক্ক আদায় করতে পারি ইনশাল্লাহ।

কুরআনে স্রষ্টা আমাদেরকে বারবার সাবধানে করছে সেদিন আসার পূর্বে ব্যয় করা যে দিন চলে আসলে আমরা আর সৎকাজে ব্যয় করতে পারবো না। সুতরাং বুদ্ধিমান ব্যক্তির অবশ্যই চেষ্টা করা তার অর্থ বুদ্ধিমত্তার সাথে, পরিকল্পনা মাফিক সৎকাজে ব্যয় করা। আমরা জানি যে দারিদ্রতা একটি অভিশাপ এবং দারিদ্রের কশাঘাতের ব্যক্তির জন্য নৈতিক ও সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন কতটা কঠিন। সুতরাং আমরা যখন পার্সোনাল বাজেটিং করবো তখন অর্জিত অর্থ সঠিক, টেকসই, গুরুত্বপুর্ণ কোন কাজে ব্যয় করা উচিত সেটিও সঠিকভাবে পর্যালোচনার সুযোগ পাওয়া যাবে।

বাজেটিং সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে

পার্সোনাল বাজেটিং সম্পর্কে অনেক ভালো ভালো বই, লেকচার এবং রিসোর্স অনলাইনে ও অফলাইনে রয়েছে। যারা বর্তমানে পার্সোনাল বাজেটিংয়ের জনপ্রিয় শিক্ষম তাদের মধ্যে বিশিষ্টদের মধ্যে একজন ডেভ রামসে (Dave Ramsey)। তিনি একজন ব্যক্তিগত অর্থ বিশেষজ্ঞ, লেখক এবং রেডিও হোস্ট যিনি তার বই, পডকাস্ট এবং কোর্সের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ লোককে তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে সাহায্য করেছেন৷ Ramsey আর্থিক সাফল্যের জন্য তার "শিশু পদক্ষেপ" পদ্ধতির জন্য পরিচিত, যার মধ্যে রয়েছে বাজেট তৈরি করা, ঋণ পরিশোধ করা, জরুরী অবস্থার জন্য সঞ্চয় করা এবং ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করা। তিনি আপনার উপায়ের মধ্যে বসবাস, ঋণ এড়ানো এবং স্মার্ট আর্থিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সম্পদ তৈরি করার গুরুত্বের উপর জোর দেন।

ব্যক্তিগত বাজেটের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চিন্তাধারার নেতাদের মধ্যে রয়েছে সুজে ওরম্যান (Suze Orman), ক্রিস হোগান (Chris Hogan) এবং এলিজাবেথ ওয়ারেন (Elizabeth Warren)। ইউটিউবে এনাদের সবার বেশ শিক্ষামূলক ভিডিও রয়েছে যা থেকে একজন ব্যক্তিগত বাজেটিং সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহন করতে পারে।


বাজেটিং সম্পর্কে কিছু ইউটিউব ভিডিও

ট্যাগ / কী-ওয়ার্ড:

অন্যান্য প্রবন্ধ

March 26, 2026
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্রা কি কোরানের মুফাসসিরের ভূমিকা রাখতে পারে? কোরানের ব্যাখ্যার ভবিষ্যত

ইবনে আশুর সেন্টারের পরিচালক ড. সোহাইব সাঈদ একটি ইউটিউব ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence / AI) এবং কুরআনের তাফসিরের সংযোগস্থল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ডিজিটাল মডেলিংয়ের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পাণ্ডিত্যপূর্ণ মতামতের সারসংক্ষেপ করা, ধ্রুপদী গ্রন্থ অনুবাদ করা এবং এমনকি ঐতিহাসিক পণ্ডিতদের মতো 'চিন্তা' করা সম্ভব। মূল বিষয়বস্তু: ভূমিকা এবং শিক্ষাগত পটভূমি […]

March 19, 2026
Can AI Become a Mufassir? The Future of Quranic Interpretation

Dr. Sohaib Saeed, director of the Ibn ʿAshur Centre, discussed in an YouTube Video the intersection of Artificial Intelligence and Quranic exegesis (Tafsir). He explores how AI can be used to summarize scholarly positions, translate classical texts, and even "think" like historical scholars through digital modeling. Key Takeaways: Highlight Introduction and Academic Background The session […]

March 17, 2026
কোরআনে মহাবিশ্ব ও বিজ্ঞানের চমক: ১৪০০ বছর আগের যে বাণী আজ প্রমাণিত

কোরআনের বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক অলৌকিকতা: গাজী রাকায়েতের ইসলামে ফেরার কাহিনী কোরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে কেন কাঁদলেন ২৮টি জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক? ভাবুন তো, একজন মানুষ পবিত্র কোরআনের বৈজ্ঞানিক ভুল (Scientific error) ধরার জন্য পড়া শুরু করলেন, কিন্তু শেষমেশ এর গাণিতিক নিখুঁত গাঁথুনি আর বৈজ্ঞানিক নিদর্শন দেখে নিজেই বিস্মিত হয়ে গেলেন! হ্যাঁ, ঠিক এমন একটি অবিশ্বাস্য ঘটনার […]

March 13, 2026
প্রাচীনকালের শেষে ইসলাম এবং পেরেনিয়ালিজম: একটি নতুন ঐতিহাসিক পাঠ

ইতিহাসের পাতা উল্টালে সপ্তম শতাব্দীতে আরবের বুকে ইসলামের উত্থানকে একটি বিস্ময়কর বাঁক হিসেবেই দেখতে হয়। ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আলোচনায় বা প্রথাগত ইতিহাসে ইসলামকে সাধারণত এমন একটি ঐশ্বরিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়, যার সাথে সমসাময়িক বা পূর্ববর্তী সমাজ-সংস্কৃতির যেন কোনো যোগসূত্রই ছিল না। কিন্তু আধুনিক ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা এখন ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের মতে, ইসলামকে নিখুঁতভাবে […]

March 9, 2026
কুরআনের আলোকে প্রাক-ইসলামি আরবের কুসংস্কার, সামাজিক প্রথা ও সংস্কার

১. প্রাক-ইসলামি আরবের ঐতিহাসিক ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরব উপদ্বীপের সামগ্রিক অবস্থাকে ঐতিহাসিকভাবে 'জাহিলিয়্যাত' বা অন্ধকারের যুগ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'জাহিলিয়্যাত' শব্দটি নিছক অক্ষরজ্ঞানহীনতা বা শিক্ষার অভাবকে নির্দেশ করে না; বরং এটি মূলত একটি নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আধ্যাত্মিক শূন্যতার সমার্থক, যেখানে ঐশী জ্ঞান ও যৌক্তিকতার বদলে কুসংস্কার, গোঁড়ামি […]

March 4, 2026
কুরআন যেভাবে একটি সভ্যতা নির্মাণের গ্রন্থ — ইবনে আশুরের দৃষ্টিকোণ থেকে

ভূমিকা ইসলামিক জ্ঞানচর্চায় কুরআনকে সাধারণত আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় নির্দেশনার গ্রন্থ হিসেবে দেখা হয়। তবে মুসলিম আধুনিক চিন্তাবিদরা, বিশেষ করে টিউনিশিয়ান তাফসিরবিদ মুহাম্মাদ আল-তাহির ইবনে আশুর (Muhammad al-Tahir ibn Ashur), কুরআনকে শুধু আধ্যাত্মিক নৈতিকতা প্রদানের বই নয়, বরং একটি সভ্যতা নির্মাণের পরিকল্পনামূলক নীতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর তাফসির Tahrir wa al-Tanwir এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। […]

March 3, 2026
সূরা আল-বাকারা ২:১১ ও আধুনিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি - একটি তুলনামূলক রাজনৈতিক-নৈতিক বিশ্লেষণ

পটভূমি সাম্প্রতিক সময়ে ইজরায়েল ও আমেরিকা পরিচালিত ইরানের উপরে ২৮ ফেব্রুয়ারীর যৌথ আক্রমন আমাদের সূরা বাকারার ২:১১ নাম্বার আয়াতকে পুন:পাঠ করতে অনুপ্রাণিত করে। ওয়া = আর। ইযা কীলা = যখন বলা হয়। লাহুম = তাদের উদ্দেশ্যে। লা তুফসিদু = তোমরা ফাসাদ/ বিপর্যয় সৃষ্টি/ অশান্তি সৃষ্টি করো না। ফিল আরদি = পৃথিবীতে। ক্বলূ = তারা বলে। […]

March 3, 2026
ইবনে আশুরের “তাহরির ওয়া আল-তানভীর” বইয়ের রিভিউ

ভূমিকা ইবনে আশুর (১৮৭৯–১৯৭৩) ছিলেন টিউনিশিয়ার একজন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ। তিনি কুরআনের আধুনিক ও প্রায় সমন্বিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তাহরির ওয়া আল-তানভীর (Tahrir wa al-Tanwir)–এ। প্রচলিত তাফসিরগুলো সাধারণত কেবল আইন (ফিকহ) বা ভাষাগত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ইবনে আশুর দেখিয়েছেন কুরআন শুধু আধ্যাত্মিক নির্দেশনার বই নয়, বরং এটি একটি সভ্যতা গড়ার নীতি গ্রন্থ। তার […]