ইক্বরার লক্ষ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য স্রষ্টার ঐশী বাণীর সমন্বিত অধ্যয়ন ও সার্বজনীন প্রয়োগের জন্য জ্ঞানদীপ্ত অনুশীলন।
উদ্দেশ্য
ইক্বরার উদ্দেশ্য হলো কুরআনের বাণীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ অনুধাবনের জন্য টেকসই ভিত্তি প্রস্তুত করা এবং জীবন ও সমাজের প্রায়োগিকতার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো নির্মাণ।
প্রকাশিত বইসমূহ
মেসিয়ানিজম / মাহদীবাদের উদ্ভব: রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দ্যোতনা
মেসিয়ানিজম (Messianism) বা মাহদীবাদ (Mahadism) কি? এর উৎস ও ব্যাখ্যা কি?
মেসিয়ানিজমের ধারনা কোথা থেকে আসলো?
. . .
”মেসিয়ানিজমের সাথে জুডিও খ্রিস্টান ট্রাডিশনের সম্পর্ক অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত, বিশেষ করে জুডিও বা ইহুদীবাদের মধ্যে মেসিয়ানিজমের মূল সূত্র নিহীত। অনেকে মনে করে পারস্য অঞ্চলের জোরোয়াস্ট্রিয়ান ধারনার মধ্যেও মেসিয়ানিজমের বীজ উপ্ত ছিলো।
মেসিয়ানিজক কেবল জুডিও ক্রিস্টান ট্রাডিশনই নয়, পরবর্তীতে আমরা দেখতে পাই যে শিয়া ইজমের ভিতরে এমনকি কলোনিয়ালিজমের (উপনিবেশিকতা) প্রসারের কারনে পরবর্তীকালে সুন্নী ইসলামের মধ্যেও সে ঢুকেছে। এ জায়গা থেকে বলা যায় যে মেসিয়ানিজম আসলে এক ধরনের পরাজিত শক্তির নতুন শক্তির বিকাশের ইচ্ছা। কারন যেসব অঞ্চলের জাতিগোষ্ঠি বিজয়ী তারা মেসিয়ানিজমের জন্য অপেক্ষা করে না।
ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে যদি আমরা বাস্তবতার সাথে রিলেট না করে পড়তে পারি তা হলে সে পড়া আসলে অর্থহীন।”
- মুহাম্মদ তানিম নওশাদ, লেখক ও গবেষক
বোধিচিত্তের আয়োজনে ইউটিউবের চ্যানেলে প্রকাশিত একটি চমৎকার সেশন।
মুহাম্মদ তানিম নওশাদ
পেশায় শিক্ষক, গবেষক ও অনুবাদক। পড়াশোনা করেছেন একাধারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় (উন্নয়ন অধ্যয়ন) এবং হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জর্মন ভাষা)। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের অধ্যাপক। অনুবাদ করেন জর্মন থেকে বাংলায়, ইংরেজীতে এবং বাংলা থেকে জর্মনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটে। এছাড়াও অনুবাদ করেন ফরাসী ও রুশ ভাষা থেকে। তাঁর অনুবাদের উপর ২০১৭ সালে হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার হয়েছে। একজন পেশাদার গবেষক এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে ইতোমধ্যে কাজ করেছেন। বিভিন্ন দেশী ও বিদেশী পত্র-পত্রিকায় তাঁর প্রবন্ধ ও গবেষণা সন্দর্ভ ছাপা হয়েছে। লেখকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বই - ধর্মের অন্তরালে: বিশ্বাসভিত্তিক চেতনায় শ্রেণি সংগ্রামের আভাস। রকমারিতে মুহাম্মদ তানিম নওশাদ এর বই সমূহ।
১. প্রাক-ইসলামি আরবের ঐতিহাসিক ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরব উপদ্বীপের সামগ্রিক অবস্থাকে ঐতিহাসিকভাবে 'জাহিলিয়্যাত' বা অন্ধকারের যুগ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে একাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'জাহিলিয়্যাত' শব্দটি নিছক অক্ষরজ্ঞানহীনতা বা শিক্ষার অভাবকে নির্দেশ করে না; বরং এটি মূলত একটি নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আধ্যাত্মিক শূন্যতার সমার্থক, যেখানে ঐশী জ্ঞান ও যৌক্তিকতার বদলে কুসংস্কার, গোঁড়ামি […]
ভূমিকা ইসলামিক জ্ঞানচর্চায় কুরআনকে সাধারণত আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় নির্দেশনার গ্রন্থ হিসেবে দেখা হয়। তবে মুসলিম আধুনিক চিন্তাবিদরা, বিশেষ করে টিউনিশিয়ান তাফসিরবিদ মুহাম্মাদ আল-তাহির ইবনে আশুর (Muhammad al-Tahir ibn Ashur), কুরআনকে শুধু আধ্যাত্মিক নৈতিকতা প্রদানের বই নয়, বরং একটি সভ্যতা নির্মাণের পরিকল্পনামূলক নীতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর তাফসির Tahrir wa al-Tanwir এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। […]
পটভূমি সাম্প্রতিক সময়ে ইজরায়েল ও আমেরিকা পরিচালিত ইরানের উপরে ২৮ ফেব্রুয়ারীর যৌথ আক্রমন আমাদের সূরা বাকারার ২:১১ নাম্বার আয়াতকে পুন:পাঠ করতে অনুপ্রাণিত করে। ওয়া = আর। ইযা কীলা = যখন বলা হয়। লাহুম = তাদের উদ্দেশ্যে। লা তুফসিদু = তোমরা ফাসাদ/ বিপর্যয় সৃষ্টি/ অশান্তি সৃষ্টি করো না। ফিল আরদি = পৃথিবীতে। ক্বলূ = তারা বলে। […]
ভূমিকা ইবনে আশুর (১৮৭৯–১৯৭৩) ছিলেন টিউনিশিয়ার একজন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ। তিনি কুরআনের আধুনিক ও প্রায় সমন্বিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তাহরির ওয়া আল-তানভীর (Tahrir wa al-Tanwir)–এ। প্রচলিত তাফসিরগুলো সাধারণত কেবল আইন (ফিকহ) বা ভাষাগত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ইবনে আশুর দেখিয়েছেন কুরআন শুধু আধ্যাত্মিক নির্দেশনার বই নয়, বরং এটি একটি সভ্যতা গড়ার নীতি গ্রন্থ। তার […]
কুরআন গবেষক ড. সিরাজ ইসলামের গবেষণা ও লেখনী থেকে অনুবাদ জিব্রাইল হলেন আমাদের ভেতরে অনুপ্রেরণার শক্তি জিব্রাইল হলেন একটি কুরআনের রূপক (নোট ১) যা আমাদের মনের ভেতরে অনুপ্রেরণার প্রাকৃতিক শক্তিকে প্রতিনিধিত্ব করে। আমাদের গভীর চিন্তাভাবনার সময় এটি কার্যকর হয়ে ওঠে যখন এটি আমাদের কাছে সচেতনতা এবং অন্তর্দৃষ্টির ঝলক প্রকাশ করে। কুরআনে এই নামটি তিনবার এসেছে […]