কুরআনান আ'জাবান

বিস্ময়কর কুরআন

শব্দার্থ ভিত্তিক বাংলা অনুবাদ, তৈয়াবুর রহমান গোপালগঞ্জী

Quranan Ajaban Cover

029. সূরা আনকাবুত

হে আমার প্রভু, আপনার কাছে আশ্রয় চাই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে, আশ্রয় চাই এর উপস্থিতি থেকে। পরম করুনাময় ও অসীম দয়ালু সর্বশক্তিমানের নামে।

২৯:১
আলিফ লাম মীম।

আলিফ লাম মীম।

২৯:২
আহাছিবান্নাছু = মানুষ কি হিসাব/ ধারণা করে নিয়েছে। আইঁ ইউতরাকূ = যে, তাদেরকে তরক করা/ ছেড়ে দেয়া হবে। আইঁ ইয়াক্বূলূ = এ কারণে যে, তারা বলে। আমান্না = আমরা ঈমান/ বিশ্বাস করেছি। ওয়া = আর। হুম = তাদেরকে। লা ইউফতারূনা = (কর্মের মাধ্যমে) পরীক্ষা করা হবে না?

মানুষ কি হিসাব/ ধারণা করে নিয়েছে যে, তাদেরকে তরক করা/ ছেড়ে দেয়া হবে, এ কারণে যে, তারা বলে, ‘আমরা ঈমান/ বিশ্বাস করেছি’, আর তাদেরকে (কর্মের মাধ্যমে) পরীক্ষা করা হবে না?

২৯:৩
ওয়া = অথচ। লাক্বাদ = নিশ্চয়। ফাতান্নাল্লাযীনা মিন ক্বাবলিহিম = আমরা তাদেরকে (কর্মের মাধ্যমে) পরীক্ষা করেছিলাম যারা ছিলো তাদের আগে। ফালাইয়া’লামান্নাল্লাহুল্লাযীনা = নিশ্চয় আল্লাহ জেনে নেবেন (= প্রকাশ করে দেবেন) তাদেরকে যারা। সদাক্বূ = সত্য বলেছে। ওয়া = আর। লাইয়ালামান্নাল কাযিবীনা = তিনি জেনে নেবেন (= প্রকাশ করে দেবেন) মিথ্যাবাদীদেরকে।

অথচ নিশ্চয় আমরা তাদেরকে (কর্মের মাধ্যমে) পরীক্ষা করেছিলাম যারা ছিলো তাদের আগে। নিশ্চয় আল্লাহ জেনে নেবেন (= প্রকাশ করে দেবেন) তাদেরকে যারা সত্য বলেছে, আর তিনি জেনে নেবেন (= প্রকাশ করে দেবেন) মিথ্যাবাদীদেরকে।

২৯:৪
আম = নাকি। হাছিবাল্লাযীনা = তারা হিসাব/ ধারণা করে নিয়েছে যারা। ইয়া’মালূনাছ ছাইয়িয়াতি = মন্দকর্ম করেছে। আইঁ ইয়াছবিক্বূনা = যে, তারা আমাদেরকে ছাড়িয়ে যাবে। ছাআ = খুবই মন্দ। মা ইয়াহকুমূনা = যা তারা ফায়সালা করছে।

নাকি তারা হিসাব/ ধারণা করে নিয়েছে যারা মন্দকর্ম করেছে যে, তারা আমাদেরকে ছাড়িয়ে যাবে? খুবই মন্দ, যা তারা ফায়সালা করছে।

২৯:৫
মান কানা ইয়ারজূ = যে প্রত্যাশা করে। লিক্বাআল্লাহি = আল্লাহর সাথে মোলাকাতের (= কর্মফল লাভের জন্য পর্দার অন্তরাল থেকে আল্লাহর সম্মুখীন হওয়ার)। ফাইন্না = তাহলে (সে জেনে রাখুক) নিশ্চয়। আজালাল্লাহি = আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সময়। লাআতিন = আসবেই। ওয়া = আর। হুয়াছ ছামীউল আলীমু = তিনি সামী’/ সর্বশ্রোতা ও আলীম/ সর্বজ্ঞাতা।

যে প্রত্যাশা করে আল্লাহর সাথে মোলাকাতের (= কর্মফল লাভের জন্য পর্দার অন্তরাল থেকে আল্লাহর সম্মুখীন হওয়ার), তাহলে (সে জেনে রাখুক) নিশ্চয় আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সময় আসবেই। আর তিনি সামী’/ সর্বশ্রোতা ও আলীম/ সর্বজ্ঞাতা।

২৯:৬
ওয়া = আর। মান = যে। জাহাদা = জিহাদ/ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছে। ফাইন্নামা = তাহলে (সে জেনে রাখুক) নিশ্চয়। ইউজাহিদু = সে জিহাদ/ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করে। লিনাফসিহী = তার নফসের জন্য/ তার নিজেরই কল্যাণার্থে। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। লাগানিইয়্যুন আনিল আলামীনা = সমগ্র বিশ্ববাসী থেকে অমুখাপেক্ষী।

আর যে জিহাদ/ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছে, তাহলে (সে জেনে রাখুক) নিশ্চয় সে জিহাদ/ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করে তার নফসের জন্য/ তার নিজেরই কল্যাণার্থে। নিশ্চয় আল্লাহ সমগ্র বিশ্ববাসী থেকে অমুখাপেক্ষী।

২৯:৭
ওয়াল্লাযীনা = আর যারা। আমানূ = ঈমান/ বিশ্বাস করেছে। ওয়া = আর। আমিলুস সলিহাতি = আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করেছে। লানুকাফফিরান্না = অবশ্যই আমরা ঢেকে দেবো/ মিটিয়ে দেবো। আনহুম = তাদের থেকে। ছাইয়িয়াতিহিম = তাদের মন্দকর্মসমূহ। ওয়ালানাযযিয়ান্নাহুম = আর অবশ্যই আমরা তাদেরকে প্রতিফল দেবো। আহসানাল্লাযী কানূ ইয়া’মালূনা = তারা যে আমল করতো তার অধিক উত্তমটির (বিবেচনায়)।

আর যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছে আর আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করেছে, অবশ্যই আমরা ঢেকে দেবো/ মিটিয়ে দেবো তাদের থেকে তাদের মন্দকর্মসমূহ, আর অবশ্যই আমরা তাদেরকে প্রতিফল দেবো, তারা যে আমল করতো তার অধিক উত্তমটির (বিবেচনায়)।

২৯:৮
ওয়া = আর। ওয়াসসয়নাল ইনসানা = আমরা ওয়াসিয়াত/ নির্দেশ দিয়েছি মানুষকে। বিওয়ালিদায়হি = তার পিতামাতার প্রতি। হুসনা = উত্তম আচরণ করতে। ওয়া = আর। ইন = যদি। জাহাদাকা = তারা দুজন তোমার প্রতি জিহাদ/ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করে। লিতুশরিকা = যেন তুমি শিরক করো। বী = আমার সাথে। মা লাইছা লাকা বিহী ইলমিন = যা (সঠিক হওয়া) সম্পর্কে তুমি জানো না। ফালা তুতি’হুমা = তাহলে তুমি তাদের ইতায়াত/ আনুগত্য করো না। ইলাইয়া = আমারই দিকে। মারজিউকুম = তোমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল। ফাউনাব্বিউকুম = তারপর আমি তোমাদেরকে সংবাদ দেবো। বিমা কুনতুম তা’মালূনা = তোমাদের আমল/ কর্মকান্ড সম্পর্কে।

আর আমরা ওয়াসিয়াত/ নির্দেশ দিয়েছি মানুষকে তার পিতামাতার প্রতি উত্তম আচরণ করতে। আর যদি তারা দুজন তোমার প্রতি জিহাদ/ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করে যেন তুমি শিরক করো আমার সাথে, যা (সঠিক হওয়া) সম্পর্কে তুমি জানো না, তাহলে তুমি তাদের ইতায়াত/ আনুগত্য করো না। আমারই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল। তারপর আমি তোমাদেরকে সংবাদ দেবো তোমাদের আমল/ কর্মকান্ড সম্পর্কে।

২৯:৯
ওয়াল্লাযীনা = আর যারা। আমানূ = ঈমান/ বিশ্বাস করেছে। ওয়া = আর। আমিলুস সলিহাতি = আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করেছে। লানুদখিলান্নাহুম = অবশ্যই আমরা তাদেরকে দাখিল/ প্রবেশ করাবো। ফিস সলিহীনা = সালেহীনের/ সৎকর্মশীলদের মধ্যে।

আর যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছে আর আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করেছে অবশ্যই আমরা তাদেরকে দাখিল/ প্রবেশ করাবো সালেহীনের/ সৎকর্মশীলদের মধ্যে।

২৯:১০
ওয়া = আর। মিনান্নাছি = মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমনও আছে। মাইঁ ইয়াক্বূলু = যে বলে। আমান্না বিল্লাহি = ‘আমরা ঈমান/ বিশ্বাস করেছি আল্লাহর প্রতি’। ফাইযা = তারপর যখন। উযিয়া = সে নির্যাতিত হয়। ফিল্লাহি = আল্লাহর ব্যাপারে। জাআলা ফিতনাতান্নাছি = তখন গণ্য করে মানুষের ফিতনাকে/ মানুষ কর্তৃক নির্যাতনকে। কাআযাবিল্লাহি = আল্লাহর দেয়া আযাবের/ শাস্তির মতো। ওয়া = অথচ। লাইন = অবশ্য যদি। জাআ = আসে। নাসরুম মির রব্বিকা = তোমার রবের পক্ষ থেকে কোন সাহায্য। লাইয়াক্বূলান্না = তাহলে তারা অবশ্যই বলবে। ইন্না = নিশ্চয় আমরা। কুন্না = ছিলাম। মাআকুম = তোমাদেরই সাথে। আওয়া লাইছাল্লাহু বিআ’লামা = আল্লাহ কি পরিজ্ঞাত নন। বিমা ফী সুদূরিল আলামীনা = বিশ্ববাসীর সদরসমূহে/ মস্তিষ্কসমূহে কী আছে তা সম্পর্কে?

আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমনও আছে যে বলে, ‘আমরা ঈমান/ বিশ্বাস করেছি আল্লাহর প্রতি’; তারপর যখন সে নির্যাতিত হয় আল্লাহর ব্যাপারে, তখন গণ্য করে মানুষের ফিতনাকে/ মানুষ কর্তৃক নির্যাতনকে আল্লাহর দেয়া আযাবের/ শাস্তির মতো। অথচ অবশ্য যদি আসে তোমার রবের পক্ষ থেকে কোন সাহায্য, তাহলে তারা অবশ্যই বলবে, ‘নিশ্চয় আমরা ছিলাম তোমাদেরই সাথে’। আল্লাহ কি পরিজ্ঞাত নন বিশ্ববাসীর সদরসমূহে/ মস্তিষ্কসমূহে কী আছে তা সম্পর্কে?

২৯:১১
ওয়া = আর। লাইয়া’লামান্নাল্লাহুল্লাযীনা = অবশ্যই আল্লাহ জেনে নেবেন (= প্রকাশ করে দেবেন) তাদেরকে যারা। আমানূ = ঈমান/ বিশ্বাস করেছে। ওয়া = আর। লাইয়া’লামান্নাল মুনাফিক্বীনা = অবশ্যই তিনি জেনে নেবেন (= প্রকাশ করে দেবেন) মুনাফিকদেরকে।

আর অবশ্যই আল্লাহ জেনে নেবেন (= প্রকাশ করে দেবেন) তাদেরকে যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছে, আর অবশ্যই তিনি জেনে নেবেন (= প্রকাশ করে দেবেন) মুনাফিকদেরকে।

২৯:১২
ওয়া = আর। ক্বলাল্লাযীনা কাফারূ = তারা বলে যারা কুফর করেছে। লিল্লাযীনা আমানুত্তাবিঊ = তাদের উদ্দেশ্যে যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছে, ‘তোমরা ইত্তেবা/ অনুসরণ করো। ছাবীলানা = আমাদের সাবীল/ পথ। ওয়ালনাহমিল = আর অবশ্যই আমরা বহন করবো। খাতাইয়াতিকুম = তোমাদের গুনাহখাতা/ পাপসমূহ। ওয়া = অথচ। মা হুম বিহামিলীনা = তারা বহনকারী হবে না। মিন খাতাইয়াহুম মিন শাইয়িন = তাদের গুনাহখাতা/ পাপসমূহ, কিছুমাত্রও। ইন্নাহুম = নিশ্চয় তারা। লাকাযিবূনা = মিথ্যাবাদী।

আর তারা বলে যারা কুফর করেছে তাদের উদ্দেশ্যে যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছে, ‘তোমরা ইত্তেবা/ অনুসরণ করো আমাদের সাবীল/ পথ। আর অবশ্যই আমরা বহন করবো তোমাদের গুনাহখাতা/ পাপসমূহ’। অথচ তারা বহনকারী হবে না তাদের গুনাহখাতা/ পাপসমূহ, কিছুমাত্রও। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী।

২৯:১৩
ওয়া = আর। লাইয়াহমিলুন্না = অবশ্যই তারা বহন করবে। আছক্বালাহুম = তাদের ভারসমূহ। ওয়া = আর (বহন করবে)। আছক্বালাম মাআ আছক্বালিহিম = তাদের নিজেদের (পথভ্রষ্টতা/ অপরাধের) ভারসমূহের সাথে (অন্যদেরকে পথভ্রষ্ট/ অপরাধী করার) ভারসমূহ। ওয়ালাইউছআলুন্না = আর অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে। ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি = ইয়াওমুল কিয়ামাতে/ কিয়ামাত দিবসে। আম্মা কানূ ইয়াফতারূনা = ঐ সম্পর্কে যা তারা রচনা করতো।

আর অবশ্যই তারা বহন করবে তাদের ভারসমূহ আর (বহন করবে) তাদের নিজেদের (পথভ্রষ্টতা/ অপরাধের) ভারসমূহের সাথে (অন্যদেরকে পথভ্রষ্ট/ অপরাধী করার) ভারসমূহ। আর অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে ইয়াওমুল কিয়ামাতে/ কিয়ামাত দিবসে ঐ সম্পর্কে যা তারা রচনা করতো।

২৯:১৪
ওয়া = আর। লাক্বাদ = নিশ্চয়। আরছালনা = আমরা প্রেরণ করেছিলাম। নূহান = নূহকে। ইলা ক্বাওমিহী = তার কওমের কাছে। ফালাবিছা = তারপর সে অবস্থান করেছিলো। ফীহিম = তাদের মধ্যে। আলফা ছানাতিন ইল্লা খামছীনা আমান = পঞ্চাশ বছর কম এক হাজার বছর। ফাআখাযাহুমুত তূফানু = তারপর তাদেরকে গ্রাস করেছিলো তুফান/ প্লাবন। ওয়া = আর। হুম = তারা ছিলো। যালিমূনা = যালিম/ অত্যাচারী।

আর নিশ্চয় আমরা প্রেরণ করেছিলাম নূহকে তার কওমের কাছে। তারপর সে অবস্থান করেছিলো তাদের মধ্যে পঞ্চাশ বছর কম এক হাজার বছর। তারপর তাদেরকে গ্রাস করেছিলো তুফান/ প্লাবন। আর তারা ছিলো যালিম/ অত্যাচারী।

২৯:১৫
ফাআনযায়নাহু = তখন আমরা নাজাত/ মুক্তি দিয়েছিলাম তাকে। ওয়া = আর। আসহাবাছ ছাফীনাতি = (তার) নৌকায় আরোহীদেরকে। ওয়া = আর। জাআলনাহা = আমরা উহাকে (নৌকাকে) করেছিলাম। আয়াতাল্লিল আলামীনা = বিশ্ববাসীর জন্য আয়াত/ নিদর্শন।

তখন আমরা নাজাত/ মুক্তি দিয়েছিলাম তাকে আর (তার) নৌকায় আরোহীদেরকে। আর আমরা উহাকে (= নৌকাকে) করেছিলাম বিশ্ববাসীর জন্য আয়াত/ নিদর্শন।

২৯:১৬
ওয়া = আর (আমরা প্রেরণ করেছিলাম)। ইবরাহীমা = ইবরাহীমকে। ইয = (স্মরণ করো) যখন। ক্বলা = সে (= ইবরাহীম) বলেছিলো। ক্বাওমিহি’বুদুল্লাহা = তার কওমকে, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদাত/ দাসত্ব করো। ওয়াত্তাক্বূহু = আর তাঁকে ভয় করো। যালিকুম = উহাই। খায়রুল্লাকুম = তোমাদের জন্য কল্যানকর। ইন = যদি। কুনতুম তা’লামূনা = তোমরা জ্ঞান রাখো।

আর (আমরা প্রেরণ করেছিলাম) ইবরাহীমকে। (স্মরণ করো) যখন সে (= ইবরাহীম) বলেছিলো তার কওমকে, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদাত/ দাসত্ব করো আর তাঁকে ভয় করো। উহাই তোমাদের জন্য কল্যানকর, যদি তোমরা জ্ঞান রাখো’।

২৯:১৭
ইন্নামা = নিশ্চয়। তা’বুদূনা = তোমরা ইবাদাত/ উপাসনা করছো। মিন দূনিল্লাহি = আল্লাহকে বাদ দিয়ে (= একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত বাদ দিয়ে)। আওছানান = মূর্তিসমূহের। ওয়া = আর। তাখলুক্বূনা = তোমরা সৃষ্টি করছো। ইফকান = মনগড়া বিষয়। ইন্নাল্লাযীনা = নিশ্চয় যাদের। তা’বুদূনা = তোমরা ইবাদাত/ উপাসনা করছো। মিন দূনিল্লাহি = আল্লাহকে বাদ দিয়ে (= একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত বাদ দিয়ে)। লা ইয়ামলিকূনা = তারা কোন ক্ষমতা রাখে না। লাকুম = তোমাদের জন্য। রিযক্বান = রিযিকের ব্যবস্থা করার। ফাবতাগূ = সুতরাং তোমরা তালাশ করো। ইনদাল্লাহি = আল্লাহর কাছে। রিযক্বান = রিযিক। ওয়া’বুদূহু = আর তোমরা তাঁরই ইবাদাত/ দাসত্ব করো। ওয়াশকুরূ লাহু = আর তোমরা শোকর/ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো তাঁরই জন্য। ইলাইহি = তাঁরই দিকে। তুরজাঊনা = তোমরা ফিরে যাবে।

নিশ্চয় তোমরা ইবাদাত/ উপাসনা করছো আল্লাহকে বাদ দিয়ে (= একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত বাদ দিয়ে) মূর্তিসমূহের (উপাসনা)। আর তোমরা সৃষ্টি করছো মনগড়া বিষয়। নিশ্চয় যাদের তোমরা ইবাদাত/ উপাসনা করছো আল্লাহকে বাদ দিয়ে (= একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত বাদ দিয়ে), তারা কোন ক্ষমতা রাখে না তোমাদের জন্য রিযিকের ব্যবস্থা করার। সুতরাং তোমরা তালাশ করো আল্লাহর কাছে রিযিক, আর তোমরা তাঁরই ইবাদাত/ দাসত্ব করো আর তোমরা শোকর/ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো তাঁরই জন্য। তাঁরই দিকে তোমরা ফিরে যাবে।

২৯:১৮
ওয়া = আর। ইন = যদি। তুকাযযিবূ = তোমরা মিথ্যা সাব্যস্ত করো। ফাক্বাদ = তবে নিশ্চয়। কাযযাবা = মিথ্যা সাব্যস্ত তো করেছিলো। উমামুম মিন ক্বাবলিকুম = তোমাদের আগেও অনেক উম্মাত। ওয়া = আর। মা আলার রাসূলি = রাসূলের উপর দায়িত্ব নেই। ইল্লাল বালাগুল মুবীনু = বালাগুল মুবীন/ প্রকাশ্য প্রচার ছাড়া।

আর যদি তোমরা মিথ্যা সাব্যস্ত করো, তবে নিশ্চয় মিথ্যা সাব্যস্ত তো করেছিলো তোমাদের আগেও অনেক উম্মাত। আর রাসূলের উপর দায়িত্ব নেই বালাগুল মুবীন/ প্রকাশ্য প্রচার ছাড়া।

২৯:১৯
আওয়ালাম ইয়ারাও = তারা কি দেখে না। কায়ফা = কিরূপে। ইউবদিউল্লাহুল খালক্বা = আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা করেন। ছুম্মা = তারপর। ইউদিহু = তিনি উহাকে আবার সৃষ্টি করবেন। ইন্না = নিশ্চয়। যালিকা = উহা। আলাল্লাহি = আল্লাহর জন্য। ইয়াছীরুন = সহজ।

তারা কি দেখে না কিরূপে আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা করেন? তারপর তিনি উহাকে আবার সৃষ্টি করবেন? নিশ্চয় উহা আল্লাহর জন্য সহজ।

২৯:২০
ক্বুল = বলো। ছীরূ ফিল আরদি = তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো। ফানযুর = তারপর লক্ষ্য করো। কায়ফা = কিরূপে। বাদাআল খালক্বা = তিনি সৃষ্টির সূচনা করেছেন। ছুম্মাল্লাহু = তারপর আল্লাহ। ইউনশিউন নাশআতাল আখিরাতা = (উহাকে) আবার সৃষ্টি করবেন আখিরাতে। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। আলা কুল্লি সাইয়িন ক্বাদীর = সকল সত্তা ও বিষয়ের উপর প্রাকৃতিক আইন নির্ধারণকারী ও সর্বশক্তিমান নিয়ন্ত্রণকারী।

বলো, ‘তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো। তারপর লক্ষ্য করো কিরূপে তিনি সৃষ্টির সূচনা করেছেন, তারপর আল্লাহ (উহাকে) আবার সৃষ্টি করবেন আখিরাতে। নিশ্চয় আল্লাহ সকল সত্তা ও বিষয়ের উপর প্রাকৃতিক আইন নির্ধারণকারী ও সর্বশক্তিমান নিয়ন্ত্রণকারী’।

২৯:২১
ইউআযযিবু = তিনি আযাব/ শাস্তি দেন। মাইঁ ইয়াশাউ = যাকে তিনি (শাস্তি দেয়ার) ইচ্ছা করেন। ওয়া = আর। ইয়ারহামু = তিনি রহম/ দয়া করেন। মাইঁ ইয়াশাউ = যাকে তিনি (দয়া করার) ইচ্ছা করেন। ওয়া = আর। ইলাইহি = তাঁরই দিকে। তুক্বলাবূনা = তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।

তিনি আযাব/ শাস্তি দেন যাকে তিনি (শাস্তি দেয়ার) ইচ্ছা করেন। আর তিনি রহম/ দয়া করেন যাকে তিনি (দয়া করার) ইচ্ছা করেন। আর তাঁরই দিকে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।

২৯:২২
ওয়া = আর। মা আনতুম বিমু’জিযীনা = তোমরা (আল্লাহকে) অক্ষমকারী/ ব্যর্থকারী হতে পারো না। ফিল আরদি = পৃথিবীতে। ওয়া = আর। লা ফিস সামায়ি = আকাশেও না। ওয়া = আর। মা লাকুম = তোমাদের জন্য নেই। মিন দূনিল্লাহি = আল্লাহ ছাড়া। মিওঁ ওয়ালিয়্যিওঁ ওয়া লা নাসীরিন = কোন ওলি/ অভিভাবক ও নাসীর/ সাহায্যকারী।

আর তোমরা (আল্লাহকে) অক্ষমকারী/ ব্যর্থকারী হতে পারো না পৃথিবীতে আর আকাশেও না। আর তোমাদের জন্য নেই আল্লাহ ছাড়া কোন ওলি/ অভিভাবক ও নাসীর/ সাহায্যকারী।

২৯:২৩
ওয়াল্লাযীনা = আর যারা। কাফারূ = কুফর করেছে। বিআয়াতিল্লাহি = আল্লাহর আয়াতসমূহের প্রতি। ওয়া = আর। লিক্বায়িহী = তাঁর মোলাকাতকে (= কর্মফল লাভের জন্য পর্দার অন্তরাল থেকে তাঁর সম্মুখীন হওয়াকে)। উলায়িকা = উহারাই। ইয়ায়িছু = নিরাশ হয়েছে। মির রহমাতী = আমার রহমত/ দয়া থেকে। ওয়া = আর। উলায়িকা লাহুম = তাদের জন্যই আছে। আযাবুন আলীমুন = আযাবুন আলীম/ কষ্টদায়ক শাস্তি।

আর যারা কুফর করেছে আল্লাহর আয়াতসমূহের প্রতি আর তাঁর মোলাকাতকে (= কর্মফল লাভের জন্য পর্দার অন্তরাল থেকে তাঁর সম্মুখীন হওয়াকে), উহারাই নিরাশ হয়েছে আমার রহমত/ দয়া থেকে, আর তাদের জন্যই আছে আযাবুন আলীম/ কষ্টদায়ক শাস্তি।

২৯:২৪
ফামা কানা জাওয়াবু = তারপর কোন জবাব ছিলো না। ক্বাওমিহী = তার কওমের (= ইবরাহীমের কওমের)। ইল্লা = এছাড়া। আন = যে। ক্বলূক্বতুলূহু = তারা বলেছিলো, ‘তাকে (= ইবরাহীমকে) কতল/ হত্যা করো। আও = অথবা। হাররিক্বূহু = তাকে আগুনে পুড়ে ফেলো। ফাআনজাহুল্লাহু = তারপর আল্লাহ তাকে নাজাত/ মুক্তি দিয়েছিলেন। মিনান্নারি = আগুন থেকে। ইন্না = নিশ্চয়। ফী যালিকা = উহাতে আছে। লাআয়াতিন = আয়াত/ নিদর্শন। লিক্বাওমিইঁ ইউ’মিনূনা = সেই কওমের জন্য যারা ঈমান/ বিশ্বাস করে।

তারপর কোন জবাব ছিলো না তার কওমের (= ইবরাহীমের কওমের), এছাড়া যে, তারা বলেছিলো, ‘তাকে (= ইবরাহীমকে) কতল/ হত্যা করো, অথবা তাকে আগুনে পুড়ে ফেলো’। তারপর আল্লাহ তাকে নাজাত/ মুক্তি দিয়েছিলেন আগুন থেকে। নিশ্চয় উহাতে আছে আয়াত/ নিদর্শন, সেই কওমের জন্য যারা ঈমান/ বিশ্বাস করে।

২৯:২৫
ওয়া = আর। ক্বলা = সে (= ইবরাহীম) বলেছিলো। ইন্নামাত্তাখাযতুম = নিশ্চয় তোমরা তো গ্রহণ করেছো। মিন দূনিল্লাহি = আল্লাহকে বাদ দিয়ে। আওছানান = মূর্তিগুলোকে। মাওয়াদ্দাতা বায়নিকুম = তোমাদের মধ্যে ভালবাসার উপায় হিসাবে (= নিজেদের সাংগঠিনক আদর্শের ভিত্তি হিসাবে)। ফিল হায়াতিদ দুনইয়া = হায়াতুদ দুনিয়াতে/ পার্থিব জীবনে। ছুম্মা = তারপর। ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি = ইয়াওমুল কিয়ামাতে/ কিয়ামাত দিবসে। ইয়াকফুরু = অস্বীকার করবে। বা’দুকুম বিবা’দিন = তোমাদের একে অপরকে। ওয়া = আর। ইয়ালআনু = তোমরা লা’নত/ অভিশাপ দেবে। বা’দুকুম বা’দান = তোমাদের একে অপরকে। ওয়া = আর। মা’ওয়াকুমুন্নারু = তোমাদের মা’ওয়া/ আবাস হবে (জাহান্নামের) আগুন। ওয়া = আর। মা লাকুম = তোমাদের জন্য নেই। মিন নাসিরীনা = কোন সাহায্যকারী।

আর সে (= ইবরাহীম) বলেছিলো, ‘নিশ্চয় তোমরা তো গ্রহণ করেছো আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তিগুলোকে তোমাদের মধ্যে ভালবাসার উপায় হিসাবে (= নিজেদের সাংগঠিনক আদর্শের ভিত্তি হিসাবে) হায়াতুদ দুনিয়াতে/ পার্থিব জীবনে। তারপর ইয়াওমুল কিয়ামাতে/ কিয়ামাত দিবসে অস্বীকার করবে তোমাদের একে অপরকে, আর তোমরা লা’নত/ অভিশাপ দেবে তোমাদের একে অপরকে। আর তোমাদের মা’ওয়া/ আবাস হবে (জাহান্নামের) আগুন। আর তোমাদের জন্য নেই কোন সাহায্যকারী।

২৯:২৬
ফাআমানা = তারপর ঈমান/ বিশ্বাস করেছিলো। লাহু = তার আহবানে। লূতুন = লূত। ওয়া = আর। ক্বলা = সে (= ইবরাহীম) বলেছিলো। ইন্নী = নিশ্চয় আমি। মুহাজিরুন = মুহাজির/ হিজরতকারী। ইলা রব্বী = আমার রবের দিকে। ইন্নাহু হুয়া = নিশ্চয় তিনি। আল আযীযুল হাকীমু = আযীয/ মহাশক্তিমান ও হাকীম/ মহাবিজ্ঞ।

তারপর ঈমান/ বিশ্বাস করেছিলো তার আহবানে লূত। আর সে (= ইবরাহীম) বলেছিলো, ‘নিশ্চয় আমি মুহাজির/ হিজরতকারী আমার রবের দিকে। নিশ্চয় তিনি আযীয/ মহাশক্তিমান ও হাকীম/ মহাবিজ্ঞ’।

২৯:২৭
ওয়া = আর। ওয়াহাবনা লাহু = আমরা তাকে দান করেছিলাম। ইসহাকা = ইসহাককে (পুত্র হিসাবে)। ওয়া = ও। ইয়াক্বূবা = ইয়াকুবকে (পৌত্র হিসাবে)। ওয়া = আর। জাআলনা = আমরা স্থাপন করেছিলাম। ফী যুররিয়াতিহিন্নবুওয়্যাতা = তার যুররিয়াতের/ বংশধরদের মধ্যে নবুয়াত। ওয়াল কিতাবা = ও কিতাব। ওয়া = আর। আতাইনাহু = আমরা তাকে দিয়েছিলাম। আজরাহু = তার প্রতিফল। ফিদ দুনিয়া = দুনিয়াতে। ওয়া = আর। ইন্নাহু = নিশ্চয় সে। ফিল আখিরাতি = আখিরাতে হবে। লামিনাস সলিহীনা = সালেহীনের/ সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।

আর আমরা তাকে দান করেছিলাম ইসহাককে (পুত্র হিসাবে) ও ইয়াকুবকে (পৌত্র হিসাবে)। আর আমরা স্থাপন করেছিলাম তার যুররিয়াতের/ বংশধরদের মধ্যে নবুয়াত ও কিতাব। আর আমরা তাকে দিয়েছিলাম তার প্রতিফল দুনিয়াতেও আর নিশ্চয় সে আখিরাতেও হবে সালেহীনের/ সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।

২৯:২৮
ওয়া = আর (আমরা প্রেরণ করেছিলাম)। লূতান = লূতকে। ইয = (স্মরণ করো) যখন। ক্বলা = সে বলেছিলো। লিক্বাওমিহী = তার কওমকে। ইন্নাকুম = নিশ্চয় তোমরা। লাতা’তূনাল ফাহিশাতা = নিয়ে এসেছো এমন ফাহেশা/ অশ্লীলতা। মা ছাবাক্বাকুম বিহা = তোমাদের আগে কখনো যা করেনি। মিন আহাদিন মিনাল আলামীনা = বিশ্ববাসীর মধ্য থেকে কেউ।

আর (আমরা প্রেরণ করেছিলাম) লূতকে। (স্মরণ করো) যখন সে বলেছিলো তার কওমকে, ‘নিশ্চয় তোমরা নিয়ে এসেছো এমন ফাহেশা/ অশ্লীলতা, তোমাদের আগে কখনো যা করেনি বিশ্ববাসীর মধ্য থেকে কেউ’।

২৯:২৯
আইন্নাকুম = তোমরা কি নিশ্চয়। লাতা’তূনার রিজালা = পুরুষের উপর (মৈথুনে) উপগত হও। ওয়া = আর। তাক্বতাঊনাছ ছাবীলা = রাস্তায় ডাকাতি করো। ওয়া = আর। তা’তূনা = তোমরা নিয়ে এসেছো। ফী নাদিকুমুল মুনকারা = তোমাদের মজলিশসমূহে মুনকার/ ঘৃণ্যকর্ম। ফামা কানা জাওয়াবু ক্বাওমিহী = তারপর তার কওমের কোন জবাব ছিলো না। ইল্লা = এছাড়া। আন = যে। ক্বলু’তিনা = তারা বলেছিলো, ‘আমাদের কাছে নিয়ে আসো। বিআযাবিল্লাহি = আল্লাহ প্রদত্ত আযাব/ শাস্তি। ইন = যদি। কুনতা = তুমি হও। মিনাস সদিক্বীনা = সাদেক্বীনের/ সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।

তোমরা কি নিশ্চয় পুরুষের উপর (মৈথুনে) উপগত হও আর রাস্তায় ডাকাতি করো আর তোমরা নিয়ে এসেছো তোমাদের মজলিশসমূহে মুনকার/ ঘৃণ্যকর্ম? তারপর তার কওমের কোন জবাব ছিলো না, এছাড়া যে, তারা বলেছিলো, ‘আমাদের কাছে নিয়ে আসো আল্লাহ প্রদত্ত আযাব/ শাস্তি, যদি তুমি হও সাদেক্বীনের/ সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত’।

২৯:৩০
ক্বলা = সে (= লূত) বলেছিলো। রব্বিনসুরনী = হে আমার রব, আমাকে সাহায্য করুন। আলাল ক্বাওমিল মুফসিদীনা = ফাসাদকারীদের কওমের উপর’।

সে (= লূত) বলেছিলো, ‘হে আমার রব, আমাকে সাহায্য করুন ফাসাদকারীদের কওমের উপর’।

২৯:৩১
ওয়া = আর। লাম্মা = যখন। জাআত = এসেছিলো। রুসুলুনা = আমাদের রসূলগণ/ ফেরেশতাগণ। ইবরাহীমা = ইবরাহীমের কাছে। বিল বুশরা = সুসংবাদসহ। ক্বলূ = তখন তারা বলেছিলো। ইন্না = নিশ্চয় আমরা। মুহলিকূ = হালাককারী/ ধ্বংসকারী হবো। আহলি হাযিহিল ক্বারিয়াতি = এই জনপদের অধিবাসীদেরকে। ইন্না = নিশ্চয়। আহলাহা = উহার আহাল/ অধিবাসীগণ। কানূ যলিমীনা = যালিম ছিলো।

আর যখন এসেছিলো আমাদের রসূলগণ/ ফেরেশতাগণ ইবরাহীমের কাছে সুসংবাদসহ, তখন তারা বলেছিলো, ‘নিশ্চয় আমরা হালাককারী/ ধ্বংসকারী হবো এই জনপদের অধিবাসীদেরকে’। নিশ্চয় উহার আহাল/ অধিবাসীগণ যালিম ছিলো।

২৯:৩২
ক্বলা = সে (= ইবরাহীম) বলেছিলো। ইন্না = নিশ্চয়। ফীহা লূতান = সেখানে লূত আছে। ক্বলূ = তারা বলেছিলো। নাহনু = আমরা। আ’লামু = জানি। বিমান ফীহা = সেখানে কারা আছে। লানুনাজজিয়ান্নাহু = নিশ্চয় আমরা নাজাত/ মুক্তি দেবো তাকে। ওয়া = ও। আহলাহু = তার আহালকে/ পরিবারকে। ইল্লামরাআতাহু = তার স্ত্রীকে ছাড়া। কানাত মিনাল গাবিরীনা = সে ছিলো পিছনে সরে থাকা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।

সে (= ইবরাহীম) বলেছিলো, ‘নিশ্চয় সেখানে লূত আছে’। তারা বলেছিলো, ‘আমরা জানি সেখানে কারা আছে। নিশ্চয় আমরা নাজাত/ মুক্তি দেবো তাকে ও তার আহালকে/ পরিবারকে, তার স্ত্রীকে ছাড়া। সে (= লূতের স্ত্রী) ছিলো পিছনে সরে থাকা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত’।

২৯:৩৩
ওয়া = আর। লাম্মা = যখন। আন জাআত = এসেছিলো। রুসুলুনা = আমাদের রসূলগণ/ ফেরেশতাগণ। লূতান = লূতের কাছে। ছীআ = তখন সে বিষন্ন হয়েছিলো। বিহিম = তাদেরকে নিয়ে। ওয়া = আর। দক্বা = সংকীর্ণ হয়েছিলো। বিহিম = তাদেরকে নিয়ে। যারআন = শক্তিসামর্থে (= সে তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়ার ব্যাপারে নিজেকে অসমর্থ বলে অনুভব করেছিলো)। ওয়া = আর। ক্বলূ = তারা বলেছিলো। লা তাখাফ = ভয় করো না। ওয়া = আর। লা তাহযান = দু:খিতও থেকো না। ইন্না = নিশ্চয় আমরা। মুনাজ্জূকা = নাজাত/ মুক্তি দেবো তোমাকে। ওয়া = আর। আহলাকা = তোমার আহালকে/ পরিবারকে। ইল্লামরাআতাকা = তোমার স্ত্রীকে ছাড়া। কানাত মিনাল গাবিরীনা = সে ছিলো পিছনে সরে থাকা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।

আর যখন এসেছিলো আমাদের রসূলগণ/ ফেরেশতাগণ লূতের কাছে, তখন সে বিষন্ন হয়েছিলো তাদেরকে নিয়ে আর সংকীর্ণ হয়েছিলো তাদেরকে নিয়ে শক্তিসামর্থে (= সে তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়ার ব্যাপারে নিজেকে অসমর্থ বলে অনুভব করেছিলো)। আর তারা বলেছিলো, ‘ভয় করো না আর দু:খিতও থেকো না। নিশ্চয় আমরা নাজাত/ মুক্তি দেবো তোমাকে আর তোমার আহালকে/ পরিবারকে, তোমার স্ত্রীকে ছাড়া। সে ছিলো পিছনে সরে থাকা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত’।

২৯:৩৪
ইন্না = নিশ্চয় আমরা। মুনযিলূনা = নাযিলকারী/ অবতরণকারী হবো। আলা আহলি হাযিহিল ক্বারইয়াতি = এই জনপদের অধিবাসীদের উপর। রিযজাম মিনাছ ছামায়ি = আকাশ থেকে কলুষ (= পাথর বৃষ্টি)। বিমা কানূ ইয়াফসুক্বূনা = তারা যে ফিসক/ পাপাচার করে চলছে তার কারণে।

নিশ্চয় আমরা নাযিলকারী/ অবতরণকারী হবো এই জনপদের অধিবাসীদের উপর আকাশ থেকে কলুষ (= পাথর বৃষ্টি), তারা যে ফিসক/ পাপাচার করে চলছে তার কারণে।

২৯:৩৫
ওয়ালাক্বাত্তারাক্বনা = আর নিশ্চয় আমরা তরক করেছি/ রেখে দিয়েছি। মিনহা = উহা থেকে। আয়াতাম বাইয়িনাতাল লিক্বাওমিইঁ ইয়া’ক্বিলূনা = একটি স্পষ্ট আয়াত/ নিদর্শন সেই কওমের জন্য যারা আকল/ বিবেক-বুদ্ধি/ সাধারণ জ্ঞান/ common sense প্রয়োগ করে।

আর নিশ্চয় আমরা তরক করেছি/ রেখে দিয়েছি উহা থেকে একটি স্পষ্ট আয়াত/ নিদর্শন সেই কওমের জন্য যারা আকল/ বিবেক-বুদ্ধি/ সাধারণ জ্ঞান/ common sense প্রয়োগ করে।

২৯:৩৬
ওয়া = আর (আমরা প্রেরণ করেছিলাম)। ইলা মাদইয়ানা = মাদিয়ানবাসীর প্রতি। আখাহুম = তাদের ভাই। শুআইবান = শোয়ায়েবকে। ফাক্বলা = তারপর সে বলেছিলো। ইয়া ক্বাওমি’বুদুল্লাহা = হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত/ দাসত্ব করো। ওয়ারজুল ইয়াওমাল আখিরা = আর ইয়াওমুল আখিরের/ আখিরাত দিবসের আশা রাখো। ওয়া = আর। লা তা’ছাও = তোমরা বেড়ায়ো না। ফিল আরদি = পৃথিবীতে। মুফসিদীনা = ফাসাদকারী হয়ে।

আর (আমরা প্রেরণ করেছিলাম) মাদিয়ানবাসীর প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েবকে। তারপর সে বলেছিলো, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত/ দাসত্ব করো, আর ইয়াওমুল আখিরের/ আখিরাত দিবসের আশা রাখো। আর তোমরা বেড়ায়ো না পৃথিবীতে ফাসাদকারী হয়ে’।

২৯:৩৭
ফাকাযযাবূহু = তারপর তারা তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিলো। ফাআখাযাতহুমুর রজফাতু = তারপর তাদেরকে পাকড়াও করেছিলো ভূমিকম্প। ফাআসবাহূ = তারপর তারা হয়ে গিয়েছিলো। ফী দারিহিম = তাদের ঘরবাড়িতে। জাসিমীনা = উপুড় হয়ে পড়ে নিথরদেহী।

তারপর তারা তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিলো। তারপর তাদেরকে পাকড়াও করেছিলো ভূমিকম্প। তারপর তারা হয়ে গিয়েছিলো তাদের ঘরবাড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে নিথরদেহী।

২৯:৩৮
ওয়া আদান ওয়া সামূদান = আর আদকে ও সামুদকেও (আমরা ধ্বংস করেছিলাম)। ওয়া = আর। ক্বাদ = নিশ্চয়। তাবাইয়ানা = (তাদের ধ্বংসের বিষয়টি) স্পষ্ট হয়েছে। লাকুম = তোমাদের জন্য। মিন মাছাকিনিহিম = তাদের (পরিত্যাক্ত) বসবাসের স্থানসমূহ থেকে। ওয়া = আর। যাইয়ানা = সুশোভিত করেছিলো। লাহুমুশ শায়তানু = তাদের জন্য শয়তান। আ’মালাহুম = তাদের আমলসমূহকে/ কাজসমূহকে। ফাসদ্দাহুম = তারপর তাদেরকে বাধা দিয়েছিলো। আনিছ ছাবীলি = সঠিক পথ থেকে। ওয়া = অথচ। কানূ = তারা ছিলো। মুছতাবসিরীনা = (বৈজ্ঞানিক) দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।

আর আদকে ও সামুদকেও (আমরা ধ্বংস করেছিলাম)। আর নিশ্চয় (তাদের ধ্বংসের বিষয়টি) স্পষ্ট হয়েছে তোমাদের জন্য তাদের (পরিত্যাক্ত) বসবাসের স্থানসমূহ থেকে। আর সুশোভিত করেছিলো তাদের জন্য শয়তান তাদের আমলসমূহকে/ কাজসমূহকে, তারপর তাদেরকে বাধা দিয়েছিলো সঠিক পথ থেকে; অথচ তারা ছিলো (বৈজ্ঞানিক) দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।

২৯:৩৯
ওয়া ক্বারূনা ওয়া ফিরআউনা ওয়া হামানা = আর কারূন, ফেরাউন ও হামানকেও (আমরা ধ্বংস করেছিলাম)। ওয়া = আর। লাক্বাদ = নিশ্চয়। জাআহুম মূসা = তাদের কাছে এসেছিলো মূসা। বিল বাইয়িনাতি = বাইয়িনাত/ স্পষ্ট প্রমাণসহ। ফাছতাকবারূ ফিল আরদি = তখন তারা পৃথিবীতে বড়াই/ অহংকার করেছিলো। ওয়া = আর। মা কানূ ছাবিক্বীনা = তারা (আমাদের শাস্তিকে) ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম ছিলো না।

আর কারূন, ফেরাউন ও হামানকেও (আমরা ধ্বংস করেছিলাম)। আর নিশ্চয় তাদের কাছে এসেছিলো মূসা বাইয়িনাত/ স্পষ্ট প্রমাণসহ। তখন তারা পৃথিবীতে বড়াই/ অহংকার করেছিলো। আর তারা (আমাদের শাস্তিকে) ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম ছিলো না।

২৯:৪০
ফাকুল্লা = তারপর (তাদের) প্রত্যেককে। আখাযনা = আমরা পাকড়াও করেছিলাম। বিযামবিহী = তার নিজ পাপের কারণে। ফামিনহুম = তখন তাদের মধ্য থেকে। মান = কেউ ছিলো। আরছালনা = আমরা প্রেরণ করেছিলাম। আলাইহি = যার উপর। হাসিবান = পাথর বর্ষণকারী ঝটিকা। ওয়া = আর। মিনহুম = তাদের মধ্য থেকে। মান = কেউ ছিলো। আখাযাতহুস সয়হাতু = যাকে পাকড়াও করেছিলো প্রচন্ড শব্দ। ওয়া = আর। মিনহুম = তাদের মধ্য থেকে। মান = কেউ ছিলো। খাছাফনা বিহী = যাকে আমরা ধ্বসিয়ে দিয়েছিলাম। ফিল আরদি = পৃথিবীতে। ওয়া = আর। মিনহুম = তাদের মধ্য থেকে। মান = কেউ ছিলো যাকে। আগরাক্বনা = আমরা ডুবিয়ে দিয়েছিলাম। ওয়া = আর। মা কানাল্লাহু লিইয়াযলিমাহুম = আল্লাহ যুলুম করার নন। ওয়ালাকিন = কিন্তু। কানূ আনফুসাহুম ইয়াযলিমূনা = তারাই তাদের নিজেদের উপর যুলুম করতো।

তারপর (তাদের) প্রত্যেককে আমরা পাকড়াও করেছিলাম তার নিজ পাপের কারণে। তখন তাদের মধ্য থেকে কেউ ছিলো আমরা প্রেরণ করেছিলাম যার উপর পাথর বর্ষণকারী ঝটিকা। আর তাদের মধ্য থেকে কেউ ছিলো যাকে পাকড়াও করেছিলো প্রচন্ড শব্দ। আর তাদের মধ্য থেকে কেউ ছিলো যাকে আমরা ধ্বসিয়ে দিয়েছিলাম পৃথিবীতে। আর তাদের মধ্য থেকে কেউ ছিলো যাকে আমরা ডুবিয়ে দিয়েছিলাম। আর আল্লাহ যুলুম করার নন। কিন্তু তারাই তাদের নিজেদের উপর যুলুম করতো।

২৯:৪১
মাছালুল্লাযীনাত্তাখাযূ = তাদের মাছাল/ দৃষ্টান্ত যারা গ্রহণ করেছে। মিন দূনিল্লাহি = আল্লাহকে ছাড়া। আওলিয়াআ = আওলিয়াকে/ (অন্যান্য) অভিভাবকদেরকে। কামাছালিল আনকাবূতি = মাকড়ার দৃষ্টান্তের মতো। ইত্তাখাযাত বাইতান = সে (= মাকড়সা) অবলম্বন করে (তার নির্মিত) ঘরকে। ওয়া = আর। ইন্না = নিশ্চয়। আওহানাল বুয়ূতি = দুর্বলতম ঘর হচ্ছে। লাবাইতুল আনকাবূতি = মাকড়সার ঘর। লাও কানূ ইয়া’লামূনা = যদি তারা জানতো!

তাদের মাছাল/ দৃষ্টান্ত যারা গ্রহণ করেছে আল্লাহকে ছাড়া আওলিয়াকে/ (অন্যান্য) অভিভাবকদেরকে, মাকড়ার দৃষ্টান্তের মতো। সে (= মাকড়সা) অবলম্বন করে (তার নির্মিত) ঘরকে; আর নিশ্চয় দুর্বলতম ঘর হচ্ছে মাকড়সার ঘর। যদি তারা জানতো!

২৯:৪২
ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। ইয়া’লামু = জানেন। মা ইয়াদঊনা = যাদেরকে তারা ডাকে। মিন দূনিহী = তাঁকে বাদ দিয়ে। মিন শাইয়িন = যে কোন সত্তাকে। ওয়া = আর। হুয়াল আযীযুল হাকীমু = তিনি আযীয/ মহাশক্তিমান ও হাকীম/ মহাবিজ্ঞ।

নিশ্চয় আল্লাহ জানেন যাদেরকে তারা ডাকে তাঁকে বাদ দিয়ে যে কোন সত্তাকে। আর তিনি আযীয/ মহাশক্তিমান ও হাকীম/ মহাবিজ্ঞ।

২৯:৪৩
ওয়া = আর। তিলকাল আমছালু = ঐ আমছাল/ দৃষ্টান্তসমূহ। নাদরিবূহা = উহা আমরা পেশ করি। লিন্নাছি = মানবজাতির জন্য। ওয়া = আর। মা ইয়াক্বিলূনা = উহাকে আকলে/ বিবেক-বুদ্ধিতে আয়ত্ত করতে পারে না। ইল্লাল আলিমূনা = আলেমগণ/ জ্ঞানীগণ ছাড়া।

আর ঐ আমছাল/ দৃষ্টান্তসমূহ, উহা আমরা পেশ করি মানবজাতির জন্য। আর উহাকে আকলে/ বিবেক-বুদ্ধিতে আয়ত্ত করতে পারে না, আলেমগণ/ জ্ঞানীগণ ছাড়া।

২৯:৪৪
খালাক্বাল্লাহুছ ছামাওয়াতি ওয়াল আরদা = আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী। বিল হাক্বক্বি = হক্বের সাথে/ সঠিকভাবে/ যথাযথভাবে/ উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে। ইন্না = নিশ্চয়। ফী যালিকা = উহাতে আছে। লাআয়াতান = আয়াত/ নিদর্শন। লিল মু’মিনীনা = মু’মিনদের/ বিশ্বাসীদের জন্য।

আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী হক্বের সাথে/ সঠিকভাবে/ যথাযথভাবে/ উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে। নিশ্চয় উহাতে আছে আয়াত/ নিদর্শন মু’মিনদের/ বিশ্বাসীদের জন্য।

২৯:৪৫
উতলূ = তুমি তিলাওয়াত/ আবৃত্তি করো। মা উহিয়া ইলাইকা = যা ওহী করা হয়েছে তোমার প্রতি। মিনাল কিতাবি = আল কিতাব থেকে। ওয়া = আর। আক্বিমিস সলাতা = সালাত কায়েম/ প্রতিষ্ঠা করো। ইন্নাস সলাতা = নিশ্চয় সালাত। তানহা = নিষেধ করে/ বিরত রাখে। আনিল ফাহশায়ি = ফাহেশা/ অশ্লীলতা থেকে। ওয়াল মুনকার = ও মুনকার/ অন্যায়কাজ থেকে। ওয়া = আর। লাযিকরুল্লাহি = আল্লাহর যিকির/ স্মরণ হচ্ছে। আকবারু = সবচেয়ে বড়। ওয়াল্লাহু = আর আল্লাহ। ইয়া’লামু = জানেন। মা তাসনাঊনা = যা তোমরা কর।

তুমি তিলাওয়াত/ আবৃত্তি করো যা ওহী করা হয়েছে তোমার প্রতি আল কিতাব থেকে। আর সালাত কায়েম/ প্রতিষ্ঠা করো। নিশ্চয় সালাত নিষেধ করে/ বিরত রাখে ফাহেশা/ অশ্লীলতা থেকে ও মুনকার/ অন্যায়কাজ থেকে। আর আল্লাহর যিকির/ স্মরণ হচ্ছে সবচেয়ে বড়। আর আল্লাহ উহা জানেন যা তোমরা কর।

২৯:৪৬
ওয়া = আর। লা তুজাদিলূ = তোমরা বিতর্ক করো না। আহলাল কিতাবি = আহলে কিতাবের সাথে। ইল্লা বিল্লাতী হিয়া আহছান = অধিক উত্তম পদ্ধতিতে ছাড়া। ইল্লাল্লাযীনা যলামূ মিনহুম = তাদের মধ্য থেকে যারা যুলুম করে তাদের সাথে ছাড়া। ওয়া = আর। ক্বূলূ = তোমরা বলো। আমান্না = আমরা ঈমান/ বিশ্বাস করেছি। বিল্লাযী উনযিলা ইলাইনা = উহার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে আমাদের প্রতি। ওয়া = আর। উনযিলা ইলাইকুম = উহার প্রতিও যা নাযিল করা হয়েছে তোমাদের প্রতি। ওয়া = আর। ইলাহুনা = আমাদের ইলাহ। ওয়া = ও। ইলাহুকুম = তোমাদের ইলাহ। ওয়াহিদুন = একজনই। ওয়া = আর। নাহনু = আমরা। লাহু = তাঁরই উদ্দেশ্যে। মুসলিমূনা = মুসলিমূন/ আত্মসমর্পণকারী।

আর তোমরা বিতর্ক করো না আহলে কিতাবের সাথে অধিক উত্তম পদ্ধতিতে ছাড়া, তাদের মধ্য থেকে যারা যুলুম করে তাদের সাথে ছাড়া। আর তোমরা বলো, ‘আমরা ঈমান/ বিশ্বাস করেছি উহার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে আমাদের প্রতি আর উহার প্রতিও যা নাযিল করা হয়েছে তোমাদের প্রতি। আর আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ একজনই। আর আমরা তাঁরই উদ্দেশ্যে মুসলিমূন/ আত্মসমর্পণকারী’।

২৯:৪৭
ওয়া = আর। কাযালিকা = এভাবেই। আনযালনা = আমরা নাযিল করেছি। ইলাইকাল কিতাবা = তোমার প্রতি এই কিতাব। ফাল্লাযীনা আতাইনাহুমুল কিতাবা = সুতরাং আমরা যাদেরকে কিতাব দিয়েছিলাম তারা। ইউ’মিনূনা বিহী = উহার প্রতি ঈমান/ বিশ্বাস করে। মিন হাউলায়ি = এদের মধ্যেও (= উম্মীদের মধ্যেও)। মাইঁ ইউ’মিনু বিহী = এমন লোক আছে যে ঈমান/ বিশ্বাস করে উহার প্রতি। ওয়া = আর। মা ইয়াজহাদু = কেউ অস্বীকার করে না। বিআয়াতিনা = আমাদের আয়াতসমূহকে। ইল্লাল কাফিরূনা = কাফেরগণ ছাড়া।

আর এভাবেই আমরা নাযিল করেছি তোমার প্রতি এই কিতাব। সুতরাং আমরা যাদেরকে কিতাব দিয়েছিলাম তারা উহার প্রতি ঈমান/ বিশ্বাস করে। এদের মধ্যেও (= উম্মীদের মধ্যেও) এমন লোক আছে যে ঈমান/ বিশ্বাস করে উহার প্রতি। আর কেউ অস্বীকার করে না আমাদের আয়াতসমূহকে, কাফেরগণ ছাড়া।

২৯:৪৮
ওয়া = আর। মা কুনতা তাতলূ = তুমি তিলাওয়াত করতে না। মিন ক্বাবলিহী = উহার আগে (= কুরআনের আগে)। মিন কিতাবিন = কোন (আসমানী) কিতাব (= তাওরাত ও ইনজীল)। ওয়া = আর। লা তাখুত্তুহূ = উহা লিখতেও না। বিইয়ামীনিকা = তোমার ডান হাত দিয়ে। ইযাল্লাআরতাবাল মুবতিলূনা = তাহলে এখন সন্দেহ করতে পারতো বাতিলপন্থীরা।

আর তুমি তিলাওয়াত করতে না উহার আগে (= কুরআনের আগে) কোন (আসমানী) কিতাব (= তাওরাত ও ইনজীল)। আর উহা লিখতেও না তোমার ডান হাত দিয়ে। তাহলে এখন সন্দেহ করতে পারতো বাতিলপন্থীরা।

২৯:৪৯
বাল = বরং। হুয়া = উহা। আয়াতুন বাইয়িনাতুন = স্পষ্ট/ প্রকাশ্য আয়াতসমূহ। ফী সুদূরিল্লাযীনা = তাদের সদরসমূহে/ মস্তিষ্কসমূহে যাদেরকে। উতুল ইলমা = জ্ঞান দেয়া হয়েছে। ওয়া = আর। মা ইয়াজহাদু = কেউ অস্বীকার করে না। বিআয়াতিনা = আমাদের আয়াতসমূহকে। ইল্লায যলিমূনা = যালেমগণ ছাড়া।

বরং উহা স্পষ্ট/ প্রকাশ্য আয়াতসমূহ, তাদের সদরসমূহে/ মস্তিষ্কসমূহে যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে। আর কেউ অস্বীকার করে না আমাদের আয়াতসমূহকে, যালেমগণ ছাড়া।

২৯:৫০
ওয়া = আর। ক্বলূ = তারা বলে। লাও লা উনযিলা = কেন নাযিল করা হয়নি। আলাইহি = তার উপর। আয়াতুম মির রব্বিহী = তার রবের পক্ষ থেকে আয়াতসমূহ/ নিদর্শনসমূহ। ক্বুল = বলো। ইন্নামাল আয়াতু = নিশ্চয় আয়াতসমূহ আছে। ইনদাল্লাহি = আল্লাহর কাছে। ওয়া = আর। ইন্নামা = নিশ্চয়। আনা = আমি। নাযীরুম মুবীনুন = প্রকাশ্য সতর্ককারী।

আর তারা বলে, ‘কেন নাযিল করা হয়নি তার উপর তার রবের পক্ষ থেকে আয়াতসমূহ/ (অলৌকিক) নিদর্শনসমূহ? বলো, ‘নিশ্চয় আয়াতসমূহ আছে আল্লাহর কাছে। আর নিশ্চয় আমি প্রকাশ্য সতর্ককারী’।

২৯:৫১
আওয়ালাম ইয়াকফীহিম = তাদের জন্য কি যথেষ্ট নয়। আন্না = যে, আমরা। আনযালনা = আমরা নাযিল করেছি। আলাইকাল কিতাবা = তোমার উপর এই কিতাব। ইইতলা = যা তিলাওয়াত/ আবৃত্তি করা হয়। আলাইহিম = তাদের কাছে। ইন্না = নিশ্চয়। ফী যালিকা = উহাতে আছে। লারহমাতাওঁ ওয়া যিকরা = রহমত/ দয়া ও যিকির/ স্মরণিকা। লিক্বাওমিইঁ ইউ’মিনূনা = সেই কওমের জন্য যারা ঈমান/ বিশ্বাস করে।

তাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, আমরা নাযিল করেছি তোমার উপর এই কিতাব, যা তিলাওয়াত/ আবৃত্তি করা হয় তাদের কাছে। নিশ্চয় উহাতে আছে রহমত/ দয়া ও যিকির/ স্মরণিকা সেই কওমের জন্য যারা ঈমান/ বিশ্বাস করে।

২৯:৫২
ক্বুল = বলো। কাফা বিল্লাহি = আল্লাহই যথেষ্ট। বায়নী ওয়া বায়নাকুম = আমার ও তোমাদের মধ্যে। শাহীদান = সাক্ষী হিসাবে। ইয়া’লামু = তিনি জানেন। মা = যা কিছু আছে। ফিস সামাওয়াতি = আকাশমন্ডলীতে। ওয়াল আরদি = ও পৃথিবীতে। ওয়াল্লাযীনা = আর যারা। আমানূ বিল বাতিলি = ঈমান বিল বাতিল করে/ অযৌক্তিক বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস করে। ওয়া = আর। কাফারূ বিল্লাহি = আল্লাহর প্রতি কুফর/ অবিশ্বাস করে। উলায়িকা হুমুল খাছিরূনা = উহারাই ক্ষতিগ্রস্থ।

বলো, ‘আল্লাহই যথেষ্ট আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে। তিনি জানেন যা কিছু আছে আকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে। আর যারা ঈমান বিল বাতিল করে/ অযৌক্তিক বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস করে আর আল্লাহর প্রতি কুফর/ অবিশ্বাস করে; উহারাই ক্ষতিগ্রস্থ’।

২৯:৫৩
ওয়া = আর। ইয়াছতা’জিলূনাকা বিল আযাবি = তারা তোমার নিকট তাড়াতাড়ি আযাব পেতে চায়। ওয়া = আর। লাইয়া’তিয়ান্নাহুম = তাদের উপর উহা অবশ্যই আসবে। বাগতাতান = হঠাৎ করে। ওয়া = এ অবস্থায় যে। হুম = তারা। লা ইয়াশউরূনা = টেরও পাবে না।

আর তারা তোমার নিকট তাড়াতাড়ি আযাব পেতে চায়। আর তাদের উপর উহা অবশ্যই আসবে হঠাৎ করে, এ অবস্থায় যে তারা টেরও পাবে না।

২৯:৫৪
ইয়াছতা’জিলূনাকা বিল আযাবি = তারা তোমার নিকট তাড়াতাড়ি আযাব পেতে চায়। ওয়া = আর। ইন্না = নিশ্চয়। জাহান্নামা = জাহান্নাম। লামুহীত্বাতুম বিল কাফিরীনা = কাফিরদেরকে পরিবেষ্টনকারী হয়ে আছে।

তারা তোমার নিকট তাড়াতাড়ি আযাব পেতে চায়। আর নিশ্চয় জাহান্নাম কাফিরদেরকে পরিবেষ্টনকারী হয়ে আছে।

২৯:৫৫
ইয়াওমা = সেদিন। ইয়াগশাহুমুল আযাবু = তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে আযাব। মিন ফাওক্বিহিম = তাদের উপর থেকে। ওয়া = আর। মিন তাহতি আরজুলিহিম = তাদের পায়ের নিচ থেকে। ওয়া = আর। ইয়াক্বূলু = তিনি বলবেন। যূক্বূ = তোমরা উহার স্বাদ আস্বাদন করো। মা কুনতুম তা’মালূনা = যা কিছু কাজ তোমরা করতে।

সেদিন তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে আযাব তাদের উপর থেকে আর তাদের পায়ের নিচ থেকে। আর তিনি বলবেন, ‘তোমরা উহার স্বাদ আস্বাদন করো যা কিছু কাজ তোমরা করতে’।

২৯:৫৬
ইয়া ইবাদিয়াল্লাযীনা আমানূ = হে আমার ঐ বান্দাগণ, যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছো। ইন্না = নিশ্চয়। আরদী = আমার ভূমি/ পৃথিবী। ওয়াছিআতুন = প্রশস্ত। ফাইয়্যাইয়া ফা’বুদূনি = সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদাত/ দাসত্ব করো।

হে আমার ঐ বান্দাগণ, যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছো, নিশ্চয় আমার ভূমি/ পৃথিবী প্রশস্ত, সুতরাং তোমরা শুধু আমারই ইবাদাত/ দাসত্ব করো।

২৯:৫৭
কুল্লু নাফসিন যায়িক্বাতুল মাওতি = প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে। ছুম্মা = তারপর। ইলাইনা = আমারই দিকে। তুরজাঊনা = তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।

প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে। তারপর আমারই দিকে তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।

২৯:৫৮
ওয়াল্লাযীনা = আর যারা। আমানূ = ঈমান/ বিশ্বাস করেছে। ওয়া = ও। আমিলুস সলিহাতি = আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করেছে। লানুবাওয়িআন্নাহুম = আমরা তাদেরকে বসবাস করাবো। মিনাল জান্নাতি = জান্নাতে। গুরাফান = সুউচ্চ অট্টালিকাসমূহে। তাজরী মিন তাহতিহাল আনহারু = জারি/ প্রবাহিত হয় যার নিচ অংশে নহরসমূহ/ নদীসমূহ। খালিদীনা ফীহা = তাতে তারা স্থায়ী হবে। নি’মা = কত উত্তম। আজরাল আমিলীনা = যথাযথ (সৎ) কর্মীদের প্রতিফল।

আর যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছে ও আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করেছে, আমরা তাদেরকে বসবাস করাবো জান্নাতে সুউচ্চ অট্টালিকাসমূহে, জারি/ প্রবাহিত হয় যার নিচ অংশে নহরসমূহ/ নদীসমূহ। তাতে তারা স্থায়ী হবে। কত উত্তম যথাযথ (সৎ) কর্মীদের প্রতিফল।

২৯:৫৯
আল্লাযীনা = যারা। সবারূ = সবর করেছে। ওয়া = আর। আলা রব্বিহিম = তাদের রবের উপর। ইয়াতাওয়াক্কালূনা = তাওয়াক্কুল/ ভরসা করে।

যারা সবর করেছে আর তাদের রবের উপর তাওয়াক্কুল/ ভরসা করে।

২৯:৬০
ওয়া = আর। কাইয়িম মিন দাব্বাতিন = কত দাব্বাত/ জীব-জন্তু আছে। লা তাহমিলু = যে বহন করে না। রিযক্বুহা = তার রিযিক। আল্লাহু = আল্লাহই। ইয়ারযুক্বুহা = তাকে রিযিক দেন। ওয়া = আর। ইয়্যাকুম = তোমাদেরকেও। ওয়া = আর। হুয়াছ ছামীউল আলীমু = তিনি সামী’/ সর্বশ্রোতা ও আলীম/ সর্বজ্ঞাতা।

আর কত দাব্বাত/ জীব-জন্তু আছে যে বহন করে না তার রিযিক। আল্লাহই তাকে রিযিক দেন আর তোমাদেরকেও। আর তিনি সামী’/ সর্বশ্রোতা ও আলীম/ সর্বজ্ঞাতা।

২৯:৬১
ওয়া = আর। লাইন = অবশ্য যদি। ছাআলতাহুম = তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো। মান = কে। খালাক্বাছ ছামাওয়াতি ওয়াল আরদি = সৃষ্টি করেছেন আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী। ওয়া = আর। ছাখখারাশ শামছা = নিয়োজিত করেছেন সূর্যকে। ওয়াল ক্বামারা = ও চন্দ্রকে। লাইয়াক্বূলান্নাল্লাহু = তাহলে তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’। ফাআন্না = তাহলে কোথা থেকে। ইউ’ফাকূনা = তাদেরকে ধাপ্পাবাজিতে ফেলা হচ্ছে?

আর অবশ্য যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো, ‘কে সৃষ্টি করেছেন আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী আর নিয়োজিত করেছেন সূর্যকে ও চন্দ্রকে?’ তাহলে তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’। তাহলে কোথা থেকে তাদেরকে ধাপ্পাবাজিতে ফেলা হচ্ছে?

২৯:৬২
আল্লাহু = আল্লাহ। ইয়াবসুতুর রিযক্বা = প্রশস্ত করেন রিযিককে। লিমাইঁ ইয়াশাউ মিন ইবাদিহী = তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। ওয়া = আর। ইয়াক্বদিরু লাহু = তার জন্য তা প্রাকৃতিক আইন অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণমতো করেন (যখন ইচ্ছা করেন)। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। বিকুল্লি সাইয়িন = সবকিছু সম্পর্কে। আলীমুন = পরিজ্ঞাত।

আল্লাহ প্রশস্ত করেন রিযিককে তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন আর তার জন্য তা প্রাকৃতিক আইন অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণমতো করেন (যখন ইচ্ছা করেন)। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে পরিজ্ঞাত।

২৯:৬৩
ওয়া = আর। লায়িন = অবশ্য যদি। ছাআলতাহুম = তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো। মান = কে। নাযযালা = নাযিল করেছেন। মিনাছ ছামায়ি = আকাশ থেকে। মাআন = (বৃষ্টির) পানি। ফাআহইয়া বিহিল আরদা = তারপর তার মাধ্যমে সঞ্জীবিত করেন ভূমিকে। মিম বা’দি মাওতিহা = উহার মৃত্যুর (শুষ্কতার) পরে। লাইয়াক্বূলুন্নাল্লাহা = তাহলে তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’। ক্বুলিল হামদুলিল্লাহি = বলো, ‘আলহামদুলিল্লাহ/ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য’। বাল = বরং (তা সত্ত্বেও)। আকছারুহুম = তাদের অধিকাংশই। লা ইয়া’ক্বিলূনা = আকল/ বিবেক-বুদ্ধি/ সাধারণ জ্ঞান (common sense) প্রয়োগ করে না।

আর অবশ্য যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো কে নাযিল করেছেন আকাশ থেকে (বৃষ্টির) পানি, তারপর তার মাধ্যমে সঞ্জীবিত করেন ভূমিকে উহার মৃত্যুর (শুষ্কতার) পরে?’ তাহলে তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’। বলো, ‘আলহামদুলিল্লাহ/ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য’। বরং (তা সত্ত্বেও) তাদের অধিকাংশই আকল/ বিবেক-বুদ্ধি/ সাধারণ জ্ঞান (common sense) প্রয়োগ করে না।

২৯:৬৪
ওয়া = আর (আখিরাতের বিবেচনাকে বাদ দিলে)। মা হাযিহিল হায়াতুদ দুনইয়া = এই দুনিয়া কিছুই নয়। ইল্লা লাহউন ওয়া লায়িবুন = কৌতুক ও খেলা ছাড়া। ওয়া = আর। ইন্নাদ্দারাল আখিরাতা = নিশ্চয় আখিরাতের ঘর। লাহিয়াল হাইয়াওয়ানু = উহাই প্রকৃত জীবন। লাও কানূ ইয়া’লামূনা = যদি তারা জানতো!

আর (আখিরাতের বিবেচনাকে বাদ দিলে) এই দুনিয়া কিছুই নয়, কৌতুক ও খেলা ছাড়া। আর নিশ্চয় আখিরাতের ঘর, উহাই প্রকৃত জীবন। যদি তারা জানতো!

২৯:৬৫
ফাইযা = তারপর যখন। রাকিবূ = তারা আরোহন করে। ফিল ফুলকি = নৌকায়/ জলজানে। দাআউল্লাহা = তখন তারা আল্লাহকে ডাকে। মুখলিসীনা লাহুদ্দ্বীনা = তাদের দ্বীনকে খালেস/ খাঁটি করে নিয়ে। ফালাম্মা = তারপর যখন। নাজ্জাহুম = আমরা তাদেরকে নাজাত/ মুক্তি দিয়ে থাকি। ইলাল বাররি = স্থলভাগের দিকে। ইযা = তখন। হুম = তারা। ইউশরিকূনা = শিরক করে।

তারপর যখন তারা আরোহন করে নৌকায়/ জলজানে, তখন তারা আল্লাহকে ডাকে তাদের দ্বীনকে খালেস/ খাঁটি করে নিয়ে। তারপর যখন আমরা তাদেরকে নাজাত/ মুক্তি দিয়ে থাকি স্থলভাগের দিকে, তখন তারা শিরক করে।

২৯:৬৬
লিইয়াকফুরূ = যেন তারা কুফর/ অবিশ্বাস/ অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। বিমা আতাইনাহুম = যা আমরা তাদেরকে দিয়েছি উহার প্রতি। ওয়া = আর। লিইয়াতামাত্তাঊ = যেন তারা (পার্থিব) স্বার্থ হাসিল করতে পারে। ফাছাওফা = সুতরাং শীঘ্রই। ইয়া’লামূনা = তারা জানবে।

যেন তারা কুফর/ অবিশ্বাস/ অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, যা আমরা তাদেরকে দিয়েছি উহার প্রতি; আর যেন তারা (পার্থিব) স্বার্থ হাসিল করতে পারে। সুতরাং শীঘ্রই তারা জানবে।

২৯:৬৭
আওয়ালাম ইয়ারাও = তারা কি দেখেনি। আন্না জাআলনা = যে, আমরা স্থাপন করেছি। হারামান আমিনান = নিরাপদ হারামকে (= নিষিদ্ধ/ সংরক্ষিত অঞ্চলকে)। ওয়া = অথচ। ইউতাখাত্তাফুন্নাছু = ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় লোকদেরকে। মিন হাওলিহিম = উহার চারপাশ থেকে। আফাবিল বাত্বিলি ইউ’মিনূনা = তবে কি তারা ঈমান বিল বাতিল করবে/ অযৌক্তিক বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস করবে? ওয়া = আর। বিনি’মাতিল্লাহি = আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি। ইয়াকফুরূনা = কুফর/ অবিশ্বাস করবে?

তারা কি দেখেনি যে, আমরা স্থাপন করেছি নিরাপদ হারামকে (= নিষিদ্ধ/ সংরক্ষিত অঞ্চলকে)। অথচ ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় লোকদেরকে উহার চারপাশ থেকে। তবে কি তারা ঈমান বিল বাতিল করবে/ অযৌক্তিক বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস করবে, আর আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি কুফর/ অবিশ্বাস করবে?

২৯:৬৮
ওয়া = আর। মান আযলামু মিম্মানিফতারা আলাল্লাহি কাযিবান = তার চেয়ে বড় জালিম কে হতে পারে যে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রচনা করে। আও = অথবা। কাযযাবা বিল হাক্বক্বি = সত্য সঠিক বিষয়কে মিথ্যা সাব্যস্ত করে। লাম্মা জাআহু = যখন তা তার কাছে এসেছে। আলাইছা ফী জাহান্নামা = জাহান্নামেই কি নয়। মাছওয়াল্লিল কাফিরীনা = কাফিরদের আবাসস্থল?

আর তার চেয়ে বড় জালিম কে হতে পারে যে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রচনা করে অথবা সত্য সঠিক বিষয়কে মিথ্যা সাব্যস্ত করে যখন তা তার কাছে এসেছে? জাহান্নামেই কি নয় কাফিরদের আবাসস্থল?

২৯:৬৯
ওয়াল্লাযীনা = আর যারা। জাহাদূ = জিহাদ/ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছে। ফীনা = আমাদের (হিদায়াত পাওয়ার) ব্যাপারে। লানাহদিয়ান্নাহুম ছুবুলানা = অবশ্যই আমরা তাদেরকে আমাদের পথসমূহে হিদায়াত করবো। ওয়া = আর। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। লামায়াল মুহসিনীনা = মুহসিনদের/ উত্তম আচরণকারীদের সাথে থাকেন।

আর যারা জিহাদ/ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছে আমাদের (হিদায়াত পাওয়ার) ব্যাপারে, অবশ্যই আমরা তাদেরকে আমাদের পথসমূহে হিদায়াত করবো। আর নিশ্চয় আল্লাহ মুহসিনদের/ উত্তম আচরণকারীদের সাথে থাকেন।