কুরআনান আ'জাবান

বিস্ময়কর কুরআন

শব্দার্থ ভিত্তিক বাংলা অনুবাদ, তৈয়াবুর রহমান গোপালগঞ্জী

Quranan Ajaban Cover

022. সূরা হজ্জ

হে আমার প্রভু, আপনার কাছে আশ্রয় চাই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে, আশ্রয় চাই এর উপস্থিতি থেকে। পরম করুনাময় ও অসীম দয়ালু সর্বশক্তিমানের নামে।

২২:১
ইয়া আইয়ুহান্নাছুত তাক্বূ রব্বাকুম = হে মানুষ, ভয় করো তোমাদের রবকে। ইন্না = নিশ্চয়। যালযালাতাছ ছায়াতি = সায়াতের/ প্রলয়মুহুর্তের প্রকম্পন। সাইয়ুন আযীম = বড় (ভয়াবহ) বিষয়।

হে মানুষ, ভয় করো তোমাদের রবকে। নিশ্চয় সায়াতের/ প্রলয়মুহুর্তের প্রকম্পন বড় (ভয়াবহ) বিষয়।

২২:২
ইয়াওমা = যেদিন। তারাওনাহা = তোমরা উহাকে দেখবে। তাযহালু = (সেদিন) ভুলে যাবে। কুল্লু = প্রত্যেক। মুরদিয়াতিন = স্তন্যদায়িনী মা। আম্মা আরদাআত = তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে। ওয়া = আর। তাদাউ = গর্ভপাত করে ফেলবে। কুল্লু = প্রত্যেক। যাতা হামালিন = গর্ভবতী। হামলাহা = তার গর্ভস্থ সন্তানকে। ওয়া = আর। তারান্নাছা = মানুষকে দেখবে। ছুকারা = নেশাগ্রস্ত মাতালসদৃশ। ওয়া = অথচ। মা হুম বিছুকারা = তারা নেশাগ্রস্ত হবে না। ওয়ালাকিন্না = কিন্তু। আযাবাল্লাহি = আল্লাহর আযাব/ শাস্তি। শদীদুন = কঠিন শাস্তি।

যেদিন তোমরা উহাকে দেখবে সেদিন ভুলে যাবে প্রত্যেক স্তন্যদায়িনী মা তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে, আর গর্ভপাত করে ফেলবে প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভস্থ সন্তানকে। আর সেদিন মানুষকে দেখবে নেশাগ্রস্ত মাতালসদৃশ অথচ তারা নেশাগ্রস্ত হবে না। কিন্তু আল্লাহর আযাব/ শাস্তি কঠিন শাস্তি।

২২:৩
ওয়া = আর। মিনান্নাছি = মানুষের মধ্যে এমনও আছে। মাইঁ ইউজাদিলু = যে তর্ক করে। ফিল্লাহি = আল্লাহর ব্যাপারে। বিগায়রি ইলমিন = ইলম/ (আসমানী কিতাবের) জ্ঞান ছাড়াই। ওয়া = আর। ইয়াত্তাবিউ = এত্তেবা/ অনুসরণ করে। কুল্লা = প্রত্যেক। শায়তানিম মারীদিন = শায়তানিম মারীদকে/ উদ্ধত শয়তানকে।

আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে তর্ক করে আল্লাহর ব্যাপারে ইলম/ (আসমানী কিতাবের) জ্ঞান ছাড়াই, আর এত্তেবা/ অনুসরণ করে প্রত্যেক শায়তানিম মারীদকে/ উদ্ধত শয়তানকে।

২২:৪
কুতিবা আলাইহি = (অথচ) লিখে দেয়া হয়েছে তার উপর (= শয়তানের উপর)। আন্নাহু = এই যে। মান = যে-ই। তাওয়াল্লাহু = তাকে বন্ধু বানাবে। ফাআন্নাহু = তবে নিশ্চয় সে। ইউদিল্লুহু = তাকে বিভ্রান্ত করে দেবে। ওয়া = আর। ইয়াহদীহি = তাকে পরিচালিত করবে। ইলা আযাবিস ছায়ীরি = প্রজ্জলিত আগুনের শাস্তির দিকে।

(অথচ) লিখে দেয়া হয়েছে তার উপর (= শয়তানের উপর) এই যে, যে-ই তাকে বন্ধু বানাবে, তবে নিশ্চয় সে তাকে বিভ্রান্ত করে দেবে আর তাকে পরিচালিত করবে প্রজ্জলিত আগুনের শাস্তির দিকে।

২২:৫
ইয়া আইয়ুহান্নাছু = হে মানুষ। ইন = যদি। কুনতুম = তোমরা থাকো। ফী রইবিম মিনাল বা’ছি = সন্দেহের মধ্যে, বায়াছ/ মৃত্যুর পর পুনরুত্থান সম্পর্কে। ফাইন্না = তবে (তোমাদের জানা উচিত যে) নিশ্চয়। খালাক্বনাকুম = আমরাই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। মিন তুরাবিন = মাটি থেকে। ছুম্মা = তারপর। মিন নুতফাতিন = নুতফা/ ফোঁটার আকৃতিসদৃশ শুক্রবিন্দু থেকে। ছুম্মা = তারপর। মিন আলাক্বাতিন = আলাক্বা/ শক্ত করে ঝুলে থাকা আকৃতিসদৃশ ভ্রুণ থেকে। ছুম্মা = তারপর। মিন মুদগাতিন = মুদগা/ দুপাটির দাঁতের ছাপথাকাসদৃশ গোশতপিন্ড থেকে। মুখাল্লাক্বাতিন = যা পূর্ণ আকৃতিসম্পন্নও হয়। ওয়া = আর। গায়রি মুখাল্লাক্বাতিন = অপূর্ণ আকৃতিসম্পন্নও হয়। লিনুবাইয়িনা লাকুম = (এ তথ্য তোমাদেরকে জানানো হচ্ছে) যেন আমরা বয়ান/ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করি তোমাদের জন্য। ওয়া = আর। নুক্বিররু ফিল আরহামি = আমরা জরায়ুর মধ্যে অবস্থান করতে দিই। মা নাশাউ = যেভাবে আমরা ইচ্ছা করি। ইলা আজালিম মুসাম্মা = আজালিম মুসাম্মা/ নির্দিষ্ট শেষ সময়সীমা পর্যন্ত। ছুম্মা = তারপর। নুখরিজুকুম = আমরা তোমাদেরকে বের করি। তিফলান = শিশুরূপে। ছুম্মা = তারপর (তোমাদেরকে লালন পালন করি)। লিতাবলাগূ = যেন তোমরা পৌঁছতে পারো। আশুদ্দাকুম = তোমাদের যৌবনে। ওয়া = আর। মিনকুম = তোমাদের মধ্য থেকে। মাইঁ ইউতাওয়াফফা = কাউকে পূর্বাহ্নেই মৃত্যু দেয়া হয়। ওয়া = আর। মিনকুম = তোমাদের মধ্য থেকে। মাইঁ ইউরাদ্দু = কাউকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। ইলা আরজালিল উমুরি = হীনতম বয়সে। লিকায়লা ইয়া’লামু = যেন সে না জানে। মিম বা’দি ইলমিন = জানার পরও। সাইয়ান = কিছুমাত্রও। ওয়া = আর। তারাল আরদা হামিদাতান = তুমি দেখছো শুষ্ক ভূমিকে। ফাইযা = তারপর যখন। আনযালনা = আমরা নাযিল/ বর্ষণ করি। আলাইহাল মাআহতাযযাত = উহার উপর (বৃষ্টির) পানি, তখন তা সতেজ হয়। ওয়া = ও। রাবাত = ফুলে উঠে। ওয়া = আর। আমবাতাত = উদ্গত করে। মিন কুল্লি = সর্বপ্রকার। যাওজিম বাহীজিন = সুদৃশ্য উদ্ভিদ জোড়া।

হে মানুষ, যদি তোমরা থাকো সন্দেহের মধ্যে, বায়াছ/ মৃত্যুর পর পুনরুত্থান সম্পর্কে। তবে (তোমাদের জানা উচিত যে,) নিশ্চয় আমরাই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, তারপর নুতফা/ ফোঁটার আকৃতিসদৃশ শুক্রবিন্দু থেকে, তারপর আলাক্বা/ শক্ত করে ঝুলে থাকা আকৃতিসদৃশ ভ্রুণ থেকে, তারপর মুদগা/ দুপাটির দাঁতের ছাপথাকাসদৃশ গোশতপিন্ড থেকে, যা পূর্ণ আকৃতিসম্পন্নও হয় আর অপূর্ণ আকৃতিসম্পন্নও হয়। (এ তথ্য তোমাদেরকে জানানো হচ্ছে) যেন আমরা বয়ান/ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করি তোমাদের জন্য। আর আমরা জরায়ুর মধ্যে স্বস্তিতে অবস্থান করতে দিই যেভাবে আমরা ইচ্ছা করি আজালিম মুসাম্মা/ নির্দিষ্ট শেষ সময়সীমা পর্যন্ত। তারপর আমরা তোমাদেরকে বের করি শিশুরূপে। তারপর (তোমাদেরকে লালন পালন করি) যেন তোমরা পৌঁছতে পারো তোমাদের যৌবনে। আর তোমাদের মধ্য থেকে কাউকে পূর্বাহ্নেই মৃত্যু দেয়া হয়, আর তোমাদের মধ্য থেকে কাউকে ফিরিয়ে দেয়া হয় হীনতম বয়সে যেন সে না জানে জানার পরও, কিছুমাত্রও। আর তুমি দেখছো শুষ্ক ভূমিকে, তারপর যখন আমরা নাযিল/ বর্ষণ করি উহার উপর (বৃষ্টির) পানি, তখন তা সতেজ হয় ও ফুলে উঠে আর উদ্গত করে সর্বপ্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ জোড়া।

২২:৬
যালিকা = উহা। বিআন্নাল্লাহা হুয়াল হাক্বক্বু = প্রমাণ করে যে, আল্লাহই আল হাক্ব/ পরম সত্য। ওয়া = আরো। আন্নাহু = প্রমাণ করে যে, তিনিই। ইউহয়িল মাওতা = মৃতকে জীবিত করেন। ওয়া = আরো। আন্নাহু = প্রমাণ করে যে, তিনিই। আলা কুল্লি সাইয়িন ক্বাদীর = সকল সত্তা ও বিষয়ের উপর প্রাকৃতিক আইন নির্ধারণকারী ও সর্বশক্তিমান নিয়ন্ত্রণকারী।

উহা প্রমাণ করে যে, আল্লাহই আল হাক্ব/ পরম সত্য। আরো প্রমাণ করে যে, তিনিই মৃতকে জীবিত করেন। আরো প্রমাণ করে যে, তিনিই সকল সত্তা ও বিষয়ের উপর প্রাকৃতিক আইন নির্ধারণকারী ও সর্বশক্তিমান নিয়ন্ত্রণকারী।

২২:৭
ওয়া = আরো। আন্নাছ ছায়াতা = প্রমাণ করে যে, ছায়াত/ প্রলয় মুহুর্ত। আতিয়াতুন = অবশ্যম্ভাবী। লা রয়বা ফীহা = উহাতে কোন সন্দেহ নেই। ওয়া = আরো। আন্নাল্লাহা = প্রমাণ করে যে, আল্লাহ। ইয়াবআছু = তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন। মান ফিল ক্বুবূরি = যারা কবরসমূহে রয়েছে।

আরো প্রমাণ করে যে, ছায়াত/ প্রলয় মুহুর্ত অবশ্যম্ভাবী। উহাতে কোন সন্দেহ নেই। আরো প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন যারা কবরসমূহে রয়েছে।

২২:৮
ওয়া = আর। মিনান্নাছি = মানুষের মধ্যে এমনও আছে। মাইঁ ইউজাদিলু = যে তর্ক করে। ফিল্লাহি = আল্লাহর ব্যাপারে। বিগায়রি ইলমিন = ইলম/ (আসমানী কিতাবের) জ্ঞান ছাড়া। ওয়া = আর। লা হুদান = তাদের কাছে না আছে হুদা/ হিদায়াত। ওয়া = আর। লা কিতাবিম মুনীরিন = না আছে দীপ্তিমান কিতাব।

আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে তর্ক করে আল্লাহর ব্যাপারে ইলম/ (আসমানী কিতাবের) জ্ঞান ছাড়া। আর তাদের কাছে না আছে হুদা/ হিদায়াত আর না আছে দীপ্তিমান কিতাব।

২২:৯
ছানিয়া = সে বাঁকা করে। ইতফিহী = তার ঘাড়কে। লিইউদিল্লা = যেন বিভ্রান্ত করতে পারে। আন ছাবীলিল্লাহি = সাবিলিল্লাহ/ আল্লাহর পথ থেকে। লাহু = তার জন্য আছে। ফিদ দুনইয়া = দুনিয়াতে। খিযইউন = লাঞ্চনা। ওয়া = আর। নুযীক্বূহু = আমরা তাকে স্বাদ আস্বাদন করাবো। ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি = ইয়াওমুল কিয়ামাতে/ কিয়ামাত দিবসে। আযাবাল হারীক্বি = আগুনে দহনের শাস্তি।

সে বাঁকা করে তার ঘাড়কে যেন বিভ্রান্ত করতে পারে সাবিলিল্লাহ/ আল্লাহর পথ থেকে। তার জন্য আছে দুনিয়াতে লাঞ্চনা আর আমরা তাকে স্বাদ আস্বাদন করাবো ইয়াওমুল কিয়ামাতে/ কিয়ামাত দিবসে আগুনে দহনের শাস্তি।

২২:১০
যালিকা = উহা। বিমা ক্বাদ্দামাত ইয়াদাকা = তোমার নিজ হাতের উপার্জনের কারণে। ওয়া = আর। আন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। লাইছা বিযল্লামিন লিআবীদি = বান্দাদের উপর যালিম নন।

উহা তোমার নিজ হাতের উপার্জনের কারণে। আর নিশ্চয় আল্লাহ বান্দাদের উপর যালিম নন।

২২:১১
ওয়া = আর। মিনান্নাছি = মানুষের মধ্যে এমনও আছে। মাইঁ ইয়া’বুদুল্লাহা = যে আল্লাহর ইবাদাত/ দাসত্ব করে। আলা হারফিন = এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে। ফাইন = তারপর যদি। আসাবাহু = তার কাছে পৌঁছে। খায়রুনিতমাআন্না = কোন কল্যাণ, তাহলে সে প্রশান্ত থাকে। বিহী = উহার উপর। ওয়া = আর। ইন = যদি। আসাবাতহু = তার কাছে পৌঁছে। ফিতনাতুনক্বালাবা = কোন ফিতনা/ পরীক্ষা (= বিপদ), তাহলে সে পরিবর্তিত হয়ে যায়। আলা ওয়াজহিহী = তার আসল চেহারায় (অর্থাৎ কুফরে)। খাছিরাদ্দুনইয়া = সে দুনিয়াতেও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। ওয়াল আখিরাতা = আর আখিরাতেও। যালিকা হুয়া = উহাই। আল খুছরানুল মুবীনু = প্রকাশ্য ক্ষতি।

আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে আল্লাহর ইবাদাত/ দাসত্ব করে এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে। তারপর যদি তার কাছে পৌঁছে কোন কল্যাণ, তাহলে সে প্রশান্ত থাকে উহার উপর। আর যদি তার কাছে পৌঁছে কোন ফিতনা/ পরীক্ষা (= বিপদ), তাহলে সে পরিবর্তিত হয়ে যায় তার আসল চেহারায় (অর্থাৎ কুফরে)। সে দুনিয়াতেও ক্ষতিগ্রস্ত হলো আর আখিরাতেও। উহাই প্রকাশ্য ক্ষতি।

২২:১২
ইয়াদঊ = তারা ডাকে। মিন দূনিল্লাহি = আল্লাহকে ছাড়া এমন কাউকে। মা লা ইয়াদুররুহু = যা তার ক্ষতি করতে পারে না। ওয়া = আর। মা লা ইয়ানফাউহু = যা তার উপকারও করতে পারে না। যালিকা হুয়া = উহাই। আদ দলালুল বায়ীদু = সুদূর বিভ্রান্তি।

তারা ডাকে আল্লাহকে ছাড়া এমন কাউকে যা তার ক্ষতি করতে পারে না, আর যা তার উপকারও করতে পারে না। উহাই সুদূর বিভ্রান্তি।

২২:১৩
ইয়াদঊ = তারা ডাকে। লামান = এমন কাউকে। দররুহু = যার ক্ষতি। আক্বরাবু = অধিক নিকটবর্তী। মিন নাফয়িহী = তার উপকারের চেয়ে। লাবি’ছাল মা’ওয়া = অত্যন্ত নিকৃষ্ট তাদের আশ্রয়স্থল। ওয়া = আর। লাবি’ছাল আশীরু = অত্যন্ত নিকৃষ্ট তাদের সঙ্গী।

তারা ডাকে এমন কাউকে যার ক্ষতি অধিক নিকটবর্তী তার উপকারের চেয়ে। অত্যন্ত নিকৃষ্ট তাদের আশ্রয়স্থল আর অত্যন্ত নিকৃষ্ট তাদের সঙ্গী।

২২:১৪
ইন্নাল্লাহু = নিশ্চয় আল্লাহ। ইউদখিলুল্লাযীনা = তাদেরকে দাখিল/ প্রবেশ করাবেন যারা। আমানূ = ঈমান/ বিশ্বাস করেছে। ওয়া = আর। আমিলুস সলিহাতি = আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করেছে। জান্নাতিন = এমন জান্নাতে। তাজরী = জারি হয়। মিন তাহতিহাল আনহারু = যার নিচ অংশে নহরসমূহ/ নদীসমূহ। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। ইয়াফআলু = করে থাকেন। মা ইউরীদু = যা করতে তিনি এরাদা/ ইচ্ছা করেন।

নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে দাখিল/ প্রবেশ করাবেন যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছে আর আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করেছে, এমন জান্নাতে জারি হয় যার নিচ অংশে নহরসমূহ/ নদীসমূহ। নিশ্চয় আল্লাহ করে থাকেন যা করতে তিনি এরাদা/ ইচ্ছা করেন।

২২:১৫
মান কানা ইয়াযুন্নু = যে ধারণা করে। আল্লাইঁ ইয়ানসুরাহুল্লাহু = যে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন না। ফিদ দুনইয়া ওয়াল আখিরাতি = দুনিয়া ও আখিরাতে। ফালইয়ামদুদ = তবে সে প্রসারিত করুক। বিছাবাবিন = যথোপযোগী উপায়ে। ইলাছ ছামায়ি = আকাশের দিকে। ছুম্মালইক্বতা’ = সেই সাথে সে ছিন্ন করুক। ফালইয়ানযুর = তারপর সে দেখুক। হাল ইউযহিবান্না = উহাকে দূর করতে পারে কিনা। কায়দাহু = তার এ কায়দা/ কৌশল। মা ইয়াগীযু = যা তাকে ক্ষুব্ধ করে (= হতাশাজনিত মানসিক যন্ত্রণা)।

(ক): যে ধারণা করে যে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন না দুনিয়া ও আখিরাতে, তবে সে (প্রার্থনার হস্তকে) প্রসারিত করুক যথোপযোগী উপায়ে, আকাশের দিকে (= আল্লাহর কাছে)। সেই সাথে সে ছিন্ন করুক (কল্পিত উপাস্যদের সাথে তার সম্পর্ককে)। তারপর সে দেখুক যে, দূর করতে পারে কিনা তার এ কায়দা/ কৌশল, উহাকে যা তাকে ক্ষুব্ধ করে (= হতাশাজনিত মানসিক যন্ত্রণা)।

(খ): যে ধারণা করে যে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন না দুনিয়া ও আখিরাতে, তবে সে (প্রচেষ্টাকে) প্রসারিত করুক যথোপযোগী উপায়ে, আকাশের দিকে (= ঊর্ধ্ব দিকে)। সেই সাথে সে ছিন্ন করুক (আসমানী বিধানের সাথে তার সম্পর্ককে)। তারপর সে দেখুক যে, দূর করতে পারে কিনা তার এ কায়দা/ কৌশল, উহাকে যা তাকে ক্ষুব্ধ করে (= হতাশাজনিত মানসিক যন্ত্রণা)।

২২:১৬
ওয়া = আর। কাযালিকা = এভাবেই। আনযালনাহু = আমরা উহাকে (= কুরআনকে) নাযিল করেছি। আয়াতিম বাইয়িনাতিন = স্পষ্ট আয়াতসমূহরূপে। ওয়া = আর। আন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। ইয়াহদী = হিদায়াত করেন। মাইঁ ইউরীদু = যাকে তিনি (হিদায়াত করার) এরাদা/ ইচ্ছা করেন।

আর এভাবেই আমরা উহাকে (= কুরআনকে) নাযিল করেছি স্পষ্ট আয়াতসমূহরূপে। আর নিশ্চয় আল্লাহ হিদায়াত করেন যাকে তিনি (হিদায়াত করার) এরাদা/ ইচ্ছা করেন।

২২:১৭
ইন্নাল্লাযীনা = নিশ্চয় যারা। আমানূ = ঈমান/ বিশ্বাস করেছে। ওয়াল্লাযীনা = আর যারা। হাদূ = ইহুদী হয়েছে। ওয়াস সাবিয়ীনা = সাবেয়ীন হয়েছে। ওয়ান্নাসারা = নাসারা হয়েছে। ওয়াল মাজূসা = মাজূস হয়েছে। ওয়াল্লাযীনা আশরাকূ = আর যারা শিরক করেছে। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। ইয়াফসিলু বায়নাহুম = তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দিবেন। ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি = ইয়াওমুল কিয়ামাতে/ কিয়ামাত দিবসে। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। আলা কুল্লি সাইয়িন = সকল বিষয়ের ব্যাপারে। শাহীদুন = স্বাক্ষী আছেন।

নিশ্চয় যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছে আর যারা ইহুদী হয়েছে, সাবেয়ীন হয়েছে, নাসারা হয়েছে, মাজূস হয়েছে, আর যারা শিরক করেছে; নিশ্চয় আল্লাহ তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দিবেন ইয়াওমুল কিয়ামাতে/ কিয়ামাত দিবসে। নিশ্চয় আল্লাহ সকল বিষয়ের ব্যাপারে স্বাক্ষী আছেন।

২২:১৮
আলাম তারা = তুমি কি ভেবে দেখোনি। আন্নাল্লাহা = যে, আল্লাহ এমন সত্তা। ইয়াছজুদু লাহু = তাঁকে সিজদা করে। মান ফিসসামাওয়াতি = যারা আছে আকাশমন্ডলীতে। ওয়া = আর। মান ফিল আরদি = যারা আছে পৃথিবীতে। ওয়াশ শামসু = আর সূর্য। ওয়াল ক্বামারু = চন্দ্র। ওয়ান নুজুমু = নক্ষত্রমন্ডলী। ওয়াল জিবালু = পাহাড়সমূহ। ওয়াশ শাজারু = গাছ-গাছালি। ওয়াদ দাওয়াব্বু = প্রাণীসমূহ। ওয়া = আর। কাছীরুম মিনান্নাছি = মানুষের মধ্য থেকে অনেকে। ওয়া = আর। কাছীরুন হাক্বক্বা আলাইহিল আযাবু = অনেক মানুষ নিজের উপর আযাবের হক্বদার হয়ে গেছে। ওয়া = আর। মাইঁ ইউহিনিল্লাহু = যাকে আল্লাহ অপমানিত করেন। ফামা লাহু মিম মুকরিমিন = তাকে সম্মানদাতা কেউ নেই। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। ইয়াফআলু = করে থাকেন। মা ইয়াশাউ = যা তিনি করার ইচ্ছা করেন।

তুমি কি ভেবে দেখোনি যে, আল্লাহ এমন সত্তা, তাঁকে সিজদা করে যারা আছে আকাশমন্ডলীতে আর যারা আছে পৃথিবীতে আর সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমন্ডলী, পাহাড়সমূহ, গাছ-গাছালি, প্রাণীসমূহ আর মানুষের মধ্য থেকে অনেকে। আর অনেক মানুষ নিজের উপর আযাবের হক্বদার হয়ে গেছে। আর যাকে আল্লাহ অপমানিত করেন তাকে সম্মানদাতা কেউ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ করে থাকেন যা তিনি করার ইচ্ছা করেন।

২২:১৯
হাযানি খাসমানিখতাসমূ = এই হচ্ছে দুটি বিতর্করত পক্ষ (যারা সিজদা করে আর যারা করে না), তারা বিতর্ক করছে। ফী রব্বিহিম = তাদের রবের ব্যাপারে। ফাল্লাযীনা = সুতরাং যারা। কাফারূ = কুফর করেছে। ক্বুত্তিআত = কাটা হয়ে গেছে। লাহুম = তাদের জন্য। ছিয়াবুম মিন নারিন = আগুনের বাড়তি পোশাক। ইউসাব্বু = ঢালা হবে। মিন ফাওক্বি রুউছিহিমুল হামীমু = তাদের মাথার উপর থেকে ফুটন্ত পানি।

এই হচ্ছে দুটি বিতর্করত পক্ষ (যারা সিজদা করে আর যারা করে না), তারা বিতর্ক করছে তাদের রবের ব্যাপারে। সুতরাং যারা কুফর করেছে, কাটা হয়ে গেছে তাদের জন্য আগুনের বাড়তি পোশাক। ঢালা হবে তাদের মাথার উপর থেকে ফুটন্ত পানি।

২২:২০
ইউসহারু = গলিয়ে দেয়া হবে। বিহী = উহা দ্বারা। মা ফী বুতূনিহিম = যা আছে তাদের পেটসমূহে। ওয়াল জুলূদু = আর তাদের চামড়াসমূহ।

গলিয়ে দেয়া হবে উহা দ্বারা যা আছে তাদের পেটসমূহে আর তাদের চামড়াসমূহ।

২২:২১
ওয়া = আর। লাহুম = তাদের জন্য আছে। মাক্বামিউ মিন হাদীদিন = লোহার মুগুর।

আর তাদের জন্য আছে লোহার মুগুর।

২২:২২
কুল্লামা = যখনই। আরাদূ = তারা এরাদা/ ইচ্ছা করবে। আইঁ ইয়াখরুজূ = যে, তারা বের হবে। মিনহা = উহা থেকে। মিন গামমিন = ভয়ের কারণে। উঈদূ = তখনি তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। ফীহা = উহার মধ্যে। ওয়া = আর (বলা হবে)। যূক্বূ আযাবাল হারীক্বি = তোমরা স্বাদ আস্বাদন করো আগুনে দহনের শাস্তির।

যখনই তারা এরাদা/ ইচ্ছা করবে যে, তারা বের হবে উহা থেকে ভয়ের কারণে, তখনি তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হবে উহার মধ্যে। আর (বলা হবে), ‘তোমরা স্বাদ আস্বাদন করো আগুনে দহনের/ জ্বলার শাস্তির’।

২২:২৩
ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। ইউদখিলুল্লাযীনা = তাদেরকে দাখিল/ প্রবেশ করাবেন যারা। আমানূ = ঈমান/ বিশ্বাস করেছে। ওয়া = আর। আমিলুস সালিহাতি = আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করেছে। জান্নাতিন = এমন জান্নাতে। তাজরী = জারি হয়। মিন তাহতিহাল আনহারু = যার নিচ অংশে নহরসমূহ/ নদীসমূহ। ইউহাল্লাওনা ফীহা = তাদেরকে উহাতে অলংকৃত করা হবে। মিন আছাভিরা মিন যাহাবিন ওয়া লু’লুউন = স্বর্ণের চুড়ি ও মুক্তা দ্বারা। ওয়া = আর। লিবাসুহুম ফীহা = উহাতে তাদের লিবাস/ পোশাক হবে। হারীরুন = রেশমের।

নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে দাখিল/ প্রবেশ করাবেন যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছে আর আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করেছে, এমন জান্নাতে জারি হয় যার নিচ অংশে নহরসমূহ/ নদীসমূহ। তাদেরকে উহাতে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণের চুড়ি ও মুক্তা দ্বারা। আর উহাতে তাদের লিবাস/ পোশাক হবে রেশমের।

২২:২৪
ওয়া = আর। হুদূ = তাদেরকে হিদায়াত করা হয়েছে। ইলাত তইয়িবি মিনাল ক্বাওলি = পবিত্র কথা বলার জন্য। ওয়া = আর। হুদূ = হিদায়াত করা হয়েছে। ইলা সিরাতিল হামীদি = প্রশংসিত সত্তার (= আল্লাহর) পথে চলার জন্য।

আর তাদেরকে হিদায়াত করা হয়েছে পবিত্র কথা বলার জন্য, আর হিদায়াত করা হয়েছে প্রশংসিত সত্তার (= আল্লাহর) পথে চলার জন্য।

২২:২৫
ইন্নাল্লাযীনা = নিশ্চয় যারা। কাফারূ = কুফর করেছে। ওয়া = আর। ইয়াসুদ্দূনা আন সাবীলিল্লাহি = আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয়। ওয়াল মাসজিদিল হারামাল্লাযী জাআলনাহু = আর আল মসজিদুল হারাম থেকেও বাধা দেয় যাকে আমরা করেছি। লিন্নাছি ছাওয়াআনিল আকিফু ফীহি = মানবজাতির জন্য সমান যারা উহার বিষয়ে এ’তেকাফরত। ওয়াল বাদি = আর যারা (অন্য ক্ষেত্রে) প্রকাশিত/ কেন্দ্রিকতার অভিব্যক্তিস্বরূপ গমনাগমনকারী। ওয়া = আর। মাইঁ ইউরিদ ফীহি = যে এরাদা/ ইচ্ছা করে সেখানে। বিইলহাদিন = অন্যায় কাজ করতে। বিযুলমিন = এবং যুলুম করতে। নুযিক্বহু = আমরা তাকে স্বাদ আস্বাদন করাবো। মিন আযাবিন আলীমিন = আযাবে আলীমের/ কষ্টদায়ক শাস্তির।

নিশ্চয় যারা কুফর করেছে আর আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয়, আর আল মসজিদুল হারাম থেকেও বাধা দেয় যাকে আমরা করেছি মানবজাতির জন্য সমান, যারা স্থানীয়দের মধ্যকার উহার মধ্যে প্রায়শ এতেকাফকারী/ আত্মনিয়োজিত এবং যারা অস্থানীয়দের মধ্যকার (অন্য ক্ষেত্রে) প্রকাশিত/ উহার প্রতি কেন্দ্রিকতার অভিব্যক্তিস্বরূপ গমনাগমনকারী। (সমান মানে প্রবেশাধিকার, নিরাপত্তা বিধান ও বরকত বণ্টন বিষয়ে সমান)। আর যে এরাদা/ ইচ্ছা করে সেখানে অন্যায় কাজ করতে এবং যুলুম/ অত্যাচার করতে, আমরা তাকে স্বাদ আস্বাদন করাবো আযাবে আলীমের/ কষ্টদায়ক শাস্তির।

২২:২৬
ওয়া = আর। ইয = যখন। বাওয়ানা = আমরা চিহ্নিত করেছি। লিইবরাহীমা = ইবরাহীমের জন্য। মাকানাল বায়তি = আল বাইতের (= কা’বাঘরের) স্থান। আন = এ মর্মে যে। লা তাশরিক বী = আমার সাথে শিরক করো না। সাইয়ান = কাউকেই। ওয়া = আর। তহহির = পবিত্র রাখো। বায়তিয়া = আমার বাইতকে (= বাইতুল্লাহ কা’বাকে)। লিত তয়িফীনা = তাওয়াফকারীদের জন্য। ওয়াল ক্বায়িমীনা ওয়ার রুককায়িস সুজূদি = আর কিয়ামকারীদের জন্য আর রুকুকারী ও সিজদাকারীদের জন্য।

আর উল্লেখ্য যখন আমরা চিহ্নিত করেছি ইবরাহীমের জন্য আল বাইতের (= কা’বাঘরের) স্থান। এ মর্মে যে, “আমার সাথে শিরক করো না কাউকেই। আর পবিত্র রাখো আমার বাইতকে (= বাইতুল্লাহ কা’বাকে) তাওয়াফকারীদের জন্য আর কিয়ামকারীদের জন্য আর রুকুকারী ও সিজদাকারীদের জন্য”।

২২:২৭
ওয়া = আর। আযযিন = আযান/ ঘোষণা দাও। ফিন্নাছি = মানবজাতির মধ্যে। বিল হাজ্জি = হজ্জের প্রতি। ইয়া’তূকা = তারা তোমার কাছে আসবে। রিজালান = পায়ে হেঁটে। ওয়া = আর। আলা কুল্লি দমিরিন = প্রত্যেক ক্ষীণকায় উটের উপর আরোহন করে। ইয়া’তীনা = তারা আসবে। মিন কুল্লি ফাজ্জিন আমীক্বিন = সর্বপ্রকার দূর-দূরান্তের পথ থেকে।

আর আযান/ ঘোষণা দাও মানবজাতির মধ্যে হজ্জের প্রতি। তারা তোমার কাছে (= তোমার ঘোষণার প্রেক্ষিতে) আসবে পায়ে হেঁটে আর প্রত্যেক ক্ষীণকায় উটের উপর (= দ্রুতগামী বাহনে) আরোহন করে। তারা আসবে সর্বপ্রকার দূর-দূরান্তের পথ থেকে।

২২:২৮
লিইয়াশহাদু = এ উদ্দেশ্যে যে, যেন তারা প্রত্যক্ষ (অর্জন) করতে পারে। মানাফিআ লাহুম = তাদের কল্যাণসমূহ। ওয়া = আর। ইয়াযকুরূছমাল্লাহি = যেন তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে। ফী আইয়ামিম মা’লূমাতিন = সুপরিজ্ঞাত দিনসমূহে (= হজ্জের দিনসমূহে)। আলা মা রযাক্বাহুম = ঐগুলোর উপর যা তিনি তাদেরকে রিযিকস্বরূপ দিয়েছেন। মিম বাহীমাতিল আনআমি = বাহীমাতিল আনআমের/ গবাদি পশু প্রকৃতির বিচরণশীল চতুষ্পদ পশুসমূহের মধ্য থেকে। ফাকুলূ মিনহা = তারপর উহা থেকে তোমরাও খাও। ওয়া = আর। আতয়িমুল বায়িছাল ফাক্বীরা = সংকটাপন্ন ফকীর/ অভাবগ্রস্তদেরকেও খাওয়াও।

এ উদ্দেশ্যে যে, যেন তারা প্রত্যক্ষ (= অর্জন) করতে পারে তাদের কল্যাণসমূহ। আর যেন তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে সুপরিজ্ঞাত দিনসমূহে (= হজ্জের দিনসমূহে) ঐগুলোর উপর যা তিনি তাদেরকে রিযিকস্বরূপ দিয়েছেন বাহীমাতিল আনআমের/ গবাদি পশু প্রকৃতির বিচরণশীল চতুষ্পদ পশুসমূহের মধ্য থেকে। (অর্থাৎ হজ্জ উপলক্ষ্যে আল্লাহর নামে পশু জবেহ করার জন্য)। তারপর উহা থেকে তোমরাও খাও আর সংকটাপন্ন ফকীর/ অভাবগ্রস্তদেরকেও খাওয়াও।

২২:২৯
ছুম্মাল ইয়াক্বদূ = তারপর (হজ্জ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে) তারা সম্পন্ন করতে হবে। তাফাছাহুম = তাদের পরিচ্ছন্নতার কর্মসূচী। ওয়াল ইঊফূ = আর পূর্ণ করতে হবে। নুযূরাহুম = তাদের মানত (= আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোন বিশেষ কল্যাণকর্মের জন্য তাদের সংকল্প)। ওয়াল ইয়াত্তাওওয়াফূ বিল বায়তিল আতীক্বি = আর তাওয়াফ (আবর্তন) করতে হবে ‘বায়তুল আতিককে/ প্রাচীন গৃহকে’ (= কা’বা ঘরকে) কেন্দ্র করে।

তারপর (হজ্জ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে) তারা সম্পন্ন করতে হবে তাদের পরিচ্ছন্নতার কর্মসূচী আর পূর্ণ করতে হবে তাদের মানত (= আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোন বিশেষ কল্যাণকর্মের জন্য তাদের সংকল্প) আর তাওয়াফ (আবর্তন) করতে হবে ‘বায়তুল আতিককে/ প্রাচীন গৃহকে’ (= কা’বা ঘরকে) কেন্দ্র করে।

২২:৩০
যালিকা = উহাই বিধান। ওয়া = আর। মাইঁ ইউআযযিম = যে মর্যাদা রক্ষা করে। হুরুমাতিল্লাহি = আল্লাহর নির্ধারিত হুরুমাতের (অর্থাৎ মর্যাদাপূর্ণ নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর)। ফাহুয়া = উহাই। খায়রুল্লাহু = তার জন্য কল্যাণকর। ইনদা রব্বিহি = তার রবের নিকট। ওয়া = আর। উহিল্লাত = হালাল করা হয়েছে। লাকুমুল আনআমু = তোমাদের জন্য আনআম/ গবাদি পশুসমূহ। ইল্লা মা ইউতলা আলাইকুম = যা তোমাদের কাছে তিলাওয়াত করা হয়েছে তা ছাড়া (০৫:০৩)। ফাজতানিবুর রিজছা মিনাল আওছানি = সুতরাং তোমরা পূজার মূর্তিসমূহের অপবিত্রতাকে পরিহার করো। ওয়াযতানিবু ক্বাওলায যূরি = আর মিথ্যা কথা বলা পরিহার করো।

উহাই বিধান। আর যে মর্যাদা রক্ষা করে আল্লাহর নির্ধারিত হুরুমাতের (= মর্যাদাপূর্ণ নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর), উহাই তার জন্য কল্যাণকর, তার রবের নিকট। আর হালাল করা হয়েছে তোমাদের জন্য আনআম/ গবাদি পশুসমূহ, যা তোমাদের কাছে (হারাম হিসেবে) তিলাওয়াত করা হয়েছে তা ছাড়া (০৫:০৩)। সুতরাং তোমরা পূজার মূর্তিসমূহের অপবিত্রতাকে পরিহার করো (অর্থাৎ মূর্তিসমূহ অপবিত্র তাই তা পরিহার করো) আর মিথ্যা কথা বলা পরিহার করো।

২২:৩১
হুনাফাআ লিল্লাহি = আল্লাহর জন্য হানীফ/ একনিষ্ঠ হয়ে। গায়রা মুশরিকীনা বিহী = তাঁর সাথে কাউকে শিরককারী না হয়ে। ওয়া = আর। মাইঁ ইউশরিক বিল্লাহি = যে আল্লাহর সাথে শিরক করে। ফাকাআন্নামা = তার অবস্থা এই যে, যেন। খাররা = সে পড়ে গেলো। মিনাছ ছামায়ি = আকাশ থেকে। ফাতাখতফুহুত তয়রা = তারপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেলো। আও = অথবা। তাহভী বিহির রীহু = বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে ফেলে দিলো। ফী মাকানিন ছাহীক্বিন = কোন দূরবর্তী স্থানে।

আল্লাহর জন্য হানীফ/ একনিষ্ঠ হয়ে, তাঁর সাথে কাউকে শিরককারী না হয়ে। আর যে আল্লাহর সাথে শিরক (অংশীদার সাব্যস্ত) করে, তার অবস্থা এই যে, যেন সে পড়ে গেলো আকাশ থেকে। তারপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেলো অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে ফেলে দিলো কোন দূরবর্তী স্থানে।

২২:৩২
যালিকা = উহাই বিধান। ওয়া = আর। মাইঁ ইউআযযিম = যে মর্যাদা রক্ষা করে। শাআয়িরাল্লাহি = শায়ায়েরাল্লাহর/ আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্ধারিত নিদর্শনসমূহের। ফাইন্নাহা = তাহলে নিশ্চয় উহা। মিন তাক্বওয়াল ক্বুলূবি = তাদের কলবসমূহের তাকওয়া/ আল্লাহভীরুতার প্রমাণবহ।

উহাই বিধান। আর যে মর্যাদা রক্ষা করে শায়ায়েরাল্লাহর/ আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্ধারিত নিদর্শনসমূহের, তাহলে নিশ্চয় উহা তাদের কলবসমূহের তাকওয়া/ আল্লাহভীরুতার প্রমাণবহ।

২২:৩৩
লাকুম ফীহা = উহাতে (= গবাদি পশুগুলোতে) তোমাদের জন্য আছে। মানাফিউ ইলা আজালিম মুছাম্মা = আজালিম মুসাম্মা/ নির্ধারিত শেষ সময়সীমা পর্যন্ত (= হজ্জ উপলক্ষ্যে যথাস্থানে পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত) বিভিন্ন উপকারলাভের সুযোগ। ছুম্মা = তারপর। মাহিল্লুহা = উহার মাহিল্লু/ জমা দেয়ার যথাস্থান হচ্ছে। ইলাল বায়তিল আতীক্বি = বায়তুল আতীকের/ প্রাচীন গৃহের (= কা’বা ঘরের) দিকে (পথিমধ্যে/ সন্নিকটে)।

উহাতে (= গবাদি পশুগুলোতে) তোমাদের জন্য আছে আজালিম মুসাম্মা/ নির্ধারিত শেষ সময়সীমা পর্যন্ত (= হজ্জ উপলক্ষ্যে যথাস্থানে পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত) বিভিন্ন উপকারলাভের সুযোগ। তারপর উহার মাহিল্লু/ জমা দেয়ার যথাস্থান হচ্ছে বায়তুল আতীকের/ প্রাচীন গৃহের (= কা’বা ঘরের) দিকে (পথিমধ্যে/ সন্নিকটে)।

২২:৩৪
ওয়া = আর। লিকুল্লি উম্মাতিন = প্রত্যেক উম্মাতের জন্য। জাআলনা = আমরা নির্ধারিত করেছি। মানছাকান = মানছাক (= )। লিইয়াযকুরুছমাল্লাহি = যেন তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে। আলা মা রযাক্বাহুম = ঐগুলোর উপর যা তিনি তাদেরকে রিযিকস্বরূপ দিয়েছেন। মিম বাহীমাতিল আনআমি = বাহীমাতিল আনআমের/ গবাদিপশু ধরনের বিচরণশীল জন্তুগুলোর মধ্য থেকে। ফাইলাহুকুম = সুতরাং তোমাদের ইলাহ। ইলাহুন ওয়াহিদুন = একই ইলাহ। ফালাহু = সুতরাং তাঁরই উদ্দেশ্যে। আছলিমূ = তোমরা ইসলাম/ আত্মসমর্পণ করো। ওয়া = আর। বাশশিরিল মুখবিতীনরা = সুসংবাদ দাও (আল্লাহর প্রতি) বিনীতদেরকে।

আর প্রত্যেক উম্মাতের জন্য আমরা নির্ধারিত করেছি মানছাক (= ) (২২:৬৭)। যেন তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে ঐগুলোর উপর যা তিনি তাদেরকে রিযিকস্বরূপ দিয়েছেন বাহীমাতিল আনআমের/ গবাদি পশু প্রকৃতির বিচরণশীল চতুষ্পদ পশুসমূহের মধ্য থেকে (অর্থাৎ আল্লাহর নামে পশু জবেহ করার জন্য)। সুতরাং তোমাদের ইলাহ (উপাস্য) একই ইলাহ। সুতরাং তাঁরই উদ্দেশ্যে তোমরা ইসলাম/ আত্মসমর্পণ করো। আর সুসংবাদ দাও (আল্লাহর প্রতি) বিনীতদেরকে।

২২:৩৫
আল্লাযীনা = যারা এমন যে। ইযা = যখন। যুকিরাল্লাহু = আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। ওয়াজিলাত = তখন কেঁপে উঠে। ক্বুলূবুহুম = তাদের কলবসমূহ। ওয়াস সাবিরীনা আলা মা = আর যারা উহার উপর সবরকারী হয় যা। আসাবাহুম = তাদের উপর আপতিত হয়। ওয়াল মুক্বীমিস সালাতি = আর সালাত কায়েমকারী হয়। ওয়া = আর। মিম্মা রযাক্বনাহুম = যা আমরা তাদেরকে রিযিকস্বরূপ দিয়েছি তা থেকে। ইউনফিক্বূনা = তারা ইনফাক/ ব্যয় করে।

যারা এমন যে, যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, তখন কেঁপে উঠে তাদের কলবসমূহ। আর যারা উহার উপর সবরকারী হয় যা (যে বিপদাপদ) তাদের উপর আপতিত হয়, আর সালাত কায়েমকারী হয় আর যা আমরা তাদেরকে রিযিকস্বরূপ দিয়েছি তা থেকে তারা ইনফাক/ ব্যয় করে।

২২:৩৬
ওয়াল বুদনা জাআলনাহা = আর কুরবানির উপযোগী মাংসল/হৃষ্টপুষ্ট পশুগুলোকে আমরা করেছি। লাকুম = তোমাদের জন্য। মিন শায়ায়িরিল্লাহি = শায়ায়েরাল্লাহ/ আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্ধারিত নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। লাকুম ফীহা = তোমাদের জন্য উহাতে আছে। খায়রুন = ব্যাপক কল্যাণ। ফাযকুরুছমাল্লাহি আলাইহা = সুতরাং তোমরা উহার উপর আল্লাহর নাম স্মরণ করো। সাওয়াফফা = সারিবদ্ধ করা অবস্থায়। ফাইযা = তারপর যখন। ওয়াজাবাত জুনূবুহা = উহাদের পার্শ্বদেশ মাটিতে ঠেকে যায় (= নিষ্প্রাণ হয়ে যায়)। ফাকুলূ মিনহা = তখন উহা থেকে তোমরাও খাও। ওয়া = আর। আতয়িমুল ক্বানিআ ওয়াল মু’তাররা = সেসব অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও যারা আবেদন করে না এবং যারা আবেদন করে। কাযালিকা = এভাবে। ছাখখারনাহা = আমরা সেগুলোকে নিয়ন্ত্রিত করেছি। লাকুম = তোমাদের জন্য। লায়াল্লাকুম = যেন তোমরা তাশকুরূন = শোকর/ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো।

আর কুরবানির উপযোগী মাংসল/হৃষ্টপুষ্ট পশুগুলোকে আমরা করেছি তোমাদের জন্য শায়ায়েরাল্লাহ/ আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্ধারিত নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তোমাদের জন্য উহাতে আছে ব্যাপক কল্যাণ। সুতরাং তোমরা উহার উপর আল্লাহর নাম স্মরণ করো (উৎসর্গের জন্য) সারিবদ্ধ করা অবস্থায়। তারপর যখন উহাদের পার্শ্বদেশ মাটিতে ঠেকে যায় (= নিষ্প্রাণ হয়ে যায়), তখন উহা থেকে তোমরাও খাও আর সেসব অভাবগ্রস্তকেও খাওয়াও যারা আবেদন করে এবং যারা আবেদন করে না। এভাবে আমরা সেগুলোকে নিয়ন্ত্রিত করেছি তোমাদের জন্য, যেন তোমরা শোকর/কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো।

২২:৩৭
লাইঁ ইয়ানাল্লাহা = আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না (= মূল্যায়ন পায় না)। লুহূমুহা ওয়া লা দিমাউহা = উহাদের গোশত ও রক্ত। ওয়ালাকিইঁ ইয়ানালুহুত তাক্বওয়া মিনকুম = কিন্তু তাঁর কাছে পৌঁছে (= মূল্যায়ন পায়) তোমাদের তাকওয়া। কাযালিকা = এভাবে। ছাখখারাহা = তিনি উহাকে নিয়োজিত করেছেন। লাকুম = তোমাদের কল্যাণের জন্য। লিতুকাব্বিরুল্লাহা = যেন তোমরা আল্লাহর তাকবীর/ শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো। আলা মা হাদাকুম = তাঁর হিদায়াত অনুযায়ী। ওয়া = আর। বাশশিরিল মুহসিনীনা = মুহসিনদেরকে/ উত্তম আচরণকারীদেরকে সুসংবাদ দাও।

আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না (= মূল্যায়ন পায় না) উহাদের গোশত ও রক্ত। কিন্তু তাঁর কাছে পৌঁছে (= মূল্যায়ন পায়) তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি উহাকে নিয়োজিত করেছেন তোমাদের কল্যাণের জন্য। যেন তোমরা আল্লাহর তাকবীর/ শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো তাঁর হিদায়াত অনুযায়ী। আর মুহসিনদেরকে/ উত্তম আচরণকারীদেরকে সুসংবাদ দাও।
{অর্থাৎ আল্লাহর হিদায়াত অনুসারে পশু থেকে উপকার লাভ এবং তাকে আল্লাহর নামে জবেহ করা এবং তা থেকে নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি অভাবগ্রস্তদেরকে খাওয়ানো হচ্ছে এই স্বীকৃতির মাধ্যমে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের একটি উপায় যে, আল্লাহর বিধান ও অনুমোদনই যাবতীয় অধিকারের উৎস।}।

২২:৩৮
ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। ইউদাফিউ = প্রতিরোধ করেন। আনিল্লাযীনা আমানূ = যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছে তাদের থেকে (কাফিরদের আক্রমণকে)। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। লা ইউহিব্বু = ভালবাসেন না। কুল্লা = প্রত্যেক। খাওয়ানিন কাফূরা = খেয়ানতকারী কাফিরকে/ অকৃতজ্ঞকে।

নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিরোধ করেন যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছে তাদের থেকে (কাফিরদের আক্রমণকে)। নিশ্চয় আল্লাহ ভালবাসেন না প্রত্যেক খেয়ানতকারী কাফিরকে/ অকৃতজ্ঞকে।

২২:৩৯
উযিনা লিল্লাযীনা = তাদেরকে (কিতালের/ সশস্ত্র সংগ্রামের) অনুমতি দেয়া হলো যাদের বিরুদ্ধে। ইউক্বাতিলূনা = কিতাল/ সশস্ত্র সংগ্রাম করা হচ্ছে। বিআন্নাহুম = কারণ, তারা। যুলিমূ = মজলুম/ নির্যাতিত। ওয়া = আর। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। আলা নাসরিহিম = তাদেরকে সাহায্য করতে। লাক্বাদীরু = সক্ষম।

তাদেরকে (কিতালের/ সশস্ত্র সংগ্রামের) অনুমতি দেয়া হলো যাদের বিরুদ্ধে কিতাল/ সশস্ত্র সংগ্রাম করা হচ্ছে। কারণ, তারা মজলুম/ নির্যাতিত। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম।

২২:৪০
আল্লাযীনা = যাদেরকে। উখরিজূ = বের করে দেয়া হয়েছে। মিন দিয়ারিহিম = তাদের নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে। বিগায়রি হাক্বক্বিন = অন্যায়ভাবে। ইল্লা আইঁ ইয়াক্বূলূ = শুধু এ কারণে যে, তারা বলে। রব্বুনাল্লাহু = রব্বুনাল্লাহ/ আল্লাহই আমাদের রব। ওয়া = আর। লাও = যদি। লা দাফউল্লাহিন্নাছা = আল্লাহ মানুষকে প্রতিহত না করতেন। বা’দুহুম বিবা’দিন = (তাঁর বিধানের বা প্রাকৃতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে) তাদের এক দল দ্বারা অন্য দলকে। লাহুদ্দিমাত = তাহলে অবশ্যই বিধ্বস্ত করা হতো। সওয়ামিউ = নৈতিক সংশোধন ও প্রশিক্ষণমূলক স্বল্পকালীন অবস্থানের কেন্দ্রসমূহ। ওয়া বিআউন = ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি, অঙ্গীকার ও শপথ অনুষ্ঠানের কেন্দ্রসমূহ। ওয়া সালাওয়াতুন = সালাওয়াত/ সালাতসমূহ (= সালাতের বা যোগাযোগ ও সমর্থন যোগানোর কেন্দ্রসমূহ)। ওয়া মাছাজিদু = আর মসজিদসমূহ (সাজদাহ সম্পাদনের কেন্দ্রসমূহ)। ইউযকারু ফীহাছমুল্লাহি = যাতে স্মরণ করা হয় আল্লাহর নাম। কাছীরান = অধিক পরিমাণে। ওয়া = আর। লাইয়ানসুরান্নাল্লাহু = নিশ্চয় আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন। মাইঁ ইয়ানসুরুহু = যে তাঁকে সাহায্য করে। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। লাক্বাভিয়্যুন আযীযুন = অত্যন্ত শক্তিমান ও ক্ষমতাধর।

যাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে তাদের নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে, শুধু এ কারণে যে, তারা বলে, ‘রব্বুনাল্লাহ/ আল্লাহই আমাদের রব’। আর যদি আল্লাহ মানুষকে প্রতিহত না করতেন (তাঁর বিধানের বা প্রাকৃতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে) তাদের এক দল দ্বারা অন্য দলকে তাহলে অবশ্যই বিধ্বস্ত করা হতো সওয়ামি’ (নৈতিক সংশোধন ও প্রশিক্ষণমূলক স্বল্পকালীন অবস্থানের কেন্দ্রসমূহ), এবং বিয়া’ (ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি, অঙ্গীকার ও শপথ অনুষ্ঠানের কেন্দ্রসমূহ) এবং সালাওয়াত (সালাতের বা যোগাযোগ ও সমর্থন যোগানোর কেন্দ্রসমূহ) এবং মাসাজিদ (মসজিদসমূহ বা সাজদাহ সম্পাদনের কেন্দ্রসমূহ); যাতে স্মরণ করা হয় আল্লাহর নাম অধিক পরিমাণে। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে। নিশ্চয় আল্লাহ অত্যন্ত শক্তিমান ও ক্ষমতাধর।

২২:৪১
আল্লাযীনা = যারা এমন যে। ইম মাক্কান্নাহুম ফিল আরদি = যদি আমরা তাদেরকে পৃথিবীতে বসবাসের স্থান দিই। আক্বামুস সালাতা = তখন তারা সালাত কায়েম/ প্রতিষ্ঠা করে। ওয়া = আর। আতাউয যাকাতা = যাকাত (= পরিশুদ্ধতামূলক প্রদেয়)প্রদান করে। ওয়া = আর। আমারূ বিল মা’রূফি = আমর বিল মা’রূফ/ ন্যায়ের বাস্তবায়ন করে। ওয়া = আর। নাহাও আনিল মুনকারি = নাহি আনিল মুনকার/ অন্যায়ের প্রতিরোধ করে। ওয়া = আর। লিল্লাহি = আল্লাহরই আয়ত্তে আছে। আক্বিবাতুল উমূরি = সব ব্যাপারের চূড়ান্ত পরিণতি।

যারা এমন যে, যদি আমরা তাদেরকে (= যারা নির্যাতিত ও বিতাড়িত হয়ে উদ্বাস্তু অবস্থায় আছে তাদেরকে যদি) পৃথিবীতে বসবাসের স্থান দিই; তখন তারা সালাত কায়েম/ প্রতিষ্ঠা করে আর যাকাত (= পরিশুদ্ধতামূলক প্রদেয়) প্রদান করে আর আমর বিল মা’রূফ/ ন্যায়ের বাস্তবায়ন করে আর নাহি আনিল মুনকার/ অন্যায়ের প্রতিরোধ করে। আর আল্লাহরই আয়ত্তে আছে সব ব্যাপারের চূড়ান্ত পরিণতি।

২২:৪২
ওয়া = আর। ইইঁউকাযযিবূকা = যদি তারা তোমাকে মিথ্যা আরোপ করে। ফাক্বাদ = তবে। কাযযাবাত = মিথ্যারোপ করেছিলো। ক্বাবলাহুম = তাদের আগে। ক্বাওমা নূহিন = নূহের কওম। ওয়া = আর। আদুন = আদ। ওয়া = আর। সামুদু = সামূদ।

আর যদি তারা তোমাকে (= মুহাম্মাদকে) মিথ্যা আরোপ করে, তবে মিথ্যারোপ করেছিলো তাদের আগে নূহের কওম, আর আদ আর সামূদ।

২২:৪৩
ওয়া = আর। ক্বাওমু ইবরাহীমা = ইবরাহীমের কওম। ওয়া = আর। ক্বাওমু লূতিন = লূতের কওম।

আর ইবরাহীমের কওম আর লূতের কওম।

২২:৪৪
ওয়া = আর। আসহাবু মাদইয়ানা = আসহাবে মাদিয়ান। ওয়া = আর। কুযযিবা = মিথ্যা আরোপ করা হয়েছিলো। মূসা = মূসাকে। ফাআমলায়তু = তারপর আমি অবকাশ দিয়েছি। লিলকাফিরীনা = কাফিরদেরকে। ছুম্মা = তারপর। আখাযতুহুম = আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি। ফাকায়ফা = তারপর (ভেবে দেখো) কিরূপ। কানা = ছিলো। নাকীরি = আমার শাস্তি।

আর আসহাবে মাদিয়ান। আর মিথ্যা আরোপ করা হয়েছিলো মূসাকেও। তারপর আমি অবকাশ দিয়েছি কাফিরদেরকে। তারপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি। তারপর (ভেবে দেখো) কিরূপ ছিলো আমার শাস্তি।

২২:৪৫
ফাকাআইয়িম মিন ক্বারইয়াতিন = তারপর কত যে জনপদবাসীকে। আহলাকনাহা = আমরা হালাক/ ধ্বংস করেছি। ওয়া হিয়া যালিমাতুন = এ অবস্থায় যে, উহা ছিলো যালিম। ফাহিয়া = সুতরাং উহা। খাভিয়াতুন = ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে আছে। আলা উরূশিহা = উহার আসনের/ ভিত্তির উপর। ওয়া = আর। বি’রিন = কত কূপ। মুআত্তলাতিন = পরিত্যাক্ত হয়ে আছে। ওয়া = আর। ক্বাসরিম মাশীদিন = কত সুদৃঢ় প্রাসাদও।

তারপর কত যে জনপদবাসীকে আমরা হালাক/ ধ্বংস করেছি, এ অবস্থায় যে, উহা (= ঐসব জনপদবাসী) ছিলো যালিম। সুতরাং উহা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে আছে উহার আসনের/ ভিত্তির উপর। আর কত কূপ পরিত্যাক্ত হয়ে আছে, আর কত সুদৃঢ় প্রাসাদও।

২২:৪৬
আফালাম ইয়াছীরূ ফিল আরদি = তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি। ফাতাকূনা লাহুম ক্বুলূবুন = তাহলে হতো তাদের কলবসমূহ এমন যে। ইয়া’ক্বিলূনা বিহা = উহা দ্বারা আকল/ বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারতো। আও = অথবা। আযানুন = তাদের কানসমূহ। ইয়াছমাঊনা বিহা = উহা দ্বারা শুনতে পারতো। ফাইন্নাহা = নিশ্চয় উহার ক্ষেত্রে (= ঐ সত্য দেখার ক্ষেত্রে)। লা তা’মাল আবসারু = অন্ধ হয় না চোখসমূহ। ওয়ালাকিন্না = কিন্তু। তা’মাল ক্বুলূবুল্লাতী ফিস সুদূরি = অন্ধ হয় কলবসমূহ, যা আছে সদরসমূহে/ মস্তিষ্কসমূহে।

তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি? তাহলে হতো তাদের কলবসমূহ এমন যে, উহা দ্বারা আকল/ বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারতো অথবা তাদের কানসমূহ উহা দ্বারা শুনতে পারতো। নিশ্চয় উহার ক্ষেত্রে (= ঐ সত্য দেখার ক্ষেত্রে) অন্ধ হয় না চোখসমূহ, কিন্তু অন্ধ হয় কলবসমূহ, যা আছে সদরসমূহে/ মস্তিষ্কসমূহে।

২২:৪৭
ওয়া = আর। ইয়াছতা’জিলূনাকা বিলআযাবি = তারা তোমার কাছে তাড়াতাড়ি আযাব পেতে চায়। ওয়া = অথচ। লাইঁ ইউখলিফাল্লাহু = আল্লাহ খেলাফ করেন না। ওয়া’দাহু = তাঁর ওয়াদা। ওয়া = আর। ইন্না = নিশ্চয়। ইয়াওমান ইনদা রব্বিকা = তোমার রবের কাছে একদিন। কাআলফি ছানাতিম মিম্মা তাউদ্দূনা = তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের মত।

আর তারা তোমার কাছে তাড়াতাড়ি আযাব পেতে চায়। অথচ আল্লাহ খেলাফ করেন না তাঁর ওয়াদা। আর নিশ্চয় তোমার রবের কাছে একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের মত।

২২:৪৮
ওয়া = আর। কাআইয়িম মিন ক্বারইয়াতিন = কত যে জনপদবাসীকে। আমলায়তু লাহা = আমি অবকাশ দিয়েছি। ওয়া হিয়া যালিমাতুন = এ অবস্থায় যে, উহা ছিলো যালিম। ছুম্মা = তারপর আমরা উহাকে পাকড়াও করেছি। ওয়া = আর। ইলাইয়াল মাসীরু = আমারই কাছে (সবার) প্রত্যাবর্তন/ ফিরে আসা।

আর কত যে জনপদবাসীকে আমি অবকাশ দিয়েছি, এ অবস্থায় যে, উহা ছিলো যালিম। তারপর আমরা উহাকে পাকড়াও করেছি। আর আমারই কাছে (সবার) প্রত্যাবর্তন/ ফিরে আসা।

২২:৪৯
ক্বুল = বলো। ইয়া আইয়ুহান্নাছু = হে মানুষ। ইন্নামা = নিশ্চয়। আনা = আমি। লাকুম = তোমাদের জন্য। নাযীরুম মুবীনুন = সুস্পষ্ট সতর্ককারী।

বলো, “হে মানুষ, নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্ককারী”।

২২:৫০
ফাল্লাযীনা = তারপর যারা। আমানূ = ঈমান/ বিশ্বাস করে। ওয়া = আর। আমিলুস সালিহাতি = আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করে। লাহুম = তাদের জন্য আছে। মাগফিরাতুন = মাগফিরাত/ ক্ষমা। ওয়া = আর। রিযক্বুন কারীমুন = সম্মানজনক রিযিক।

তারপর যারা ঈমান/ বিশ্বাস করে আর আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করে, তাদের জন্য আছে মাগফিরাত/ ক্ষমা আর সম্মানজনক রিযিক।

২২:৫১
ওয়াল্লাযীনা = আর যারা। ছাআও = প্রচেষ্টা করে। ফী আয়াতিনা মু’জিযীনা = আমাদের আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করে দিতে। উলায়িকা = উহারাই। আসহাবুল জাহীম = আসহাবুল জাহীম (= যারা জাহান্নামের আগুনে শাস্তি পাবে)।

আর যারা প্রচেষ্টা করে আমাদের আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করে দিতে, উহারাই আসহাবুল জাহীম (= যারা জাহান্নামের আগুনে শাস্তি পাবে)।

২২:৫২
ওয়া = আর। মা আরছালনাকা = আমি প্রেরণ করিনি। মিন ক্বাবলিকা = তোমার আগেও। মির রসূলিন = কোন রসূলকে। ওয়া = আর। লা নাবিয়্যিন = কোন নবীকেও না। ইল্লা = এছাড়া যে। ইযা = যখন। তামান্না = সে তামান্না/ আকাংখা করেছে। আলক্বাশ শায়তানু = তখন শয়তান (তার মন্ত্রণা) ঢেলে দিয়েছে। ফী উমনিয়্যাতিহী = তার আকাংখার (বাস্তবায়নের) ক্ষেত্রে। ফাইয়ানছাখু = তারপর আল্লাহ উহাকে মানসুখ/ রহিত করে দেন। মা ইউলক্বিশ শায়তানু = যা (= যে মন্ত্রণা) শয়তান ঢেলে দেয়। ছুম্মা = তারপর। ইউহকিমুল্লাহু = আল্লাহ মুহকাম/ নির্বিঘ্ন করে দেন। আয়াতিহী = তাঁর আয়াতসমূহকে। ওয়াল্লাহু = আর আল্লাহ। আলীমুন হাকীমুন = আলীম/ মহাজ্ঞানী ও হাকীম/ মহাবিজ্ঞ।

আর আমি প্রেরণ করিনি তোমার আগেও কোন রসূলকে আর কোন নবীকেও না, এছাড়া যে, যখন সে তামান্না/ আকাংখা করেছে; তখন শয়তান (তার মন্ত্রণা) ঢেলে দিয়েছে তার আকাংখার (বাস্তবায়নের) ক্ষেত্রে। তারপর আল্লাহ উহাকে মানসুখ/ রহিত করে দেন যা (= যে মন্ত্রণা) শয়তান ঢেলে দেয়। তারপর আল্লাহ মুহকাম/ নির্বিঘ্ন করে দেন তাঁর আয়াতসমূহকে। আর আল্লাহ আলীম/ মহাজ্ঞানী ও হাকীম/ মহাবিজ্ঞ।

২২:৫৩
লিইয়াজআলা = (এরূপ এজন্য হয় যে,) যেন তিনি উহাকে করে দেন। মা ইউলক্বিশ শায়তানু = যা শয়তান ঢেলে দেয়। ফিতনাতুল্লিল্লাযীনা = তাদের জন্য ফিতনাস্বরূপ। ফী ক্বুলূবিহিম মারাদুন = যাদের কলবসমূহে আছে রোগ/ ব্যাধি। ওয়াল ক্বাছিয়াতি = আর কঠিন হয়ে গেছে। ক্বুলূবুহুম = যাদের কলবসমূহ। ওয়া = আর। ইন্নায যালিমীনা = নিশ্চয় যালিমগণ। লাফী শিক্বাক্বিম বায়ীদিন = বহুদূর বিরোধে লিপ্ত।

(এরূপ এজন্য হয় যে,) যেন তিনি উহাকে করে দেন যা শয়তান ঢেলে দেয় তাদের জন্য ফিতনাস্বরূপ যাদের কলবসমূহে আছে রোগ/ ব্যাধি, আর কঠিন হয়ে গেছে যাদের কলবসমূহ। আর নিশ্চয় যালিমগণ বহুদূর বিরোধে লিপ্ত।

২২:৫৪
ওয়া = আর। লিইয়া’লামাল্লাযীনা উতুল ইলমা = যাদেরকে ইলম/ (আসমানী কিতাবের) জ্ঞান দেয়া হয়েছে তারা যেন জানে। আন্নাহুল হাক্বক্বু = যে, সত্য। মির রব্বিকা = তোমার রবের পক্ষ থেকে। ফাইউ’মিনূ বিহী = তারপর তারা উহতে ঈমান/ বিশ্বাস করে। ফাতুখবিতা লাহু ক্বুলূবুহুম = তারপর বিনীত হয় তাদের কলবসমূহ। ওয়া = আর। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। লাহাদিল্লাযীনা = তাদের হাদি/ হিদায়াতকারী যারা। আমানূ = ঈমান/ বিশ্বাস করে। ইলা সিরাতিম মুসতাক্বীমিন = (তিনি তাদেরকে হিদায়াত করেন) সিরাতুল মুসতাকীমের/ সরল সঠিক পথের দিকে।

আর যাদেরকে ইলম/ (আসমানী কিতাবের) জ্ঞান দেয়া হয়েছে তারা যেন জানে যে, সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে। তারপর তারা উহতে ঈমান/ বিশ্বাস করে। তারপর বিনীত হয় তাদের কলবসমূহ। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাদের হাদি/ হিদায়াতকারী যারা ঈমান/ বিশ্বাস করে (তিনি তাদেরকে হিদায়াত করেন) সিরাতুল মুসতাকীমের/ সরল সঠিক পথের দিকে।

২২:৫৫
ওয়া = আর। লা ইয়াযালুল্লাযীনা = তারা বিরত হবে না যারা। কাফারূ = কুফর করেছে। ফী মিরইয়াতিম মিনহু = উহাতে সন্দেহের ক্ষেত্রে। হাত্তা = যতক্ষণ না। তা’তিয়াহুমুছ ছায়াতু = তাদের নিকট এসে পড়বে সায়াত/ প্রলয়-মুহুর্ত। বাগতাতান = হঠাৎ করে। আও = অথবা। ইয়া’তিয়াহুম = তাদের কাছে এসে যাবে। আযাবু ইয়াওমিন আক্বীমিন = বন্ধ্যা দিনের শাস্তি।

আর তারা বিরত হবে না যারা কুফর করেছে উহাতে সন্দেহের ক্ষেত্রে, যতক্ষণ না তাদের নিকট এসে পড়বে সায়াত/ প্রলয়-মুহুর্ত হঠাৎ করে, অথবা তাদের কাছে এসে যাবে বন্ধ্যা দিনের শাস্তি।

২২:৫৬
আল মুলকু ইয়াওমায়িযিল্লিল্লাহ = সেদিন আধিপত্য শুধু আল্লাহর। ইয়া’কুম বায়নাহুম = তিনিই তাদের বিচার করবেন। ফাল্লাযীনা = সুতরাং যারা। আমানূ = ঈমান/ বিশ্বাস করে। ওয়া = আর। আমিলুস সালিহাতি = আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করে। ফী জান্নাতিন নায়ীমি = তারা জান্নাতুন নায়ীমে/ নিয়ামতপূর্ণ জান্নাতে থাকবে।

সেদিন আধিপত্য শুধু আল্লাহর। তিনিই তাদের বিচার করবেন। সুতরাং যারা ঈমান/ বিশ্বাস করে আর আমলে সালেহ/ সৎকর্ম করে, তারা জান্নাতুন নায়ীমে/ নিয়ামতপূর্ণ জান্নাতে থাকবে।

২২:৫৭
ওয়াল্লাযীনা = আর যারা। কাফারূ = কুফর করে। ওয়া = ও। কাযযাবূ বিআয়াতিনা = মিথ্যা আরোপ করে আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি। ফাউলায়িকা = তারাই এমন লোক। লাহুম = যাদের জন্য আছে। আযাবুম মুহীনুন = আযাবুম মুহীন/ অপমানকর শাস্তি।

আর যারা কুফর করে ও মিথ্যা আরোপ করে আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি, তারাই এমন লোক যাদের জন্য আছে আযাবুম মুহীন/ অপমানকর শাস্তি।

২২:৫৮
ওয়াল্লাযীনা = আর যারা। হাজারূ ফী সাবীলিল্লাহি = হিজরত ফী সাবীলিল্লাহ/ আল্লাহর পথে হিজরত করেছে। ছুম্মা = তারপর। ক্বুতিলূ = নিহত হয়েছে। আও = অথবা। মাতূ = মুত্যৃবরণ করেছে। লাইয়ারযুক্বান্নাহুমুল্লাহু = নিশ্চয় তাদেরকে রিযিক দিবেন আল্লাহ। রিযক্বান হাছানান = উত্তম রিযিক। ওয়া = আর। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। লাহুয়া খায়রুর রাযিক্বীনা = খায়রুর রাযিক্বীন/ শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।

আর যারা হিজরত ফী সাবীলিল্লাহ/ আল্লাহর পথে হিজরত করেছে, তারপর নিহত হয়েছে অথবা মুত্যৃবরণ করেছে; নিশ্চয় তাদেরকে রিযিক দিবেন আল্লাহ, উত্তম রিযিক। আর নিশ্চয় আল্লাহ খায়রুর রাযিক্বীন/ শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।

২২:৫৯
লাইউদখিলান্নাহুম মুদখালাইঁ ইয়ারদাওনাহু = তিনি তাদেরকে দাখিল/ প্রবেশ করাবেন এমন স্থানে যাতে তারা সন্তুষ্ট হবে। ওয়া = আর। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। লাআলীমুন হালীমুন = আলীম/ মহাজ্ঞানী ও হালীম/ মহাসহনশীল।

তিনি তাদেরকে দাখিল/ প্রবেশ করাবেন এমন স্থানে যাতে তারা সন্তুষ্ট হবে। আর নিশ্চয় আল্লাহ আলীম/ মহাজ্ঞানী ও হালীম/ মহাসহনশীল।

২২:৬০
যালিকা = উহাই হবে। ওয়া = আর। মান = যে। আক্বাবা = প্রতিশোধ নেবে। বিমিছলি মা উক্বিবি বিহী = সে যেন প্রতিশোধ নেয় যতটুকু তার সাথে বাড়াবাড়ি করা হয়েছে তার সমপরিমাণ। ছুম্মা = তারপর। বুগিয়া আলাইহি = যার উপর বাড়াবাড়ি করা হয়েছে। লাইয়ানসুরান্নাহুল্লাহু = নিশ্চয় আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। লাআফুওয়ুন গাফূরুন = উদার ও ক্ষমাশীল।

উহাই হবে। আর যে প্রতিশোধ নেবে সে যেন প্রতিশোধ নেয় যতটুকু তার সাথে বাড়াবাড়ি করা হয়েছে তার সমপরিমাণ। তারপর যার উপর বাড়াবাড়ি করা হয়েছে নিশ্চয় আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ উদার ও ক্ষমাশীল।

২২:৬১
যালিকা = উহা। বিআন্নাল্লাহা = এজন্য যে, আল্লাহ। ইউলিজুল্লাইলা = রাতকে প্রবেশ করান। ফিন্নাহারি = দিনের মধ্যে। ওয়া = আর। ইউলিজুন্নাহারা = দিনকে প্রবেশ করান। ফিল্লাইলি = রাতের মধ্যে। ওয়া = আর। আন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। ছামীউম বাসীরুন = সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।

উহা এজন্য যে, আল্লাহ রাতকে প্রবেশ করান দিনের মধ্যে আর দিনকে প্রবেশ করান রাতের মধ্যে। আর নিশ্চয় আল্লাহ সামী/ সর্বশ্রোতা ও বাসীর/ সর্বদ্রষ্টা।

২২:৬২
যালিকা = উহা। বিআন্নাল্লাহা = এজন্য যে, আল্লাহ। হুয়াল হাক্বক্বু = আল হাক্ব/ পরম সত্য। ওয়া = আর। আন্না = এও সত্য যে। মা ইয়াদঊনা = যাকে তারা ডাকে। মিন দূনিহী = তাঁকে বাদ দিয়ে। হুয়াল বাতিলু = উহা বাতিল। ওয়া = আর। আন্নাল্লাহা = এও সত্য যে, আল্লাহ। হুয়াল আলিয়্যুল কাবীরু = আলী/ সমুচ্চ ও কাবীর/ সবচেয়ে বড়।

উহা এজন্য যে, আল্লাহ আল হাক্ব/ পরম সত্য। আর এও সত্য যে, যাকে তারা ডাকে তাঁকে বাদ দিয়ে, উহা বাতিল। আর এও সত্য যে, আল্লাহ আলী/ সমুচ্চ ও কাবীর/ সবচেয়ে বড়।

২২:৬৩
আলাম তারা = তুমি কি দেখনি। আন্নাল্লাহা = যে, আল্লাহ। আনযালা মিনাছ ছামায়ি = নাযিল/ বর্ষণ করেন আকাশ থেকে। মাআন = (বৃষ্টির) পানি। ফাতুসবিহুল আরদা = তখন পৃথিবী হয়ে উঠে। মুখদররাতান = সবুজ শ্যামল। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। লাতীফুন খাবীরুন = সূক্ষদর্শী ও খবীর (= যিনি খবর রাখেন)।

তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ নাযিল/ বর্ষণ করেন আকাশ থেকে (বৃষ্টির) পানি; তখন পৃথিবী হয়ে উঠে সবুজ শ্যামল? নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষদর্শী ও খবীর (= যিনি খবর রাখেন)।

২২:৬৪
লাহু = তাঁরই অধিকারভুক্ত। মা ফিস সামাওয়াতি = যা কিছু আছে আকাশমন্ডলীতে ও যা কিছু আছে পৃথিবীতে। ওয়া = আর। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। লাহুয়াল গানিয়্যুল হামীদু = গনী/ অভাবমুক্ত ও হামীদ/ প্রশংসিত।

তাঁরই অধিকারভুক্ত যা কিছু আছে আকাশমন্ডলীতে ও যা কিছু আছে পৃথিবীতে। আর নিশ্চয় আল্লাহ গনী/ অভাবমুক্ত ও হামীদ/ প্রশংসিত।

২২:৬৫
আলাম তারা = তুমি কি দেখনি। আন্নাল্লাহা = যে, আল্লাহ। ছাখখারা = নিয়োজিত করে দিয়েছেন। লাকুম = তোমাদের কল্যাণের জন্য। মা ফিল আরদি = যা কিছু পৃথিবীর মধ্যে আছে। ওয়াল ফুলকি = আর নৌযানসমূহ। তাজরী = যা জারি হয়/ চলাচল করে। ফিল বাহরি = সমুদ্রের মধ্যে। বিআমরিহী = তাঁরই আদেশে। ওয়া = আর। ইউমছিকুছ ছামাআ = তিনিই ধরে রেখেছেন আকাশকে। আন = যেন না। তাক্বাআ = উহা পতিত হয়। আলাল আরদি = পৃথিবীর উপর। ইল্লা বিইযনিহী = তাঁর অনুমতি ছাড়া। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। বিন্নাছি = মানুষের প্রতি। লারউফুর রহীমুন = রউফ/ স্নেহশীল ও রহীম/ দয়াশীল।

তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ নিয়োজিত করে দিয়েছেন তোমাদের কল্যাণের জন্য, যা কিছু পৃথিবীর মধ্যে আছে আর নৌযানসমূহ যা জারি হয়/ চলাচল করে সমুদ্রের মধ্যে তাঁরই আদেশে? আর তিনিই ধরে রেখেছেন আকাশকে যেন না উহা পতিত হয় পৃথিবীর উপর তাঁর অনুমতি ছাড়া? (অর্থাৎ আল্লাহর অনুমতিক্রমেই আকাশে ধারণকৃত মেঘ থেকে বৃষ্টিপাত হয়)। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি রউফ/ স্নেহশীল ও রহীম/ দয়াশীল।

২২:৬৬
ওয়া = আর। হুয়াল্লাযী = তিনিই সেই সত্তা, যিনি। আহইয়াকুম = তোমাদেরকে হায়াত/ জীবন দিয়েছেন। ছুম্মা = তারপর। ইউমীতুকুম = তোমাদেরকে মৃত্যু দেবেন। ছুম্মা = তারপর। ইউহঈকুম = তোমাদেরকে আবার জীবিত করবেন। ইন্নাল ইনছানা = নিশ্চয় মানুষ। লাকাফূরুন = কাফূর/ অকৃতজ্ঞ।

আর তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে হায়াত/ জীবন দিয়েছেন তারপর তোমাদেরকে মৃত্যু দেবেন তারপর তোমাদেরকে আবার জীবিত করবেন। নিশ্চয় মানুষ কাফূর/ অকৃতজ্ঞ।

২২:৬৭
লিকুল্লি উম্মাতিন = প্রত্যেক উম্মাতের জন্য। জাআলনা = আমরা নির্ধারিত করেছি। মানছাকান = মানছাক (= )। হুম = তারা। নাছিকূহু = উহাকে মানছাকরূপে পালন করে। ফালা ইউনাযিউন্নাকা = সুতরাং তারা যেন তোমার সাথে মতবিরোধ না করে। ফিল আমরি = এই ব্যাপারে। ওয়াদউ = আর তুমি দোয়া করো তোমার রবের কাছে। ইন্নাকা = নিশ্চয় তুমি। লাআলা হুদাম মুসতাক্বীমা = হুদাম মুসতাক্বীমের/ সরল সঠিক হিদায়াতের উপর আছো।

প্রত্যেক উম্মাতের জন্য আমরা নির্ধারিত করেছি মানছাক (= ) (২২:৩৪), তারা উহাকে মানছাকরূপে পালন করে। সুতরাং তারা যেন তোমার সাথে মতবিরোধ না করে এই ব্যাপারে। আর তুমি দোয়া করো তোমার রবের কাছে। নিশ্চয় তুমি হুদাম মুসতাক্বীমের/ সরল সঠিক হিদায়াতের উপর আছো।

২২:৬৮
ওয়া = আর। ইন = যদি। জাদালূকা = তারা তোমার সাথে বিতর্ক করে। ফাক্বুলিল্লাহু = তবে বলো, ‘আল্লাহ। আ’লামু = জানেন। বিমা তা’মালূনা = যা তোমরা করছো।

আর যদি তারা তোমার সাথে বিতর্ক করে, তবে বলো, ‘আল্লাহ জানেন যা তোমরা করছো’।

২২:৬৯
আল্লাহু = আল্লাহ। ইয়াহকুমু = ফায়সালা করে দিবেন। বায়নাকুম = তোমাদের মধ্যে। ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি = ইয়াওমুল কিয়ামাতে/ কিয়ামাত দিবসে। ফীমা কুনতুম ফীহি তাখতালিফূনা = সেই বিষয়ে যাতে তোমরা ইখতিলাফ/ মতপার্থক্য করেছো।

আল্লাহ ফায়সালা করে দিবেন তোমাদের মধ্যে ইয়াওমুল কিয়ামাতে/ কিয়ামাত দিবসে সেই বিষয়ে যাতে তোমরা ইখতিলাফ/ মতপার্থক্য করেছো।

২২:৭০
আলাম তা’লাম = তুমি কি জানো না। আন্নাল্লাহা = যে, আল্লাহ। ইয়া’লামু = জানেন। মা ফিস সামায়ি ওয়াল আরদি = যা কিছু আছে আকাশে ও পৃথিবীতে। ইন্না = নিশ্চয়। যালিকা = উহা আছে। ফিল কিতাবে = কিতাবে লিপিবদ্ধ। ইন্না = নিশ্চয়। যালিকা = উহা। আলাল্লাহি ইয়াছীরুন = আল্লাহর কাছে সহজ।

তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ জানেন যা কিছু আছে আকাশে ও পৃথিবীতে? নিশ্চয় উহা আছে কিতাবে লিপিবদ্ধ। নিশ্চয় উহা আল্লাহর কাছে সহজ।

২২:৭১
ওয়া = আর। ইয়া’বুদূনা = তারা ইবাদাত/ দাসত্ব করে। মিন দূনিল্লাহি = আল্লাহ ছাড়া। মা লাম ইউনাযযিল বিহী ছুলতানান = এমন কারো যার সম্বন্ধে তিনি কোন সুলতান/ সনদ নাযিল করেননি। ওয়া = আর। মা লাইছা লাহুম বিহী ইলমুন = উহার সম্বন্ধে তাদের কোন জ্ঞান নেই। ওয়া = আর। মা লিয যালিমীনা = জালিমদের জন্য নেই। মিন নাসীরিন = কোন সাহায্যকারী।

আর তারা ইবাদাত/ দাসত্ব করে আল্লাহ ছাড়া এমন কারো যার সম্বন্ধে তিনি কোন সুলতান/ সনদ নাযিল করেননি আর উহার সম্বন্ধে তাদের কোন জ্ঞান নেই। আর জালিমদের জন্য নেই কোন সাহায্যকারী।

২২:৭২
ওয়া = আর। ইযা = যখন। তুতলা = তিলাওয়াত করা হয়। আলাইহিম = তাদের কাছে। আয়াতুনা বাইয়িনাতিন = আমাদের স্পষ্ট আয়াতসমূহ। তা’রিফু = তুমি প্রত্যক্ষ করবে। উজূহিল্লাযীনা কাফারুল মুনকারা = তাদের চেহারায় যারা কুফর করেছে অসন্তোষের ছাপ। ইয়াকাদূনা = মনে হয় যেন। ইয়াছতূনা = তারা আক্রমণ করবে। বিল্লাযীনা = তাদেরকে যারা। ইয়াতলূনা = তিলাওয়াত করে। আলাইহিম = তাদের কাছে। আয়াতিনা = আমাদের আয়াতসমূহ। ক্বুল = বলো। আফাউনাব্বিউকুম = আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেবো। বিশাররিম মিন যালিকুম = উহার চেয়ে (= তোমাদের রাগের চেয়ে) নিকৃষ্ট কিছু সম্পর্কে। আন্নারু = (তা হচ্ছে জাহান্নামের) আগুন। ওয়াআদাহাল্লাহুল্লাযীনা = আল্লাহ উহারই ওয়াদা করেছেন তাদের জন্য যারা। কাফারূ = কুফর করেছে। ওয়া = আর। বি’ছাল মাসীরু = উহা অত্যন্ত নিকৃষ্ট অবস্থান।

আর যখন তিলাওয়াত করা হয় তাদের কাছে আমাদের স্পষ্ট আয়াতসমূহ, তখন তুমি প্রত্যক্ষ করবে তাদের চেহারায় যারা কুফর করেছে অসন্তোষের ছাপ। মনে হয় যেন তারা আক্রমণ করবে তাদেরকে যারা তিলাওয়াত করে তাদের কাছে আমাদের আয়াতসমূহ। বলো, ‘আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেবো উহার চেয়ে (= তোমাদের রাগের চেয়ে) নিকৃষ্ট কিছু সম্পর্কে? (তা হচ্ছে জাহান্নামের) আগুন। আল্লাহ উহারই ওয়াদা করেছেন তাদের জন্য যারা কুফর করেছে। আর উহা অত্যন্ত নিকৃষ্ট অবস্থান’।

২২:৭৩
ইয়া আইয়ুহান্নাছু = হে মানুষ। দুরিবা = পেশ করা হচ্ছে। মাছালুন ফাছতামিঊ লাহু = একটি উপমা/ দৃষ্টান্ত, তোমরা উহা মনোযোগের সাথে শুনো। ইন্নাল্লাযীনা = নিশ্চয় যারা। তাদঊনা = ডাকে। মিন দূনিল্লাহি = আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে। লাইঁ ইয়াখলুক্বূ = তারা সৃষ্টি করতে পারে না/ পারবে না। যুবাবান = একটি মাছিও। ওয়া লাভিজতামাঊ লাহু = যদি উহার জন্য তারা সবাই একত্রিত হয় তবুও। ওয়া = আর। ইইঁ ইয়াছলুবুহুমুয যুবাবু = যদি মাছি তাদের থেকে ছিনিয়ে নেয়। সাইয়ান = কোন কিছু। লা ইয়াছতানক্বিযূহু মিনহু = তারা উহা থেকে উহা উদ্ধারও করতে পারে না। দ’ফাত তলিবু = সাহায্যপ্রার্থীও দুর্বল। ওয়াল মাতলূবু = আর যার কাছে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে সেও দুর্বল।

হে মানুষ, পেশ করা হচ্ছে একটি উপমা/ দৃষ্টান্ত, তোমরা উহা মনোযোগের সাথে শুনো। নিশ্চয় যারা ডাকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে; তারা (সেই উপাস্যরা) তো সৃষ্টি করতে পারে না/ পারবে না একটি মাছিও, যদি উহার জন্য তারা সবাই একত্রিত হয় তবুও, আর যদি মাছি তাদের থেকে ছিনিয়ে নেয় কোন কিছু, তবে তারা উহা থেকে উহা উদ্ধারও করতে পারে না। সাহায্যপ্রার্থীও দুর্বল আর যার কাছে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে সেও দুর্বল।

২২:৭৪
মা ক্বাদারুল্লাহু = তারা আল্লাহকে মর্যাদা দেয়নি। হাক্বক্বা ক্বাদারিহী = যেমনভাবে তাঁকে মর্যাদা দেয়া উচিত। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। লাক্বাভিয়্যুন আযীযুন = মহাশক্তিমান, মহাক্ষমতাধর।

তারা আল্লাহকে মর্যাদা দেয়নি যেমনভাবে তাঁকে মর্যাদা দেয়া উচিত (বা তিনি যেরূপ মর্যাদার হক্বদার বা তাঁকে মর্যাদা দেয়ার হক্ব আদায় করে যথাযথভাবে)। নিশ্চয় আল্লাহ মহাশক্তিমান, মহাক্ষমতাধর।

২২:৭৫
আল্লাহু = আল্লাহ। ইয়াছতাফী = মনোনীত করেন। মিনাল মালায়িকাতি = ফেরেশতা থেকে। রুসুলান = রসূলগণকে। ওয়া = আর। মিনান্নাছি = মানুষ থেকে। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। ছামীউন বাসীরুন = ছামী’/ সর্বশ্রোতা ও বাসীর/ সর্বদ্রষ্টা।

আল্লাহ রসূলগণকে মনোনীত করেন ফেরেশতা থেকে আর মানুষ থেকে। নিশ্চয় আল্লাহ ছামী’/ সর্বশ্রোতা ও বাসীর/ সর্বদ্রষ্টা।

২২:৭৬
ইয়া’লামু = তিনি জানেন। মা বায়না আয়দীহিম = যা তাদের সামনে আছে। ওয়া = আর। মা খালফাহুম = যা তাদের পিছনে আছে। ওয়া = আর। ইলাল্লাহি = আল্লাহর কাছে। তুরজাউল উমূরু = ফিরে যায় সকল বিষয়।

তিনি জানেন যা তাদের সামনে আছে আর যা তাদের পিছনে আছে। আর আল্লাহর কাছে ফিরে যায় সকল বিষয়।

২২:৭৭
ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানুরকুঊ ওয়াছজুদূ = হে ঐসব লোকেরা যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছো, রুকু করো আর সিজদা করো। ওয়া’বুদূ রব্বাকুম = আর তোমাদের রবের ইবাদাত/ দাসত্ব করো। ওয়াফআলূ খায়রান = আর কল্যাণকর কাজ করো। লাআল্লাকুম তুফলিহূনা = যেন তোমরা ফালাহ/ সফলতা লাভ করতে পারো।

হে ঐসব লোকেরা যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছো, রুকু করো আর সিজদা করো আর তোমাদের রবের ইবাদাত/ দাসত্ব করো আর কল্যাণকর কাজ করো, যেন তোমরা ফালাহ/ সফলতা লাভ করতে পারো।

২২:৭৮
ওয়া = আর। জাহিদূ ফিল্লাহি = আল্লাহর ব্যাপারে (= আল্লাহর পথে) জিহাদ/ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করো। হাক্বা জিহাদিহী = যেরূপ জিহাদ/ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা উচিত। হুয়াজতাবাকুম = তিনি তোমাদেরকে বাছাই করে নিয়েছেন। ওয়া = আর। মা জাআলা আলাইকুম = তিনি তোমাদের উপর চাপাননি। ফিদ দ্বীনি = দ্বীন/ জীবনব্যবস্থার মধ্যে। মিন হারাজিন = কোন সংকীর্ণতা। মিল্লাতা আবীকুম ইবরাহীম = (অনুসরণ করো) তোমাদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাত/ ধর্মাচারের একত্ববাদী স্বরূপ ও প্রকৃতি। হুয়া = তিনি (= আল্লাহ)। ছাম্মাকুমুল মুসলিমীনা = তোমাদের নাম দিয়েছেন ‘মুসলিমূন/ (আল্লাহর কাছে) আত্মসমর্পণকারী’। মিন ক্বাবলু ওয়া ফী হাযা = আগেও এবং ইহাতেও (= কুরআনেও)। লিইয়াকূনার রাসূলু = যেন রাসূল হয়। শাহীদান আলাইকুম = তোমাদের উপর স্বাক্ষী। ওয়া = আর। তাকুনূ = তোমরা হও। শুহাদাআ আলান্নাছি = মানবজাতির উপর স্বাক্ষী। ফাআক্বিমুস সালাতা = সুতরাং তোমরা সালাত কায়েম/ প্রতিষ্ঠা করো। ওয়া = আর। আতুয যাকাতা = যাকাত (= পরিশুদ্ধতামূলক প্রদেয়) প্রদান করো। ওয়া’তাসিমু বিল্লাহি = আর (কুরআনকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে) আল্লাহকে আঁকড়ে ধরো। হুয়া = তিনিই। মাওলাকুম = তোমাদের মাওলা/ অভিভাবক। ফানি’মাল মাওলা ওয়া নি’মান নাসীরু = অত্যন্ত উত্তম মাওলা/ অভিভাবক আর অত্যন্ত উত্তম নাসীর/ সাহায্যকারী।

আর আল্লাহর ব্যাপারে (= আল্লাহর পথে) জিহাদ/ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করো, যেরূপ জিহাদ/ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে বাছাই করে নিয়েছেন আর তিনি তোমাদের উপর চাপাননি দ্বীন/ জীবনব্যবস্থার মধ্যে কোন সংকীর্ণতা। (অনুসরণ করো) তোমাদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাত/ ধর্মাচারের একত্ববাদী স্বরূপ ও প্রকৃতি। তিনি (= আল্লাহ) তোমাদের নাম দিয়েছেন ‘মুসলিমূন/ (আল্লাহর কাছে) আত্মসমর্পণকারী’, আগেও এবং ইহাতেও (= কুরআনেও)। যেন রাসূল হয় তোমাদের উপর স্বাক্ষী আর তোমরা হও মানবজাতির উপর স্বাক্ষী। সুতরাং তোমরা সালাত কায়েম/ প্রতিষ্ঠা করো আর যাকাত (= পরিশুদ্ধতামূলক প্রদেয়) প্রদান করো আর (কুরআনকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে) আল্লাহকে আঁকড়ে ধরো। তিনিই তোমাদের মাওলা/ অভিভাবক। অত্যন্ত উত্তম মাওলা/ অভিভাবক আর অত্যন্ত উত্তম নাসীর/ সাহায্যকারী।