কুরআনান আ'জাবান

বিস্ময়কর কুরআন

শব্দার্থ ভিত্তিক বাংলা অনুবাদ, তৈয়াবুর রহমান গোপালগঞ্জী

Quranan Ajaban Cover

012. সূরা ইউসুফ

হে আমার প্রভু, আপনার কাছে আশ্রয় চাই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে, আশ্রয় চাই এর উপস্থিতি থেকে। পরম করুনাময় ও অসীম দয়ালু সর্বশক্তিমানের নামে।

১২:১
আলিফ লাম রা = আলিফ লাম রা। তিলকা আয়াতুল কিতাবিল মুবীনি = ইহা কিতাবুম মুবীনের/ প্রকাশ্য কিতাবের আয়াতসমূহ।

আলিফ লাম রা। ইহা কিতাবুম মুবীনের/ প্রকাশ্য কিতাবের আয়াতসমূহ।

১২:২
ইন্না = নিশ্চয়। আনযালনাহু = আমরা উহা নাযিল করেছি। ক্বুরআনান আরাবিয়্যান = আরবী ভাষার কুরআন হিসাবে। লাআল্লাকুম তা’ক্বিলূনা = যেন তোমরা আকল/ বিবেক-বুদ্ধি/ common sense প্রয়োগ করতে পারো।

নিশ্চয় আমরা উহা নাযিল করেছি আরবী ভাষার কুরআন হিসাবে, যেন তোমরা আকল/ বিবেক-বুদ্ধি/ common sense প্রয়োগ করতে পারো।

১২:৩
নাহনু = আমরা। নাক্বুসসু = কিসসা/ কাহিনী বর্ণনা করছি। আলাইকা = তোমার কাছে। আহসানাল কাসাসি = আহসানাল কাসাস/ অধিক উত্তম কিসসা বা কাহিনী। বিমা = উহার মাধ্যমে যা। আওহায়না = আমরা ওহী করেছি। ইলাইকা = তোমার প্রতি। হাযাল ক্বুরআনা = এই কুরআনে। ওয়া = আর। ইন কুনতা = তুমি কি ছিলে না। মিন ক্বাবলিহী = উহার আগে। লামিনাল গাফিলীনা = গাফিলদের/ অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত?

আমরা কিসসা/ কাহিনী বর্ণনা করছি তোমার কাছে, আহসানাল কাসাস/ অধিক উত্তম কিসসা বা কাহিনী, উহার মাধ্যমে যা আমরা ওহী করেছি তোমার প্রতি এই কুরআনে। আর তুমি কি ছিলে না উহার আগে গাফিলদের/ অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত?

১২:৪
ইয = (উল্লেখ্য) যখন। ক্বলা ইউসুফু = ইউসুফ বলেছে। লিআবীহি = তার পিতাকে। ইয়া আবাতী = হে আমার আব্বা। ইন্নী = নিশ্চয় আমি। রআয়তু = (স্বপ্নে) দেখেছি। আহাদা আশারা কাওকাবান = এগারটি গ্রহ। ওয়াশ শামসা ওয়াল ক্বামারা = আর সূর্য ও চন্দ্রকে। রআয়তুহুম = আমি ঐসবকে দেখেছি। লী ছাজিদীনা = আমার প্রসঙ্গে সিজদাকারী অবস্থায়।

(উল্লেখ্য) যখন ইউসুফ বলেছে তার পিতাকে, ‘হে আমার আব্বা, নিশ্চয় আমি (স্বপ্নে) দেখেছি এগারটি গ্রহ আর সূর্য ও চন্দ্রকে। আমি ঐসবকে দেখেছি আমার প্রসঙ্গে সিজদাকারী অবস্থায়’।

১২:৫
ক্বলা = সে বলেছে। ইয়া বুনাইয়া = হে আমার পুত্র। লা তাক্বসুস = তুমি বর্ণনা করো না। রু’ইয়াকা = তোমার স্বপ্ন। আলা ইখওয়াতিকা = তোমার ভাইদের কাছে। ফাইয়াকীদূ = তাহলে তারা কায়দা কৌশল করবে। লাকা = তোমার বিরুদ্ধে। কায়দান = (বড় ধরনের) কায়দা কৌশল। ইন্নাশ শায়তানু = নিশ্চয় শয়তান। লিল ইনসানি = ইনসানের/ মানুষের জন্য। আদুউউম মুবীনুন = স্পষ্ট শত্রু।

সে বলেছে, ‘হে আমার পুত্র, তুমি বর্ণনা করো না তোমার স্বপ্ন তোমার ভাইদের কাছে। তাহলে তারা কায়দা কৌশল করবে তোমার বিরুদ্ধে, (বড় ধরনের) কায়দা কৌশল। নিশ্চয় শয়তান ইনসানের/ মানুষের জন্য স্পষ্ট শত্রু’।

১২:৬
ওয়া = আর। কাযালিকা = এভাবে। ইয়াজতাবীকা = তোমাকে বাছাই করবেন। রব্বুকা = তোমার রব। ওয়া = আর। ইউআল্লিমুকা = তোমাকে শিক্ষা দিবেন। মিন তাভীলিল আহাদীসি = আহাদিসের/ (স্বপ্ন)কথার তাবীল/ তাৎপর্য। ওয়া = আর। ইউতিম্মু = তিনি পূর্ণ করবেন। নি’মাতাহু = তাঁর নিয়ামত। আলাইকা = তোমার উপর। ওয়া = আর। আলা আলি ইয়া’কুবা = আলে ইয়াকুবের/ ইয়াকুবের বংশধরদের উপর। কামা = যেমন। আতাম্মাহা = তিনি তা পূর্ণ করেছেন। আলা আবাওয়ায়কা = তোমার পিতৃপুরুষদের উপর। মিন ক্বাবলু = আগেও। ইবরাহীমা = ইবরাহীমের উপর। ওয়া = আর ইসহাকের উপর। ইন্না = নিশ্চয়। রব্বাকা = তোমার রব। আলীমুন হাকীমুন = আলীম/ মহাজ্ঞানী ও হাকীম/ মহাবিজ্ঞ।

আর এভাবে তোমাকে বাছাই করবেন তোমার রব। আর তোমাকে শিক্ষা দিবেন আহাদিসের/ (স্বপ্ন)কথার তাবীল/ তাৎপর্য। আর তিনি পূর্ণ করবেন তাঁর নিয়ামত তোমার উপর আর আলে ইয়াকুবের/ ইয়াকুবের বংশধরদের উপর; যেমন তিনি তা পূর্ণ করেছেন তোমার পিতৃপুরুষদের উপর, আগেও; ইবরাহীমের উপর আর ইসহাকের উপর। নিশ্চয় তোমার রব আলীম/ মহাজ্ঞানী ও হাকীম/ মহাবিজ্ঞ।

১২:৭
লাক্বাদ = নিশ্চয়। কানা = আছে। ফী ইউসুফা ওয়া ইখওয়াতিহী = ইউসুফ ও তার ভাইদের (কাহিনীর) মধ্যে। আয়াতুল লিছ ছায়িলীনা = জিজ্ঞাসাকারীদের জন্য আয়াতসমূহ/ নিদর্শনসমূহ।

নিশ্চয় আছে ইউসুফ ও তার ভাইদের (কাহিনীর) মধ্যে জিজ্ঞাসাকারীদের জন্য আয়াতসমূহ/ নিদর্শনসমূহ।

১২:৮
ইয = যখন। ক্বলূ = তারা (= ইউসুফের সৎ ভাইয়েরা) বলেছে। লাইউসুফু = নিশ্চয় ইউসুফ। ওয়া = আর। আখূহু = তার (সহোদর) ভাই। আহাব্বু = অধিক প্রিয়। ইলা আবীনা = আমাদের পিতার কাছে। মিন্না = আমাদের চেয়েও। ওয়া = অথচ। নাহনু = আমরাই। উসবাতুন = মজবুত/ শক্তিশালী দল। ইন্না = নিশ্চয়। আবানা = আমাদের পিতা। লাফী দলালিম মুবীনিন = প্রকাশ্য বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন।

যখন তারা (= ইউসুফের সৎ ভাইয়েরা) বলেছে, ‘নিশ্চয় ইউসুফ আর তার (সহোদর) ভাই অধিক প্রিয় আমাদের পিতার কাছে আমাদের চেয়েও। অথচ আমরাই মজবুত/ শক্তিশালী দল। নিশ্চয় আমাদের পিতা প্রকাশ্য বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন’।

১২:৯
-ক্বতুলূ = তোমরা কতল/ হত্যা করো। ইউসুফা = ইউসুফকে। আভিতরহূহু = অথবা তাকে ফেলে আসো। আরদাইঁ ইয়াখলু = কোথাও, (তারপর) নিবিষ্ট হবে। লাকুম = তোমাদেরই দিকে। ওয়াজহু আবীকুম = তোমাদের পিতার লক্ষ্য। ওয়া = আর। তাকূনূ = তোমরা হয়ে যাবে। মিম বা’দিহী = উহার পরে। ক্বাওমান সলিহীনা = সৎকর্মশীল কওম।

‘তোমরা কতল/ হত্যা করো ইউসুফকে অথবা তাকে ফেলে আসো কোথাও, (তারপর) নিবিষ্ট হবে তোমাদেরই দিকে তোমাদের পিতার লক্ষ্য। আর তোমরা হয়ে যাবে উহার পরে সৎকর্মশীল কওম’।

১২:১০
ক্বলা ক্বায়িলুম মিনহুম = তাদের মধ্যকার একজন বক্তা বলেছে। লা তাক্বতুলূ = তোমরা কতল/ হত্যা করো না। ইউসুফা = ইউসুফকে। ওয়া = আর। আলক্বূহু = তোমরা তাকে নিক্ষেপ করো। ফিল গায়াবাতিল জুব্বি = কূপের তলদেশে। ইয়ালতাক্বিতহু = তাকে তুলে নেবে। বা’দুছ ছাইয়ারাতি = কাফেলার কেউ। ইন = যদি। কুনতুম = তোমরা হতেই হয়। ফায়িলীনা = এরূপ কার্যসম্পাদনকারী।

তাদের মধ্যকার একজন বক্তা বলেছে, ‘তোমরা কতল/ হত্যা করো না ইউসুফকে আর (বরং) তোমরা তাকে নিক্ষেপ করো কূপের তলদেশে, (তাহলে) তাকে তুলে নেবে কাফেলার কেউ; যদি তোমরা হতেই হয় এরূপ কার্যসম্পাদনকারী’।

১২:১১
ক্বলূ = তারা বলেছে। ইয়া আবানা = হে আমাদের আব্বা। মা লাকা = আপনার কী হয়েছে। লা তা’মান্না = আপনি আমাদের প্রতি ঈমান/ বিশ্বাস করেন না। আলা ইউসুফা = ইউসুফের ব্যাপারে। ওয়া = অথচ। ইন্না = নিশ্চয় আমরা। লাহু = তার জন্য। লানাসিহূনা = হিতাকাংখী।

তারা বলেছে, ‘হে আমাদের আব্বা, আপনার কী হয়েছে যে, আপনি আমাদের প্রতি ঈমান/ বিশ্বাস করেন না ইউসুফের ব্যাপারে; অথচ নিশ্চয় আমরা তার জন্য হিতাকাংখী?’

১২:১২
আরছিলহু = তাকে প্রেরণ করুন। মাআনা = আমাদের সাথে। গাদান = আগামী কাল। ইয়ারতা’ = সে ফল খাবে। ওয়া = আর। ইয়ালআব = খেলবে। ওয়া = আর। ইন্না = নিশ্চয় আমরা। লাহু = তার জন্য। লাহাফিযূনা = হেফাযতকারী হয়ে থাকবো।

‘তাকে প্রেরণ করুন আমাদের সাথে আগামী কাল। সে ফল খাবে আর খেলবে। আর নিশ্চয় আমরা তার জন্য হেফাযতকারীকারী হয়ে থাকবো’।

১২:১৩
ক্বলা = সে (= ইউসুফের পিতা) বলেছে। ইন্নী = নিশ্চয় আমার। লাইয়াহযুনুনী = চিন্তা লাগে। আন = যে। তাযহাবূ বিহী = তোমরা নিয়ে যাবে তাকে। ওয়া = আর। আখাফু = আমি ভয় করি। আন = যে। ইয়া’কুলুহুয যি’বু = তাকে খেয়ে ফেলবে কোন নেকড়ে বাঘ। ওয়া = এ অবস্থায় যে। আনতুম = তোমরা থাকবে। আনহু = তার ব্যাপারে। গাফিলূনা = গাফিল/ উদাসীন।

সে (= ইউসুফের পিতা) বলেছে, ‘নিশ্চয় আমার চিন্তা লাগে যে, তোমরা নিয়ে যাবে তাকে আর আমি ভয় করি যে, তাকে খেয়ে ফেলবে কোন নেকড়ে বাঘ, এ অবস্থায় যে, তোমরা থাকবে তার ব্যাপারে গাফিল/ উদাসীন’।

১২:১৪
ক্বলূ = তারা বলেছে। লাইন = যদি। আকালাহুয যি’বু = তাকে খায় নেকড়ে বাঘ। ওয়া = এ অবস্থায় যে। নাহনু = আমরা। উসবাতুন = একটি মজবুত/ শক্তিশালী দল। ইন্না = নিশ্চয়। ইযাল্লাখাছিরূনা = তখন আমরা হয়ে যাবো ক্ষতিগ্রস্ত।

তারা বলেছে, ‘যদি তাকে খায় নেকড়ে বাঘ, এ অবস্থায় যে, আমরা একটি মজবুত/ শক্তিশালী দল। নিশ্চয় তখন আমরা হয়ে যাবো ক্ষতিগ্রস্ত’।

১২:১৫
ফালাম্মা = তারপর যখন। যাহাবূ বিহী = তারা নিয়ে গেছে তাকে। ওয়াজমাঊ = আর তারা ইজমা/ ঐক্যমত পোষণ করেছে। আন = যে। ইয়াজআলূহু = তারা তাকে নিক্ষেপ করবে। ফী গায়াবাতিল জুব্বি = কূপের তলদেশে। ওয়া = আর। আওহায়না = আমরা ওহী করেছি। ইলাইহি = তার কাছে। লাতুনাব্বিআন্নাহুম = নিশ্চয় তুমি এক সময় তাদেরকে সংবাদ জানাবে। বিআমরিহিম হাযা = তাদের এই কাজ সম্পর্কে। ওয়া = অথচ এখন। হুম = তারা। লা ইয়াশঊরূনা = উহা অনুভব করছে না।

তারপর যখন তারা নিয়ে গেছে তাকে আর তারা ইজমা/ ঐক্যমত পোষণ করেছে যে, তারা তাকে নিক্ষেপ করবে কূপের তলদেশে। আর আমরা ওহী করেছি তার কাছে (= ইউসুফের কাছে), “নিশ্চয় তুমি এক সময় তাদেরকে সংবাদ জানাবে তাদের এই কাজ সম্পর্কে। অথচ এখন তারা উহা অনুভব করছে না/ টের পাচ্ছে না”।

১২:১৬
ওয়া = আর। জাউ = তারা এসেছে। আবাহুম = তাদের পিতার কাছে। ইশাআন = ইশার সময়। ইয়াবকূনা = কাঁদতে কাঁদতে।

আর তারা এসেছে তাদের পিতার কাছে ইশার সময় কাঁদতে কাঁদতে।

১২:১৭
ক্বলূ = তারা বলেছে। ইয়া আবানা = হে আমাদের আব্বা। ইন্না = নিশ্চয় আমরা। যাহাবনা = গিয়েছি। নাছতাবিক্বু = দৌড় প্রতিযোগিতায়। ওয়া = আর। তারাকনা = আমরা তরক করি/ ছেড়ে যাই। ইউসুফা = ইউসুফকে। ইনদা মাতায়িনা = আমাদের জিনিসপাতির কাছে। ফাআকালাহুয যি’বু = তখন তাকে খেয়ে ফেলেছে নেকড়ে বাঘ। ওয়া = আর। মা আনতা = আপনি তো নন। বিমু’মিনিল লানা = আমাদেরকে বিশ্বাসকারী। ওয়া লাও = যদিও। কুন্না = আমরা হই। সদিক্বীনা = সত্যবাদী।

তারা বলেছে, ‘হে আমাদের আব্বা, নিশ্চয় আমরা গিয়েছি দৌড় প্রতিযোগিতায় আর আমরা তরক করি/ ছেড়ে যাই ইউসুফকে আমাদের জিনিসপাতির কাছে। তখন তাকে খেয়ে ফেলেছে নেকড়ে বাঘ। আর আপনি তো নন আমাদেরকে বিশ্বাসকারী, যদিও আমরা হই সত্যবাদী’।

১২:১৮
ওয়া = আর। জাউ = তারা নিয়ে এসেছে। আলা কামিসিহী = তার কামিসের/ জামার উপর। বিদামিন কাযিবিন = মিথ্যা রক্ত লাগিয়ে (= ইউসুফের রক্তের নামে এমন রক্ত লাগিয়ে যা ইউসুফের রক্ত ছিলো না)। ক্বলা = সে (= ইউসুফের পিতা) বলেছে। বাল = বরং। ছাওয়ালাত = সাজিয়ে দিয়েছে। লাকুম = তোমাদেরকে। আনফুসাহুম = তোমাদের নফস। আমরান = এ কাজকে। ফাসবরুন জামীলুন = সুতরাং আমি সুন্দর/ উত্তম সবর করবো। ওয়াল্লাহুল মুসতায়ানু = আর আল্লাহই মুসতায়ান/ সাহায্যস্থল। আলা মা তাসিফূনা = তোমরা যা বর্ণনা করছো তার ব্যাপারে।

আর তারা নিয়ে এসেছে তার কামিসের/ জামার উপর মিথ্যা রক্ত লাগিয়ে (= ইউসুফের রক্তের নামে এমন রক্ত লাগিয়ে যা ইউসুফের রক্ত ছিলো না)। সে (= ইউসুফের পিতা) বলেছে, ‘বরং সাজিয়ে দিয়েছে তোমাদেরকে তোমাদের নফস এ কাজকে, সুতরাং আমি সুন্দর/ উত্তম সবর করবো। আর আল্লাহই মুসতায়ান/ সাহায্যস্থল, তোমরা যা বর্ণনা করছো তার ব্যাপারে।

১২:১৯
ওয়া = আর। জাআত = এসেছে। ছাইয়ারাতুন = একটি কাফেলা। ফাআরছালূ = তারপর তারা প্রেরণ করেছে। ওয়ারিদাহুম = তাদের পানি সংগ্রাহককে। ফাআদলা = তখন সে ফেলেছে। দালওয়াহু = তার বালতি। ক্বলা = সে বলেছে। ইয়া বুশরা = কী সুসংবাদ! হাযা = এটা। গুলামুন = একটা বালক। ওয়া = আর। আছাররূহু = তাকে লুকিয়ে ফেলেছে। বিদআতান = পণ্য হিসাবে। ওয়াল্লাহু = আর আল্লাহ। আলীমুন = পরিজ্ঞাত। বিমা ইয়া’মালূনা = যা তারা করছিলো।

আর এসেছে একটি কাফেলা। তারপর তারা প্রেরণ করেছে তাদের পানি সংগ্রাহককে। তখন সে ফেলেছে তার বালতি। সে বলেছে, ‘কী সুসংবাদ! এটা একটা বালক’। আর তাকে লুকিয়ে ফেলেছে পণ্য হিসাবে। আর আল্লাহ পরিজ্ঞাত ছিলেন যা তারা করছিলো।

১২:২০
ওয়া = আর। শারাওহু = তারা তাকে বিক্রি করে দিয়েছে। বিছামানিন বাখছিন দারাহিমা মা’দূদাতিন = অল্পমূল্যে নির্দিষ্ট কয়েকটি দিরহামের/ রোপ্যমুদ্রার (৩-১০ দিরহামের) বিনিময়ে। ওয়া = আর। কানূ = তারা ছিলো। ফীহি = তার মূল্যের ব্যাপারে। মিনায যাহিদীনা = অল্প প্রত্যাশাকারী।

আর তারা তাকে বিক্রি করে দিয়েছে অল্পমূল্যে নির্দিষ্ট কয়েকটি দিরহামের/ রোপ্যমুদ্রার (৩-১০ দিরহামের) বিনিময়ে। আর তারা ছিলো তার মূল্যের ব্যাপারে অল্প প্রত্যাশাকারী।

১২:২১
ওয়া = আর। ক্বলাল্লাযশতারাহু = সে বলেছে যে তাকে ক্রয় করেছে। মিম মিসরা = মিশর থেকে। লিইমরাআতিহী = (সে বলেছে) তার স্ত্রীকে। আকরিমী = সম্মানজনক ব্যবস্থা করো। মাছওয়াহু = তার বসবাসের। আছা = আশা করা যায়। আইঁ ইয়ানফাআনা = যে, সে আমাদের জন্য উপকারী হবে। আও = অথবা। নাত্তাখিজাহু = আমরা তাকে গ্রহণ করবো। ওয়ালাদান = পুত্র হিসাবে। ওয়া = আর। কাযালিকা = এভাবে। মাক্কান্না = আমরা বসবাসের স্থান দিয়েছি/ প্রতিষ্ঠিত করেছি। লিইউসুফা = ইউসুফকে। ফিল আরদি = পৃথিবীতে। ওয়া = আর। লিনুআল্লিমুহু = আমরা তাকে শিক্ষা দিয়েছি। মিন তা’ভীলিল আহাদীসি = আহাদিসের/ কথাসমূহের তাবীল/ তাৎপর্য। ওয়াল্লাহু = আর আল্লাহ। গালিবুন আলা আমরিহী = তাঁর কাজের ব্যাপারে বিজয়ী/ অপ্রতিরোধ্য। ওয়ালাকিন্না = কিন্তু। আকছারান্নাছি = অধিকাংশ মানুষ। লা ইয়া’লামূনা = ইলম/ জ্ঞান রাখে না।

আর সে বলেছে যে তাকে ক্রয় করেছে, মিশর থেকে, (সে বলেছে) তার স্ত্রীকে, ‘সম্মানজনক ব্যবস্থা করো তার বসবাসের। আশা করা যায় যে, সে আমাদের জন্য উপকারী হবে অথবা আমরা তাকে গ্রহণ করবো পুত্র হিসাবে’। আর এভাবে আমরা বসবাসের স্থান দিয়েছি/ প্রতিষ্ঠিত করেছি ইউসুফকে পৃথিবীতে। আর আমরা তাকে শিক্ষা দিয়েছি আহাদিসের/ কথাসমূহের তাবীল/ তাৎপর্য। আর আল্লাহ তাঁর কাজের ব্যাপারে বিজয়ী/ অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ইলম/ জ্ঞান রাখে না।

১২:২২
ওয়া = আর। লাম্মা = যখন। বালাগা = সে পৌঁছে গেছে। আশুদ্দাহু = তার যৌবনে। আতাইনাহু = (তখন) আমরা তাকে দিয়েছি। হুকমান ওয়া ইলমান = হুকুম/ বিচার-ক্ষমতা ও ইলম/ জ্ঞান। ওয়া = আর। কাযালিকা = এভাবেই। নাজযিল মুহসিনীনা = আমরা প্রতিফল দিই মুহসিনদেরকে/ উত্তম আচরণকারীদেরকে।

আর যখন সে পৌঁছে গেছে তার যৌবনে, (তখন) আমরা তাকে দিয়েছি হুকুম/ বিচার-ক্ষমতা ও ইলম/ জ্ঞান। আর এভাবেই আমরা প্রতিফল দিই মুহসিনদেরকে/ উত্তম আচরণকারীদেরকে।

১২:২৩
ওয়া = আর। রওয়াদাতহুল্লাতী = তাকে ফুসলিয়েছে সেই নারী। হুয়া ফী বাইতিহা = সে লালিত পালিত হয়েছে যার ঘরে। আন নাফসিহী = তার আত্মসংযম থেকে সরিয়ে দিতে। ওয়া = আর। গাল্লাক্বাতিল আবওয়াবা = সে (নারীটি) বন্ধ করে দিয়েছে দরজাগুলো। ওয়া = আর। ক্বলাত = সে (নারীটি) বলেছে। হায়তা = এসো। লাকা = (এ আমি) তোমারই জন্য। ক্বলা = সে (= ইউসুফ) বলেছে। মাআযাল্লাহি = ‘মাআযাল্লাহ/ আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। ইন্নাহু = নিশ্চয়। রব্বী = আমার রব (আল্লাহ)। আহসানা মাছওয়াইয়া = উত্তম করেছেন আমার বসবাস। ইন্নাহু = নিশ্চয়। লা ইউফলিহুয যালিমূনা = সফলতা লাভ করে না যালিমগণ।

আর তাকে ফুসলিয়েছে সেই নারী, সে (= ইউসুফ) লালিত পালিত হয়েছে যার (= যে নারীর) ঘরে, তার (= ইউসুফের) আত্মসংযম থেকে সরিয়ে দিতে। আর (একদা) সে (নারীটি) বন্ধ করে দিয়েছে দরজাগুলো আর (তারপর) সে (নারীটি) বলেছে, ‘এসো। (এ আমি) তোমারই জন্য’। সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘মাআযাল্লাহ/ আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। নিশ্চয় আমার রব (আল্লাহ) উত্তম করেছেন আমার বসবাস। নিশ্চয় সফলতা লাভ করে না যালিমগণ’।

১২:২৪
ওয়া = আর। লাক্বাদ = নিশ্চয়। হাম্মাত = সে (= নারীটি) আসক্ত হয়েছে। বিহী = তার প্রতি (= ইউসুফের প্রতি)। ওয়া = আর। হাম্মা = সে (= ইউসুফ) আসক্ত হতো। বিহা = তার প্রতি (= নারীটির প্রতি)। লাও লা = যদি না। আর রআ = সে (= ইউসুফ) ভেবে দেখতো। বুরহানা রব্বিহি = তার রবের বুরহান/ যুক্তি-প্রমাণ। কাযালিকা = এরূপই হয়েছে। লিনাসরিফা = যেন আমরা ফিরিয়ে রাখি। আনহুছ ছূআ = তার থেকে মন্দ। ওয়াল ফাহশাআ = ও অশ্লীলতা। ইন্নাহু = নিশ্চয় সে ছিলো। মিন ইবাদিনাল মুখলাসীনা = আমাদের মুখলেস/ খাঁটি বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।

আর নিশ্চয় সে (= নারীটি) আসক্ত হয়েছে তার প্রতি (= ইউসুফের প্রতি)। আর সে (= ইউসুফ) আসক্ত হতো তার প্রতি (= নারীটির প্রতি), যদি না সে (= ইউসুফ) ভেবে দেখতো তার রবের বুরহান/ যুক্তি-প্রমাণ {বুরহানটি হচ্ছে ইউসুফের এ উক্তি যে, ‘নিশ্চয় আমার রব (আল্লাহ) উত্তম করেছেন আমার বসবাস। নিশ্চয় সফলতা লাভ করে না যালিমগণ’}। এরূপই হয়েছে, যেন আমরা ফিরিয়ে রাখি তার থেকে মন্দ ও অশ্লীলতা। নিশ্চয় সে ছিলো আমাদের মুখলেস/ খাঁটি বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।

১২:২৫
ওয়াছতাবাক্বাল বাবা = তারা উভয়ে (ইউসুফ ও নারীটি) দৌড় দিয়েছে দরজার দিকে। ওয়া = আর। ক্বাদ্দাত = সে (= নারীটি) টেনে ছিঁড়ে ফেলেছে। ক্বামীসাহু = তার কামীস (= ইউসুফের জামা)। মিন দুবুরিন = পিছনের দিক থেকে। ওয়া = আর। আলফাইয়া = উভয়ে পেয়েছে। ছাইয়িদাহা = তার সাইয়েদকে/ গৃহপ্রধানকে (= নারীটির স্বামীকে)। লাদাল বাবি = দরজার কাছে। ক্বলাত = সে (= নারীটি) বলেছে। মা জাযাউ = কী প্রতিফল হতে পারে। মান আরাদা = যে এরাদা/ কামনা করে। বিআহলিকা = তোমার আহালের/ পরিবারের/ গৃহিনীর/ স্ত্রীর সাথে। ছূআন = মন্দকর্ম করতে। ইল্লা = এছাড়া। আন = যে। ইউছজানা = তাকে কারাগারে বন্দী করা হবে। আও = অথবা। আযাবুন আলীমুন = কোন কষ্টদায়ক শাস্তি দেয়া হবে?

তারা উভয়ে (ইউসুফ ও নারীটি) দৌড় দিয়েছে দরজার দিকে। আর সে (= নারীটি) টেনে ছিঁড়ে ফেলেছে তার কামীস (= ইউসুফের জামা) পিছনের দিক থেকে। আর উভয়ে পেয়েছে তার সাইয়েদকে/ গৃহপ্রধানকে (= নারীটির স্বামীকে) দরজার কাছে। সে (= নারীটি) বলেছে, ‘কী প্রতিফল হতে পারে যে এরাদা/ কামনা করে তোমার আহালের/ পরিবারের/ গৃহিনীর/ স্ত্রীর সাথে মন্দকর্ম করতে; এছাড়া যে, তাকে কারাগারে বন্দী করা হবে অথবা কোন কষ্টদায়ক শাস্তি দেয়া হবে?’

১২:২৬
ক্বলা = সে (= ইউসুফ) বলেছে। হিয়া = সে (= নারীটি)। রওয়াদাতনী = আমাকে ফুসলিয়েছে। আন নাফসী = আমার আত্মসংযম থেকে সরিয়ে দিতে। ওয়া = আর। সাহিদা = সাক্ষ্য দিয়েছে। সাহিদুম মিন আহলিহা = তার (= নারীটির) আহালের/ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একজন সাক্ষী। ইন = যদি। কানা = হয়। ক্বামীসুহু = তার কামীস (= ইউসুফের জামা)। ক্বুদ্দা মিন ক্বাবলিন = সামনের দিক থেকে ছেঁড়া। ফাসাদাক্বাত = তাহলে সে (= নারীটি) সত্যকথা বলেছে। ওয়া = আর। হুয়া = সে (= ইউসুফ)। মিনাল কাযিবীনা = মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।

সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘সে-ই (= নারীটি) আমাকে ফুসলিয়েছে আমার আত্মসংযম থেকে সরিয়ে দিতে’। আর সাক্ষ্য দিয়েছে তার (= নারীটির) আহালের/ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একজন সাক্ষী; ‘যদি হয় তার কামীস (= ইউসুফের জামা) সামনের দিক থেকে ছেঁড়া তাহলে সে (= নারীটি) সত্যকথা বলেছে, আর সে (= ইউসুফ) মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।

১২:২৭
ওয়া = আর। ইন = যদি। কানা = হয়। ক্বামীসুহু = তার কামীস (= ইউসুফের জামা)। ক্বুদ্দা মিন দুবুরিন = পিছনের দিক থেকে ছেঁড়া। ফাকাযাবাত = তাহলে সে (= নারীটি) মিথ্যা কথা বলেছে। ওয়া = আর। হুয়া = সে (= ইউসুফ)। মিনাস সাদিক্বীনা = সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।

আর যদি হয় তার কামীস (= ইউসুফের জামা) পিছনের দিক থেকে ছেঁড়া, তাহলে সে (= নারীটি) মিথ্যা কথা বলেছে; আর সে (= ইউসুফ) সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত’।

১২:২৮
ফালাম্মা = তারপর যখন। রআ = সে (= নারীটির স্বামী) দেখেছে। ক্বামীসাহু = তার কামীস (= ইউসুফের জামা)। ক্বুদ্দা মিন দুবুরিন = পিছনের দিক থেকে ছেঁড়া। ক্বলা = (তখন) সে (= নারীটির স্বামী) বলেছে। ইন্নাহু = নিশ্চয় উহা। মিন কায়দিকুন্না = তোমাদের (= নারীদের) কায়দা-কৌশলের অন্তর্ভুক্ত। ইন্না = নিশ্চয়। কায়দাকুন্না = তোমাদের (= নারীদের) কায়দা-কৌশল। আযীমুন = বিরাট ব্যাপার বটে।

তারপর যখন সে (= নারীটির স্বামী) দেখেছে তার কামীস (= ইউসুফের জামা) পিছনের দিক থেকে ছেঁড়া। (তখন) সে (= নারীটির স্বামী) বলেছে, ‘নিশ্চয় উহা তোমাদের (= নারীদের) কায়দা-কৌশলের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয় তোমাদের (= নারীদের) কায়দা-কৌশল বিরাট ব্যাপার বটে’।

১২:২৯
ইউসুফু = ইউসুফ। আ’রিদ আন হাযা = এ ব্যাপারটিকে উপেক্ষা করো। ওয়াছতাগফিরী = আর (হে নারী,) তুমি ইস্তেগফার/ ক্ষমা প্রার্থনা করো। লিযামবিকা = তোমার পাপের ব্যাপারে। ইন্নাকি = নিশ্চয় তুমি। কুনতি = হলে। মিনাল খাতিয়ীনা = গুনাহগারদের অন্তর্ভুক্ত।

‘ইউসুফ, এ ব্যাপারটিকে উপেক্ষা করো। আর (হে নারী,) তুমি ইস্তেগফার/ ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমার পাপের ব্যাপারে। নিশ্চয় তুমি হলে গুনাহগারদের অন্তর্ভুক্ত’।

১২:৩০
ওয়া = আর। ক্বলা নিছওয়াতুন ফিল মাদীনাতি = মদীনাতে/ শহরে কয়েকটি অভিজাত নারী বলাবলি করেছে। ইমরাআতুল আযীযি = আযীযের স্ত্রী। তুরাভিদু = ফুসলাতে চেয়েছে। ফাতাহা = তার (দাস) যুবককে (= ইউসুফকে)। আন নাফসিহী = তার (= ইউসুফের) আত্মসংযম থেকে সরিয়ে দিতে। ক্বাদ = নিশ্চয়। ছাগাফাহা হুব্বান = প্রেম তাকে (= আযীযের স্ত্রীকে) উন্মাদিনী বানিয়ে দিয়েছে। ইন্না = নিশ্চয় আমরা। লানারাহা = তাকে (= আযীযের স্ত্রীকে) দেখছি। ফী দলালিম মুবীনিন = প্রকাশ্য বিভ্রান্তির মধ্যে।

আর মদীনাতে/ শহরে কয়েকটি অভিজাত নারী বলাবলি করেছে, ‘আযীযের স্ত্রী ফুসলাতে চেয়েছে তার (দাস) যুবককে (= ইউসুফকে) তার (= ইউসুফের) আত্মসংযম থেকে সরিয়ে দিতে। নিশ্চয় প্রেম তাকে (= আযীযের স্ত্রীকে) উন্মাদিনী বানিয়ে দিয়েছে। নিশ্চয় আমরা তাকে (= আযীযের স্ত্রীকে) দেখছি প্রকাশ্য বিভ্রান্তির মধ্যে’।

১২:৩১
ফালাম্মা = তারপর যখন। ছামিআত = সে (= আযীযের স্ত্রী) শুনেছে। বিমাকরিহিন্না = (ইউসুফের বিরুদ্ধে) তাদের (= মদীনার/ শহরের ঐ নারীদের) চক্রান্ত পরিকল্পনার কথা। আরছালতা = তখন সে (= আযীযের স্ত্রী) প্রেরণ করেছে (কোন দূতকে)। ইলাইহিন্না = তাদের (= ঐ নারীদের) কাছে। ওয়া = আর। আ’তাদনা = সে প্রস্তুত করেছে। লাহুন্না = তাদের জন্য (ঐ নারীদের জন্য)। মুত্তাকাআন = ঠেক দিয়ে বসার আসন। ওয়া = আর। আতাত = সে দিয়েছে। কুল্লা ওয়াহিদাতিন মিনহুন্না = তাদের মধ্যকার প্রত্যেককে (= প্রত্যেকটি নারীকে)। ছিক্কীনান = একটি করে ছুরি। ওয়া = আর। ক্বলাতিখরুজ আলাইহিন্না = (ইউসুফকে) বলেছে, ‘বের হয়ে এসো তাদের সামনে’। ফালাম্মা = তারপর যখন। রআয়নাহু = তারা (= মদীনার/ শহরের ঐ নারীরা) তাকে (= ইউসুফকে) বাজিয়ে দেখেছে। আকবারনাহু = তারা তাকে (নৈতিক চরিত্রে) অনেক বড় (/অজেয়) বলে বুঝতে পেরেছে। ওয়া = আর। ক্বাত্তা’না = তারা কেটে ফেলেছে। আইদিয়াহুন্না = তাদের হাতগুলো। ওয়া = আর। ক্বুলনা = তারা বলেছে। হাশা লিল্লাহি = আল্লাহর কী মাহাত্ম্য! মা হাযা বাশারান = এ তো মানুষ নয়। ইন হাযা ইল্লা মালাকুন কারীমুন = এ তো কিছু নয় সম্মানিত ফেরেশতা ছাড়া!

তারপর যখন সে (= আযীযের স্ত্রী) শুনেছে (ইউসুফের বিরুদ্ধে) তাদের (= মদীনার/ শহরের ঐ নারীদের) চক্রান্ত পরিকল্পনার কথা, তখন সে (= আযীযের স্ত্রী) প্রেরণ করেছে (কোন দূতকে) তাদের (= ঐ নারীদের) কাছে। আর সে প্রস্তুত করেছে তাদের জন্য (ঐ নারীদের জন্য) ঠেক দিয়ে বসার আসন। আর সে দিয়েছে তাদের মধ্যকার প্রত্যেককে (= প্রত্যেকটি নারীকে) একটি করে ছুরি। আর (ইউসুফকে) বলেছে, ‘বের হয়ে এসো তাদের সামনে’। তারপর যখন তারা (= মদীনার/ শহরের ঐ নারীরা) তাকে (= ইউসুফকে) বাজিয়ে দেখেছে। তারা তাকে (নৈতিক চরিত্রে) অনেক বড় (/অজেয়) বলে বুঝতে পেরেছে। আর তারা কেটে ফেলেছে তাদের হাতগুলো। আর তারা বলেছে, ‘আল্লাহর কী মাহাত্ম্য! এ তো মানুষ নয়! এ তো কিছু নয় সম্মানিত ফেরেশতা ছাড়া!

১২:৩২
ক্বলাত = সে (= আযীযের স্ত্রী) বলেছে। ফাযালিকুন্নাল্লাযী = এ-ই সেই ব্যক্তি। লুমতুন্নানী = তোমরা আমাকে ভৎসনা করেছিলে। ফীহি = যার ব্যাপারে। ওয়া = আর। লাক্বাদ = নিশ্চয়। রওয়াত্তুহু = আমি তাকে ফুসলিয়েছি। আন নাফসিহী = তার আত্মসংযম থেকে সরিয়ে দিতে। ফাছতা’সামা = তবুও সে নিজেকে সংযত রেখেছে। ওয়া = আর। লাইন = নিশ্চয় যদি। লাম ইয়াফআল = সে না করে। মা আমুরুহূ = আমি তাকে যা করতে আদেশ করি। লাইউছজানান্না = তাহলে সে হবে কারাগারে বন্দী। ওয়া = আর। লাইয়াকূনাম মিনাস সগিরীনা = সে হবে অপদস্থদের অন্তর্ভুক্ত।

সে (= আযীযের স্ত্রী) বলেছে, এ-ই সেই ব্যক্তি, তোমরা আমাকে ভৎসনা করেছিলে যার ব্যাপারে। আর নিশ্চয় আমি তাকে ফুসলিয়েছি তার আত্মসংযম থেকে সরিয়ে দিতে, তবুও সে নিজেকে সংযত রেখেছে। আর নিশ্চয় যদি সে না করে আমি তাকে যা করতে আদেশ করি, তাহলে সে হবে কারাগারে বন্দী আর সে হবে অপদস্থদের অন্তর্ভুক্ত’।

১২:৩৩
ক্বলা = সে (= ইউসুফ) বলেছে। রব্বিছছিজনু = হে আমার রব, কারাগারই। আহাব্বু = অধিক প্রিয়। ইলাইয়া = আমার কাছে। মিম্মা = উহার চেয়ে। ইয়াদঊনানী = তারা আমাকে ডাকছে। ইলাইহি = যা করার দিকে। ওয়া = আর। ইল্লা = যদি না। তাসরিফ = তুমি ফিরিয়ে দাও। আন্নী = আমার থেকে। কায়দাহুন্না = তাদের (= এ নারীদের) কায়দা-কৌশল। আসবু = তাহলে আমি ঝুঁকে পড়বো। ইলাইহিন্না = তাদের দিকে। ওয়া = আর। আকুন = আমি হয়ে যাবো। মিনাল জাহিলীনা = জাহিলদের অন্তর্ভুক্ত।

সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘হে আমার রব, কারাগারই অধিক প্রিয় আমার কাছে উহার চেয়ে তারা আমাকে ডাকছে যা করার দিকে। আর যদি না তুমি ফিরিয়ে দাও আমার থেকে তাদের (= এ নারীদের) কায়দা-কৌশল, তাহলে আমি ঝুঁকে পড়বো তাদের দিকে আর আমি হয়ে যাবো জাহিলদের অন্তর্ভুক্ত’।

১২:৩৪
ফাছতাজাবা = তখন সাড়া দিয়েছেন। লাহু = তার জন্য। রব্বুহু = তার রব। ফাসরাফা = সুতরাং তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আনহু = তার থেকে। কায়দাহুন্না = তাদের কায়দা-কৌশল। ইন্নাহু = নিশ্চয়। হুয়াছ ছামীউল আলীমু = তিনি ছামী’/ সর্বশ্রোতা ও আলীম/ সর্বজ্ঞাতা।

তখন সাড়া দিয়েছেন তার জন্য তার রব। সুতরাং তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন তার থেকে তাদের কায়দা-কৌশল। নিশ্চয় তিনি ছামী’/ সর্বশ্রোতা ও আলীম/ সর্বজ্ঞাতা।

১২:৩৫
ছুম্মা = তারপর। বাদালাহুম = তাদের কাছ থেকে প্রকাশ পেয়েছে। মিম বা’দি = উহার পরেও। মা = যা কিছু। রআহুল আয়াতি = তারা দেখেছে (অর্থাৎ) আয়াতসমূহ/ নিদর্শনসমূহ। লাইয়াছজুনান্নাহু = (এই সিদ্বান্ত যে,) ‘অবশ্যই তাকে (= ইউসুফকে) কারাগারে বন্দী করা হবে। হাত্তা হীনিন = কিছু সময় পর্যন্ত’।

তারপর তাদের কাছ থেকে প্রকাশ পেয়েছে উহার পরেও যা কিছু তারা দেখেছে (অর্থাৎ) আয়াতসমূহ/ নিদর্শনসমূহ, (এই সিদ্বান্ত যে,) ‘অবশ্যই তাকে (= ইউসুফকে) কারাগারে বন্দী করা হবে কিছু সময় পর্যন্ত’।

১২:৩৬
ওয়া = আর। দাখালা = দাখিল হয়েছে/ প্রবেশ করেছে। মাআহুছ ছিজনা = তার সাথে (= ইউসুফের সাথে) কারাগারে। ফাতাইয়ানি = দুজন যুবক। ক্বলা আহাদুহুমা = তাদের দুজনের একজন বলেছে। ইন্নী = নিশ্চয় আমি। আরানী = স্বপ্নে দেখেছি। আ’সিরু = আমি নিংড়ে বের করছি। খামরান = মদ। ওয়া = আর। ক্বলাল আখারু = অন্যজন বলেছে। ইন্নী = নিশ্চয় আমি। আরানী = স্বপ্নে দেখেছি। আহমিলু = আমি বহন করছি। ফাওক্বা র’ছি = আমার মাথার উপর। খুবজান = রুটি। তা’কুলুত তয়রু মিনহু = উহা থেকে পাখি খাচ্ছে। নাব্বি’না = আমাদেরকে অবহিত করুন। বিতা’ভীলিহী = উহার তাবীল/ তাৎপর্য/ ব্যাখ্যা। ইন্না = নিশ্চয় আমরা। তারাকা = আপনাকে দেখছি। মিনাল মুহসিনীনা = মুহসিনদের/ উত্তম আচরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

আর দাখিল হয়েছে/ প্রবেশ করেছে তার সাথে (= ইউসুফের সাথে) কারাগারে দুজন যুবক। তাদের দুজনের একজন বলেছে, ‘নিশ্চয় আমি স্বপ্নে দেখেছি আমি নিংড়ে বের করছি মদ। আর অন্যজন বলেছে নিশ্চয় আমি স্বপ্নে দেখেছি আমি বহন করছি আমার মাথার উপর রুটি, উহা থেকে পাখি খাচ্ছে। আমাদেরকে অবহিত করুন উহার তাবীল/ তাৎপর্য/ ব্যাখ্যা। নিশ্চয় আমরা আপনাকে দেখছি মুহসিনদের/ উত্তম আচরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত’।

১২:৩৭
ক্বলা = সে (= ইউসুফ) বলেছে। লা ইয়া’তীকুমা = তোমাদের দুজনের কাছে আসবে না। তআমুন = খাদ্য। তুরযাক্বানিহী = যা (তোমাদের) দুজনকে রিযিকস্বরূপ দেয়া হয়। ইল্লা = এছাড়া যে। নাব্বা’তুকুমা = আমি তোমাদেরকে অবহিত করবো। বিতা’ভীলিহী = উহার তাবীল/ তাৎপর্য/ ব্যাখ্যা। ক্বাবলা আইঁ ইয়া’তিয়াকুমা = তোমাদের কাছে আসার আগেই। যালিকুমা = উহা। মিম্মা = তা থেকেই (বলবো) যা। আল্লামানী = আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। রব্বী = আমার রব (= আল্লাহ)। ইন্নী = নিশ্চয় আমি। তারাকতু = তরক করেছি/ ছেড়ে দিয়েছি। মিল্লাতা ক্বাওমিল লা ইউ’মিনূনা বিল্লাহি = ঐ কওমের মিল্লাত, যারা ঈমান/ বিশ্বাস করে না আল্লাহর প্রতি। ওয়া = আর। হুম বিল আখিরাতি হুমুল কাফিরূনা = তারা আখিরাতের প্রতিও কাফির/ অবিশ্বাসী।

সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘তোমাদের দুজনের কাছে আসবে না খাদ্য, যা (তোমাদের) দুজনকে রিযিকস্বরূপ দেয়া হয়, এছাড়া যে।, আমি তোমাদেরকে অবহিত করবো উহার তাবীল/ তাৎপর্য/ ব্যাখ্যা, (ঐ খাদ্য) তোমাদের কাছে আসার আগেই। উহা তা থেকেই (বলবো) যা আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন আমার রব (= আল্লাহ)। নিশ্চয় আমি তরক করেছি/ ছেড়ে দিয়েছি ঐ কওমের মিল্লাত (= ইবাদাতের বহুত্ববাদী স্বরূপ ও প্রকৃতি), যারা ঈমান/ বিশ্বাস করে না আল্লাহর প্রতি আর তারা আখিরাতের প্রতিও কাফির/ অবিশ্বাসী।

১২:৩৮
ওয়াত্তাবা’তু = আর আমি ইত্তেবা/ অনুসরণ করছি। মিল্লাতা আবায়ি ইবরাহীমা ওয়া ইসহাকা ওয়া ইয়া’ক্বূবা = আমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের মিল্লাত (= ইবাদাতের একত্ববাদী স্বরূপ ও প্রকৃতি)। মা কানা লানা = সঙ্গত নয় আমাদের জন্য। আন নুশরিকা = শিরক করা। বিল্লাহি = আল্লাহর সাথে। মিন শাইয়িন = কোন সত্তাকেই/ কোন কিছুকেই। যালিকা = উহা (= তাওহীদ)। মিন ফাদলিল্লাহি = আল্লাহর ফযলের/ অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত। আলাইনা = আমাদের উপর। ওয়া = আর। আলান্নাছি = মানবজাতির উপর। ওয়ালাকিন্না = কিন্তু। আকছারান্নাছি = অধিকাংশ মানুষ। লা ইয়াশকুরূনা = শোকর/ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

আর আমি ইত্তেবা/ অনুসরণ করছি আমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের মিল্লাত (= ইবাদাতের একত্ববাদী স্বরূপ ও প্রকৃতি)। সঙ্গত নয় আমাদের জন্য শিরক করা আল্লাহর সাথে কোন সত্তাকেই/ কোন কিছুকেই। উহা (= তাওহীদ) আল্লাহর ফযলের/ অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত আমাদের উপর আর মানবজাতির উপর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ শোকর/ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

১২:৩৯
ইয়া সহিবায়িছ ছিজনি = হে আমার কারাগারের দুই সঙ্গী। আআরবাবুম মুতাফাররাক্বূনা = পৃথক পৃথক রব কি। খায়রুন = উত্তম। আমিল্লাহুল ওয়াহিদুল কাহহারু = নাকি আল্লাহই উত্তম, যিনি ওয়াহিদ/ একজনই ও কাহহার/ একচ্ছত্র ক্ষমতাধর।

হে আমার কারাগারের দুই সঙ্গী, পৃথক পৃথক রব কি উত্তম নাকি আল্লাহই উত্তম, যিনি ওয়াহিদ/ একজনই ও কাহহার/ একচ্ছত্র ক্ষমতাধর?

১২:৪০
মা তা’বুদূনা = তোমরা তো ইবাদাত/ দাসত্ব করছো না। মিন দূনিহী = তাঁকে বাদ দিয়ে। ইল্লা আসমাআন = কিছু নামের ছাড়া। ছাম্মায়তুমূহা = যার নামকরণ করেছো। আনতুম = তোমরা। ওয়া = আর। আবাউকুম = তোমাদের বাপদাদা। মা আনযালাল্লাহু = আল্লাহ নাযিল করেননি। বিহা = যা সম্বন্ধে। মিন সুলতানিন = কোন সুলতান/ প্রমাণ। ইনিল হুকমু ইল্লা লিল্লাহি = কারো অধিকার নেই হুকুম/ আইন দেয়ার শুধু আল্লাহর ছাড়া।{= বিচার শুধুমাত্র আল্লাহর আইন অনুযায়ী করতে হবে}। আমারা = তিনি আদেশ দিয়েছেন। আল্লা তা’বুদূ = যে, তোমরা কারো ইবাদাত/ দাসত্ব করো না। ইল্লা ইয়্যাহু = একমাত্র তাঁর ছাড়া। যালিকাদ দ্বীনুল কাইয়্যিমু = ইহাই দ্বীনুল ক্বাইয়েম/ প্রতিষ্ঠিত দ্বীন। ওয়ালাকিন্না = কিন্তু। আকছারান্নাছি = অধিকাংশ মানুষ। লা ইয়া’লামূনা = ইলম/ জ্ঞান রাখে না।

তোমরা তো ইবাদাত/ দাসত্ব করছো না তাঁকে বাদ দিয়ে কিছু নামের ছাড়া, যার নামকরণ করেছো তোমরা আর তোমাদের বাপদাদা। আল্লাহ নাযিল করেননি যা সম্বন্ধে কোন সুলতান/ প্রমাণ। কারো অধিকার নেই হুকুম/ আইন দেয়ার শুধু আল্লাহর ছাড়া।{= বিচার-ফায়সালা শুধুমাত্র আল্লাহর আইন অনুযায়ী করতে হবে}। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা কারো ইবাদাত/ দাসত্ব করো না একমাত্র তাঁর ছাড়া। ইহাই দ্বীনুল ক্বাইয়েম/ প্রতিষ্ঠিত দ্বীন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ইলম/ জ্ঞান রাখে না।

১২:৪১
ইয়া সাহিবায়িছ ছিজনি = হে আমার কারাগারের দুই সঙ্গী। আম্মা আহাদুকুমা = তোমাদের দুজনের একজনের স্বপ্নের ব্যাখ্যা হচ্ছে। ফাইয়াছক্বী = সে পান করাবে। রব্বাহু = তার রবকে/ মনিবকে। খামরান = মদ। ওয়া = আর। আম্মাল আখারু = অন্যজনের স্বপ্নের ব্যাখ্যা হচ্ছে। ফাইউসলাবু = তাকে শূলে চড়ানো/ ক্রুশবিদ্ধ করা হবে। ফাতা’কুলুত তয়রু = তারপর পাখি খাবে। মির র’ছিহী = তার মাথা থেকে। ক্বুদিয়াল আমরু = সম্পন্ন হয়েছে সেই বিষয়টি। আল্লাযী ফীহি = যা সম্বন্ধে। তাছতাফতিয়ানি = তোমরা দুজন ফতোয়া/ যথাযথ অভিমত জানতে চেয়েছো।

‘হে আমার কারাগারের দুই সঙ্গী, তোমাদের দুজনের একজনের স্বপ্নের ব্যাখ্যা হচ্ছে, সে পান করাবে তার রবকে/ মনিবকে মদ; আর অন্যজনের স্বপ্নের ব্যাখ্যা হচ্ছে, তাকে শূলে চড়ানো/ ক্রুশবিদ্ধ করা হবে, তারপর পাখি খাবে তার মাথা থেকে। সম্পন্ন হয়েছে সেই বিষয়টি যা সম্বন্ধে তোমরা দুজন ফতোয়া/ যথাযথ অভিমত জানতে চেয়েছো’।

১২:৪২
ওয়া = আর। ক্বলা = সে (= ইউসুফ) বলেছে। লিল্লাযী = তাকে উদ্দেশ্য করে যার সম্বন্ধে। যন্না = সে ধারণা করেছে। আন্নাহু = যে, সে। নাজিন = মুক্তি পাবে। মিন্নহুমাযকুরনী = তাদের দুজনের মধ্য থেকে, ‘আমার কথা উল্লেখ করো। ইনদা রব্বিকা = তোমার রবের/ মনিবের কাছে। ফাআছাহুশ শয়তানু = তারপর তাকে (= মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েদীকে) ভুলিয়ে দিয়েছে শয়তান। যিকরা রব্বিহী = তার রবের/ মনিবের কাছে উল্লেখ করতে। ফালাবিছা = সুতরাং সে পড়ে থাকলো। ফিছ ছিজনি = কারাগারে। বিদআ ছিনীনা = কয়েকটি বছর।

আর সে (= ইউসুফ) বলেছে তাকে উদ্দেশ্য করে যার সম্বন্ধে সে ধারণা করেছে যে, সে মুক্তি পাবে তাদের দুজনের মধ্য থেকে, ‘আমার কথা উল্লেখ করো তোমার রবের/ মনিবের কাছে। তারপর তাকে (= মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েদীকে ১২:৪৫) ভুলিয়ে দিয়েছে শয়তান তার রবের/ মনিবের কাছে (ইউসুফের কথা) উল্লেখ করতে। সুতরাং সে (= ইউসুফ) পড়ে থাকলো কারাগারে কয়েকটি বছর’।

১২:৪৩
ওয়া = আর (একদা)। ক্বলাল মালিকু = মালিক/ রাষ্ট্রপতি বলেছে। ইন্নী = নিশ্চয় আমি। আরা = (স্বপ্নে) দেখেছি। ছাবআ বাক্বারাতিন = সাতটি গাভী। ছিমানিন = মোটাতাজা। ইয়া’কুলুহুন্না = সেগুলোকে খেয়ে ফেলছে। ছাবউন ইজাফুন = সাতটি চিকনা (গাভী)। ওয়া = আর। ছাবআ ছুমবুলাতিন = সাতটি শীষ। খুদরিন = সবুজ। ওয়া = আর। উখারা = অন্য (সাতটি)। ইয়াবিছাতিন = শুকনা। ইয়া আইয়ুহাল মালাউ = হে আমার মালায়ে/ নির্বাহী পরিষদ। আফতূনী = আমাকে ফতোয়া/ যথাযথ অভিমত জানাও। ফী রুহইয়াইয়া = আমার স্বপ্নের ব্যাপারে। ইন = যদি। কুনতুম = তোমরা। লির রু’ইয়া = আমার স্বপ্নের ব্যাপারে। তা’বুরূনা = তা’বীর/ ব্যাখ্যা করতে পারো।

আর (একদা) মালিক/ রাষ্ট্রপতি বলেছে, ‘নিশ্চয় আমি (স্বপ্নে) দেখেছি সাতটি গাভী মোটাতাজা, সেগুলোকে খেয়ে ফেলছে সাতটি চিকনা (গাভী)। আর সাতটি শীষ সবুজ আর অন্য (সাতটি) শুকনা। হে আমার মালায়ে/ নির্বাহী পরিষদ, আমাকে ফতোয়া/ যথাযথ অভিমত জানাও আমার স্বপ্নের ব্যাপারে, যদি তোমরা আমার স্বপ্নের ব্যাপারে তা’বীর/ ব্যাখ্যা করতে পারো’।

১২:৪৪
ক্বলূ = তারা বলেছে। আদগাছু আহলামিন = এটা অর্থহীন স্বপ্ন। ওয়া = আর। মা নাহনু = আমরা নই। বিতা’ভীলিল আহলামি = স্বপ্নের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে। বিআলিমীনা = জ্ঞানী ব্যক্তি।

তারা বলেছে, ‘এটা অর্থহীন স্বপ্ন। আর আমরা নই স্বপ্নের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে জ্ঞানী ব্যক্তি’।

১২:৪৫
ওয়া = আর। ক্বলাল্লাযী নাজা মিনহুমা = বলেছে ঐ কয়েদী তাদের দুজনের মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছে। ওয়াদ্দাকারা = আর ভুলে যাওয়ার পর যার স্মরণে পড়েছে। বা’দা উম্মাতিন = একটি উম্মাত/ সময়কাল পরে। আনা = (সে বলেছে) ‘আমি। উনাব্বিউকুম = তোমাদেরকে অবহিত করবো। বিতা’ভীলিহী = উহার তাবীল/ ব্যাখ্যা। ফাআরছিলূনি = সুতরাং আমাকে (আমার চেনা ব্যাখ্যাকারীর কাছে) প্রেরণ করো।

আর বলেছে ঐ কয়েদী তাদের দুজনের মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছে আর ভুলে যাওয়ার পর যার স্মরণে পড়েছে একটি উম্মাত/ সময়কাল পরে, (সে বলেছে) ‘আমি তোমাদেরকে অবহিত করবো উহার তাবীল/ ব্যাখ্যা। সুতরাং আমাকে (আমার চেনা ব্যাখ্যাকারীর কাছে) প্রেরণ করো’।

১২:৪৬
ইউসুফু = (সে ইউসুফের কাছে গিয়ে বলেছে,) ‘ইউসুফ। আইয়ুহাস সিদ্দীক্বু = হে সত্যবাদী। আফতিনা = আমাদেরকে ফতোয়া/ যথাযথ অভিমত জানাও। ফী সাবঈ বাক্বারাতিন = এ (স্বপ্নের) ব্যাপারে যে, সাতটি গাভী। ছিমানিন = মোটাতাজা। ইয়া’কুলুহুন্না = সেগুলোকে খেয়ে ফেলছে। ছাবউন ইজাফুন = সাতটি চিকনা (গাভী)। ওয়া = আর। ছাবঈ ছুমবুলাতিন = সাতটি শীষ। খুদরিন = সবুজ। ওয়া = আর। উখারা = অন্য (সাতটি)। ইয়াবিছাতিন = শুকনা। লাআল্লী = যেন আমি। আরজিউ = ফিরে যাই। ইলান্নাছি = লোকদের কাছে। লাআল্লাহুম ইয়া’লামূনা = যেন তারা জানতে পারে’।

(সে ইউসুফের কাছে গিয়ে বলেছে,) ‘ইউসুফ, হে সত্যবাদী, আমাদেরকে ফতোয়া/ যথাযথ অভিমত জানাও এ (স্বপ্নের) ব্যাপারে যে, সাতটি গাভী মোটাতাজা, সেগুলোকে খেয়ে ফেলছে সাতটি চিকনা (গাভী)। আর সাতটি শীষ সবুজ, আর অন্য (সাতটি) শুকনা। যেন আমি ফিরে যাই লোকদের কাছে যেন তারা জানতে পারে’।

১২:৪৭
ক্বলা = সে (= ইউসুফ) বলেছে। তাযরাঊনা = তোমরা চাষ করবে। ছাবআ সিনীনা = সাত বছর। দাআবান = ক্রমাগতভাবে। ফামা = তারপর যা (= যে ফসল)। হাসাত্তুম = তোমরা কাটবে। ফাযুরূহু = তোমরা উহা রেখে দিবে। ফী ছুমবিলিহী = উহার শীষগুলোর মধ্যেই (সংরক্ষিত)। ইল্লা ক্বালীলান = অল্প পরিমাণ ছাড়া। মিম্মা তা’কুলূনা = তা থেকেই তোমরা খাবে।

সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘তোমরা চাষ করবে সাত বছর ক্রমাগতভাবে। তারপর যা (= যে ফসল) তোমরা কাটবে, তোমরা উহা রেখে দিবে উহার শীষগুলোর মধ্যেই (সংরক্ষিত), অল্প পরিমাণ ছাড়া, তা থেকেই তোমরা খাবে’।

১২:৪৮
ছুম্মা = তারপর। ইয়া’তি = আসবে। মিম বা’দি যালিকা = উহার পর। ছাবউন সিদাদুন = কঠিন (দুর্ভিক্ষের) সাতটি বছর। ইয়া’কুলনা = (তখন) খাবে। মা ক্বাদ্দামতুম = যা তোমরা আগেই সঞ্চয় করেছো। লাহুন্না = ঐ (বছর)গুলোর জন্য। ইল্লা ক্বালীলান = অল্প পরিমাণ ছাড়া। মিম্মা তুহসিনূনা = যা তোমরা সংরক্ষণ করবে।

তারপর আসবে উহার পর কঠিন (দুর্ভিক্ষের) সাতটি বছর। (তখন) খাবে যা তোমরা আগেই সঞ্চয় করেছো ঐ (বছর)গুলোর জন্য, অল্প পরিমাণ ছাড়া, যা তোমরা সংরক্ষণ করবে।

১২:৪৯
ছুম্মা = তারপর। ইয়া’তি = আসবে। মিম বা’দি যালিকা = উহার পর। আমুন = একটি বছর। ফীহি = উহাতে। ইউগাছুন্নাছু = মানুষের জন্য বৃষ্টিপাত হবে। ওয়া = আর। ফীহি = উহাতে। ইয়া’সিরূনা = তারা ফলের রস নিংড়াবে।

তারপর আসবে উহার পর একটি বছর, উহাতে মানুষের জন্য বৃষ্টিপাত হবে আর উহাতে তারা ফলের রস নিংড়াবে’।

১২:৫০
ওয়া = আর। ক্বলাল মালিকু’তূনী বিহী = মালিক/ রাষ্ট্রপতি বলেছে, ‘তাকে (= ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে এসো। ফালাম্মা = তারপর যখন। জাআহুর রসূলু = তার কাছে (= ইউসুফের কাছে) এসেছে রসূলটি/ রাষ্ট্রপতির দূতটি। ক্বলারজি’ = সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘তুমি ফিরে যাও। ইলা রব্বিকা = তোমার রবের/ মনিবের কাছে। ফাছআলহু = তাকে জিজ্ঞাসা করো। মা বালুন্নিছওয়াতিল্লাতী = ঐ অভিজাত নারীদের প্রকৃত ব্যাপারটা কী যারা। ক্বাত্তা’না = কেটে ফেলেছে। আইদিয়াহুন্না = তাদের হাতগুলো। ইন্না = নিশ্চয়। রব্বী = আমার রব (= আল্লাহ)। বিকায়দিহিন্না = তাদের কায়দা-কৌশল সম্পর্কে। আলীমুন = পরিজ্ঞাত আছেন।

আর মালিক/ রাষ্ট্রপতি বলেছে, ‘তাকে (= ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে এসো’। তারপর যখন তার কাছে (= ইউসুফের কাছে) এসেছে রসূলটি/ রাষ্ট্রপতির দূতটি, সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘তুমি ফিরে যাও তোমার রবের/ মনিবের কাছে। তাকে জিজ্ঞাসা করো, ঐ অভিজাত নারীদের প্রকৃত ব্যাপারটা কী যারা কেটে ফেলেছে তাদের হাতগুলো? নিশ্চয় আমার রব (= আল্লাহ) তাদের কায়দা-কৌশল সম্পর্কে পরিজ্ঞাত আছেন’।

১২:৫১
ক্বলা = সে (= রাষ্ট্রপতি) বলেছে। মা খাতবুকুন্না = তোমাদের প্রকৃত অবস্থা কী? ইয = যখন। রওয়াত্তুম = তোমরা ফুসলিয়েছো। ইউসুফা = ইউসুফকে। আন নাফসিহী = তার আত্মসংযম থেকে সরিয়ে দিতে। ক্বুলনা = তখন তারা বলেছে। হাশা লিল্লাহি = আল্লাহর কী মাহাত্ম্য। মা আলিমনা = আমরা জানি না। আলাইহি = তার ব্যাপারে। মিন ছূয়িন = কোন মন্দ জিনিস/ নৈতিক দোষ। (অর্থাৎ সে কোন মন্দ কাজ করেনি)। ক্বলাতিমরআতুল আযীযিলআনা = আযীযের স্ত্রী বলেছে, ‘এখন। হাসহাসাল হাক্বক্বু = সত্য প্রকাশ পেয়ে গেছে। আনা = আমি। রওয়াত্তুহু = তাকে ফুসলিয়েছি। আন নাফসিহী = তার আত্মসংযম থেকে সরিয়ে দিতে। ওয়া = আর। ইন্নাহু = নিশ্চয় সে। লামিনাস সদিক্বীনা = সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।

সে (= রাষ্ট্রপতি) বলেছে, ‘তোমাদের প্রকৃত অবস্থা কী? যখন তোমরা ফুসলিয়েছো ইউসুফকে তার আত্মসংযম থেকে সরিয়ে দিতে?’ তখন তারা বলেছে, ‘আল্লাহর কী মাহাত্ম্য! আমরা জানি না তার ব্যাপারে কোন মন্দ জিনিস/ নৈতিক দোষ (অর্থাৎ সে কোন মন্দ কাজ করেনি)’। আযীযের স্ত্রী বলেছে, ‘এখন সত্য প্রকাশ পেয়ে গেছে। আমি তাকে ফুসলিয়েছি তার আত্মসংযম থেকে সরিয়ে দিতে। আর নিশ্চয় সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।

১২:৫২
যালিকা = ইহা (এ জবানবন্দী)। লিআ’লামা = এজন্য যে, যেন সে (= ইউসুফ) জানতে পারে। আন্নী = যে, আমি (এখন)। লাম আখুনহু = তার খেয়ানত করিনি। বিল গায়বি = তার অনুপস্থিতিতে। ওয়া = আর। আন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। লা ইয়াহদী = সফলতার পথে পরিচালিত করেন না। কায়দাল খায়িনীনা = খেয়ানতকারীদের কায়দা-কৌশল।

ইহা (এ জবানবন্দী) এজন্য যে, যেন সে (= ইউসুফ) জানতে পারে যে, আমি (এখন) তার খেয়ানত করিনি তার অনুপস্থিতিতে। আর (আমি বুঝতে পেরেছি) নিশ্চয় আল্লাহ সফলতার পথে পরিচালিত করেন না খেয়ানতকারীদের কায়দা-কৌশল।

১২:৫৩
ওয়া = আর। মা উবাররিউ = আমি নির্দোষ মনে করি না। নাফসী = নিজেকে। ইন্নান্নাফসা = নিশ্চয় নফস/ জীবনসত্তা। লাআম্মারাতুন = আদেশ/ প্ররোচনা দেয় (নিজেকে)। বিছ ছূয়ি = মন্দের প্রতি। ইল্লা মা রহিমা রব্বী = যাকে আমার রব (= আল্লাহ) রহম/ দয়া করেন তার ক্ষেত্রে ছাড়া। ইন্না = নিশ্চয়। রব্বী = আমার রব। গাফূরুর রহীমুন = গফূর/ ক্ষমাশীল ও রহীম/ দয়াশীল।

আর আমি নির্দোষ মনে করি না নিজেকে। নিশ্চয় নফস/ জীবনসত্তা আদেশ/ প্ররোচনা দেয় (নিজেকে) মন্দের প্রতি, যাকে আমার রব (= আল্লাহ) রহম/ দয়া করেন তার ক্ষেত্রে ছাড়া। নিশ্চয় আমার রব গফূর/ ক্ষমাশীল ও রহীম/ দয়াশীল।

১২:৫৪
ওয়া = আর। ক্বলাল মালিকু’তূনী বিহী = মালিক/ রাষ্ট্রপতি বলেছে, ‘তাকে (= ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে এসো’। আসতাখলিসহু = আমি তাকে খালেস/ খাঁটি করে নেবো। লিনাফসিহী = আমার নিজের জন্য (= উপদেষ্টা হিসাবে)। ফালাম্মা = তারপর যখন। কাল্লামাহু = সে (= রাষ্ট্রপতি) তার সাথে (= ইউসুফের সাথে) কথা বলেছে। ক্বলা = তখন সে (= রাষ্ট্রপতি) বলেছে। ইন্নাকাল ইয়াওমা = নিশ্চয় আপনি আজ। লাদাইনা = আমাদের কাছে। মাকীনুন আমীনুন = মর্যাদাবান ও বিশ্বস্ত।

আর মালিক/ রাষ্ট্রপতি বলেছে, ‘তাকে (= ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে এসো’। আমি তাকে খালেস/ খাঁটি করে নেবো আমার নিজের জন্য (= উপদেষ্টা হিসাবে)। তারপর যখন সে (= রাষ্ট্রপতি) তার সাথে (= ইউসুফের সাথে) কথা বলেছে, তখন সে (= রাষ্ট্রপতি) বলেছে, ‘নিশ্চয় আপনি আজ আমাদের কাছে মর্যাদাবান ও বিশ্বস্ত’।

১২:৫৫
ক্বলাজআলনী = সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘আমাকে কর্তৃত্ব অর্পণ করুন। আলা খাযায়িনিল আরদি = দেশের ধনভান্ডারের উপর। ইন্নী = নিশ্চয় আমি। হাফীযুন আলীমুন = হাফীয/ সংরক্ষণকারী ও আলীম/ জ্ঞানবান।

সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘আমাকে কর্তৃত্ব অর্পণ করুন দেশের ধনভান্ডারের উপর। নিশ্চয় আমি হাফীয/ সংরক্ষণকারী ও আলীম/ জ্ঞানবান’।

১২:৫৬
ওয়া = আর। কাযালিকা = এভাবে। মাক্কান্না = আমরা বসবাসের স্থান দিয়েছি/ প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছি। লিইউসুফা = ইউসুফকে। ফিল আরদি = সেই দেশে। ইয়াতাবাওয়াউ মিনহা = সে (= ইউসুফ) তার আবাস নির্মাণ করতো উহার মধ্য থেকে। হাইছু ইয়াশাউ = যেখানে সে ইচ্ছা করতো। নুসীবু = আমরা অভিষিক্ত করি। বিরহমাতিনা = আমাদের রহমত দিয়ে। মান নাশাউ = যাকে আমরা ইচ্ছা করি। ওয়া = আর। লা নুদীউ = আমরা নষ্ট/ ব্যর্থ করি না। আজরাল মুহসিনীনা = মুহসিনদের/ উত্তম আচরণকারীদের প্রতিফল।

আর এভাবে আমরা বসবাসের স্থান দিয়েছি/ প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছি ইউসুফকে সেই দেশে। সে (= ইউসুফ) তার আবাস নির্মাণ করতো উহার মধ্য থেকে যেখানে সে ইচ্ছা করতো। আমরা অভিষিক্ত করি আমাদের রহমত দিয়ে যাকে আমরা ইচ্ছা করি। আর আমরা নষ্ট/ ব্যর্থ করি না মুহসিনদের/ উত্তম আচরণকারীদের প্রতিফল।

১২:৫৭
ওয়া = আর। লাআজরুল আখিরাতি = আখিরাতের প্রতিফলই। খায়রুল লিল্লাযীনা = তাদের জন্য উত্তম যারা। আমানূ = ঈমান/ বিশ্বাস করেছে। ওয়া = আর। কানূ ইয়াত্তাক্বূনা = তাকওয়া/ আল্লাহভীতি অবলম্বন করতে থাকে।

আর আখিরাতের প্রতিফলই তাদের জন্য উত্তম যারা ঈমান/ বিশ্বাস করেছে আর তাকওয়া/ আল্লাহভীতি অবলম্বন করতে থাকে।

১২:৫৮
ওয়া = আর। জাআ = এসেছে। ইখওয়াতু ইউসুফা = ইউসুফের ভাইয়েরা। ফাদাখালূ = তারপর তারা প্রবেশ করেছে। আলাইহি = তার কাছে (= তার কক্ষে, অনুমতিপত্রের জন্য)। ফাআরাফাহুম = তখন সে (= ইউসুফ) তাদেরকে চিনেছে। ওয়া = আর। হুম = তারা। লাহুম মুনকিরীনা = তাকে চিনেনি।

আর এসেছে ইউসুফের ভাইয়েরা, তারপর তারা প্রবেশ করেছে তার কাছে (= তার কক্ষে, অনুমতিপত্রের জন্য)। তখন সে (= ইউসুফ) তাদেরকে চিনেছে আর তারা তাকে চিনেনি।

১২:৫৯
ওয়া = আর। লাম্মা = যখন। জাহহাযাহুম বিজাহিযিহিম = সে তাদেরকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে দিয়েছে। ক্বলা’তূনী = তখন সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘(পরের বার আসার সময়) তোমরা নিয়ে আসবে। বিআখিল্লাকুম মিন আবীকুম = তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকে। আলাও তারাওনা = তোমরা কি দেখো না। আন্নী = যে, আমি। উফিল কায়লা = মাপ পূর্ণ করে দিই। ওয়া = আর। আনা = আমি। খায়রুল মুনযিলীনা = মেহমানদের উত্তম সমাদরকারী।

আর যখন সে তাদেরকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে দিয়েছে, তখন সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘(পরের বার আসার সময়) তোমরা নিয়ে আসবে তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকে। তোমরা কি দেখো না যে, আমি মাপ পূর্ণ করে দিই, আর আমি মেহমানদের উত্তম সমাদরকারী?

১২:৬০
ফাইল্লাম তা’তূনী বিহী = কিন্তু যদি তোমরা তাকে আমার কাছে নিয়ে না আসো। ফালা কায়লা লাকুম ইনদী = তাহলে তোমাদের জন্য আমার কাছে কোন পরিমাপই থাকবে না (= তোমাদের কাউকেই কিছু দেয়া হবে না)। ওয়া = আর। লা তাক্বরাবূনা = তাহলে তোমরা আমার কাছেই এসো না।

কিন্তু যদি তোমরা তাকে আমার কাছে নিয়ে না আসো, তাহলে তোমাদের জন্য আমার কাছে কোন পরিমাপই থাকবে না (= তোমাদের কাউকেই কিছু দেয়া হবে না)। আর তাহলে তোমরা আমার কাছেই এসো না’।

১২:৬১
ক্বলূ = তারা বলেছে। ছানুরাভিদু = শীঘ্রই আমরা সম্মত করাবো। আনহু = তার ব্যাপারে। আবাহু = তার পিতাকে। ওয়া = আর। ইন্না = নিশ্চয় আমরা। লাফায়িলূনা = এ কার্য সম্পাদনকারী হবো।

তারা বলেছে, ‘শীঘ্রই আমরা সম্মত করাবো তার ব্যাপারে তার পিতাকে। আর নিশ্চয় আমরা এ কার্য সম্পাদনকারী হবো’।

১২:৬২
ওয়া = আর। ক্বলা = সে (= ইউসুফ) বলেছে। লিফিতইয়ানিহিযআলূ = তার যুবক (কর্মচারী)দেরকে, ‘তোমরা রেখে দাও। বিদাআতাহুম = তাদের পণ্যমূল্য। ফী রিহালিহিম = তাদের রেহালে/ গাঁটের মধ্যে। লাআল্লাহুম ইয়া’রিফূনাহা = যেন তারা তা চিনতে পারে। ইযানক্বালাবূ = যখন তারা ফিরে যাবে। ইলা আহলিহিম = তাদের আহালের/ পরিবারের কাছে। লাআল্লাহুম ইয়ারজিঊনা = যেন তারা আবার ফিরে আসে (= তাদের পণ্যমূল্য ইউসুফ নিজের পক্ষ থেকে পরিশোধ করার সংকল্প করেছে)।

আর সে (= ইউসুফ) বলেছে তার যুবক (কর্মচারী)দেরকে, ‘তোমরা রেখে দাও তাদের পণ্যমূল্য তাদের রেহালে/ গাঁটের মধ্যে যেন তারা তা চিনতে পারে যখন তারা ফিরে যাবে তাদের আহালের/ পরিবারের কাছে, যেন তারা আবার ফিরে আসে’ (= তাদের পণ্যমূল্য ইউসুফ নিজের পক্ষ থেকে পরিশোধ করার সংকল্প করেছে)।

১২:৬৩
ফালাম্মা = তারপর যখন। রজাঊ = তারা ফিরে গেছে। ইলা আবীহিম = তাদের পিতার কাছে। ক্বলূ = তখন তারা বলেছে। ইয়া আবানা = হে আমাদের আব্বা। মুনিয়া মিন্নাল কায়লু = আমাদের জন্য মানা/ নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে কোন মাপ/ পণ্য দেয়া। ফাআরছিল = সুতরাং (পরের বার) প্রেরণ করুন। মাআনা = আমাদের সাথে। আখানা = আমাদের ভাইকে। নাকতাল = যেন আমরা বরাদ্দ পাই। ওয়া = আর। ইন্না = নিশ্চয় আমরা। লাহু = তার জন্য। লাহাফিযূনা = হেফাযতকারী হবো।

তারপর যখন তারা ফিরে গেছে তাদের পিতার কাছে, তখন তারা বলেছে, ‘হে আমাদের আব্বা, আমাদের জন্য মানা/ নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে কোন মাপ/ পণ্য দেয়া। সুতরাং (পরের বার) প্রেরণ করুন আমাদের সাথে আমাদের ভাইকে, যেন আমরা বরাদ্দ পাই। আর নিশ্চয় আমরা তার জন্য হেফাযতকারী হবো’।

১২:৬৪
ক্বলা = সে (= ইউসুফের পিতা) বলেছে। হাল আমানকুম = আমি কি তোমাদেরকে বিশ্বাস করবো। আলাইহি = তার ব্যাপারে। ইল্লা = এছাড়া যে। কামা = যেমন। আমিনতুকুম = আমি তোমাদেরকে বিশ্বাস করেছিলাম। আলা আখীহি = তার (সহোদর) ভাইয়ের (= ইউসুফের) ব্যাপারে। মিন ক্বাবলু = ইতোপূর্বে। ফাল্লাহু = তবে আল্লাহই। খায়রুন হাফীযান = উত্তম হেফাযতকারী। ওয়া = আর। হুয়া = তিনি। আরহামুর রাহিমীনা = আরহামুর রাহিমীন/ সর্বশেষ্ঠ দয়াশীল।

সে (= ইউসুফের পিতা) বলেছে, ‘আমি কি তোমাদেরকে বিশ্বাস করবো তার ব্যাপারে, এছাড়া যে, যেমন আমি তোমাদেরকে বিশ্বাস করেছিলাম তার (সহোদর) ভাইয়ের (= ইউসুফের) ব্যাপারে, ইতোপূর্বে? তবে আল্লাহই উত্তম হেফাযতকারী। আর তিনি আরহামুর রাহিমীন/ সর্বশেষ্ঠ দয়াশীল’।

১২:৬৫
ওয়া = আর। লাম্মা = যখন। ফাতাহূ = তারা খুলেছে। মাতাআহুম = তাদের মাল সামগ্রী। ওয়াজাদূ = তারা দেখতে পেয়েছে। বিদআতাহুম = তাদের পণ্যমূল্য। রুদ্দাত ইলাইহিম = ফেরত দেয়া হয়েছে তাদের কাছে। ক্বলূ = তারা বলেছে। ইয়া আবানা = হে আমাদের আব্বা। মা নাবগী = আমরা আর কী তালাশ করবো। হাযিহী = এই যে। বিদআতুনা = আমাদের পণ্যমূল্য। রুদ্দাত ইলাইনা = ফেরত দেয়া হয়েছে আমাদের কাছে। ওয়া = আর। নামীরু = আমরা খাদ্য এনে দেবো। আহলানা = আমাদের আহালকে/ পরিবারকে। ওয়া = আর। নাহফাযু = আমরা হেফাযত করবো। আখানা = আমাদের ভাইকে। ওয়া = আর। নাযদাদূ = আমরা অতিরিক্ত আনবো। কায়লা বায়ীরিন = এক উট বোঝাই মালের বরাদ্দ। যালিকা কায়লুন = ঐ পরিমাণ বরাদ্দ। ইয়াছীরুন = সহজেই পাওয়া যাবে।

আর যখন তারা খুলেছে তাদের মাল সামগ্রী, তখন তারা দেখতে পেয়েছে তাদের পণ্যমূল্য ফেরত দেয়া হয়েছে তাদের কাছে। তারা বলেছে, ‘হে আমাদের আব্বা, আমরা আর কী তালাশ করবো? এই যে আমাদের পণ্যমূল্য ফেরত দেয়া হয়েছে আমাদের কাছে। আর আমরা খাদ্য এনে দেবো আমাদের আহালকে/ পরিবারকে। আর আমরা হেফাযত করবো আমাদের ভাইকে। আর আমরা অতিরিক্ত আনবো এক উট বোঝাই মালের বরাদ্দ। ঐ পরিমাণ বরাদ্দ সহজেই পাওয়া যাবে’।

১২:৬৬
ক্বলা = সে (= ইউসুফের পিতা) বলেছে। লান উরছিলাহু = আমি কক্ষণো তাকে প্রেরণ করবো না। মাআকুম = তোমাদের সাথে। হাত্তা = যতক্ষণ না। তু’তূনি = তোমরা দেবে। মাওছিক্বাম মিনাল্লাহি = আল্লাহর নামে প্রতিশ্রুতি। লাতা’তুন্নানী বিহী = যে, তোমরা তাকে আমার কাছে এনে দেবে। ইল্লা = এছাড়া যে। আইঁ ইউহাতা বিকুম = তোমাদেরকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। ফালাম্মা = তারপর যখন। আতাওহু = তারা তাকে দিয়েছে। মাওছিক্বাহুম = তাদের প্রতিশ্রুতি। ক্বলাল্লাহু = তারা বলেছে, ‘আল্লাহই। আলা মা নাক্বূলু ওয়াকীলুন = আমরা যা বলছি তার উপর উকিল/ কর্মবিধায়ক।

সে (= ইউসুফের পিতা) বলেছে, ‘আমি কক্ষণো তাকে প্রেরণ করবো না তোমাদের সাথে, যতক্ষণ না তোমরা দেবে আল্লাহর নামে প্রতিশ্রুতি যে, তোমরা তাকে আমার কাছে এনে দেবে, এছাড়া যে, তোমাদেরকে ঘিরে ফেলা হয়েছে’। তারপর যখন তারা তাকে দিয়েছে তাদের প্রতিশ্রুতি, (তারপর) তারা বলেছে, ‘আল্লাহই আমরা যা বলছি তার উপর উকিল/ কর্মবিধায়ক’।

১২:৬৭
ওয়া = আর। ক্বলা = সে বলেছে। ইয়া বানিয়্যা = হে আমার পুত্রগণ। লা তাদখুলূ = তোমরা দাখিল হয়ো না/ প্রবেশ করো না। মিম বাবিন ওয়াহিদিন = (শহরের) একটিমাত্র দরজা দিয়ে। ওয়াদখুলূ মিন আবওয়াবিন মুতাফাররিক্বাতিন = আর দাখিল হও/ প্রবেশ করো (শহরের) ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে। ওয়া = আর। মা উগনী = আমি কাজে আসবো না (= আমার দেয়া উপদেশ ফলপ্রসূ হবে না)। আনকুম = তোমাদের ব্যাপারে। মিনাল্লাহি = আল্লাহর (ইচ্ছা) থেকে বাঁচাতে। মিন শাইয়িন = কিছুমাত্রও। ইনিল হুকমু ইল্লা লিল্লাহি = কারো অধিকার নেই হুকুম/ আইন দেয়ার শুধু আল্লাহর ছাড়া।{= বিচার শুধুমাত্র আল্লাহর আইন অনুযায়ী করতে হবে}। আলাইহি = তাঁরই উপর। তাওয়াক্কালতু = আমি তাওয়াক্কুল/ ভরসা করছি। ওয়া = আর। আলাইহি = তাঁরই উপর। ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মুতাওয়াক্কিলীনা = ভরসা করা উচিত ভরসাকারীগণ।

আর সে বলেছে, ‘হে আমার পুত্রগণ, তোমরা দাখিল হয়ো না/ প্রবেশ করো না (শহরের) একটিমাত্র দরজা দিয়ে। আর দাখিল হও/ প্রবেশ করো (শহরের) ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে। আর আমি কাজে আসবো না (= আমার দেয়া উপদেশ ফলপ্রসূ হবে না) তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহর (ইচ্ছা) থেকে বাঁচাতে, কিছুমাত্রও। কারো অধিকার নেই হুকুম/ আইন দেয়ার শুধু আল্লাহর ছাড়া।{= বিচার-ফায়সালা শুধুমাত্র আল্লাহর আইন অনুযায়ী করতে হবে}। তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল/ ভরসা করছি। আর তাঁরই উপর ভরসা করা উচিত ভরসাকারীগণ’।

১২:৬৮
ওয়া = আর। লাম্মা = যখন। দাখালূ = তারা দাখিল হয়েছে/ প্রবেশ করেছে। মিন হাইছু = যেভাবে। আমারাহুম = তাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। আবূহুম = তাদের পিতা। ওয়া = আর। মা কানা ইউগনী = তা কাজে আসেনি। মিনাল্লাহি = আল্লাহর (ইচ্ছা) থেকে বাঁচাতে। মিন শাইয়িন = কিছুমাত্রও (১২:৬৯-৭৬)। ইল্লা হাজাতান ফী নাফসি ইয়াকুবা = (ব্যাপারটি কিছু নয়) এছাড়া যে, ইয়াকুবের নফসের মধ্যে একটি আকাংখা/ দায়িত্ববোধ ছিলো। ক্বাদাহা = সে তা সম্পন্ন করেছে। ওয়া = আর। ইন্নাহু = নিশ্চয় সে। লাযূ ইলমিন = জ্ঞানী ছিলো। লিমা আল্লামনাহু = ঐ বিষয়ে যা আমরা তাকে শিক্ষা দিয়েছি। ওয়ালাকিন্না = কিন্তু। আকছারান্নাছি = অধিকাংশ মানুষ। লা ইয়া’লামূনা = (সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির) ইলম/ জ্ঞান রাখে না।

আর যখন তারা দাখিল হয়েছে/ প্রবেশ করেছে যেভাবে তাদেরকে আদেশ দিয়েছেন তাদের পিতা আর তা কাজে আসেনি আল্লাহর (ইচ্ছা) থেকে বাঁচাতে কিছুমাত্রও (১২:৬৯-৭৬)। (ব্যাপারটি কিছু নয়) এছাড়া যে, ইয়াকুবের নফসের মধ্যে একটি আকাংখা/ দায়িত্ববোধ ছিলো, সে তা সম্পন্ন করেছে। আর নিশ্চয় সে জ্ঞানী ছিলো ঐ বিষয়ে যা আমরা তাকে শিক্ষা দিয়েছি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ (সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির) ইলম/ জ্ঞান রাখে না।

১২:৬৯
ওয়া = আর। লাম্মা = যখন। দাখালূ = তারা দাখিল হয়েছে/ প্রবেশ করেছে। আলা ইউসুফু = ইউসুফের কাছে। আওয়া = সে স্থান দিয়েছে। ইলাইহি = তার নিজের পাশে। আখাহু = তার (সহোদর) ভাইকে। ক্বলা = সে (= ইউসুফ) বলেছে। ইন্নী = নিশ্চয় আমি। আনা = আমিই। আখূকা = তোমার ভাই (= ইউসুফ)। ফালা তাবতায়িছ = সুতরাং আফসোস করো না। বিমা = ঐ ব্যাপারে যা। কানূ ইয়া’মালূনা = তারা করতো।

আর যখন তারা দাখিল হয়েছে/ প্রবেশ করেছে ইউসুফের কাছে, তখন সে (= ইউসুফ) স্থান দিয়েছে তার নিজের পাশে তার (সহোদর) ভাইকে। সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘নিশ্চয় আমি, আমিই তোমার ভাই (= ইউসুফ)। সুতরাং আফসোস করো না ঐ ব্যাপারে যা তারা করতো’।

১২:৭০
ফালাম্মা = তারপর যখন। জাহহাযাহুম বিজাহিযিহিম = সে তাদেরকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে দিয়েছে। জাআলাছ ছিক্বাইয়াতা = তখন সে রেখে দিয়েছে পানপাত্র। ফী রাহলি আখীহি = তার ভাইয়ের রাহাল/ গাঁটের মধ্যে। ছুম্মা = তার পরে। আযযানা = আযান/ ঘোষণা দিয়েছে। মুয়াযযিনুন = একজন মুয়াজ্জিন/ ঘোষক। আইয়াতুহাল ঈরু = হে কাফেলা। ইন্নাকুম = নিশ্চয় তোমরা। লাছারিক্বূনা = চোর।

তারপর যখন সে তাদেরকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে দিয়েছে, তখন সে রেখে দিয়েছে পানপাত্র তার ভাইয়ের রাহাল/ গাঁটের মধ্যে। তার পরে আযান/ ঘোষণা দিয়েছে একজন মুয়াজ্জিন/ ঘোষক, ‘হে কাফেলা, নিশ্চয় তোমরা চোর’।

১২:৭১
ক্বলূ = তারা বলেছে। ওয়া আক্ববালূ = এগিয়ে এসে। আলাইহিম = তাদের কাছে। মা যা তাফক্বিদূনা = তোমরা কী হারিয়েছো?

তারা বলেছে এগিয়ে এসে তাদের কাছে, ‘তোমরা কী হারিয়েছো?’

১২:৭২
ক্বলু = তারা বলেছে। নাফক্বিদু = আমরা হারিয়েছি। সুআআল মালিকি = মালিকের/ রাষ্ট্রপতির পানপাত্র। ওয়া = আর। লিমান = তার জন্য থাকবে যে। জাআ বিহী = উহা এনে দিবে। হিমরুন বায়ীরিন = এক উট বোঝাই মাল। ওয়া = আর। আনা = আমি। বিহী = উহার ব্যাপারে। জায়ীমুন = জামিন।

তারা (ঘোষক ও তার সহকর্মীগণ) বলেছে, ‘আমরা হারিয়েছি মালিকের/ রাষ্ট্রপতির পানপাত্র। আর তার জন্য থাকবে যে উহা এনে দিবে এক উট বোঝাই মাল। আর আমি (ঘোষক) উহার ব্যাপারে জামিন’।

১২:৭৩
ক্বলূ = তারা বলেছে। তাল্লাহি = আল্লাহর কসম। লাক্বাদ = নিশ্চয়। আলিমতুম = তোমরা জেনেছ যে। মা জি’না = আমরা আসিনি। লিনুফসিদা ফিল আরদি = দেশে ফাসাদ/ বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে। ওয়া = আর। মা কুন্না ছারিক্বীনা = আমরা চোর নই।

তারা বলেছে, ‘আল্লাহর কসম, নিশ্চয় তোমরা জেনেছ যে, আমরা আসিনি দেশে ফাসাদ/ বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে। আর আমরা চোর নই’।

১২:৭৪
ক্বলূ = তারা বলেছে। ফামা জাযাউহু = তাহলে তার কী প্রতিফল হবে। ইন = যদি। কুনতুম = তোমরা হও। কাযিবীনা = মিথ্যাবাদী।

তারা বলেছে, ‘তাহলে তার কী প্রতিফল হবে, যদি তোমরা হও মিথ্যাবাদী?’

১২:৭৫
ক্বলূ = তারা বলেছে। জাযাউহু = তার প্রতিফল হবে। মাওঁ উজিদা ফী রাহলিহী = যার গাঁটের মধ্যে উহা পাওয়া যাবে। ফাহুয়া জাযাউহু = সে নিজেই উহার প্রতিফল (= তাকে আটক করা হবে)। কাযালিকা = এভাবেই। নাজযিয যালিমীনা = আমরা প্রতিফল দিই যালিমদেরকে।

তারা বলেছে, ‘তার প্রতিফল হবে যার গাঁটের মধ্যে উহা পাওয়া যাবে, সে নিজেই উহার প্রতিফল (= তাকে আটক করা হবে, ১২:৭৮-৭৯)। এভাবেই আমরা প্রতিফল দিই যালিমদেরকে’।

১২:৭৬
ফাবাদাআ = সুতরাং সে তল্লাশী শুরু করেছে। বিআওইয়াতিহিম = তাদের থলেগুলোর মধ্যে। ক্বাবলা ভিয়ায়ি আখীহি = তার ভাইয়ের (= ইউসুফের সহোদর ভাইয়ের) থলের আগে। ছুম্মাছতাখরাজাআ = তারপর সে তা বের করেছে। মিন ভিয়ায়ি আখীহি = তার ভাইয়ের (= ইউসুফের সহোদর ভাইয়ের) থলের মধ্য থেকে। কাযালিকা = এভাবেই। কিদনা = আমরা কায়দা-কৌশল করেছি। লিইউসুফা = ইউসুফের জন্য। মা কানা = তার জন্য সঙ্গত ছিলো না। লিইয়া’খুজা আখীহি = তার ভাইকে আটকে রাখা। ফী দ্বানিল মালিকি = মালিকের/ রাষ্ট্রপতির দ্বীনের/ সংবিধানের আওতায়। ইল্লা আইঁ ইয়াশাআল্লাহু = আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া। নারফাউ = আমরা সমুন্নত করি। দারাজাতিন = মর্যাদার মাত্রাসমূহে। মান নাশাউ = যাকে আমরা (সমুন্নত করার) ইচ্ছা করি। ওয়া = আর। ফাওক্বা কুল্লি যী ইলমিন = সকল জ্ঞানবানের উপর আছেন। আলীমুন = একজন মহাজ্ঞানী (= আল্লাহ)।

সুতরাং সে তল্লাশী শুরু করেছে তাদের থলেগুলোর মধ্যে তার ভাইয়ের (= ইউসুফের সহোদর ভাইয়ের) থলের আগে। তারপর সে তা বের করেছে তার ভাইয়ের (= ইউসুফের সহোদর ভাইয়ের) থলের মধ্য থেকে। এভাবেই আমরা কায়দা-কৌশল করেছি ইউসুফের জন্য। তার জন্য সঙ্গত ছিলো না তার ভাইকে আটকে রাখা মালিকের/ রাষ্ট্রপতির দ্বীনের/ সংবিধানের আওতায়, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া। আমরা সমুন্নত করি মর্যাদার মাত্রাসমূহে, যাকে আমরা (সমুন্নত করার) ইচ্ছা করি। আর সকল জ্ঞানবানের উপর আছেন একজন মহাজ্ঞানী (= আল্লাহ)।

১২:৭৭
ক্বলূ = তারা (= ইউসুফের বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা) বলেছে। ইইঁ ইয়াছরিক্ব = যদি সে (= ইউসুফের সহোদর ভাই) চুরি করে। ফাক্বাদ = তাহলে তা আশ্চর্যজন নয়, কারণ নিশ্চয়। ছারাক্বা আখুল্লাহু = তার (সহোদর) ভাইও (= ইউসুফ) চুরি করেছিলো। মিন ক্বাবলু = ইতিপূর্বে। ফাআছাররাহা ইউসুফ = ইউসুফ উহা (= তাদের এ মিথ্যা অভিযোগ) হজম করে নিয়েছে। ফী নাফসিহী = তার নফসের মধ্যে। ওয়া = আর। লাম ইউবদিহা লাহুম = উহা প্রকাশ করেনি তাদের কাছে। ক্বলা = সে (= ইউসুফ) বলেছে। আনতুম = তোমরা। শাররুম মাকানান = খুবই মন্দ নৈতিক অবস্থানে রয়েছো। ওয়াল্লাহু = আর আল্লাহ। আ’লামু = জানেন। বিমা = ঐ বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা যা। তাসিফূনা = তোমরা বর্ণনা করছো।

তারা (= ইউসুফের বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা) বলেছে, ‘যদি সে (= ইউসুফের সহোদর ভাই) চুরি করে, তাহলে তা আশ্চর্যজন নয়, কারণ নিশ্চয় তার (সহোদর) ভাইও (= ইউসুফ) চুরি করেছিলো ইতিপূর্বে’। ইউসুফ উহা (= তাদের এ মিথ্যা অভিযোগ) হজম করে নিয়েছে তার নফসের মধ্যে আর উহা প্রকাশ করেনি তাদের কাছে। সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘তোমরা খুবই মন্দ নৈতিক অবস্থানে রয়েছো, আর আল্লাহ জানেন ঐ বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা যা তোমরা বর্ণনা করছো’।

১২:৭৮
ক্বলূ = তারা বলেছে। ইয়া আইয়ুহাল আযীযু = হে আযীয (= ইউসুফ)। ইন্না = নিশ্চয়। লাহু আবান = তার পিতা। শায়খান কাবীরান = বড়ই বৃদ্ধ। ফাখুয = সুতরাং আটক করুন। আহাদানা = আমাদের কাউকে। মাকানাহু = তার মাকানে/ স্থানে/ পরিবর্তে। ইন্না = নিশ্চয় আমরা। নারাকা = আপনাকে দেখছি। মিনাল মুহসিনীনা = মুহসিনদের/ উত্তম আচরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

তারা বলেছে, ‘হে আযীয (= ইউসুফ), নিশ্চয় তার পিতা বড়ই বৃদ্ধ। সুতরাং আটক করুন আমাদের কাউকে তার মাকানে/ স্থানে/ পরিবর্তে। নিশ্চয় আমরা আপনাকে দেখছি মুহসিনদের/ উত্তম আচরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত’।

১২:৭৯
ক্বলা = সে (= ইউসুফ) বলেছে। মাআযাল্লাহি = ‘মায়াযাল্লাহ’/ আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আন = এ ব্যাপারে যে। না’খুজা = আমরা আটক করবো। ইল্লা মাওঁ ওয়াজাদনা = তাকে ছাড়া অন্য কাউকে আমরা পেয়েছি। মাতাআনা = আমাদের সামগ্রী। ইনদাহু = যার কাছে। ইন্না = নিশ্চয়। ইযাল্লাযালিমীনা = তাহলে তখন আমরা হয়ে যাবো যালিম।

সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘মায়াযাল্লাহ’/ আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, এ ব্যাপারে যে, আমরা আটক করবো তাকে ছাড়া অন্য কাউকে, আমরা পেয়েছি আমাদের সামগ্রী যার কাছে। নিশ্চয় তাহলে তখন আমরা হয়ে যাবো যালিম”।

১২:৮০
ফালাম্মাছতাইআছূ = তারপর যখন তারা নিরাশ হয়েছে। মিনহু = তার থেকে। খালাসূ = তখন তারা খালেস/ খাঁটি করে নিয়েছে। নাজিয়্যান = পরামর্শ। ক্বলা কাবীরুহুম = তাদের মধ্যে যে বড় সে বলেছে। আলাম তা’লামূ = তোমরা কি জানোনি। আন্না = যে। আবাকুম = তোমাদের পিতা। ক্বাদ = নিশ্চয়। আখাযা = গ্রহণ করেছেন। আলাইকুম = তোমাদের থেকে। মাওছিক্বাম মিনাল্লাহি = আল্লাহর নামে কৃত প্রতিশ্রুতি। ওয়া = আর। মিন ক্বাবলু = ইতিপূর্বে। মা ফাররাত্তুম ফী ইউসুফা = তোমরা কী ত্রুটি (অন্যায়) করেছো ইউসুফের ব্যাপারে? ফালান আবরাহাল আরদা = সুতরাং আমি এদেশ ত্যাগ করবো না। হাত্তা = যতক্ষণ না। ইয়া’যানা লী = আমাকে অনুমতি দিবেন। আবী = আমার পিতা। আও = অথবা। ইয়াহকুমাল্লাহু লী = আল্লাহ কোন ফায়সালা করবেন আমার জন্য। ওয়া = আর। হুয়া = তিনি। খায়রুল হাকিমীনা = খায়রুল হাকিমীন/ সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।

তারপর যখন তারা নিরাশ হয়েছে তার থেকে, তখন তারা খালেস/ খাঁটি করে নিয়েছে পরামর্শ। তাদের মধ্যে যে বড় সে বলেছে, তোমরা কি জানোনি যে, তোমাদের পিতা নিশ্চয় গ্রহণ করেছেন তোমাদের থেকে আল্লাহর নামে কৃত প্রতিশ্রুতি আর ইতিপূর্বে তোমরা কী ত্রুটি (অন্যায়) করেছো ইউসুফের ব্যাপারে? সুতরাং আমি এদেশ ত্যাগ করবো না যতক্ষণ না আমাকে অনুমতি দিবেন আমার পিতা অথবা আল্লাহ কোন ফায়সালা করবেনন আমার জন্য। আর তিনি খায়রুল হাকিমীন/ সর্বোত্তম ফায়সালাকারী’।

১২:৮১
ইরজিঊ = তোমরা ফিরে যাও। ইলা আবীকুম = তোমাদের পিতার কাছে। ফাক্বূলূ = তারপর তোমরা বলো। ইয়া আবানা = হে আমাদের আব্বা। ইন্নাবনাকা = নিশ্চয় আপনার পুত্র। ছারাকা = ছুরি করেছে। ওয়া = আর। মা শাহিদনা = আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি না। ইল্লা বিমা = উহা ছাড়া তা সম্পর্কে যা। আলিমনা = আমরা জেনেছি। ওয়া = আর। মা কুন্না = আমরা নই। লিল গায়বি = গায়েবের ব্যাপারে। হাফিযীনা = হেফাযতকারী/ সংরক্ষণকারী/ অবহিত।

তোমরা ফিরে যাও তোমাদের পিতার কাছে। তারপর তোমরা বলো, ‘হে আমাদের আব্বা, নিশ্চয় আপনার পুত্র ছুরি করেছে। আর আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি না উহা ছাড়া তা সম্পর্কে যা আমরা জেনেছি আর আমরা নই গায়েবের ব্যাপারে হেফাযতকারী/ সংরক্ষণকারী/ অবহিত।

১২:৮২
ওয়াছআলিল ক্বারইয়াতাল্লাতী কুন্না ফীহা = আর আপনি জিজ্ঞাসা করুন সেই জনপদবাসীদেরকে আমরা ছিলাম যাদের মধ্যে। ওয়াল ঈরাল্লাতী আক্ববালনা ফীহা = আর সেই কাফেলাকে আমরা এসেছি যাদের সাথে। ওয়া = আর। ইন্না = নিশ্চয় আমরা। লাসদিক্বূনা = সত্যবাদী।

আর আপনি জিজ্ঞাসা করুন সেই জনপদবাসীদেরকে আমরা ছিলাম যাদের মধ্যে আর সেই কাফেলাকে আমরা এসেছি যাদের সাথে। আর নিশ্চয় আমরা সত্যবাদী’।

১২:৮৩
ক্বলা = সে (= ইউসুফের পিতা) বলেছে। বাল = বরং। ছাওয়ালাত = সাজিয়ে দিয়েছে। লাকুম = তোমাদের জন্য। আনফুসুহুম = তোমাদের নফস। আমরান = এ কাজ। ফাসবরুন জামীলূন = সুতরাং আমি সুন্দর/ উত্তম সবর করবো। আছাল্লাহু = আশা করি আল্লাহ। আইঁ ইয়াতিয়ানী = আমার কাছে আনবেন। বিহিম = তাদেরকে। জামীআন = একত্রে। ইন্নাহু হুয়াল আলীমুল হাকীমু = নিশ্চয় তিনিই আলীম/ মহাজ্ঞানী ও হাকীম/ মহাবিজ্ঞ।

সে (= ইউসুফের পিতা) বলেছে, ‘বরং সাজিয়ে দিয়েছে তোমাদের জন্য তোমাদের নফস এ কাজ। সুতরাং আমি সুন্দর/ উত্তম সবর করবো। আশা করি আল্লাহ আমার কাছে আনবেন তাদেরকে একত্রে। নিশ্চয় তিনিই আলীম/ মহাজ্ঞানী ও হাকীম/ মহাবিজ্ঞ’।

১২:৮৪
ওয়া = আর। তাওয়াল্লা = সে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আনহুম = তাদের থেকে। ওয়া = আর। ক্বলা = সে বলেছে। ইয়া আছাফা = হায়! আফসোস। আলা ইউসুফা = ইউসুফের জন্য। ওয়াবইয়াদ্দাত = আর সাদা হয়ে গিয়েছে। আয়নাহু = তার দুচোখ। মিনাল খুজনি = শোকের কারণে। ফাহুয়া কাযীমুন = তখন সে হয়েছে দু:খভারাক্রান্ত।

আর সে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাদের থেকে আর সে বলেছে, ‘হায়! আফসোস! ইউসুফের জন্য’। আর সাদা হয়ে গিয়েছে তার দুচোখ শোকের কারণে। তখন সে হয়েছে দু:খভারাক্রান্ত।

১২:৮৫
ক্বলূ = তারা বলেছে। তাল্লাহি = আল্লাহর কসম। তাফতাউ = আপনি ক্ষান্ত হবেন না। তাযকুরু ইউসুফা = ইউসুফকে স্মরণ করতে। হাত্তা = যতক্ষণ না। তাকূনা = আপনি হবেন। হারাদান = মুমূর্ষ। আও = অথবা। তাকূনা = আপনি হবেন। মিনাল হালিকীনা = (জীবন) হালাককারীদের অন্তর্ভুক্ত।

তারা বলেছে, ‘আল্লাহর কসম, আপনি ক্ষান্ত হবেন না ইউসুফকে স্মরণ করতে যতক্ষণ না আপনি হবেন মুমূর্ষ অথবা আপনি হবেন (জীবন) হালাককারীদের অন্তর্ভুক্ত’।

১২:৮৬
ক্বলা = সে বলেছে। ইন্নামা = নিশ্চয়। আশকূ = আমি নিবেদন করছি। বাছছী = আমার দু:খ। ওয়া = ও। হুযনী = আমার শোক। ইলাল্লাহি = আল্লাহর কাছে। ওয়া = আর। আ’লামু = আমি জানি। মিনাল্লাহি = আল্লাহর পক্ষ থেকে (এমন তথ্য)। মা লা তা’লামূনা = যা তোমরা জানো না।

সে বলেছে, ‘নিশ্চয় আমি নিবেদন করছি আমার দু:খ ও আমার শোক আল্লাহর কাছে। আর আমি জানি আল্লাহর পক্ষ থেকে (এমন তথ্য) যা তোমরা জানো না।

১২:৮৭
ইয়া বানিয়্যাযহাবূ = হে আমার পুত্রগণ, তোমরা যাও। ফাতাহাছছাছূ = তারপর তোমরা অনুসন্ধান করো। মিইঁ ইউসুফা ওয়া আখীহি = ইউসুফকে ও তার ভাইকে। ওয়া = আর। লা তায়আছূ = তোমরা নিরাশ হয়ো না। মির রওহিল্লাহি = আল্লাহর রহমত থেকে। ইন্নাহু = নিশ্চয় কেউ। লা ইয়ায়আছু = নিরাশ হয় না। মির রওহিল্লাহি = আল্লাহর রহমত থেকে। ইল্লাল ক্বাওমুল কাফিরূনা = কাফের কওম ছাড়া।

হে আমার পুত্রগণ, তোমরা যাও, তারপর তোমরা অনুসন্ধান করো ইউসুফকে ও তার ভাইকে। আর তোমরা নিরাশ হয়ো না আল্লাহর রহমত থেকে। নিশ্চয় কেউ নিরাশ হয় না আল্লাহর রহমত থেকে কাফের কওম ছাড়া’।

১২:৮৮
ফালাম্মা = তারপর যখন। দাখালূ = তারা দাখিল হয়েছে/ প্রবেশ করেছে। আলাইহি = তার কাছে (= ইউসুফের কাছে)। ক্বলূ = তারা বলেছে। ইয়া আইয়ুহাল আযীযু = হে আযীয। মাছছান্না = স্পর্শ করেছে আমাদেরকে। ওয়া = আর। আহলানাদ দুররু = আমাদের আহালকে/ পরিবারকে বিপদ। ওয়া = আর। জি’না = আমরা এনেছি। বিবিদাআতিম মুযজাতিন = তুচ্ছ পরিমাণ পুঁজি। ফাআওফি = সুতরাং পূর্ণ করে দিন। লানাল কায়লা = আমাদেরকে মাপের বরাদ্দ। ওয়া = আর। তাসাদ্দাক্ব আলাইনা = আমাদেরকে কিছু সদকাও করুন। ইন্নাল্লাহা = নিশ্চয় আল্লাহ। ইয়াজযিল মুতাসদ্দিক্বীনা = প্রতিফল দান করেন সদকাকারীদেরকে।

তারপর যখন তারা দাখিল হয়েছে/ প্রবেশ করেছে তার কাছে (= ইউসুফের কাছে), তখন তারা বলেছে, ‘হে আযীয, স্পর্শ করেছে আমাদেরকে আর আমাদের আহালকে/ পরিবারকে বিপদ। আর আমরা এনেছি তুচ্ছ পরিমাণ পুঁজি, সুতরাং পূর্ণ করে দিন আমাদেরকে মাপের বরাদ্দ। আর আমাদেরকে কিছু সদকাও করুন। নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিফল দান করেন সদকাকারীদেরকে’।

১২:৮৯
ক্বলা = সে (= ইউসুফ) বলেছে। হাল আলিমতুম = তোমরা কি জেনেছো। মা ফাআলতুম = তোমরা কী আচরণ করেছো। বিইউসুফা ওয়া আখীহি = ইউসুফ ও তার (সহোদর) ভাইয়ের সাথে। ইয = যখন। আনতুম = তোমরা। জাহিলূনা = জাহিল ছিলে।

সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘তোমরা কি জেনেছো তোমরা কী আচরণ করেছো ইউসুফ ও তার (সহোদর) ভাইয়ের সাথে। যখন তোমরা জাহিল ছিলে?’

১২:৯০
ক্বলূ = তারা বলেছে। আইন্নাকা লাআনতা = তুমিই কি নিশ্চয়। ইউসুফু = ইউসুফ। ক্বলা = সে বলেছে। আনা ইউসুফু = আমি ইউসুফ। ওয়া = আর। হাযা = এ হচ্ছে। আখী = আমার ভাই। ক্বাদ = নিশ্চয়। মান্নাল্লাহু = আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন। আলাইনা = আমাদের উপর। ইন্নাহু = নিশ্চয়। মাইঁ ইয়াত্তাক্বি = যে তাকওয়া/ আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করে। ওয়া = আর। ইয়াসবির = সবর করে। ফাইন্নাল্লাহা = তাহলে নিশ্চয় আল্লাহ। লা ইউদীউ = নষ্ট করেন না। আজরাল মুহসিনীনা = মুহসিনদের/ উত্তম আচরণকারীদের প্রতিফল।

তারা বলেছে, ‘তুমিই কি নিশ্চয় ইউসুফ?’ সে বলেছে, ‘আমি ইউসুফ। আর এ হচ্ছে আমার ভাই। নিশ্চয় আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন আমাদের উপর। নিশ্চয় যে তাকওয়া/ আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করে আর সবর করে, তাহলে নিশ্চয় আল্লাহ নষ্ট করেন না মুহসিনদের/ উত্তম আচরণকারীদের প্রতিফল’।

১২:৯১
ক্বলূ = তারা বলেছে। তাল্লাহি = আল্লাহর কসম। লাক্বাদ = নিশ্চয়। আছারাকাল্লাহু = আল্লাহ তোমাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আলাইনা = আমাদের উপর। ওয়া = আর। ইন কুন্না লাখাতিয়ীনা = আমরা কি ছিলাম না অপরাধী?

তারা বলেছে, ‘আল্লাহর কসম, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে প্রাধান্য দিয়েছেন আমাদের উপর। আর আমরা কি ছিলাম না অপরাধী?’

১২:৯২
ক্বলা = সে (= ইউসুফ) বলেছে। লা তাছরীবা = কোন ভৎসনা নেই। আলাইকুমুল ইয়াওমা = তোমাদের উপর আজকের দিনে। ইয়াগফিরুল্লাহা = আল্লাহ ক্ষমা করুন। লাকুম = তোমাদেরকে। ওয়া = আর। হুয়া = তিনি। আরহামুর রাহিমীনা = আরহামুর রাহিমীন/ সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াশীল।

সে (= ইউসুফ) বলেছে, ‘কোন ভৎসনা নেই তোমাদের উপর আজকের দিনে। আল্লাহ ক্ষমা করুন তোমাদেরকে। আর তিনি আরহামুর রাহিমীন/ সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াশীল’।

১২:৯৩
ইযহাবূ = তোমরা যাও। বিক্বামীসী হাযা = আমার এই (রাজকীয়) কামিসটি/ জামাটি নিয়ে। ফাআলক্বূহু = তারপর তা পেশ করো। আলা ওয়াজহি আবী = আমার পিতার সামনে। ইয়া’তী বাসীরান = তিনি দৃষ্টিভঙ্গিটি যথাযথভাবে দেখবেন (= বুঝবেন)। ওয়া’তূনী = আর আমার কাছে নিয়ে এসো। বিআহলিকুম আজমাঈনা = তোমাদের পরিবারের সকলকেই।

তোমরা যাও আমার এই (রাজকীয়) কামিসটি/ জামাটি নিয়ে তারপর তা পেশ করো আমার পিতার সামনে। তিনি দৃষ্টিভঙ্গিটি যথাযথভাবে দেখবেন (= বুঝবেন)। আর আমার কাছে নিয়ে এসো তোমাদের পরিবারের সকলকেই’।

১২:৯৪
ওয়া = আর। লাম্মা = যখন। ফাসালাতিল ঈরু = বের হয়ে পড়েছে কাফেলা। ক্বলা আবূহুম = তখন তাদের পিতা বলেছে। ইন্নী = নিশ্চয় আমি। লাআজীদু = পাচ্ছি। রীহা ইউসুফা = ইউসুফের ঘ্রাণ। লাও লা = যদি না। আন তুফান্নিদূনি = তোমরা আমাকে অপ্রকৃতিস্থ ভাবো।

আর যখন বের হয়ে পড়েছে কাফেলা, তখন তাদের পিতা বলেছে, ‘নিশ্চয় আমি পাচ্ছি ইউসুফের ঘ্রাণ, যদি না তোমরা আমাকে অপ্রকৃতিস্থ ভাবো’।

১২:৯৫
ক্বলূ = তারা বলেছে। তাল্লাহি = আল্লাহর কসম। ইন্নাকা = নিশ্চয় আপনি। লাফী দলালিকাল ক্বাদীমি = আছেন পুরাতন বিভ্রান্তির মধ্যে।

তারা বলেছে, ‘আল্লাহর কসম, নিশ্চয় আপনি আছেন পুরাতন বিভ্রান্তির মধ্যে’।

১২:৯৬
ফালাম্মা = তারপর যখন। আন জাআল বাশীরু = এসেছে সুসংবাদবাহক। আলক্বাহু = উহা (= ইউসুফের রাজকীয় জামা) রেখেছে। আলা ওয়াজহিহী = তার সামনে (= ইউসুফের পিতার সামনে)। ফাআরতাদ্দা বাসীরান = তখন সে (দৃঢ়তার সাথে) ফিরে গেছে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে। ক্বলা = সে বলেছে। আলাম আকুল্লাকুম = আমি কি তোমাদেরকে বলিনি। ইন্নী = নিশ্চয় আমি। আ’লামু = জানি। মিনাল্লাহি = আল্লাহর পক্ষ থেকে (ওহীর মাধ্যমে)। মা লা তা’লামূনা = যা তোমরা জানো না।

তারপর যখন এসেছে সুসংবাদবাহক, তখন সে উহা (= ইউসুফের রাজকীয় জামা) রেখেছে তার সামনে (= ইউসুফের পিতার সামনে)। তখন সে (দৃঢ়তার সাথে) ফিরে গেছে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে। সে বলেছে, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয় আমি জানি আল্লাহর পক্ষ থেকে (ওহীর মাধ্যমে) যা তোমরা জানো না’।

১২:৯৭
ক্বলূ = তারা (= ইউসুফের বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা) বলেছে। ইয়া আবানাছতাগফিরলানা যুনূবানা = ‘হে আমাদের আব্বা, আমাদের পাপের ব্যাপারে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। ইন্না = নিশ্চয়। কুন্না = আমরা ছিলাম। খাতিয়ীনা = অপরাধী।

তারা (= ইউসুফের বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা) বলেছে, ‘হে আমাদের আব্বা, আমাদের পাপের ব্যাপারে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আমরা ছিলাম অপরাধী’।

১২:৯৮
ক্বলা = সে বলেছে। ছাওফা = শীঘ্রই। আছতাগফির = আমি ক্ষমা প্রার্থনা করবো। লাকুম = তোমাদের জন্য। রব্বী = আমার রবের কাছে। ইন্নাহু হুয়াল গাফূরুর রহীমু = নিশ্চয় তিনি গফূর/ ক্ষমাশীল ও রহীম/ দয়াশীল।

সে বলেছে, ‘শীঘ্রই আমি ক্ষমা প্রার্থনা করবো তোমাদের জন্য আমার রবের কাছে। নিশ্চয় তিনি গফূর/ ক্ষমাশীল ও রহীম/ দয়াশীল’।

১২:৯৯
ফালাম্মা = তারপর যখন। দাখালূ = তারা দাখিল হয়েছে/ প্রবেশ করেছে। আলা ইউসুফা = ইউসুফের কাছে। আওয়া = সে স্থান দিয়েছে। ইলাইহি = তার কাছে। আবাওয়ায়হি = তার পিতামাতাকে। ওয়া = আর। ক্বলাদখুলূ = সে বলেছে, ‘আপনারা দাখিল হউন/ প্রবেশ করুন। মিসরা = মিসরে। ইন শাআল্লাহু = ইনশাআল্লাহ/ যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন। আমীনুন = (তাহলে) নিরাপদ অবস্থায় (থাকবেন)।

তারপর যখন তারা দাখিল হয়েছে/ প্রবেশ করেছে ইউসুফের কাছে, তখন সে স্থান দিয়েছে তার কাছে তার পিতামাতাকে। আর (তার আগে) সে বলেছে, ‘আপনারা দাখিল হউন/ প্রবেশ করুন মিসরে, ইনশাআল্লাহ/ যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, (তাহলে) নিরাপদ অবস্থায় (থাকবেন)’।

১২:১০০
ওয়া = আর। রাফাআ = সে উপরে উঠিয়ে নিয়েছে। আবাওয়াহি = তার পিতামাতাকে। আলাল আরশি = এবং আরশে/ আসনে সমাসীন করেছে। ওয়া = আর। খাররূ লাহু ছুজজাদান = তারা (= ইউসুফের পিতা, মাতা ও ১১ ভাই) তার প্রসঙ্গে (= ইউসুফকে ভাল অবস্থানে রাখার কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে) সিজদা করেছে (= আল্লাহর সামনে মাথানত করেছে)। ওয়া = আর। ক্বলা = সে বলেছে। ইয়া আবাতী = হে আমার আব্বা। হাযা = ইহাই। তা’ভীলু রু’ইয়াইয়া = আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা। মিন ক্বাবলু = যা আমি আগে দেখেছিলাম। ক্বাদ = নিশ্চয়। জাআলাহা = উহাকে পরিণত করেছেন। রব্বী = আমার রব। হাক্বক্বান = সত্য ঘটনায়। ওয়া = আর। ক্বাদ = নিশ্চয়। আহছানা বী = তিনি উত্তম আচরণ করেছেন আমার প্রতি। ইয = যখন। আখরাজানী = তিনি আমাকে বের করেছেন। মিনাছ ছিজনি = কারাগার থেকে। ওয়া = আর। জাআবিকুম = আপনাদেরকে এনেছেন। মিনাল বাদভি = মরুভূমি থেকে। মিম বা’দি আন নাযাগাশ শায়তানু = উহার পরে যে, শয়তান বিরোধ লাগিয়েছিলো। বায়নী ওয়া বায়না ইখওয়াতী = আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে। ইন্না = নিশ্চয়। রব্বী = আমার রব। লতীফুন = লতীফ/ সূক্ষদর্শী। লিমা ইয়াশাউ = যা তিনি ইচ্ছা করেন তা সম্পাদনের উপায় সম্পর্কে। ইন্নাহু হুয়াল আলীমুল হাকীমু = নিশ্চয় তিনি আলীম/ মহাজ্ঞানী ও হাকীম/ মহাবিজ্ঞ।

আর সে উপরে উঠিয়ে নিয়েছে তার পিতামাতাকে এবং আরশে/ আসনে সমাসীন করেছে। আর তারা (= ইউসুফের পিতা, মাতা ও ১১ ভাই) তার প্রসঙ্গে (= ইউসুফকে ভাল অবস্থানে রাখার কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে) সিজদা করেছে (= আল্লাহর সামনে মাথানত করেছে)। আর সে বলেছে, ‘হে আমার আব্বা, ইহাই আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা, যা আমি আগে দেখেছিলাম। নিশ্চয় উহাকে পরিণত করেছেন আমার রব সত্য ঘটনায়। আর নিশ্চয় তিনি উত্তম আচরণ করেছেন আমার প্রতি, যখন তিনি আমাকে বের করেছেন কারাগার থেকে আর আপনাদেরকে এনেছেন মরুভূমি থেকে, উহার পরে যে, শয়তান বিরোধ লাগিয়েছিলো আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে। নিশ্চয় আমার রব লতীফ/ সূক্ষদর্শী, যা তিনি ইচ্ছা করেন তা সম্পাদনের উপায় সম্পর্কে। নিশ্চয় তিনি আলীম/ মহাজ্ঞানী ও হাকীম/ মহাবিজ্ঞ’।

১২:১০১
রব্বি = হে আমার রব। ক্বাদ = নিশ্চয়। আতাইতানি = আপনি আমাকে দিয়েছেন। মিনাল মুলকি = রাষ্ট্রীয় আধিপত্য। ওয়া = আর। আল্লামতানী = আপনি আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। মিন তা’ভীলিল আহাদীসি = আহাদীসের/ কথা ও বৃত্তান্তের তাবীল/ ব্যাখ্যা। ফাতিরাছ ছামাওয়াতি ওয়াল আরদি = হে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। আনতা = আপনিই। ওয়ালিয়্যী = আমার ওলি/ অভিভাবক। ফিদ দুনইয়া = দুনিয়াতেও। ওয়াল আখিরাতি = আর আখিরাতেও। তাওয়াফফানী = আমাকে ওফাত/ মৃত্যু দিন। মুসলিমান = মুসলিম হিসাবে। ওয়া = আর। আলহিক্বনী = আমাকে মিলিত করুন। বিস সালিহীনা = সৎকর্মশীলদের সাথে।

হে আমার রব, ‘নিশ্চয় আপনি আমাকে দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় আধিপত্য আর আপনি আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন আহাদীসের/ কথা ও বৃত্তান্তের তাবীল/ ব্যাখ্যা। হে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, আপনিই আমার ওলি/ অভিভাবক দুনিয়াতেও আর আখিরাতেও। আমাকে ওফাত/ মৃত্যু দিন মুসলিম হিসাবে আর আমাকে মিলিত করুন সৎকর্মশীলদের সাথে’।

১২:১০২
যালিকা = ইহা। মিন আম্বায়িল গায়বি = গায়েবের সংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত। নূহীহি ইলাইকা = আমরা উহা ওহী করছি তোমার প্রতি। ওয়া = আর। মা কুনতা = তুমি ছিলে না। লাদায়হিম = তাদের সাথে। ইয = যখন। আজমাঊ = তারা (= ইউসুফের বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা) ইজমা/ ঐক্যমত পোষণ করেছিলো। আমরাহুম = তাদের কাজের বিষয়ে (= ইউসুফকে কূপে ফেলে দেয়ার বিষয়ে)। ওয়া = আর। হুম = তারা। ইয়ামকুরূনা = কৌশল অবলম্বন করেছিলো।

ইহা গায়েবের সংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আমরা উহা ওহী করছি তোমার প্রতি (= মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহর প্রতি)। আর তুমি ছিলে না তাদের সাথে যখন তারা (= ইউসুফের বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা) ইজমা/ ঐক্যমত পোষণ করেছিলো তাদের কাজের বিষয়ে (= ইউসুফকে কূপে ফেলে দেয়ার বিষয়ে), আর তারা কৌশল অবলম্বন করেছিলো।

১২:১০৩
ওয়া = আর। মা আকছারান্নাছা = অধিকাংশ লোক এমন নয় যে। ওয়া লাও = যদিও। হারাছতা = তুমি আকাংখা করো তবুও। বিমু’মিনীনা = তারা মু’মিন হবে (না)।

আর অধিকাংশ লোক এমন নয় যে, যদিও তুমি আকাংখা করো তবুও তারা মু’মিন হবে (না)।

১২:১০৪
ওয়া = আর। মা তাছআলুহুম = তুমি তো তাদের কাছে চাচ্ছো না। আলাইহি = উহার জন্য/ বিনিময়ে। মিন আজরিন = কোন পারিশ্রমিক। ইন হুয়া = উহা (= কুরআন) অন্য কিছু নয়। ইল্লা যিকরুল্লিল আলামীনা = যিকরুল্লিল আলামীন/ সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য স্মরণিকা বা সংবিধান ছাড়া।

আর তুমি তো তাদের কাছে চাচ্ছো না উহার জন্য/ বিনিময়ে কোন পারিশ্রমিক। উহা (= কুরআন) অন্য কিছু নয় যিকরুল্লিল আলামীন/ সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য স্মরণিকা বা সংবিধান ছাড়া।

১২:১০৫
ওয়া = আর। কাইয়িন = কত যে। মিন আয়াতিন = আয়াত/ নিদর্শন আছে। ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি = আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে। ইয়ামুররূনা = তারা পরিভ্রমণ করে। আলাইহা = উহার সামনে। ওয়া = অথচ। হুম = তারা। আনহা = উহা থেকে। মু’রিদীনা = বিমুখ/ অসচেতন।

আর কত যে আয়াত/ নিদর্শন আছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে। তারা পরিভ্রমণ করে উহার সামনে অথচ তারা উহা থেকে বিমুখ/ অসচেতন।

১২:১০৬
ওয়া = আর। মা ইউ’মিনু = ঈমান/ বিশ্বাস করে না। আকছারুহুম = তাদের অধিকাংশ লোক। বিল্লাহি = আল্লাহর প্রতি। ইল্লা = এছাড়া যে। ওয়া = সেই সাথে। হুম = তারা। মুশরিকূনা = মুশরিক।

আর ঈমান/ বিশ্বাস করে না তাদের অধিকাংশ লোক আল্লাহর প্রতি এছাড়া যে, সেই সাথে তারা মুশরিক।

১২:১০৭
আফাআমিনূ = তবে কি তারা নিরাপদবোধ করছে। আন = এ থেকে যে। তা’তিয়াহুম = তাদের উপর আসবে। গাশিয়াতুম মিন আযাবিল্লাহি = আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন আচ্ছন্নকারী আযাব। আও = অথবা। তা’তিয়াহুমুছ ছায়াতি = তাদের উপর আসবে সায়াত/ প্রলয়মুহুর্ত। বাগতাতান = হঠাৎ করে। ওয়া = অথচ। হুম = তারা। লা ইয়াশউরূনা = (আগে থেকে) অনুভবও করবে না/ টেরও পাবে না।

তবে কি তারা নিরাপদবোধ করছে এ থেকে যে, তাদের উপর আসবে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন আচ্ছন্নকারী আযাব অথবা তাদের উপর আসবে সায়াত/ প্রলয়মুহুর্ত হঠাৎ করে অথচ তারা (আগে থেকে) অনুভবও করবে না/ টেরও পাবে না?

১২:১০৮
ক্বুল = বলো। হাযিহী = এ-ই হচ্ছে। ছাবীলী = আমার (অনুসৃত) পথ। আদঊ = আমি দাওয়াত/ আহবান করি। ইলাল্লাহি = আল্লাহর দিকে। আলা বাসীরাতিন = বাসীরাতের/ চাক্ষুস প্রমাণের ভিত্তিতে। আনা = আমি। ওয়া = আর। মানিত্তাবায়ানী = সে সে ব্যক্তি যে যে আমার ইত্তেবা/ অনুসরণ করে। ওয়া = আর। সুবহানাল্লাহি = সুবহানাল্লাহ/ আল্লাহ পবিত্র। ওয়া = আর। মা আনা = আমি নই। মিনাল মুশরিকীনা = মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত।

বলো, ‘এ-ই হচ্ছে আমার (অনুসৃত) পথ। আমি দাওয়াত/ আহবান করি আল্লাহর দিকে বাসীরাতের/ চাক্ষুস প্রমাণের ভিত্তিতে; আমি আর সে সে ব্যক্তি যে যে আমার ইত্তেবা/ অনুসরণ করে। আর সুবহানাল্লাহ/ আল্লাহ পবিত্র। আর আমি নই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত’।

১২:১০৯
ওয়া = আর। মা আরছালনা = আমরা (নবী-রসূল হিসেবে) প্রেরণ করিনি। মিন ক্বাবলিকা = তোমার আগে। ইল্লা রিজালান = পুরুষ মানুষ ছাড়া। নূহী ইলাইহিম = (এমন ব্যক্তি) আমরা ওহী করেছি যাদের প্রতি। মিন আহলিল ক্বুরা = জনপদবাসীদের মধ্য থেকে। আফালাম ইয়াছীরূ = তবে কি তারা ভ্রমণ করেনি। ফিল আরদি = পৃথিবীতে। ফাইয়ানযুরূ = তারপর নজর/ লক্ষ্য করেনি। কায়ফা = কিরূপ। কানা = হয়েছিলো। আক্বিবাতুল্লাযীনা = তাদের পরিণতি যারা। মিন ক্বাবলিহিম = তাদের আগে ছিলো। ওয়া = আর। লাদারুল আখিরাতু = আখিরাতের ঘর। খায়রুল লিল্লাযীনাত তাক্বাও = তাদের জন্য উত্তম যারা তাকওয়া/ আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করে। আফালা তা’ক্বিলূনা = তোমরা কি আকল/ বিবেক-বুদ্ধি/ common sense প্রয়োগ করো না?

আর আমরা (নবী-রসূল হিসেবে) প্রেরণ করিনি তোমার আগে, পুরুষ মানুষ ছাড়া, (এমন ব্যক্তি) আমরা ওহী করেছি যাদের প্রতি জনপদবাসীদের মধ্য থেকে। তবে কি তারা ভ্রমণ করেনি পৃথিবীতে তারপর নজর/ লক্ষ্য করেনি কিরূপ হয়েছিলো তাদের পরিণতি যারা তাদের আগে ছিলো? আর আখিরাতের ঘরই তাদের জন্য উত্তম যারা তাকওয়া/ আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করে। তোমরা কি আকল/ বিবেক-বুদ্ধি/ common sense প্রয়োগ করো না?

১২:১১০
হাত্তা = শেষ পর্যন্ত। ইযাছতাইআছার রুছুলু = যখন নিরাশ হয়েছে রসূল। ওয়া = আর। যন্নূ = লোকেরা ধারণা করেছে। আন্নাহুম = যে, তাদেরকে। ক্বাদ = নিশ্চয়। কুযিবূ = মিথ্যা বলা হয়েছে। জাআহুম = তখন তাদের (= রসূলদের) কাছে এসেছে। নাসরুনা = আমাদের সাহায্য। ফানুজজিয়া = তখন আমরা নাজাত/ মুক্তি দিয়েছি। মান নাশাউ = যাদেরকে আমরা (মুক্তি দেয়ার) ইচ্ছা করেছি। ওয়া = আর। লা ইউরদ্দু = ফিরানো যায় না। বা’ছুনা = আমাদের শাস্তি। আনিল ক্বাওমিল মুজরিমীনা = অপরাধী কওমের থেকে।

শেষ পর্যন্ত যখন নিরাশ হয়েছে রসূল আর লোকেরা ধারণা করেছে যে, তাদেরকে নিশ্চয় মিথ্যা বলা হয়েছে; তখন তাদের (= রসূলদের) কাছে এসেছে আমাদের সাহায্য; তখন আমরা নাজাত/ মুক্তি দিয়েছি, যাদেরকে আমরা (মুক্তি দেয়ার) ইচ্ছা করেছি। আর ফিরানো যায় না আমাদের শাস্তি অপরাধী কওমের থেকে।

১২:১১১
লাক্বাদ = নিশ্চয়। কানা ফী কাসাসিহিম ইবরাতুন = তাদের কিসসাকাহিনীতে ইবরাত/ শিক্ষা আছে। লিউলিল আলবাবি = উলিল আলবাবের/ চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য। মা কানা হাদীসান ইউফতারা = ইহা (= কুরআন) মনগড়া হাদীস নয়। ওয়ালাকিন = কিন্তু। তাসদীক্বাল্লাযী বায়না ইয়াদায়হি = ইহা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যতা প্রতিপাদন করে। ওয়া = আর। তাফসীলা কুল্লি সাইয়িন = সবকিছুর তাফসীল/ বিশদ বিবরন। ওয়া = আর। হুদান = হুদা/ হিদায়াত। ওয়া = আর। রহমাতান = রহমত/ অনুগ্রহ। লিক্বাওমি ইউ’মিনূনা = যারা (যৌক্তিক বিষয়ের প্রতি) ঈমান/ বিশ্বাস করে সেই কওমের জন্য।

নিশ্চয় তাদের কিসসাকাহিনীতে ইবরাত/ শিক্ষা আছে উলিল আলবাবের/ চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য। ইহা (= কুরআন) মনগড়া হাদীস নয়। কিন্তু ইহা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যতা প্রতিপাদন করে। আর ইহা (= কুরআন) সবকিছুর তাফসীল/ বিশদ বিবরন আর হুদা/ হিদায়াত আর রহমত/ অনুগ্রহ, যারা (যৌক্তিক বিষয়ের প্রতি) ঈমান/ বিশ্বাস করে সেই কওমের জন্য।