ইক্বরার লক্ষ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য স্রষ্টার ঐশী বাণীর সমন্বিত অধ্যয়ন ও সার্বজনীন প্রয়োগের জন্য জ্ঞানদীপ্ত অনুশীলন।
উদ্দেশ্য
ইক্বরার উদ্দেশ্য হলো কুরআনের বাণীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ অনুধাবনের জন্য টেকসই ভিত্তি প্রস্তুত করা এবং জীবন ও সমাজের প্রায়োগিকতার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো নির্মাণ।
প্রকাশিত বইসমূহ
সংখ্যাগুরু সঠিক বেঠিকের মানদন্ড নয়
এক ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছিলেন:
'হে-আল্লাহ! আমাকে আপনার সংখ্যালঘুদের মধ্যে গন্য করে নিন, হে-আল্লাহ! আমাকে আপনার অল্পসংখ্যক লোকের মাঝে শামিল করে নিন।'
একথা শুনে হযরত উমর রা. তাকে জিজ্ঞেস করলেন: 'তুমি এই দো'আ কোথা থেকে শিখেছো?'
উত্তরে সেই ব্যক্তি বললো- 'আল্লাহর ক্বোরআন থেকে। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, 'এবং আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ।' (৩৪:১৩)
উত্তর শুনে হযরত উমর রা. নিজেকে উপদেশ দিতে লাগলেন: 'হে-উমর! মানুষ তোমার থেকে অধিক জ্ঞানি।'
সাথে তিনিও দো'আ করতে লাগলেন: 'হে-আল্লাহ! আমাকেও আপনার সংখ্যালঘুদের মধ্যে গন্য করে নিন।'
আমরা দেখেছি, আমরা যখন কোনো ব্যক্তিকে কোনো পাপকাজ বা আল্লাহর অবাধ্যতা ছেড়ে দিতে বলি, বা কোনো সহিহ দ্বীণ অনুশীলন করতে বলি তখন সেই ব্যক্তি যুক্তি দেখায়: 'এই কাজ তো অধিকাংশ ব্যক্তিই করে, আমি করলে কি সমস্যা?' অধিকাংশ লোক কি বুঝেনা? সবাই ভুল শুধু তুমিই ঠিক?
এখন যদি আমরা কুরআনে 'অধিকাংশ ব্যক্তি' বা ‘অধিকাংশ’ লিখে অনুসন্ধান করি তখন পাবো:
অধিকাংশ ব্যক্তিই তা জানে না। ( ৭:১৮৭) অধিকাংশ ব্যক্তিই কৃতজ্ঞতা আদায় করে না। (২:২৪৩) অধিকাংশ ব্যক্তিই বিশ্বাস করে না। (১১:১৭) তোমাদের অধিকাংশই অবাধ্য। (৫:৫৯) তাদের অধিকাংশই মূর্খ। (৬:১১১) তাদের অধিকাংশই সত্য জানে না। (২১:২৪) তাদের অধিকাংশই বুঝে না। (৪৯:৪) অতঃপর তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তারা শোনে না। (৪১:৫)
তারপর আমরা যদি 'অল্পসংখ্যক' লিখে অনুসন্ধান করি তখন পাবো আল্লাহ বলেছেন:
আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ। (৩৪:১৩) অল্পসংখ্যকই তাঁর সাথে ঈমান এনেছিলো। (১১:৪০) একদল পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে। এবং অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্য থেকে। (৫৬:১৩-১৪)
তাই আসুন আমরা এই সংখ্যালঘু / অল্পসংখ্যক ব্যক্তিদের দলে শামিল হই। মনে রাখা উচিত: অধিকাংশ / সংখ্যাগুরু মানেই সঠিক বেঠিকের মানদন্ড নয়।
মূল: ফেসবুক থেকে
Why the Majority is always wrong - Paul Rulkens in TEDx
পটভূমি সাম্প্রতিক সময়ে ইজরায়েল ও আমেরিকা পরিচালিত ইরানের উপরে ২৮ ফেব্রুয়ারীর যৌথ আক্রমন আমাদের সূরা বাকারার ২:১১ নাম্বার আয়াতকে পুন:পাঠ করতে অনুপ্রাণিত করে। ওয়া = আর। ইযা কীলা = যখন বলা হয়। লাহুম = তাদের উদ্দেশ্যে। লা তুফসিদু = তোমরা ফাসাদ/ বিপর্যয় সৃষ্টি/ অশান্তি সৃষ্টি করো না। ফিল আরদি = পৃথিবীতে। ক্বলূ = তারা বলে। […]
ভূমিকা ইবনে আশুর (১৮৭৯–১৯৭৩) ছিলেন টিউনিশিয়ার একজন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ। তিনি কুরআনের আধুনিক ও প্রায় সমন্বিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তাহরির ওয়া আল-তানভীর (Tahrir wa al-Tanwir)–এ। প্রচলিত তাফসিরগুলো সাধারণত কেবল আইন (ফিকহ) বা ভাষাগত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ইবনে আশুর দেখিয়েছেন কুরআন শুধু আধ্যাত্মিক নির্দেশনার বই নয়, বরং এটি একটি সভ্যতা গড়ার নীতি গ্রন্থ। তার […]
কুরআন গবেষক ড. সিরাজ ইসলামের গবেষণা ও লেখনী থেকে অনুবাদ জিব্রাইল হলেন আমাদের ভেতরে অনুপ্রেরণার শক্তি জিব্রাইল হলেন একটি কুরআনের রূপক (নোট ১) যা আমাদের মনের ভেতরে অনুপ্রেরণার প্রাকৃতিক শক্তিকে প্রতিনিধিত্ব করে। আমাদের গভীর চিন্তাভাবনার সময় এটি কার্যকর হয়ে ওঠে যখন এটি আমাদের কাছে সচেতনতা এবং অন্তর্দৃষ্টির ঝলক প্রকাশ করে। কুরআনে এই নামটি তিনবার এসেছে […]
সাধারন ধর্ম বিশ্বাসীদের মধ্যে একটি কমন ধারনা হলো: ইসলামের সংবিধান হলো কুরআন এবং আধুনিক সময়ে যেসব সেকুলার সংবিধান করা হয় তা হলো "তাগুত"। বিষয়টি কি সত্যিই এরকম সাদা কালো? কুরআন কি সংবিধানি? একজন ইসলামে বিশ্বাসীর পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে এই প্রশ্নের মিমাংসায় পৌছতে হলে আমাদের প্রথমে কয়েকটি কনসেপ্ট ক্লিয়ার করে এগুতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে […]
মুসলিমদের জীবন বিধানের সকল মূলনীতি কোরআনে আল্লাহ বলে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তোমার ওপর যে কিতাব (কোরআন) নাজিল করা হয়েছে তাতে রয়েছে সকল বিষয়ের বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৮৯) দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ দেশের মুসলিমদের কোরআন দেখে শুদ্ধ করে পড়ার প্রতি গুরুত্ব থাকলেও ইসলামি জীবন বিধানের মৌলিক উৎস […]